বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(সেরা সত্যজিৎ-নওরোজ কিতাবিস্তান ও সত্যজিৎ রায়ের গল্প ১০১-আনন্দ পাবলিশারস থেকে নেয়া। এই রূপকথার গল্পটি সত্যজিৎ রায়ের ফ্যানদের জন্য দেয়া। এতে কোনো ব্যবসা জনিত উদ্দেশ্য নেই।)
সুজনের বাড়ির পিছনেই ছিল একটা সজনে গাছ।তাতে থাকতো একটা দোয়েল।সুজনের যখন আট বছর বয়স তখন একদিন দোয়েলের ডাক শুনে সে ভাবল- আহা,এ পাখির ডাক কি মিষ্টি।মানষে কি কখনো এমন ডাক ডাকতে পারে? সুজন সেই দিন মুখ দিয়ে দোয়েলের ডাক ডাকার চেষ্টা করতে লাগল।একদিন হঠাৎ সে দেখল যে সে ডাক দেবার পরেই দোয়েলটা যেন তার ডাকের উত্তরে ডেকে উঠল।তখন সে বুঝল যে এই একটা পাখির ডাক তার শেখা হয়ে গেছে।তার মা দয়াময়ীও শুনে বললেন, "বারে খোকা,মানুষের গলায় এমন পাখির ডাক শুনিনি কখনো!" সুজন তাতে যারপরনাই খুশি হল।
সুজন দিবাকর মুদির ছেলে।তার একটা বড় বোন ছিল, তার বিয়ে হয়ে গেছে, আর একটা বড় ভাই মারা গেছে তিন বছর বয়সে।সুজন তাকে দেখেইনি।সুজনের মা খুব সুন্দরী, সুজন তার মত নাক-চোখ পেয়েছে, তার রংটাও বেশ পরিষ্কার।
দিবাকরের ইচ্ছা ছেলে লেখাপড়া শেখে, তাই সে সুজনকে হারান পন্ডিতের পাঠশালায় ভর্তি করে দিল। কিন্তু পড়াশুনায় সুজনের একেবারেই মন নেই।পাততাড়ি নিয়ে পাঠশালায় বসে থাকে আর এ গাছ সে গাছ থেকে পাখির ডাক শুনে মনে মনে ভাবে এসব ডাক সে গলায় তুলবে।গুরুমশাই পাঁচের নামতা বলতে বললে সুজন বলে, "পাঁচেক্কে পাঁচ,পাঁচ দুগুণে বারো, তিন পাঁচে আঠার..."।গুরু মশাই তাকে কান ধরে দাড়ঁ করিয়ে দেয়, সেই অবস্থায় সুজন শালিক বুলবুলি চোখ-গেলো পানকৌড়ির ডাক শুনে আর ভাবে কখন সে পাঠশালা থেকে ছুটি পেয়ে এইসব পাখির ডাক নকল করতে পারবে।
তিন বছর পাঠশালায় পড়েও যখন কিছু হল না তখন একদিন হারান পন্ডিত দিবাকরের দোকানে গিয়ে তাকে বলল, "তোমার ছেলের ঘটে বিদ্যা প্রবেশ করানো শিবের অসাধ্য।আমি বলি কি তুমি ছেলেকে ছাড়িয়ে নাও।তোমার কপাল মন্দ, নইলে তোমার এমন ছেলে হবে কেন? অনেক ছেলেই তো দিব্যি লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়ে যাচ্ছে।"
দিবাকর আর কি করে, ছেলেকে ডেকে জিগ্যেস করল, "অ্যাদ্দিন পাঠশালায় গিয়ে কি শিখলি?"
"আমি বাইশ রকম পাখির ডাক শিখেছি, বাবা,"- বলল সুজন।"আমাদের পাঠশালার পিছনে একটা বটগাছ আছে, তাতে অনেক রকম পাখি এসে বসে।"
"তা তুই হরবোলা হবি নাকি?" জিগ্যেস করল দিবাকর।
"হরবোলা? সে আবার কি?"
"হরবোলারা নানা রকম পাখি আর জন্তু -জানোয়ারের ডাক মুখ দিয়ে করতে পারে।তারা এইসব ডাক ডেকে লোককে শুনিয়েই রোজগার করে।তোর যখন পড়াশুনা হল না, তখন দোকানে বসেও তুই কিছু করতে পারবি না। হিসেব যে করবি, সে বিদ্যেও তো তোর নেই। তাই তোকে আমার কোনো কাজে লাগবে না।"
সুজন সেই থেকে হরবোলা হবার চেষ্টায় লেগে গেল।তার কাজ মাঠে ঘাটে বনবাদাড়ে ঘোরা, আর পাখির ডাক শুনে, জানোয়ারের ডাক শুনে, সেই ডাক মুখ দিয়ে নকল করা।এই কাজে তার ক্লান্তি নেই, কারন তার স্বাস্থ্য বেশ ভাল, অনেক হাঁটতে পারে, গাছে চড়তে পারে, সাঁতার কাটতে পারে।তার ডাকে যখন পাখি উত্তর দেয় তখন তার মনটা নেচে ওঠে।মনে হয় সব পাখিই তার বন্ধু।খোলা মাঠে দিয়ে বসে গরু বাছুর ছাগল ভেড়ার ডাক সে তুলেছে, তারা তার ডাকে জবাব দেয়।তার হাম্বা ডাক শুনে নিস্তারিণী বুড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ধবলীর বাছুরটা আবার ফিরে এল ভেবে; তার গাধার ডাক শুনে মোতি ধোপার গাধা ঘাড় তুলে কানখাড়া করে ডাকতে শুরু করে, মোতি ভাবে আরেকটা গাধা এলো কোত্থেকে! ঘোড়ার চিঁহিতেও সুজন ওস্তাদ, সেটা সে ডাকে জমিদার হালদারের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে।সেই ডাক শুনে সহিস করিম মিঞা ভাবে, কই, আমার ঘোড়াতো ডাকছে না- এটা আবার কার ঘোড়া? (চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now