বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্দী জীবনের মুক্তি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বন্দী জীবনের মুক্তি মোহাঃ সাহাবুদ্দীন আচ্ছা মা, পৃথিবীটা কত বড়? আনেকটা আবেগ ভরা কন্ঠ নিয়েই তার মাকে জিজ্ঞেস করলো "টনু" নামের বাঁদরটা।মা শুধু নির্বাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল।কারন, সেও জানেনা এই পৃথিবীর সঠিক অনুমান।বৈচিত্রের রহস্যময় পৃথিবীর বুকে কতটুকুই বা কি আছে।পৃথিবী সম্পর্কে ধারনাটা তার নিকট রূপকথার কাল্পনিক গল্পমাত্র।তবু পৃথিবীর ক্ষীণএকটা ধারনা টনুকে আজ দিতেই হবে। নইলে টনুর চঞ্চল মন সারাক্ষন মায়ের লেজ ধরে টানতেই থাকবে এটা টনুর মা যথার্তই বুঝে গেছে।তাই প্রস্তুতির এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, পৃথিবীটা অনেক বড় বাবা।খাঁচায় বন্দী থেকে তুমি ধারানাই করতে পারবেনা এর বিশালতা কতদূর।এর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পাড়ি দিতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। এত বড় পৃথিবী! অবাক হয় টনু। আমরা এখানে বন্দী কেন মা? আমরা কি কখনই পৃথিবীতে মুক্ত হয়ে ঘুরতে পারবনা? জর্জোরতার বন্দী জীবন হতে কি কখনই মুক্তি পাবনা? প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে সবে বুঝতে শেখা ছোট্ট বাচ্চাটা। টনুর প্রশ্ন শুনে মায়ের মুখ খানা মলিন হয়ে গেল। কি করে শান্তনা দিবে এই অবুঝ মনটাকে। মুক্ত বনে অবাধ বিচরনের কথা যার সে আজ চার দেয়ালের মাঝে আমরন বন্দী পথযাত্রী। দিন, মাস,বছর সবকিছুই কাটছে বন্দী খাঁচার খাবার হয়ে। ফুটফুটে তাজা মনটা সর্বদা ঢেকে থাকছে বিষাদতার কালো চাদরে।সবকিছু বুঝেও মা নিরুপাই নিশ্চুপ।ক্ষমতা থাকলে টেনে হিচড়ে ভেঙ্গে ফেলত বন্দী খাঁচার প্রতিটি লৌহদন্ড।উপায়হীন হবার কারনেই সবকিছু মেনে নিচ্ছে নিরবে। টনুর মনের অব্স্থা দেখে মা সব কিছু খুলে বললো।দেখ টনু, বহুকাল পূর্ব থেকেই খাঁচায় আমাদের বাস। আমাদের পূর্বপুরুষকে গহীন এক বনের মাঝ হতে বন্দী করেছিল নিষ্ঠুর মানুষ। তখন থেকেই আমরা বংশানুক্রমে বন্দী। জানিনা এ জীবনের শেষ কোথায়। কবে মিলবে মুক্তির পথ। মায়ের কথা শেষ হতেই টনু আবার প্রশ্ন করলো। মা বন কি? সেখানে কি আরো বড় খাঁচা আছে? টনুর প্রশ্ন শুনে একগুচ্ছো কষ্টের মাঝেও একটুখানি হাঁসির উদয় হল টনুর মায়ের মুখে। হাঁসি মাখা মুখ নিয়েই উত্তর দিল- না বাবা। সেখানে রয়েছে সবুজের বিশাল সম্ভার। ছোট-বড় নানান রঙের বৃক্ষরাজি যেন শোভিত করেছে চারিপাশ। জলরাশি বয়ে চলেছে তার আপন মহিমায়।রয়েছে নানান রঙের হাজারো পাখির ডাক আর বন্যপ্রাণীর ছড়াছড়ি।সবকিছুই পরিপূর্ন সেখানে। বৈচিত্রময় পৃথিবীর ধারনা টনুর কৌতুহলি মনকে মুগ্ধ করে। ভাঁসতে থাকে পৃথিবীর প্রেম সাগরে।নিশ্চুপ মনের কল্পনায় নিজের মত করে রচনা করে এক নতুন পৃথিবী। কাল্পনিক পৃথিবীতে শুরু হল দৌড়া-দৌড়ি লাফা-লাফি আর গাছের ডগায় বসে দোল খাওয়া।হঠাত্ মানব পায়ের শব্দে তার কল্পনার জগতৎ ছিন্ন হল।ফিরে এলো বাস্তবের ঘৃণাময় বিষাদতার জীবনে। টনু মুখটা ঘুরিয়ে একটু তাকাতেই চোখে পড়লো তার অতি পরিচিত একটা মুখ।টনু জন্মের পর থেকেই তাকে দেখে আসছে। সে প্রতিদিন টনুদের খাচায় খাবার সরবরাহ করে।তবে অসময়ের আগমনটা নিয়ে টনু বেশ চিন্তিত।হাতে কোন খাবার নেই,শুধু একটা লৌহ শিকল। টনু মোটেও ভয় পেলনা।ভাবছে বিধাতা তার হৃদয়ের কান্না শুনে মুক্তির দূত পাঠিয়েছে।তবে সব ধারনাই মিথ্যা হল যখন তার গলায় পড়লো লৌহ শিকলটা।টেনে নিয়ে গেল অন্য খাঁচায়।চিড়িয়াখানায় বাঁদরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় কতৃপক্ষ তাদের দুবেলা খাবার দিতেই হাঁপিয় উঠেছে। তাই কিছুদিন থেকই বাঁদর বিক্রির কর্যক্রম চলছে।এবার বিক্রিপথে টনুর নামটা আছে বলেই তার এই নিঃসঙ্গ বন্দী।একাকি টনু ভীষন একাকিত্ব অনুভব করছে। জন্মলগ্ন থেকে খাঁচায় বাস হলেও পূর্বে মমতাময়ী মায়ের স্পর্শে ছিল। মা ছাড়া টনুর অবস্থা হাল ছাড়া নৌকার মত।তবু একটি বারের জন্যেও মন থেকে মুছেনি মুক্ত বনে ঘুরে বেড়াবার স্বপ্নটা ।পৃথিবী তার রূপের মায়াজাল দিয়ে অবিরত ডেকেই চলেছে।বাইরে তাকাতেই ছোট্ট ছেলেটার বাঁদর বাঁদর বলে চিত্কার আর লাফালাফি চোখে পড়ল টনুর। কয়েকজন দর্শনার্থী তাকে দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছে।টনু দ্রুত এগিয়ে এক লাফে খাঁচা ধরে বসে পড়লো দর্শনার্থীর সামনে।খাঁচার বাইরে ছুড়ে দিল হাত দুটো।ঠিক উতলা ভাবে কিছু চাওয়ার মত।বার বার খাঁমচে ধরছে খাঁচাটা। বোঝাতে চাইলো তার বন্দী জীবনের যন্ত্রনার কথা।মুক্তি ভিক্ষা চাইলো হৃদয়ের সবটুকু ব্যাকুলতা দিয়ে।কিন্তু কেউ বুঝলনা তার কাকুতি-মিনতি। অসহ্য জীবনের হাত-পা ছোড়াছুড়িটা দর্শনার্থীর নিকট নতুন খেলা রূপেই বোধগম্য হল।মজার খেলায় মুগ্ধ হয়ে দুটো বাদাম ছড়িয়ে চলে গেল অন্য খাঁচার খোজে।একাকি টনু রয়ে গেল সেই আগের বন্দী দশায়।রাত গড়িয়ে আরেকটি নতুন দিন আসলো টনুর জীবনে।আজকের দিনটা টনুর কাছে কেমন ছমছমে লাগছে।অন্য দিনের তুলনায় বেশ আলাদা কিছু অনুভব করছে সে। হয়তো কোন উদাসী হাওয়া তাকে জানিয়ে দিয়েছে তার বিদায়ী ক্ষন।আজ রাতেই তাকে বিক্রি করা হবে।চলে যেতে হবে অন্য কোথাও বন্দী জীবন পাড়ি দিতে। সাহসী টনুর মনে ভয়ের ছাপ পড়েছে।সন্ধ্যা পেরিয়ে ঘন আধার নামলো। খাঁচার এক কোনে চুপটি করে বসে আছে টনু। আগমন ঘটল পরিচিত সেই ব্যাক্তির।তাকে ধরার উদ্দেশ্যে দরজা খুলে ভিতর প্রবেশ করল। সুযোগ হাতছাড়া করলনাটনু দরজা আটকানোর পূর্বেই টনুর দ্রুত আক্রমনে অপ্রস্তুতির মাঝে পড়ল সে।ততোক্ষনে দ্বিতীয় লাফে খাঁচা ছেড়েছে।ইতিমধ্যে পালানোর খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে। চারিদিকে হৈ রৈ কৈ ধ্বনিত হতে থাকলো। মানব কন্ঠের উচ্চ স্বর চারিদিকের বাতাস ভারি করল। হৈ-হুল্লোড় দেখে টনু প্রান ভয়ে উঠেছে পাশের নারিকেল গাছটার ডগায়।বুঝে গেছে এটা তার জন্য নিরাপদ আশ্রয় নয়।বাঁচতে হলে তাকে দূরে কোথাও পালাতে হবে।চুপিচুপি এগাছ-ওগাছ করে পেরিয়ে গেল চিড়িয়াখানা চত্ত্বর।রাস্তায় মানষের ঢলাঢলি দেখে নিচে নামতে নারাজ সে। সামনের বাড়ির ছাদটাতে গিয়ে দাঁড়াতে পারলেই এ যাত্রায় বাঁচবে টনু।টনুর নিকট হতে সামনের বাড়িটার বেশ দুরুত্ব।পথে দাঁড়াবার মত প্রয়োজন একটা জায়গর। তেমনি একটা অবলম্বনও চোখে পড়ল তার।পৃথিবী সম্বন্ধে অজ্ঞ টনু জীবনের শেষ লাফটা দিল বৈদ্যুতিক লাইনের উপর।চঞ্চল টনু মুহূর্তেই নিরব হয়ে গেল। আর কখনই ফিরবনা পৃথিবীর সবুজ শ্যামল বনভূমি দখতে।কোন মানব মনের নিকট জানাবেনা মুক্তির মিনতি।চিরোতরে মুক্ত হল তার বন্দী জীবন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্দী জীবনের মুক্তি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now