বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি সাদাসিধে ভালবাসার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একটি সাদাসিধে ভালবাসার গল্প ====================== *** রুদ্র পাল *** ধুর,আর ভাল লাগে না এই হোস্টেল লাইফ, না থাকে ঠিকমত খাবার আর না আছে কোন নিজস্বতা । এক রূমে তিন চার জন থাকা যায় ? মাঝে মাঝে নিজেকে গরু আর রুমটাকে খোয়ার মনে হয়। না আর এভাবে পারা যাচ্ছে না । কত ইচ্ছা ছিল একটা রুম নিয়ে একা একা থাকব। কিন্তু গরিবের স্বপ্ন সারা জীবন স্বপ্নই থেকে যায়। নিজেকে চলতে হয় সেই তিন চার টা টিউশনি করিয়ে। তাও যদি সব টাকা নিজে খরচ করতে পারতাম তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু এই টাকার অর্ধেক টাকাই পাঠাতে হয় গ্রামের বাড়িতে। এই টাকা দিয়ে কোন মতে চলে আমার পরিবার আর আমার ছোট দুই ভাই-বোন এর পড়শুনা। বাবা মারা গেছেন তিন-চার বছর হল। তাও ঢামেকে পড়ি বলে এই সুবাদে এই কয়টা টিউশনি করাতে পাড়ছি। তা না হলে যে কি হত তা আর ভাবতে চাই না । এই চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম...... ঘড়ির এর্লামে ঘুম ভাঙল। চেয়ে দেখি দশটা বাজে। সর্বনাশ আজ অহনার সাথে দশটায় টিএসসি তে দেখা করার কথা। আমার তো খেয়ালই ছিল না।ও যে মেয়ে! এখন যে কি হবে এটা ভাবতে ভাবতে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে কোন মতে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ি। আজ শুক্রবার তারপরও রাস্তায় যে কি জ্যাম! এ ঢাকা শহরের নিত্য রূপ তারপরেও কেমন যেন আমি এর সাথে নিজেকে ঠিক মানিয়ে নিতে পাড়ি না । শতহোক গ্রামেরই তো ছেলে। ভাবলাম রিকসা নিব কিনা ? মাসের শেষ, পকেটে হাত দিয়ে দেখি একেবারে গড়ের মাঠ। কি আর করার তাই বাধ্য হয়ে অবশেষে হাটতে শুরু করলাম। ব্যস্ত রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছিলাম। একজন পুলিশ সামনে এসে দাড়ালো। কোন কথা নেই বার্তা নেই জামার কলার ধরে একেবারে সরাসরি পুলিশের ভ্যানে চড়ালো। আমি কিছু বুঝে ওটার আগেই দেখি গাড়ি চলতে শুরু করেছে। আমি এই কদিনে কি কি করেছি মনে মনে তার একটা খসড়া করলাম। কিন্তু এমন কিছু করেছি বলে মনে পড়ছে না যে কারণে আমাকে পুলিশ ধরতে পারে। যাইহোক দুর দুর বুকে অপেক্ষা করতে লাগলাম এরপর কি হয়। একমাত্র আল্লাহ মালুম.... যাইহোক আমি এখন থানায় বসে আছি। আমার সামনে এমন একজন বসে আছে তার বর্ননা যে কিভাবে দিব ঠিক বুঝতে পারছি না। কাঁচাপাঁকা গোঁফের ভয়ংকর চেহারার একজন মানুষ। আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছেন যেন আমি তার পুরো পরিবার মার্ডার করেছি। -তোর নাম কি? পুলিশের পক্ষেই হয়তো এতো খারাপ ব্যবহার করা সম্ভব! -কিরে কথা বলছিস না কেন? -আমার মনে হয় আপনি আমার নাম জানেন! -হাঁ তুবও তোর মুখে শুনতে চাই? -আমায় নাম হিমেল। বন্ধুরা হিমু বলে ডাকে। -এই কথা বলার পর উনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন আমি সত্যিকারের হিমু আর বুঝি তার সাথে ফাজলামি করতেছি। যাক, হিমুদার কথা মনে পড়ে একটু সাহস পেলাম। -কি করিস তুই? -ঢামেকে পড়ি,হোস্টেলে থাকি। -ঢামেক আবার কি? আমার সাথে ফাজলামি করিস। বেশি ফাল পাইরো না, ফাজিল কিভাবে ঠান্ডা করতে হয় আমার খুব ভালভাবে জানা আছে।এবার সে আমার মুখের দিকে এমনভাবে তাকাল যে- প্রশ্ন না করলেও উত্তর দিতে শুরু করলাম।কারণ এই মুর্হুতে তাকে আজরাইল মনে হচ্ছে! -ঢামেক মানে-ঢাকা মেডিকেল কলেজ। -তোর বাবা কি করে? -জানিনা কি করে। -কেন জানিস না?? -কারণ সে এখন পরোপাড়ে। পুলিশদের বোধ হয় সমবেদনা থাকতে নেই । তিনি প্রশ্ন করতেই থাকলেন। -তোর মা কি করে? -জানি না। -কেন?সেও কি পরোপাড়ে। -না, সে গ্রামে থাকে। অনেক দিন যোগাযোগ হয় না । -তোরা কয় ভাই-বোন? -দুই ভাই এক বোন। -ইদানিং তুই একটা মেয়ের সাথে ঘোরাঘুরি করিস? এতক্ষণে আমাকে ধরে নিয়ে আসার রহস্য খুঁজে পেলাম। -কথাটা কিঞ্চিত ভুল । আমি তার সাথে ঘোড়াঘুড়ি করি না, সে আমার সাথে ঘোড়াঘুড়ি করে। -মানে? -মানে হল মেয়েটা আমাকে প্রপোজ করেছিল ? -তোকে প্রপোজ করেছিল? -জি। এই প্রথম তাকে মনে হয় অবাক করতে পারলাম । অবাক চোখে আমায় দেখছিল। চামড়ার জুতা ছিঁড়ে গিয়েছিল, তাই স্যান্ডেল পড়েছিলাম, এর জন্য নিজেরেই লজ্জা লাগছে। -বলতো আমি কে ? -আপনি অহনার বাবা। -এটা তুই কখন বুঝলি। -যখন আপনার মেয়ের সাথে ঘোরাঘুরির কথা জিঞ্জাসা করছেন তখন! তিনি পকেট থেকে একটা ডিব্বা বের করল! -বলতো এর ভিতরে কি? -জর্দ্দা! -না,এর ভিতরে ইয়াবা! তোর পকেটে পাইছি এই মামলায় তোকে ঝুলিয়ে দিবো । -স্যার একটা বুদ্ধি দেই, আমাকে এই মামলায় না ফাসিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাসিয়ে দিন, তা বেশি কার্যকরী। হিমুদার কাছ থেকে শিখেছি, পুলিশকে উল্টা পাল্টা বলে সহজে পার পাওয়া যায়, সেই চেষ্টাই করছি। -এবার মনে হল হিতে বিপরীত হল। তিনি আমাকে এমন একটা রাম ধমক দিলেন যে আর একটু হলে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলতাম। থানায় বাথরুম আছে কিনা তাও তো জানি না। থাকলেও আমাকে যেতে দিবে কিনা সে বিষয়ে আমার বহুত সন্দেহ আছে। -তুই অনেক সেয়ানা কিন্তু আর পার পাবি না। -স্যার বাথরুমটা কোন দিকে যদি একটু বলতেন? এবার তার মুখে একটু হতাশ ভাব দেখতে পেলাম, কিন্তু না সেটা বেশি ক্ষনের জন্য স্হায়ী হল না। সে যেন আমার প্রশ্ন শুনতেই পাননি এমন একটা ভাব নিয়ে খাপ থেকে রিভালবার বের করে সোজাসোজি আমার দিকে তাক করলেন। এতক্ষণ উল্টা পাল্টা করলেও এই মুর্হুতে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। যাই হোক, মুখে সেই ভাবটা প্রকাশ করলাম না। -তোকে যদি এখন মেরে ফেলি। -পারবেন না। -কেন? -কারণ, কখনো শুনেছেন দিন-দুপুরে থানায় কোন অপরাধী মারা গেছে। এবার তার মুখ স্বাভাবিক হওয়া শুরু করল। রিভালবার খাপে ভরে ফেললো । -দেখো, আমার মেয়েটা অবুঝ। তোমার কথা আমাকে বলেছে, কিন্তু তোমার মত বেকার ছেলের হাতে আমার মেয়েকে কিভাবে দেই । তিনি আমাকে তুমি বলা শুরু করছে তাই আনন্দিত বোধ করলাম। -দেখুন স্যার, আমি তিন বছর পর পাশ করে বেরুচ্ছি। তারপর আমি ডাক্তার হয়ে যাব। তাছাড়া সত্যিকথা বলতে গেলে তো আমি একেবারে বেকার না। তিন-চার টা টিউশনি করি। এবার তিনি বোধ হয় সবচেয়ে বেশি অবাক হলেন !! -কিসের আওয়াজ হয়। -আমার মোবাইলে কল এসেছে, আপনার মেয়ে ফোন দিয়েছে। -না দেখেই কিভাবে বুঝলে? -আমি আপনার মেয়ের সাথেই দেখা করতে যাচ্ছিলাম। -তুমি ফোন ধরে লাউড স্পিকার দাও। আমি ফোন ধরলাম, স্পিকার অন করলাম। -হ্যালো তুমি কোথায়? -হ্যালো সোনা, আমি সরি। অনেক দিন পর এক পুরোন বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল। চা না খাইয়ে কিছুতেই ছাড়বে না, তাই এক সাথে বসে গরম চা খাচ্ছি । পুলিশের মুখের দিকে তাকালাম না, কি দরকার শুধু শুধু ভয় পাওয়ার। -আমাকে বসিয়ে রেখে তুমি চা খাচ্ছো ?? আচ্ছা আসো তারপর দেখাচ্ছি। -সরি, সরি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি। লাইন কেটে গেল। -আমি কি তোমাকে ছাড়বো বলেছি?? -না ছাড়লে তো আপনার মেয়েই কষ্ট পাবে। -আমিও যাবো তোমার সাথে । -আপনি গেলে ভালই হয়, আমার কাছে যথেষ্ট পরিমান টাকা নেই, খাবারের বিলটা আপনিই দিতে পারবেন । পুলিশ সাহেব আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যে, পুরনো বাথরুমের বেগটা আবার পেয়ে বসলো ।। তবে বাবাকে দেখে অহনার মুখের অবস্হা যে কি হবে ভেবেই আনন্দ লাগছে । দূর থেকে বাবাকে দেখেই চিনে ফেলল অহনা। হতচকিত হয়ে উঠে দাড়ালো। পুলিশ শ্বশুরের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মুখ ভাবলেশহীন। আমি মিটিমিটি হাসছি। অহনার মুখটা কাঁদোকাঁদো। -স্যার আমি একটু আসছি। কোন জবাব পেলাম না, তবুও কেটে পড়লাম, অহনাকে একা রেখেই ।পুলিশ সামলানোর অভিঞ্জতা তো তার আগেও আছে। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি অহনা একা বসে আছে। পাশে গিয়ে বসলাম। তাকে স্বাভাবিকই মনে হল। -তোমার বাবা কি বলেছে ? -বাবা বলেছেন তোমার মার নাম্বার নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে! -বলো কি? আমি তো খুশিতে গদোগদো।। -এতো খুশি হচ্ছো কেন? -আরে আমার বংশে কোন পুলিশ নাই, আর কিনা আমার শ্বশুর আব্বাই পুলিশ, তাই এতো খুশি হচ্ছি ।। -যা ফাজিল। আচ্ছা আমার বাবা বললেন তুমি নাকি সাহসী ছেলে!! কিন্তু তোমার মধ্যে তো সাহসের কিছু দেখি না!! -কেন? আমাকে কেমন মনে হয়? -বোকা বোকা মনে হয়। -ওহে সুন্দরী, সাহসের তুমি কি বুঝিবা, বুঝিয়াছে তোমার বাবা!! এরপর আমার পিঠে কিল বৃষ্টি শুরু হল। সে মনের সুখে কিলাচ্ছে আর আমি মনের আনন্দে খাচ্ছি আর ভাবছি চৈত্র মাসের তাল বুঝি এবার শরৎকালেই পাকল। -কি হচ্ছে! পুলিশের মেয়ে কি বিয়ের আগেই হবু বর পিটায় ?? অহনা আমার কান ধরে টানতে টানতে নিয়ে চললো, -সেই কথা পড়ে হবে, এখন খুব ক্ষিদে পেয়েছে ,কিছু খাবো । -আমার পকেট তো গড়ের মাঠ? -সমস্যা নেই আমার কাছে টাকা আছে, চলো তো... -ওকে কি আর না বলা যায়,নাকি আমার সে সাহস আছে... তাই চললাম বাধ্য ছেলের মত ওর পিছুপিছু....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now