বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিভৃতের নীলা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নিভৃতের নীলা -------------------------- *** রাইসা বিনতে জোহা *** ২০ জুন ২০১৪ সকাল ১১টা ৩০মিনিট, Patient এর pulse মাপতে গিয়ে নিলা টের পেল তার নিজেরই heart beat বেরেই চলছে । কিন্তু এমনটিতো হওার কথা না... কয়েক মিনিট আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটাই কি তবে তার এই heart beat এর কারন ??? সারা রাত night duty করা ক্লান্ত নিলা,তার ক্লান্তি দূর করতে কিছুক্ষণ আগে যখন চায়ের কাপ হাতে hospital এর বারান্দায় দাড়িয়ে ছিল তখন হঠাৎ কেন যেন তার মনে হল কেউ একজন তাকে দেখছে। নিচের দিকে তাকাতেই দেখল একটা হ্যাংলা,চশমা পরা ফর্সা ছেলে তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । কয়েক মুহূর্তেরজন্যযেন মনে হল অভিক সেই আগের মত করে নিলার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু অভিক এখানে কিভাবে আসবে? ওর তো এখানে আসার কথা না। কথাগুল ভাবতে ভাবতেই ভিতর থেকে নিলার ডাক আসে ... - দিদি তাড়াতাড়ি ভিতরে চলেন একটা serious patient আসছে । নিজেকে সামলে নিয়ে হাতের মগ টাকোনমতে রেখে, stethoscope টা গলায় ঝুলিয়ে দৌড়ে ভিতরে যায় নিলা …। ২০১১ সালে অভিকের সাথে শেষ বারের মত কথা হয়েছিল নিলার। একসময় এই অভিকই ছিল নিলার জীবনের এক বড় অংশ জুড়ে। অভিকের সাথে নিলার প্রথম দেখা হয়েছিল অর্ণবের মাধ্যমে। নিলার কলেজ ফ্রেন্ড ছিল অর্ণব , আর অর্ণবের বেস্টফ্রেন্ড অভিক । পরিচয়ের পর থেকে টুকটাক কথার মধ্যদিয়ে এক সময় অনেক কাছে আসা দুজনার । সকাল থেকে রাতপর্যন্ত এমনকি কলেজের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে চলত দুজনার খুদে বার্তার চালাচালি । অভিকের ছোট থেকে ছোট বিষয় গুলির খেয়াল রাখত নিলা আর নিলার হয়ে অন্যদের সাথে ঠাণ্ডা যুদ্ধে লেগে যেত অভিক । ওদেরকে ঘিরে বন্ধুদের মাঝে খোঁচাখুঁচি চললেও বরাবর ই এসব এড়িয়ে চলত দুজন… কলেজের গণ্ডি পেরোতে পেরোতে আলাদা হয়ে যায় দুজনার পথ , নিলা শহর ছেড়ে পাড়ি জমায় রাজশাহী মেডিকেলে আর অভিক চান্সপেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । অভিকের প্রতি নিলার সুপ্ত ভালোলাগাগুলো যেন মেডিকেলের বন্দি দেওয়ালে এসে ডানা মেলে উড়তে চাইছিল ।তাইতো ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে অনেক বিশ্বাস নিয়ে, অভিক কে নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়েছিল নিলা । আর অভিক ও অবলিয়ায় বলেছিল, ভালবাসেনা সে নিলাকে । অভিকের বলা স্বাভাবিক কথা গুলো সেদিন নিলাকে যেন ভেতরে ভেতরে ভেঙ্গে দিয়েছিল। সেদিনের পর থেকে উপরে উপরে সব আগের মতো চললেও কোথায় যেন একটা অদৃশ্যদেয়াল তৈরি হয়েছিল তাদের মাঝে। নিলা যেন টের পাচ্ছিলো তার প্রিয় মানুষটি আর আগের মত নেই ,চিরচেনা সেই মানুষটি যেন আস্তে আস্তে অচেনায় পরিণত হচ্ছিল । নিলা খুব করে চেয়েছিল ওদের মাঝের সম্পর্কটা বাঁচাতে কিন্তু অভিকের অবহেলা যেন দিন দিন আরও অন্ধকারে তলিয়ে দিচ্ছিল তাকে।নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে তাই সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেওয়া । অভিক কে না জানিয়ে ওর সাথে যোগাযোগের সব রাস্তা বন্ধ করেদিয়েছিল নিলা নিজেই। অভিক অবশ্য কখনও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল বলে মনেও পরেনি ওর। ২০ জুন ২০১৪ সকাল ১১.৫০মিনিটে ডাঃ নিলা যখন patient কে রিসিভ করে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে রেফার করছিলেন ঠিক তখনি ward boy এর ডাক … দিদি waiting room এ কেউ আপনার জন্যে অপেক্ষা করছেন। কথাটি কানে যেতেই ভেতরটা কেঁপে উঠল নিলার। কিন্তু কেন ??? অসংখ্য প্রশ্ন নিয়ে নিলা যখন ওয়েটিং রুমের দিকে পা বাড়াল, তার মনে তখন এক অজানা ঝড় বয়ে যাচ্ছিল । অভিকের প্রতি চাপা রাগ গুলো যেন বিন্দু বিন্দু অশ্রু হয়ে চোখের কোণে জমতে চাইছিল..... কিন্তু নিলা আজ ভেঙ্গে পরবে না, হবেই না হয় এবার সে অভিকের মুখমুখি..... ওয়েটিং রুমের দরজায় কড়া নাড়তেই তার বয়সী এক ছেলেকে উঠে দাঁড়াতে দেখে কপালে সুক্ষ চিন্তার রেখা দিল নিলার। মনে মনে শুধু এতটুকুই বলল, সত্যি তুমি চির অধরা অভি... - আপনি কি ডাঃ নিলা ? ছেলেটির কথা শুনে নিলা হ্যাঁ সূচক মাথা নেরে বলল , - জ্বী, বলুন কি দরকার ? - আমি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে এসেছি ম্যাম , আপনার একটি parcel ছিল । - আমার জন্য parcel ? কার ? - নবনীতা চৌধুরীর, আপনাকে এখানে একটা sign দিতে হবে । নবনীতা চৌধুরী ! নামটি শুনে নীলার চোখের সামনে যেন একরাশ পুরোনো স্মৃতি এসে ধরা দিল.... নিলার স্কুল ফ্রেন্ড নব । হাসি ঠাট্টা আর গল্পের ঝুরি দিয়ে মাতিয়ে রাখত সবাইকে । কলেজ জীবনের পর রীতিমতন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দুজনার । নব Graduation complete করতে Australia চলে যায় , আর নিলা ফেঁসে যায় মেডিকেলের বেড়া জালে । নবনীতার কথা ভাবতে ভাবতে , হঠাৎ একটি unknown number থেকে ফোন আসে । call টা receive করতেই অপর প্রান্ত দিয়ে একটি পরিচিত কন্ঠ ভেসে আসে । - নিলা !!! এত দিন কই ছিলি তুই শয়তান ? জানিস কত কষ্টে তোর নাম্বার জোগাড় করেছি ? এভাবে না জানিয়ে একেবারে ডুব দিলি যে .... নীলাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে এক নিশ্বাসসে কথাগুলো বলে যায় নবনীতা ..... - আরে বাবা থামবি তুই এবার ? কবে ফিরলি দেশে ? - Upps Sorry ! সেই পুরানো অভ্যাস । কবে আসছি, কি সমাচার ওসব পরে বলছি । আগে বল parcel টা পেয়েছিস ? - হু পেয়েছি, কিন্তু কি আছে ওটাতে? - বলা যাবে না, Surprise !!! নিজেই খুলে দেখ । ওদের কথা চলাকালিন সময় পাশ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের লোকটা বলল, -আপু একটু তাড়াতাড়ি করবেন, দেরি হয়ে যাচ্ছেতো । -ও হ্যাঁ , এক মিনিট ভাইয়া । এই নব আমি তোকে একটু পর ফোন দিচ্ছি । লোকটাকে বিদায় দিয়ে পার্সেলটা খুলল নিলা। মজার মজার সব গিফ্ট পাঠিয়েছে পাগলিটা । সাথে একটা কার্ড ! কার্ডটা খুলতেই চমকে উঠল নিলা , এতো নবোর বিয়ের কার্ড !! যেখানে লেখা... ''Nobonita Chowdhury Weds Shuvojeet Saha'' শুভজিৎ সাহা অভিকের ভাল নাম। নিলা জানত অভিকের স্কুল জীবনের Crush ছিল নব । তবে কি অভিকের সাথেই নবোর বিয়ে ? এটাই কি ছিল তবে নবনীতার surprise ! চোখ থেকে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পরতেই, কার্ডটা সোফার উপর রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায় নিলা..... ২৪ জুন,২০১৪ বিকেল ৪.৩০ মিনিট, '' আধাঁর রাতের কাব্য আমার ধোঁয়ায় ভরা শ্রাবণ পূর্ণিমা যেন হারিয়েছে আমার রয়েছে শুধুই কালো চাঁদ আজ নিভু নিভু হয়ে শুধু তোমায় আলো বিলায় একটি তারা ক্ষণে ক্ষণে তাই নিষ্প্রভ হয়ে যায় '' পদ্মার পাড়ে বসে গুনগুন করে শব্দগুলো বুনছিল নিলা। যেন নদীর নিল কষ্ট গুলর সাথে তার কষ্টগুলো গভীর মিতালী গড়তে চাইছে। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাবার পর পেছন থেকে ডাক আসে তার - এই পিচ্চি এখানে কি করিস? একটু পরে না তোর রাউন্ড শুরু হবে? কথাগুলো বলেই নীলার পাশে এসে বসে নিলয় । নিলয়ের কথা শুনে কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে ম্লান হাসি দিয়ে অন্য দিকে তাকায় নীলা। বেশ কয়েক বছর ধরে নীলার এই চোরা হাসি দেখে অভ্যস্ত নিলয়। মায়াবি চোখের মেয়েটা তার মিথ্যে হাসি দিয়ে গোটা দুনিয়াকে ভুলাতে পারলেও নিলয় জানে ছোট্ট মেয়েটি নিজের মাঝে অনেক কষ্ট লুকিয়ে রেখেছে। নীলার কলেজেই পড়ত নিলয় । ওর চাইতে দু বছরের বড়। কিছুদিন হল মেডিকেল অফিসার হিসেবে ফিমেল মেডিসিনে জয়েন করেছে । নীলার কলেজে ঢোকার প্রথম দিন থেকে এক ভুল বুঝাবুঝির মাধ্যমে পরিচয় হয় দুজনার । তারপর কলেজের কালচারাল উইকে নীলার বিকশিত প্রতিভা যেন আরও মুগ্ধ করেছিল তাকে। তাইত বছর খানেক পর সিনিওরিটির মাথা খেয়ে এক দিন নিজ থেকেই বলেছিল নিলয় - এই পিচ্চি বন্ধু হবি আমার? সেদিন নিলয়ের কথাকে ঠাট্টা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিল নীলা যেন সে ভুলেই গিয়েছিল বন্ধুত্ব নামের কোন শব্দের অস্তিত্ব আজও পৃথিবীতে আছে। নিজেকে আরালে রাখতেই যেন বেশি ভাল লাগত তার। কিন্তু স্বল্পভাষী নীলার বন্ধত্ব যেন অনেক মূল্যবান ছিল নিলয়ের কাছে আর তাই উপরে উপরে না দেখালেও আড়াল থেকে ঠিকই খোঁজ নিত নীলার। কোন এক বিকেলে কথায় কথায় নীলার কাছ থেকেই সে জানতে পারে অভিকের কথা। মাঝে মাঝে অভিকের প্রতি ভীষণ করুনা হয় নিলয়ের, কিভাবে পারল সে এই মায়াবতির মায়াকে উপেক্ষা করতে? আর নিলয়ের মায়াবতিটাও যে অভিক নামের ঐ অকালকুষ্মাণ্ড জন্য সব মায়া জমিয়ে বসে আছে, এই ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া যে আর উপায় নেই তার। নীলার কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ টুংটাং শব্দে সম্বিত ফিরে পায় নিলয় । পাশে ফিরে দেখে নীলা মুঠো ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রীন এর দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে । পর পর দু বার রিং হয়ে ফোনটা কেটে যায় । কিছুক্ষণ পর একটা খুদে বার্তা আসে । নীলা তখন মুঠো ফোন এর দিকেই নিস্তব্ধ হয়ে চেয়ে আছে । নিলয় কিছু বুঝতে না পেরে যখনই নিলাকে জিজ্ঞাসা করতে যাবে তখন নীরবতা ভেঙ্গে নীলা নিজেই বলে উঠে " ণিলয় দা অভিক " । নাম টা শুনে কেমন জানি বুকের মধ্যে আঁতকে ওঠে নিলয়ের । কিছু না বলে তাড়াতাড়ি ওর হাত থেকে মুঠো ফোন টা নিয়ে দেখে একটি দু বাক্যের খুদে বার্তা " আমায় ক্ষমা করবি নীলা, দেখা করবি আমার সাথে ? - অভিক " ২৫ জুন ২০১৪, দুপুর ১.৪৫ মিনিট প্রায় ঘন্টা খানেক আগে বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসটি র পথের দিকে এখনো এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে নিলয়। মাথার মধ্যে তার হাজারো ভয় জড়ানো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে বাসটি ছেড়ে যাওয়ার সময় নীলার সাথে সাথে তার জীবনের সবটুকু রং কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। নীলাটাও জানি কেমন, গতকাল সেই ক্ষুদে বার্তাটি আসার পর থেকে একটি বারের জন্যেও কথা বলেনি ওর সাথে। হ্যা অবশ্য বলেছিল "কাল দুপুরের দিকে ঢাকা যাবার একটা টিকেট জোগাড় করে দিতে পারবেন নিলয়দ্বা? " নিলয় অবশ্য উওরে হ্যা সূচক মাথা নাড়িয়েছিল কিন্তু সেদিকে খেয়াল না করে কথাগুলো বলেই উঠে গিয়েছিল নীলা... আজ যাবার বেলায় একটিবার বিদায় পর্যন্ত বলেনি শুধু ধমকের সুরে বলেছিলো, " আর যেন কখনো সারারাত জেগে সিগারেট টেনে চেহারাটা লাল বাদরের মতন করতে না দেখি আপনাকে " মেয়েটা এত অদ্ভুত কেন, ভেবে পায় না নিলয়। ভেতরে যতই ভেঙ্গে পরুক না কেন, উপরে তার ঠাট বজায় রাখা চাই। ২৫ জুন ২০১৪, সন্ধ্যা ৬.১৫ মিনিট সারাদিন নিরুদ্দেশ ঘুরাঘুরির পর নিলয় যখন মেসের কড়া নাড়ে তখন প্রায় সন্ধ্যা। দরজা খুলেই রনি ঠাট্টার সুরে বলল, " কি মাম্মা নাইকার শোকে পাথর? ফোন কই তোর? কয়বার ফোন দিয়েছি জানিস? " রনির কথা শুনে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে ৯ টা মিসড কল, ৪ টা রনির বাকীগুলো অপরিচিত। নিলয়ের মেডিকেল জীবনের সবচাইতে কাছের বন্ধু রনি, নিলয় সুখ দুঃখের সাথী বলা যায়। অপরিচিত নাম্বারটিতে ফোন দিতে যাবে এমন সময় রনি আবার বলে ওঠে মিস্টার দেবদাস আজ সকালে তোমার পারু এসেছিলো। যাবার সময় তোমার জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছে, ওটা টেবিলের উপর রাখা আছে দেখ। রনির কথা শেষ হওয়ার আগেই নিলয় দৌড়ে গিয়ে চিঠিটা হাতে নিয়েই এক নিঃশ্বাসে পড়া শুরু করল। নিলয়দ্বা, চিঠিটা পেয়ে খুব অবাক হয়েছেন তাই না? জানি আমি। আপনার প্রতি প্রতিনিয়ত করা অবহেলার জন্য আমি দুঃখিত। আসলে নিজের ছন্নছাড়া জীবনটাকে গুছিতে নিতে এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে অন্যকিছু নিয়ে ভাবার সুযোগ মেলেনি কখনো। আমিতো বরাবরই এমন ছিলাম কিন্তু আপনি কেন কখনো নিজের অধিকার খাটাননি? রাতের পর রাত সিগারেটের ধোয়ার সাথে সাথে নিজের ভেতরটা পুরিয়ে গিয়েছেন, অথছ আমাকে একটি বারের জন্যেও কিছু বুঝতে দেননি। আপনি এমন কেন বলেনতো? কাল সারারাত অনেক ভেবেও যখন কোন কিছু ঠিক করতে পারছিলাম না ফোন দিয়েছিলাম আপনাকে। রনি ভাই ধরেছিলেন ফোনটা। হয়ত ভগবান আশির্বাদ স্বরূপ তাকে পাঠিয়েছিলেন আমাদের জীবনে। নইলে হয়ত অনেক বড় একটা ভুল করতে যাচ্ছিলাম... অভিকের প্রতি ভালোলাগা গুলো ওর করা প্রতিটা অবহেলার সাথে অনেক আগেই হারিয়ে গিয়েছে। অনেক আপন ভাবতাম ওকে সেই জন্যই হয়ত ওর এভাবে দূরে চলে যাওয়াটা সহজে মেনে নিতে পারিনি। যদিও বন্ধুকে হারানো আক্ষেপটা বরাবরই ছিলো। আর ক্ষমা? সে অনেক আগেই করেছিলাম ওকে তাই বলে ওর কাছে ফিরে গেলে ওর প্রতি অবিচার করা হবে যে। এখন বুঝি কিশোর বয়সের সেই ভালোলাগাকে আর যাই হোক ভালোবাসা বলা চলে না।আসলে ভালোবাসা কি তা হয়ত অজানাই থেকে যেত যদি না... যাগ গে আমি, আমার বান্ধুবী নবোর বিয়েতে যাচ্ছি, ওখান থেকে বাসায় যাবো। পালকী করে না হোক আমামায় না হয়য় রিকসাতে করেই ঘরে নিয়ে আসলেন। কি মিস্টার নিলয় চৌধুরী নিভৃত নীলা রায়কে নিভৃতের নীলা হওয়ার সুযোগ দেবেনতো? বার কয়েক নীলার চিঠিটা পড়ার পর নিলয় যখন এক মধুর বাসনায় মগ্ন, মুঠো ফোনের আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেয়েই দেখে সেই অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন, রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পুরুষ কন্ঠ ভেসে আসে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস কিছুক্ষন আগগে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পরে গিয়েছে। বাসের প্রায় সব যাএীই মারা গিয়ছে আমি ঘটনাস্থল থেকেই ফোনটা পেয়েছি। কে হোন আপনি ওনার? হ্যালো হ্যালো আপনি কি শুনতে পারছেন?? ফোনটা আস্তে করে কেটে দেয় নিলয় সে জানে না নীলা আর কখনো নিভৃতের হবে কিনা?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now