বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসি প্রিয়তী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভালবাসি প্রিয়তী" -----অনিক শাহরিয়ার তোমায় প্রথম দেখেছিলাম এক বৃষ্টিস্নাত রাতে। তোমার পরনের সেই নীল শাড়ি ভিজে চুপসে গিয়েছিল। আমি তখন ধোয়া উঠা কফির মগ হাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম। কি মনে হতে নিচে তাকিয়ে দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছ। তোমার গায়ে লেপটে থাকা ভেজা শাড়িতে তোমায় জীবন্ত এক প্রতিমা মনে হচ্ছিল। আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল এ যেন এক স্বপ্ন। চোখ ফেরালেই সে স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে। তুমি হারিয়ে যাবে। তুমি তখন হঠাৎ করেই আমার দিকে তাকালে। মনে হল এক চিলতে হাসি ছুড়ে দিলে। তারপর ধীর পায়ে চলে গেলে। আমি তোমার যাওয়ার পথেও অপলক তাকিয়ে রইলাম। কেন জানি মনে হচ্ছিল তুমি আবার ফিরে তাকাবে। কিন্তু তুমি ফিরে তাকাওনি। তারপর আমি প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থেকেছি সে পথে। কখনো তুমি এসেছিলে, কখনো আমাকে অপেক্ষায় রেখে হয়তো আড়ালে হেসেছিলে। আমি তবুও দাঁড়িয়ে থেকেছি দিনের পর দিন। তারপর তুমি যেইদিন হঠাৎ করেই আমার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলে আমি প্রতিদিন কেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি? আমার খুব ইচ্ছে করছিল জানো তোমাকে বলে দেই যে আমি তোমাকে একটি বার দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু কেন জানি মুখ ফুটে বলতে পারিনি। বলতে পারিনি প্রথম দেখাতেই আমি ভালবেসেছি তোমাকে। তুমি সেদিন উত্তর না পেয়ে খুব বিরক্ত হয়েছিলে তাই না? তোমার কপালের কুঞ্চিত প্রতিটি রেখা আমার মনে আছে। সেদিন ই আমি তোমার নাম দিয়েছিলাম প্রিয়তী। আমার প্রিয়তী।। সারাদিন শুধু তোমাকেই ভাবতাম। বন্ধুদের আড্ডায় তোমার ভাবনায় বিভোর হয়ে থাকতাম। তাইতো হঠাৎ করেই সবাই আমাকে চেপে ধরল কার প্রেমে পরেছি বলার জন্য। বন্ধুরা কি অদ্ভুত। না বললেও ঠিক আমার মনের কথা বুঝে গেল। আমি বলে দিলাম তাদের সে রাতের কথা, তোমাকে প্রথম দেখার কথা, রাস্তায় শুধু তোমায় এক পলক দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকার কথা। কথাগুলো শুনে সাদি টা খুব বিশ্রী ভাবে হেসেছিল। আমার খুব ইচ্ছে করছিল সাদি টাকে ধরে কয়েকটা থাপ্পড় লাগাই। কিন্তু আমি কিছু করিনি ওকে। ও আমার খুব কাছের বন্ধু কি না তাই। সেদিনই সবাই মিলে বায়না ধরল তোমাকে দেখবে। তাই তাদের সবাইকে পরদিন আমার বাসার সামনের রাস্তায় আসতে বলেছিলাম। তুমি যখন আসো তার ঠিক একটু আগে। সবাই এসেছিল সেদিন। তুমি যখন রাস্তা দিয়ে চলে যাচ্ছিলে সবাইকে আস্তে করে ডেকে বলেছিলাম ওই যে চলে যাচ্ছে নীল শাড়ি পরা মেয়েটা। সবাই কেমন অদ্ভুত ভাবে তাকালো রাস্তার দিকে । তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে কি কোথায় মেয়ে? রাস্তা তো পুরা ফাঁকা। তাদের কথা শুনে আমি রাস্তায় তাকিয়ে দেখি তুমি আছো। ধীর পায়ে মৃদু ছন্দে তুমি হেটে যাচ্ছ। খুব রাগ হল আমার সবার উপরে। সবাই বলল তুমি নাকি আমার কল্পনা। খুব ঝগড়া করলাম সেদিন সবার সাথে। সাথে সাথেই বাসায় চলে আসি আমি। তারপর সাদী এসেছিল আমার কাছে। আমি দেখা করতে যাই নি। আমি নিজের ঘরে বসে শুধু তোমায় নিয়ে স্বপ্ন বুনেছি। সেদিন কি যে বলে গেল সাদীটা মার কাছে। তারপর থেকে সারাদিন মা কেমন কেমন করে জানি তাকাচ্ছিল আমার দিকে। রাতে বাবা আসলে কি জানি বলল বাবার কাছে। বাবাও কেমন চুপ করে গেল। পরদিন ই বাবার এক বন্ধু আসলেন বাসায় অনেক কথা বললেন আমার সাথে। তবে ঘুরে ফিরেই খালি আমি কি স্বপ্ন দেখি, রাতে ভাল ঘুমাই কিনা এসব হাবিজাবি প্রশ্ন করছিল। আমি খুব বিরক্ত হচ্ছিলাম। কিন্তু তবুও কিছু বলিনি তাকে। পাছে ভুল করে যদি তোমার কথা বলে দেই লোকটাকে। লোকটা সেদিন যাবার সময় বাবাকে কি কি জানি বলে গেল। বাবার মুখটা কেমন কালো হয়ে গেল দেখলাম। আমি কি তবে ভুল কিছু বলেছি লোকটাকে? মনে তো পরছে না। তোমাকে ভাবতে ভাবতে কিছু মনে থাকে না এখন। আরকিছু মনে রাখতেও চাই না। শুধু তুমি থাকবে আমার পুরোটা জুড়ে। রাতে বাবা খেতে বসে বলে দিয়েছে আমি যাতে কয়েক দিন বাসা থেকে বের না হই। প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হয়েছে তখন আমার। বাবাকে বলে দিয়েছি আমি বের হবই। কেউ আটকাতে পারবে না। বলে খাওয়া ছেড়েই রুমে চলে যাই আমার। একটু পর দেখি কে জানি আমার রুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সারারাত দরজায় পাশে বসেছিলাম। একটুও ধাক্কাধাক্কি করিনি যদি বাবার ঘুম ভেঙে যায়। ভেবেছিলাম মা হয়তো দরজাটা খুলে দেবে। কিন্তু দেয়নি। আমি এখন কি ভাবে দেখবো তোমায় প্রিয়তী। তারা কি আমায় পাগল ভাবছে? কিন্তু আমি তো পাগল নই। তারা কেন আমাকে বুঝতে পারছে না। আসলে তারা কেউ আমাকে ভালবাসে না। আমি আজ থেকে তাদের ঘৃণা করি। আমি আর কারো সাথে কথা বলব না। কোন দিন না। আমি হারিয়ে যাব। আমি এখনই বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে তোমার কাছে চলে আসব। প্রিয়তী আমি আর তাদের কাছে ফিরে যাব না। তুমি একটু অপেক্ষা কর। শুধু একটু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now