বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দারুণ খরার কাল! ভয়ানক দুর্ভিক্ষ!
বৃষ্টি নেই সারা বছর। ফসল ফলবে কিভঅবে?
অভাব আর অভাব। চারদিকে কেবল অভাবের কাল ছায়অ। ছায়াটি ক্রমশ দীর্ঘ হতে হতে এক সময গ্রাস করে ফেললৈা পুরো কুরাইশ গোত্রকে।
কে আর সচ্ছল আছে?
বনী হাশিমের মধ্যে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ এবং তার চাচা আব্বাস তবুও কিছুটা ভাল আছেন। অন্যদের তুলনায়।
কিন্তু এই আকাল আর অভাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে গেলেন আবু তালিব।
মান-সম্মান আর মর্যদার দিক থেকে কোনো কমতি নেই আবু তালিবের। কমতি নেই কোনো শরাফতি থেকেও। কিন্তু তাতে কী?
অভাব তাকে এমনভাবে গ্রাস করে ফেললো যে তিনি বিদিশা হয়ে পড়লেন।
ভাবছেন আবু তালিব।
একা হলেও কথা ছিল। সংসারে অনেক সন্তান। বিশাল একটি পরিবার।
এতবড় পরিবারটিকে তিনি কিভাবে সামলাবেন? এই চরম দুর্দিন আর অভাবের মধ্যে?
ভেবে কোনো কূল-কিনারা করতে পারছেন না আবু তালিব।
অথই আর উত্তাল সাগরে তিন যেন এক ভাসমান, কূলহারা নাবিক।
এমন সময়।–
ঠিক এমনি এক দুঃসময়ে নবী মুহাম্মাদের (সা) হৃদয়েও বেদনার ঝড় বয়ে গেল।
তিনিও ভাবছেন।
ভাবছেন কী করে চাচা আবু তালিবের জন্য? দুর্দশায় তিনিও অস্থির হয়ে পড়লেন। ভাবতে ভাবতে তিনি ছুটে গেলেণ চাচা আব্বাসের কাছে। বললেন:
চাচা! আপনি তো জানেন, আপনার ভাই আবু তালিবের কথা। জানেন তার পরিবারের কথা। কী যে দুঃসহ কষ্টের মধ্যে তাদের দিন কাটছে! তেগুলো সন্তান নিয়ে তিনি কেবলিই ক্ষুধার সাগরে হাবুডুবু খঅচেনছন। চলুন না আমরা তার কাছে যাই এবং তার কিছু ছেলের দায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে নিয়ে তাকে কিছুটা হালকা করে তুলি! তার একটি ছেলেকে আমি নেব, আর একটি ছেলেকে আপনি নেবেন!
রাসূলের প্রস্তাব শুনেই হাসিমুখে বললেন আব্বাস: সত্যিই তুমি আমাকে একটি কল্যাণের দিকে আহবান জানিয়েছ। সত্যিই তুমি এক ভাল কাজের প্রতি আমাকে উৎসাহিত করেছ!
কথা শেষ।
সিদ্ধান্তে পালাও শেষ।
এবার যাবার পালা আবু তালিবের বাড়িতে।
রাসূল (স) এবং আব্বাস-দু’জন মিলে চলে গেলেন আবু তালিবের কাছে। গিয়ে তাকে বললেন:
আমরা এসেছি। আমরা এসেছি আপনার পরিবারের কিছু বোঝা হালকা করার জন্যে। মানুষ যে দর্ভিক্ষের শিকার হয়েছে- তা থেকে আপনাকে কিছুটা মুক্তি দিতে এসেছি আমরা।
তাদের কথা শুনে আবু তালিব একটি দীর্ঘশাস ছেড়ে বললেন:
আকীলকে আমার জন্য রেখে যা খুশি তোমরা তাই করতে পার। আমার কোনো আপত্তি নেই।
তার কথা শেষ হলে রাসূল (স) সাথে করে নিলেন আলীকে। আর আব্বাস নিলেন জাফরকে।
দু’জন –দুজনকে সাথে নিয়ে যার যার বাড়িতে ফিরে গেলেন।
আলী বড় হতে থাকলেন রাসূলেলর (সা) তত্তাবধানে।
আর জাফর বড় হচ্ছেন, লালিত-পালিত হচ্ছেন আব্বারে দায়িত্বে।
দুটো ছেলেকে বিদায় দেবার পর পিতা আবু তালিবের চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো
হাজার হোক পিতা তো!
তার এক চোখে সন্তান দিয়ে দেবার লজ্জা এবং বেদনা, আর অন্য চোখে তাদের ক্ষুধা থেকে মুক্তির আনন্দ।
রাসূলেল (স) নবুওয়াত লাভের সাথে সাথেই যুবকদের মধ্যে প্রথম ঈমান গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করলেণ হযরত আলী।
আর যাফর?
চাচা আব্বাসের কাছে, তার আদর-যত্নে আর স্নেহের ছায়ায় ক্রমশ বেড়ে উঠছেন। তিনি যখন যৌবনে পা রাখলেন, তখন- তখনই তিনি গ্রহণ করলেন ইসলাম।
রাসূল (স) মক্কার ‘দারুল আরকাম’ থেকে মানুষকে দাওয়াত দিতেন ইসলামের।
দাওয়াত দিতেন আল্লাহরদিকে।
সত্যের দিকে।
আলোর দিকে।
ঝলমলে পথের দিকে।
তাঁর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তখন বেশ কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। রাসূল (স) তাদেরকে নিয়ে ‘দারুল আরকামে’ একদিন নামাযে দাঁড়িয়েছেন।
সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। গায়ে-গায়ে, সোজা, কাতাবন্দী।
নামায আদায় করেছেন রাসূল (স) তাদেরকে নিয়ে।
কী চমৎকার এক দৃশ্য!
এমন দৃশ্য এর আগে আর কখনও অন্য কেউ দেখেনি। দেখেনি আব্বাসও।
তিনি তো হতবাক!
দাঁড়িয়ে আছেন রাসূল (স) এবং তাঁর সাথীদের নামায আদায়ের দৃশ্য দেখার জন্য। ভেতরে ভেতরে তিনি পুলকিত এবং শিহরিত হয়ে উঠছেন।
একি! রাসূলেল (স) পাশে আলী?
এই দৃশ্যটিও খুব ভালো লাগলো আব্বাসের।
পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন জাফর। নীরব, নিশ্চুপ। তিনি তখনো শামিল হননি রাসূলের (স) কাতারে।
আব্বাস আস্তে করে ডাকলেন জাফরকে।
বললেন, জাফর! তুমিও তোমার চাচাতো ভাই মুহাম্মদের (স) একপাশে দাঁড়িয়ে যাও না!
আব্বাসের নির্দেশ পেয়েই রাসূলের (স) কাতারে শামিল হয়ে নামায আদায় করলেন জাফর।
জীবনে তার এই প্রথম নামাযে দাঁড়ানো।
এই প্রথম রুকু এবং সিজদায় যাওয়া।
ঘটনাটি তার মধ্যে দারুণভাবে নাড়া দিল।
এর কিছুদিন পরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইসলাম গ্রহণ করলেণ, কিন্তু একা নন। সাথে তার স্ত্রী আসমাও আছেন।
ইসলাম গ্রহণ মানেই তো এক অন্য জীবন!
ইসলাম গ্রহণ মানেই তোক এক আলোকিত পথ।
আলোকিত!-
কিন্তু মসৃণ নয়। কংকর বিছানো, কাঁটা ছড়ানো, পাথরের পর্বত ডিঙানো- কত রকমের বন্ধুর পথ মাড়িয়ে, কতশত অগ্নিপরীক্ষায় পাস করে তবেই না পৌঁছানো যায় এই পথে কাঙ্ক্ষিত মনজিলে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now