বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পার্সি জ্যাকসন এন্ড দ্য ব্রোঞ্জ ড্রাগন-০৮

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ওগুলো ড্রাগনের উপর ব্যাস্ত থাকতে থাকতেই পর্বতের ভিতরে ঢুকে পড়া উচিৎ আমাদের। আর সেটা করতে হবে ঠিক এখনই।" অ্যানাবেথ বলল আমাদেরকে। এবারের আক্রমনের নেতৃত্ব দিল সিলেনা। এবং প্রথমবারের মত যুদ্ধক্ষেত্রে একজন আফ্রোদিতির সন্তানকে অনুসরণ করলাম আমি। দৌড়ে পিঁপড়াগুলোকে পাশ কাটালাম আমরা। ওগুলো আমাদেরকে পাত্তাও দিল না। তারা ড্রাগনটাকেই বড়সড় হুমকি ভেবে নিয়েছে। কাছাকাছি টানেলটা দিয়ে শেষ পর্যন্ত পর্বতে ঢুকে পড়লাম। সাথে সাথেই নাক মুখ গেল কুচকে আমাদের। বিশ্রী দুর্গন্ধ! পিঁপড়ার গুহার চেয়ে নিকৃষ্ট দুনিয়ার আর কিছু হতে পারে না। কিচ্ছু না। আমি নিশ্চিত খাবার খাওয়ার আগে এরা পঁচিয়ে নেয়। এদেরকে রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার শেখানোটা জরুরী। গুহার ভেতরটা অস্বচ্ছ, অন্ধকারাচ্ছন্ন। অনেকগুলো ছোট ছোট খোপের মত কক্ষ দেখতে পেলাম। সেগুলো সব পিঁপড়ার খোল অর কুৎসিত তরলে পরিপূর্ণ। পিঁপড়ার দল তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের পাশ দিয়েই ছুটে যাচ্ছে। আমরা শুধু হালকা সরে সেগুলোকে যাবার জায়গা করে দিলাম মাত্র। আমার ব্রোঞ্চের তলোয়ারের মৃদু উজ্জ্বলতায় আমরা গুহার গভীরে প্রবেশ করা শুরু করলাম। "দেখ!" অ্যানাবেথের অবাক কন্ঠস্বর শোনা গেল। পাশের রুমটায় তাকালাম। আমার একটা হার্টবিট মিস হয়ে গেল। গুহার সিলিং থেকে বৃহৎ আকারের চটচটে একটা পোটলা ঝুলছে। সম্ভবত পিঁপড়ার লার্ভা। তবে আমার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। গুহার মেঝেতে ছড়িয়ে আছে রাশি রাশি স্বর্ণমুদ্রা, রত্নপাথর, উজ্জ্বল হেলমেট, তলোয়ার, বাদ্যযন্ত্র, অলংকারের মত অতীব মূল্যবান সামগ্রী। জাদুকরী বস্তুর মতই সবকিছু ঝকমক করছে। "এটাতো একটা কক্ষ মাত্র। এরকম কমপক্ষে শতের উপরে কক্ষ আছে এখানে। সবগুলোই গুপ্তধনে ভরপুর।" "এগুলো এখন মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়", অধৈর্য কন্ঠে সিলেনা বলে উঠল। "চার্লিকে খুঁজে বের করতে হবে।" আরেকবারের মত এই প্রথম একজন আফ্রোদিতি কন্যাকে দেখলাম অলংকারের প্রতি অনাগ্রহী হতে। আবার এগোনো শুরু করলাম আমরা। আরও বিশ ফিটের বেশি যাবার পর কটু দুর্গন্ধময় আরেকটা গুহায় প্রবেশ করলাম। নষ্ট খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশ বালির পাহাড়ের মত স্তুপ করে রাখা আছে এখানে। হাড়, চর্বিযুক্ত পঁচা মাংস, এমনকি ক্যাম্পের উচ্ছিষ্ট খাবারও দেখতে পেলাম। মনে হচ্ছে ক্যাম্পের জৈব স্তুপে এরা নিয়মিত লুন্ঠন চালায়। আর গুহাটার একটা খাদ্যস্তুপের নিচের অংশে অথর্বের মত পড়ে আছে বেকেনডর্ফ। আমাদেরকে দেখামাত্র সে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল। তাকে ভয়াবহ দেখাচ্ছে। এর একটা কারন সম্ভবত তার বহুরূপী বর্মটা। কেননা খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটা এখন আবর্জনার রং ধারণ করেছে। "চার্লি!" সিলেনা দৌড়ে গেল তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য। "দেবতাদেরকে ধন্যবাদ", সে কোনমতে বলল, "আমার.....আমার পা অবশ হয়ে গেছে।" "এটা ঠিক হয়ে যাবে", অ্যানাবেথ বলল। "তবে এখান থেকে তোমাকে আগে বের করা দরকার। পার্সি, ওর অন্য পাশটা ধরো তো।" সিলেনা আর আমি বেকেনডর্ফকে টেনে তোলার পর চারজন মিলে টানেল ধরে বাইরের দিকে চললাম। আমি দুরাগত যুদ্ধের আওয়াজ টের পাচ্ছিলাম। ধাতব ঝংকার, আগুনের হলকা আর পিঁপড়াগুলোর অদ্ভুত কিচকিচ শব্দ। "কি হচ্ছে বাইরে?" বেকেনডর্ফ জিজ্ঞেস করল। তার কন্ঠে দুশ্চিন্তা টের পেলাম। "ড্রাগন! নিশ্চয়ই তোমরা ড্রাগনটাকে রিএক্টিভেট কর নি?" "দুঃখজনকভাবে তাই ঘটেছে। এটাই তোমাকে সাহায্য করার একমাত্র উপায় ছিল।" "কিন্তু তোমরা হঠাৎ করে একটা অটোমেটনকে চালু করে ফেলতে পার না। অন্ততপক্ষে মোটর আর যান্ত্রিক সমস্যাগুলো পরীক্ষা করে নেয়া দরকার ছিল। কে জানে অটোমেটন কখন কি করে ফেলে! আমাদের দ্রুত বেরোতে হবে এখান থেকে!" দেখা গেল আমাদের কষ্ট করে কোথাও যেতে হলো না। ড্রাগন নিজেই এসে ধরা দিল। যখন আমরা চিন্তা করছি কোন টানেল দিয়ে বের হওয়া যাবে, ঠিক তখনই আমাদের কাদায় মাখামাখি করে পুরো পাহাড় বিষ্ফোরিত হল যেন। হঠাৎ করেই আমরা তারাভরা আকাশ দেখতে পেলাম। ড্রাগনটা ঠিক আমাদের উপরেই টলোমলো পায়ে যুদ্ধ করছে। তার গায়ে উঠে যাওয়া পিঁপড়াগুলোকে পিষে ফেলতে গিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে পিপীলিকা পর্বতটাকে। "চল!" আমি চিৎকার করে বললাম। আমরা মাটি থেকে নিজেদেরকে টেনে তুলে ঢিবিটার বাইরের দিকে ছুটলাম। সাথে টেনে নিলাম বেকেনডর্ফকে। ওদিকে আমাদের ড্রাগন বন্ধু বিপদে পড়ে গেছে। পিঁপড়াগুলো এর বর্মের জোড়াগুলো কামড়ে ধরেছে, আর সারা গায়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে তরল এসিড। ড্রাগনটা রাগতভাবে আঘাত করছে আর ছুড়ে মারছে টকটকে আগুনের গোলা। কিন্তু খুব বেশি কাজে আসছে না সেগুলো। এর ব্রোঞ্চের চামড়া থেকে ধোয়া বেরুচ্ছে। এর চেয়েও খারাপ ব্যাপার হচ্ছে কিছু পিঁপড়া আমাদের দিকেও তেড়ে আসা শুরু করল। তারা সম্ভবত তাদের খাবার চুরি করে হাঁটিয়ে নেয়াটাকে ভাল চোখে দেখেনি। আমি একটাকে আঘাত করে মাথা কেটে ফেললাম। অ্যানাবেথ একটার দুই এ্যান্টেনার মাঝে ছুরি গেথে দিল। আমাদের সেলেস্টিয়াল ব্রোঞ্চের অস্ত্রের আঘাত পিঁপড়ার খোলে লাগার সাথে সাথেই সেগুলো ধুলোয় চূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। "আমার...আমার মনে হচ্ছে আমি হাঁটতে পারব", বলল বেকেনডর্ফ। কিন্তু তাকে ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথে মুখের উপর দড়াম করে আছড়ে পড়ল। "চার্লি!" সিলেনা উঠতে সাহায্য করল তাকে। অ্যানাবেথ আর আমি পিঁপড়াদের মধ্য দিয়ে পথ তৈরি করতে করতে এগোতে শুরু করলাম। সিলেনা বেকেনডর্ফকে ধরে অনুসরণ করল আমাদের। কিভাবে কিভাবে যেন কোন কামড় আর এসিডস্নান না করেই প্রান্তরটার কিনারায় এসে গেলাম আমরা। অবশ্য আমার একটা জুতা থেকে মৃদু এসিড বাষ্প বেরোচ্ছে। তবে সেটা বড় কোন বিষয় না। পিছনে প্রান্তরটায় ড্রাগনটা হোচট খেল। এর আবরণ থেকে বিপুল পরিমাণে এসিডের ধোয়া বেরোচ্ছে। "আমরা ওকে মারা যেতে দিতে পারি না," সিলেনা বলল। "কিন্তু বিকল্পটা আরো বিপজ্জনক", বিষন্নস্বরে বলল বেকেনডর্ফ, "একে..." "চার্লি!" সিলেনার গলায় আপত্তি। "এটা তোমার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে। আমার জন্য হলেও কিছু একটা কর।" এক মুহুর্তের জন্য বেকেনডর্ফের চোখে দ্বিধা দেখা গেল। তার মুখ পিঁপড়ার তরলে এখনো লাল হয়ে আছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যে কোন মুহুর্তে অজ্ঞান হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও সে তার পায়ের উপর দৃঢ়ভাবে ভর দিয়ে দাঁড়াল। আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল, "দৌড়ানোর জন্য প্রস্তুত হও।" এরপর প্রান্তরটার দিকে ফিরে চিৎকার করে উঠল সে, "ড্রাগন! ইমার্জেন্সি ডিফেন্স বেটা এক্টিভেট।" ড্রাগনটা পিঁপড়াগুলোর সাথে মারামারি থামিয়ে আচমকা ফিরে তাকাল। এর চোখগুলো হয়ে উঠল খুব উজ্জ্বল। বর্জ্রপাতের ওজোনের গন্ধ পাওয়া গেল বাতাসে। "য্যাঅ্যাঅ্যাপপ!"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now