বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পার্সি জ্যাকসন এন্ড দ্য ব্রোঞ্জ ড্রাগন-০৭

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তার কন্ঠ এই পরিস্থিতিতে কাজ করছে দেখে অবাকই হলাম। শুধু তাই না, তার গলায় আদেশের একটা কড়া সুরও ছিল। ড্রাগনটা চট করে তার মনোযোগ নিয়ে গেল সিলেনার দিকে। সিলেনা নার্ভাসভাবে ঢোক গিলল একটা। "তোমাকে আমরা জাগিয়েছি ক্যাম্প রক্ষা করার জন্য। তোমার কি মনে আছে এটাই তোমার কাজ ছিল?" ড্রাগনটা এর মাথা ঝাকাল, যেন গভীর চিন্তায় ডুবে গেছে। আমি হিসাব কষে দেখলাম সিলেনার আগুনে বিষ্ফোরিত হবার ফিফটি-ফিফটি চান্স আছে। ড্রাগনটাকে বিভ্রান্ত করার জন্য আমি তার ঘাড়ে লাফ দেয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করে দিলাম। তখনই হঠাৎ আবার সিলেনা বলে উঠল, "হেফাস্টাসের ছেলে চার্লস বেকেনডর্ফ, বেচারা খুব বিপদে আছে। মিরমেকরা ধরে নিয়ে গেছে ওকে। ওর তোমার সাহায্যের প্রয়োজন।" হেফাস্টাস শব্দটা শুনে ড্রাগনের ঘাড়টা সোজা হয়ে গেল। একটা কম্পন প্রবাহিত হয়ে গেল এর সারা শরীর জুড়ে। অতঃপর আমরা আরেকপ্রস্থ কাদায় মাখামাখি হলাম। ড্রাগনটা চারপাশে শত্রুর উদ্দেশ্যে তাকাল। অ্যানাবেথ ড্রাগনটার আচরন লক্ষ্য করে বলল, "আমাদের ড্রাগনটাকে পথ দেখিয়ে দিতে হবে। চল ড্রাগন! এই পথ দিয়েই পাবে হেফাস্টাসের পুত্রকে। অনুসরণ করো।" অ্যানাবেথ তলোয়ার বাগিয়ে গর্ত ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। আমরা অনুসরণ করলাম মাত্র। "হেফাস্টাসের জন্য!" চিৎকার করল অ্যানাবেথ। ব্যাপারটা অবশ্যই খুব মনোমুগ্ধকর ছিল। আমরা বনের মধ্য দিয়ে ছুটে চললাম। পিছনে তাকিয়ে দেখলাম ড্রাগনটা সত্যিই অনুসরণ করছে আমাদেরকে। এর চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে, নাক দিয়ে বেরিয়ে আসছে মৃদু বাষ্প। পিপীলিকা পর্বতের দিকে দৌড়ে যাওয়াটা এবার খুব চমৎকার ছিল। খোলা প্রান্তরটায় আসার পর মনে হল ড্রাগনটা বেকেনডর্ফের গন্ধ ধরতে পারছে। এটি আমাদের একদম উপর দিয়ে লাফিয়ে এগোল। আমরা লাফিয়ে সরে না গেলে নিশ্চিত এর পায়ের তলে পিষ্ট হতাম। গাছপালা, মাটি ভেঙে ড্রাগনটা সরাসরি আক্রমণ করল পিপীলিকা পর্বতে। প্রথম প্রথম পিঁপড়াগুলো বুঝতে পারল না কি ঘটছে। ড্রাগনটা প্রথম সুযোগেই কয়েকটাকে পিষে ফেলল পায়ের নিচে। কয়েকটাকে চিড়ে চ্যাপ্টা করে দিল। এরপর হঠাৎ পিঁপড়াগুলোর টেলিপ্যাথিক নেটওয়ার্ক কাজ করা শুরু করল। বড় ড্রাগন! বিপদ! প্রান্তরটায় থাকা সবগুলো পিঁপড়া আচমকা ঘিরে ধরল ড্রাগনটাকে। পিপীলিকা পর্বত থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করল আরো শত শত পিঁপড়া। ড্রাগনটা একরাশ আগুনের বন্যা বইয়ে দিল ওগুলোর উপর। আতঙ্কে দ্রুত পিছু হটে গেল সেগুলো। কে জানত পিঁপড়ার গায়েও আগুন ধরে! কিন্তু পিঁপড়ার আগমন থেমে গেল না। ঝাকে ঝাকে আসা অব্যাহত রইল। "ওগুলো ড্রাগনের উপর ব্যাস্ত থাকতে থাকতেই পর্বতের ভিতরে ঢুকে পড়া উচিৎ আমাদের। আর সেটা করতে হবে ঠিক এখনই।" অ্যানাবেথ বলল আমাদেরকে। এবারের আক্রমনের নেতৃত্ব দিল সিলেনা। এবং প্রথমবারের মত যুদ্ধক্ষেত্রে একজন আফ্রোদিতির সন্তানকে অনুসরণ করলাম আমি। দৌড়ে পিঁপড়াগুলোকে পাশ কাটালাম আমরা। ওগুলো আমাদেরকে পাত্তাও দিল না। তারা ড্রাগনটাকেই বড়সড় হুমকি ভেবে নিয়েছে। কাছাকাছি টানেলটা দিয়ে শেষ পর্যন্ত পর্বতে ঢুকে পড়লাম। সাথে সাথেই নাক মুখ গেল কুচকে আমাদের। বিশ্রী দুর্গন্ধ! পিঁপড়ার গুহার চেয়ে নিকৃষ্ট দুনিয়ার আর কিছু হতে পারে না। কিচ্ছু না। আমি নিশ্চিত খাবার খাওয়ার আগে এরা পঁচিয়ে নেয়। এদেরকে রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার শেখানোটা জরুরী। গুহার ভেতরটা অস্বচ্ছ, অন্ধকারাচ্ছন্ন। অনেকগুলো ছোট ছোট খোপের মত কক্ষ দেখতে পেলাম। সেগুলো সব পিঁপড়ার খোল অর কুৎসিত তরলে পরিপূর্ণ। পিঁপড়ার দল তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের পাশ দিয়েই ছুটে যাচ্ছে। আমরা শুধু হালকা সরে সেগুলোকে যাবার জায়গা করে দিলাম মাত্র। আমার ব্রোঞ্চের তলোয়ারের মৃদু উজ্জ্বলতায় আমরা গুহার গভীরে প্রবেশ করা শুরু করলাম। "দেখ!" অ্যানাবেথের অবাক কন্ঠস্বর শোনা গেল। পাশের রুমটায় তাকালাম। আমার একটা হার্টবিট মিস হয়ে গেল। গুহার সিলিং থেকে বৃহৎ আকারের চটচটে একটা পোটলা ঝুলছে। সম্ভবত পিঁপড়ার লার্ভা। তবে আমার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now