বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পার্সি জ্যাকসন এন্ড দ্য ব্রোঞ্জ ড্রাগন-০২

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমি বুঝতে পারছিলাম না বেকেনডর্ফ সিরিয়াস কথা বলছে কিনা। আফ্রিকান অ্যামেরিকান কিশোর বেকেনডর্ফ হেফাস্টাস কেবিনের প্রধান কাউন্সেলর। বেসবল খেলোয়াড়দের মত স্থায়ী পাকানো পেশীবহুল শরীর তার। প্রায় সারা জীবনটাই চুল্লীতে কাটানোর ফলে বেশ শক্তপোক্ত হাতের অধিকারী। কিছুদিন হল সে আঠারোয় পা দিয়েছে। কিছুদিন পরেই নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে যাবে। আর সে যেহেতু বয়সে বড় তাই সচরাচর আমি বিভিন্ন বিষয়ে তার কথা শুনতাম। কিন্তু চৌঠা জুলাইয়ে সৈকতের আতশবাজি উৎসবে অ্যানাবেথকে নিয়ে যাবার ব্যাপারটা অদ্ভুত প্রস্তাব। চিন্তাটাই আমার পাকস্থলীকে আকড়ে ধরছে। নার্ভাস বোধ করলে আমার পাকস্থলী এরকম আকড়ে ধরে। তখনই হঠাৎ আফ্রোদিতি কেবিনের প্রধান কাউন্সলর সিলেনা বোরগার্ডকে পাশ দিয়ে যেতে দেখলাম। সে বেকেনডর্ফের গোপন ক্রাশ। ভুল বললাম। সিলেনা পাকা তিন বছর যাবৎ বেকেনডর্ফের একদম অগোপনীয় ক্রাশ। তার চুলগুলো কাল আর খুব লম্বা। বাদামী চোখ দুটো বড় বড় আর বুদ্ধিদীপ্ত। সে যখন হেঁটে যায় ছেলে সেদিকে তাকাতে বাধ্য হয়। সে আমাদেরকে ক্রস করার সময় বলল, "গুড লাক চার্লি।" (বেকেনডর্ফকে আর কেউ তার প্রথম নাম ধরে ডাকে না।) বেকেনডর্ফকে একটা বুদ্ধিদীপ্ত হাসি দিয়ে সে অ্যানাবেথের সাথে লাল দলে যোগ দিল। "আহ...." বেকেনডর্ফকে দেখে মনে হচ্ছে সে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে। আমি তার কাঁধ চাপড়ে দিয়ে বললাম, "উপদেশের জন্য ধন্যবাদ। মেয়েদের সম্পর্কে তোমার এত জ্ঞান দেখে অভিভূত হলাম। এবার চলো বনে যাওয়া যাক।" খুব স্বাভাবিকভাবেই বেকেনডর্ফ আর আমি সবচেয়ে বিপজ্জনক দায়িত্বটা বেছে নিলাম। বাম পার্শ্বীয় কোণায় ঘোরাঘুরি করে প্রথমে শত্রু পতাকাটা খুঁজে বের করতে হবে। এরপর তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুড়িয়ে দিয়ে পতাকা দখল করাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে ধনুক হাতে আমাদের দলের প্রতিরক্ষায় থাকবে এপোলো কেবিন। আর হার্মিস কেবিন বনের মাঝ অংশে শত্রু পক্ষের উপর আক্রমন চালিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাবে। খুবই সোজাসাপ্টা পরিকল্পণা। আচ্ছা আমরা বাম পাশটা বেছে নিলাম কেন? "কারন অ্যানাবেথ চায় আমি ডান দিকে থাকি। এর মানে সে চায় না যেন আমরা বা'দিকে যাই।" বেকেনডর্ফকে বুঝিয়ে বললাম আমি। বেকেনডর্ফ মাথা নাড়ল, "চল কাজে নামা যাক।" বেকেনডর্ফ আমাদের দুজনের জন্য গোপন একটা অস্ত্রের পিছনে বহুদিন যাবৎ খেটে যাচ্ছে। একটা ব্রোঞ্চের বহুরূপী বর্ম। বর্মটার বিশেষত্ব হচ্ছে এটা এর পিছনের পটভূমির সাথে নিজেকে মিশিয়ে ফেলতে পারে। আমরা কোন পাথরখন্ডের সামনে দাঁড়ালে বর্মের রং পাল্টে ধুসর হয়ে যাবে। আবার কোন ঝোপের সামনে গেলে সেটা ধারণ করবে ঝোপালো সবুজ বর্ণ। ব্যাপারটা পুরোপুরি অদৃশ্য হওয়া না। তবে আমরা যথেষ্ট আড়াল পাব। অন্ততপক্ষে দুর থেকে হলেও। "এটা বানাতে একদম অনন্তকাল লেগে গেছে। তো জিনিসটা নষ্ট করে ফেলো না যে।" বেকেনডর্ফ সতর্ক করে দিল আগেভাগেই। "অবশ্যই ক্যাপ্টেন। কোন সমস্যা নেই।" বেকেনডর্ফ ঘোৎ জাতীয় শব্দ করল। তবে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি ক্যাপ্টেন ডাকটা সে খুবই পছন্দ করেছে। হেফাস্টাস কেবিনের বাকিরা আমাদেরকে শুভকামনা জানানোর পর আমরা বনে ঢুকে পড়লাম। সাথে সাথে কাজ শুরু করে দিল আমাদের বর্ম। গাছপালার সাথে রং মিলাবার জন্য ক্রমাগত বর্ণ পরিবর্তন করে বাদামী সবুজ হতে শুরু করল। দু'দলের মধ্যকার সীমানা নির্ধারণী দাগটা পেরিয়ে আসলাম আমরা। দুরাগত যুদ্ধের আওয়াজ কানে আসছে। তলোয়ার আর ঢালের ধাতব ঝংকার। কোন একটা ম্যাজিকেল অস্ত্রের ঝলকানিও দেখা গেল। কিন্তু আশেপাশে কোন মানুষের ছায়াও চোখে পড়ল না। "কোন বর্ডার গার্ডই নেই?" বেকেনডর্ফ ফিসফিস করে বলল। "আজব।" "অতি আত্মবিশ্বাস আরকি", আমি অনুমান করলাম। তবে সত্যি বলতে আমি নিজেই যথেষ্ট অস্বস্তি বোধ করছি। অ্যানাবেথ খুবই কৌশলী যোদ্ধা। তার দলের শক্তি আমাদেরকে ছাড়িয়ে গেলেও বর্ডারের এমন অসতর্কতা তার সভাবসিদ্ধ নয়। আমরা শত্রুসীমানার মধ্যে আছি। আমাদের দল ডিফেন্সিভ খেলা খেলায় আমাদের হাতে অবাধ সময়ও নেই। আগে বা পরে একসময় এপোলো কেবিন দখলের শিকার হবেই। তীরের মত নগন্য অস্ত্র দিয়ে আর যাই হোক এরিস কেবিনকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা সম্ভব না। অগত্যা আমরা একটা ওক গাছের গোড়া ধরে নিঃশব্দে এগোনো শুরু করলাম। হঠাৎই গাছেয ফাঁক দিয়ে আচমকা একটা মেয়ের মুখ উঁকি দিতে দেখা গেল। "শুউউউ!" চিৎকারটা করেই সে দ্রুত গাছপালার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। "বনদেবী।" বিরক্ত স্বরে বলল বেকেনডর্ফ। "খুবই মর্মস্পর্শী।" "একদমই না। চমকে দিয়েছি শুধু।" গাছের আড়াল থেকে গম্ভীর গলায় বলল কেউ একজন। পাত্তা না দিয়ে আমরা এগোনো শুরু করলাম। বনদেবীদের ধর্মই চমকে দেয়া। আমরা এখন বনের ঠিক কোথায় আছি সেটা অনুমান করতে পারছি না। কোণার উঁচু জমি, বৃদ্ধ গাছগুলোকে ঠিকঠাক অবস্থানে আছে বলেই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মনে হচ্ছে গাছগুলো যেন সমানে স্থান পরিবর্তন করছে। বনে খেই হারিয়ে ফেলা কঠিন কিছু না। চলতে চলতেই হঠাৎ একটা খোলা প্রান্তরে এসে পড়লাম আমরা। প্রান্তরের ঠিক মাঝখানে বড়সড় উঁচু মাটির ঢিবি। এবং ঢিবিটা দেখার সাথে সাথে বুঝে গেলাম আমরা বড়সড় বিপদে পড়ে গেছি। "হলি হেফাস্টাস!" বেকেনডর্ফ ফিসফিস করে বলল, "পিপীলিকা পর্বত!" আমার পিছিয়ে ঝেড়ে দৌড় দেবার প্রবল একটা ইচ্ছা হচ্ছে। এর আগে পিপীলিকা পর্বত দেখার সৌভাগ্য (কিংবা দুর্ভাগ্য) আমার হয়নি। তবে বয়সে বড় ক্যাম্পারদের কাছে এ সম্পর্কে নানা ধরণের কেচ্ছা-কাহিনী শুনেছি। মাটির স্তুপটা প্রায় গাছের আগা ছুই ছুই করছে। উচ্চতা বিচারে কমপক্ষে চারতলা দালানের সমান তো হবেই। ঢিবির প্রতি পাশেই অসংখ্য এলোমেলো সুড়ঙ্গ। আর সেগুলো দিয়ে আসা যাওয়া করছে হাজার হাজার...... "মিরমেকস!" অস্পষ্টস্বরে বললাম আমি। মিরমেকস হলো প্রাচীন গ্রীক ভাষায় পিঁপড়ার প্রতিশব্দ। কিন্তু এগুলো পিঁপড়ার চেয়েও বেশি কিছু। এগুলোর দর্শন একজন পোকামাকড় ঘাতককেও হার্ট এটাক করিয়ে দিবে। মিরমেকসগুলো আকারে প্রায় একটা জার্মান শেফার্ড কুকুরের মত বড়। তাদের বর্মের মত টকটকে লাল খোলগুলো মৃদু আলোয় চকচক করছে। চোখগুলো কাল পুতির মত অস্বচ্ছ। আর বড় ধারালো চোয়ালগুলো কেটে ফালা ফালা করার জন্য সদা প্রস্তুত। এদের কয়েকটা গাছের ডাল টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু আবার কাচা মাংসের টুকরা আকড়ে ধরে আছে। কিসের মাংস সেটা জানার কোন ইচ্ছাই নেই আমার। তবে বেশিরভাগই বিভিন্ন ধাতব টুকরা বহন করছে। যেমন পুরানো বর্ম, তলোয়ার, ধাতব বাসনপত্র-যেগুলো কোন অদ্ভুত উপায়ে খাবার তাবু ছেড়ে এখানে উদয় হয়েছে। একটা পিঁপড়া আবার বেরসিকের মত চকচকে গাড়ির হুড কামড়ে টেনে আনছে। বেকেনডর্ফ ফিসফিসিয়ে বলল, "এগুলো উজ্জ্বল ধাতু পছন্দ করে। বিশেষত স্বর্ণ। আমি শুনেছি এদের সংগ্রহে নাকি নক্স দুর্গের চেয়েও বেশি স্বর্ণ আছে।" (নক্স দুর্গে অ্যামেরিকার স্বর্ণের মজুদ রাখা থাকে।) তার কথায় ঈর্ষার সুর টের পেলাম। আমি চাইনা এখন সে এই বিষয়ে আগ্রহী হোক।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now