বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুষ্ট ছেলে

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X গ্রামের এক মাত্র দুষ্টু ছেলে রাব্বি যে, গ্রামটাকে একাই দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখতে পারে । দুষ্টু হিসেবে রাব্বির দ্বিতীয়টি আর নেই । ছোট্টবেলা থেকে তার দুষ্টামির মাত্রাটা অনেক বেশী থাকায় , তার নামডাক দুষ্ট রাব্বি নামেই পরিচিত ছিল । আর মেয়েদের কাছে তো একেবার শয়তান পোলা । মেয়েদের একমাত্র ভয়ের কারণও সে । যখন রাস্তা দিয়ে তারা স্কুলে যেত, কখনো রাস্তার পাশে লুকিয়ে থেকে ডিল ছোড়া ! আবার কখনো গাছের পাতার আড়ালে থেকে ফল খেয়ে তার কিছু অংশ দিয়ে ডিল ছোড়ে মারা । এটা ছিল তার দুষ্টামির কিছু বৈশিষ্টের মধ্যে একটি । আর বিকেল হতেই কয়েকটা বন্ধুকে নিয়ে পাশের গ্রামের কিছু মানুষকে জ্বালানোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া । হয়ত কারোও গাছের ফল চুরি, আবার কোন মানুষকে কথার দ্বারা পাগল করে দেওয়া । এ কারণে পাশের গ্রামেও দুষ্টু হিসেবে তার খ্যতি কম ছিলনা । আর প্রতিদিন বাড়ি ফিরতেই দেখত একগাধা বিচারের নালিশ নিয়ে বিচার করার জন্য বসে থাকত তার বাবা । ছেলেটার একটা ভাল অভ্যাস ছিল, সে কখনো মিথ্যা বলতোনা । তাই সে মিথ্যে গাজাখুরী গল্প বানিয়ে বলতে পারতোনা, এর জন্যই মারও খেতে হতো বাবার হাতে । প্রতিরাতে এভাবে প্রহার করার পর, তার বাবা ভাবত ছেলেটা বুঝি এবার ভাল হয়েই যাবে । কিন্তু সকাল হতেই দেখা যেত দুষ্টু রাব্বি খেতাবেই । একদিন তার বাবা তাকে স্কুলে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যায় । কিন্তু স্যারদের কাছেও তার নামডাক পরিচিত ছিল বলে অনেক স্যারেরা ভর্তি করাতে প্রথমে রাজি হয়নি । এক স্যারের অনুরোধে তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয় । তার পর থেকে প্রতিদিন স্কুলে যেত । স্কুলের পড়াও সে সহজে শিখতে পাড়ত । কিন্তু দুষ্টুমিটা একটুও কমেনি । আয়তন টা কিছুটা কমেছিল তখন । আগে যেহেতু সারা গ্রামটাকে জ্বালাতো, এখন সে স্কুলটাকেই পুড়ায় । যার জন্য স্যারদের হাতে অনেক মারও খেতে হত তাকে । কিন্তু পড়ালেখায় ভাল থাকার কারনে স্যারেরা তাকে নিয়ে ভাল কিছু আশাও করত । আর বাবা তো খুশীই কারন ছেলেটার নামে আর কোন বিচার আসেনা । এইভাবেই তার কেটে যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক লেখাপড়া । মাধ্যমিকে অবশ্য বাবার মুখ সন্তুষ্ট করার মতই একটা রেজাল্টও করেছিল সে । মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায় সে । সেখানে তার সম বয়সী একটা ফুফাতো ভাই থাকায় দিনকাল ভালই কাটছিল তার । একদিন সে ফুফাতো ভাইয়ের সাথে তার স্কুলে যায় । ক্লাস শেষে স্কুলের মাঠটায় যখন আড্ডা দিতেছিল তখন একটা মেয়েকে দেখে তার ভাল লেগে যায় । মেয়েটার নাম স্বর্নালী । পরিবারের একমাত্র আদরের মেয়ে । বাবা মা আর দুইভাই নিয়ে তার পরিবার । খুব সুখের পরিবার , তাই স্বর্ণালীর কোন কিছুরই অভাব হতনা । চাওয়া মাত্রই পূরণ করে দিত তার বাবা । আর স্বর্ণালী রাব্বির ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী ছিল । একদিন রাব্বি তার ফুফাতো ভাইকে বলে দিল স্বার্ণালীকে ভাল লাগার কথা । আর স্বর্ণালীকে রাজী করানোর সমস্ত দায় ভারটাও তার হাতেই দিল । প্রথমে স্বর্ণালী রাজী ছিলনা । কিন্তু সারাদিন তার পিছনে পড়ে থাকত ছেলেটা । অনেক দিন এভাবে চলে যাওয়ায় স্বর্ণালী কিছুটা দুর্বল হয়ে আসে রাব্বির প্রতি । ব্যাস তাদের প্রেমও শুরু । এক সময়ের গ্রামের সেরা দুষ্টু ছেলেটি স্বর্ণালীর প্রেমে পড়ে একেবারে সুবোধ বালকে পরিণত হয়ে যায় । ছেলেটা দিনরাত স্বর্ণালীর প্রেমে বিভর হয়ে থাকত । কিছুদিন পর সে ফুফুর বাড়ি থেকে চলে আসে । আসার সময় স্বর্ণালীকে তার বাবার ফোন নাম্বারটা দিয়ে আসে । বাড়িতে আসার পর রাব্বিকে তার গ্রামটা যেন এক অন্য চরিত্রেই দেখতে পায় । তার এমন সুবোধ আচরণে গ্রামের অনেকেই অবাক হয়ে যায় । যেই ছেলেটা সারা গ্রামটাকে মাতিয়ে রাখত, সেই ছেলেটাকে একা একা সারাদিন একটা ডায়রী নিয়ে পড়ে থাকতে দেখলেতো অবাক হওয়ারই কথা । সারাদিন ডায়রীটায় কি যেন লিখত আর একটা হাসিমাখাঁ মুখ নিয়ে বিড়বিড় করে পড়ত । একদিন খুব সকালে রাব্বির বাবার নাম্বারে একটা কল আসে । হ্যালো আসসালামামু আলাইকুম রাব্বি বলছেন ? না আমি তার বাবা । ও আংকেল রাব্বিকে একটু দেয়া যাবে । তুমি একটু অপেক্ষা কর আমি রাব্বিকে ডাকছি । রাব্বি তখন বাড়ীর সামনে পুকুর পাড়ে একটা হাসিমাখা মুখ নিয়ে একা বসে কিছু একটা লিখায় ব্যস্ত ছিল । তার বাবার ডাকে বিরক্ত হয়েই উঠে আসে । কাছে আসতেই তার বাবা ফোনটা বাডিয়ে দেয় । এই নে তোর ফোন । অবাক হয়েই ফোনটা রিসিভ করে রাব্বি । হ্যালো ! কেমন আছ ? কন্ঠটা শুনে বুকটা কেপে উঠল রাব্বির । সেটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত গুলোর মধ্যে তার জন্য একটি মুহুর্ত । স্বর্ণালীর ফোন । ভাল আছি তুমি কেমন ? ভাল আর শুন এই নাম্বারটা আমার । বাবা আমাকে একটা ফোন কিনে দিয়েছে । আরো কয়েকটা কথা বলে ফোনটা রেখে দেয় স্বর্ণালী । সেদিনটা রাব্বির খুব আনন্দেই কাটে । রাতে বাবার কাছে আবদার করে বসে একটা ফোন কিনে দেওয়ার জন্য । কিন্তু প্রথমে রাজী না হলেও বার বার করে বলার কারনে পরবর্তীতে একটা ফোন কিনে দেয় । ফোনটা পাওয়ার পর প্রথমেই স্বর্ণালীকে ফোন করে । তার পর থেকেই রাব্বি আর স্বর্ণালীর প্রেমটা নতুন মাত্রা পায় । যখনি মন চায় ফোন দিয়ে কথা বলা । হাসি আর গল্পে সব সময় মাতিয়ে থাকত তাদের মন । উচ্চ মাধ্যমিকে রাব্বি শহরের একটা কলেজে ভর্তি হয় । স্বার্ণালীও একই শহরের একটা পলিটেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হয় । সেই সুবাধে তাদের প্রেমটা আরো জমে উঠে । প্রতিদিন চাইলে দেখা করতে পারত । এভাবে তাদের জীবন ভালোই কেটে যাচ্ছি ল । একটুখানি দেখা আর ছোট্ট অভিমানে তাদের প্রেমটাও পূর্নতা পেয়ছিল । এভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলে আসে রাব্বির । পরীক্ষার আগে স্বর্ণালী রাব্বির পড়ালেখা ভাটা দেখে নিজের ফোনটা বন্ধ করে রাখে । রাব্বিও জানত যাতে রাব্বি একটা ভাল রেজাল্ট করতে পারে । তার জন্যই ফোনটা অফ রাখে স্বর্ণালী । রাব্বিও পড়ালেখাটা ভাল করেই চালিয়ে যেতে লাগল । পড়ার ফাকে যখন স্বর্ণালীকে মনে পড়ত, তখন আকাশের শুকতারাটার দিকে তাকিয়ে থাকত । শুকতারাটা যদি মেঘের আড়ালে ডাকা পড়ত, তখন এই ভেবে স্বান্তনা পেত যেন এক আকাশের নিচেই তারা আছে । দেখতে দেখতে রাব্বির পরীক্ষাটা শেষ হয়ে যায় । পরিক্ষাটা ভালও হয় তার । পরিক্ষার পর রাব্বি আর স্বর্ণালীকে শহরের বিভিন্ন স্তানে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যেত । কখনো দেখা যেত পার্কে, কখনো কলেজ মাঠে, আবার কখনো পুকুর পাড়ে । তখন প্রতিটা দিন হত তাদের ভালবাসার এক একটি মহেন্দ্রক্ষণ । কিন্তু এভাবে শহরে ঘুরাঘুরি করার কারণে কিছু পরিচিত মানুষের নজরে এসে যায় তারা । তাদের ভালবাসার কথা জেনে ফেলে অবিভাবকেরাও । ঈদকে সামনে রেখে দুজনই বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে । দুজন দুজনকে গিফ্ট করে সেই ঈদে । একদিন সকালে দুজনই বাড়িতে চলে আসে । বাড়িতে আসার পর স্বর্ণালীর বাবা তার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেয় । এবং স্বর্ণালীকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে । এদিকে স্বর্ণালীর সাথে কথা না বলতে পারায় রাব্বির দিনকাল অসস্তিতে কাটতে লাগল । কোন পথ না পেয়ে তার ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ফোন দেয় রাব্বি । ফুফাতো ভাইটা স্বর্ণালীদের বাড়িতে যায় । স্বর্ণালী তাকে কেঁদে কেঁদে সবকিছু খুলে বলে । ফুফাতো ভাইয়ের কাছে সবকিছু শুনে সেদিন রাব্বি তার ফুফোর বাড়িতে চলে আসে । ঈদের পর স্বর্ণালীর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায় । স্বর্ণালী পাশের বাড়িতে এসে তার বান্ধবীর ফোনে রাব্বির সাথে কথা বলে । এবং তারা সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে যাবে । ফুফাতো ভাই সবকিছুর ব্যবস্তা করে দেয় । সেদিন ছিল স্বর্ণালীর বিয়ের আগের দিন । সন্ধ্যার সময় রাব্বির সাথে কথা বলে বাড়ি থেকে পালায় স্বর্ণালী । পাশের গ্রামের একটা বাজারে গিয়ে রাব্বির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ! পালানোর সময় তার ফোনটা বাবার কাছ চুরি করে নিয়ে আসে । এসেই রাব্বির সাথে কথা বলে । সে রাত ৯ টার বাসের দুইটা টিকেট কিনে রাখার কথা বলে । স্বর্ণালী দুইটা টিকেট কেটে অপেক্ষা করে তার চিরদিনের সঙ্গীটাকে পাবার জন্য । ছোট্ট একটা ব্যাগে করে কিছু কাপড় আর প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে দাড়িয়ে থাকে স্বর্ণালী । প্রতিটা মিনিট যায় স্বর্ণালীর ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে থেকে ।আর ভেসে উঠতে ভালবাসার প্রতিটি সুখের মুহুর্তের । কিছুক্ষণ পর তার চার বছরের প্রেমটা পূর্নতা পাবে । ঘড়িটায় ঘন্টার কাঠাটা প্রায় নয়টায় পৌছেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত রাব্বির কোন খবর নেই । এরই মধ্যে বাসের হুইসেল বাজতে লাগল । স্বর্ণালীর চোঁখে খুব অভিমানে পানি জমতে শুরু করে । রাব্বি এমনটা করছে কেন ? ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছে । বাসের হেলপার সব পেসেন্জারদের ডেকে বাসে উঠাল । ধীরে ধীরে বাসটা এগোতে লাগল , স্বর্ণালীর চোঁখ দিয়ে অজরে পানি ঝরতে লাগল । কিন্তু বাসটায় উঠার সাহস পেলনা । পিছন থেক কে যেন স্বর্ণালীর মাথায় ঠোকা দেয় । পেছন থেকে একটা কন্ঠ বেরিয়ে আসে.. কি বাসে উঠবেনা । পেছনে ফিরে স্বর্ণালীর মলিন মুখটা মুহুর্তের মধ্যে একটা এভারেস্ট জয়ী কোন মানুষের মুখের মত পরিণত হয়ে যায় । একটা মুচকি হাসি দিয়ে নব জীবন সঙ্গিটিকে জড়িয়ে ধরল স্বর্ণালী । দেরি করলে কেন ? কেন ? খুব কষ্ট হয়েছিল ? নিরবে মাথা নাড়ায় স্বর্ণালী । সারা জীবন সুখের জন্য এটুকু কি বেশী কষ্ট হয়ে গেল ? তাহলে কি ইচ্ছে করেই এমনটা করলে ? হুম ! দু জনের মুখেই হাসি । উঠে গেল বাসটায় । জীবনের বাসটা তাদের নিয়ে চলছে অজানা কোন গন্তব্যে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুষ্টু ছেলে ০২
→ দুষ্টু ছেলে ০১
→ দুষ্টু ছেলের মিষ্টি ভালোবাসা
→ দুষ্টু ছেলে
→ দুষ্টু ছেলের ভালবাসার গল্প
→ মেয়েটি দুষ্ট ছেলের প্রেমে পড়েছে
→ দুষ্টু ছেলে মিষ্টি মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now