বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার স্কুল লাইফে আমাদের ক্লাসে বাবু নামে একটি বোকা ছেলে ছিল।
শুধু বোকা বললে ভুল হবে, কারণ সে ছিল একটা বোকার হাড্ডি । বোকামি করা যেন তার একটা স্বভাবই ছিল। ক্লাসের মধ্যে বিভিন্ন সময় নানা রকম বোকামি কাজ করে সে ক্লাসের প্রায় সকল স্টুডেন্টদের হাতেই প্রচুর মার খেত (আমার হাতেও) ।
কোন কোন দিন আমাদের ক্লাসের মেয়েদের সাথে দুষ্টুমি করে মেয়েদের রাগিয়ে তাদের হাতে প্রচুর মার খেত। আর আমরা সবাই দূরে দাঁড়িয়ে হাসতাম। মেয়েদের কাউকে নিয়ে একটু মজা করলেই ক্লাসের সকল মেয়েরা দলবদ্ধ হয়ে ওটাকে পিটিয়ে শেষমেশ কাঁদিয়ে ছাড়ত । আর আমরা তখনও ওর অবস্থা দেখে সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতাম।
সে একে তো ছিল ক্লাসের সবচেয়ে বোকা ছাত্র। তার সাথে সে ছিল ক্লাসের সবচেয়ে পড়ায় অমনোযোগী এবং সবচেয়ে খারাপ ছাত্র। ওর হাতের লেখা দেখলে বোধহয় ঢাকা চিড়িয়াখানার বাঁদরও ওকে ভেংচি দিতো ।
ওর হাতের লেখার কারনে এবং পড়াশোনায় খারাপ হওয়ার কারনে ক্লাসের সকল স্যারদের হাতেই প্রচুর মার খেত। একদিনও মিস নাই!!
স্কুলে পড়া পারতো না বলে প্রায় প্রতিদিনই ওর বাসায় স্যারদের কাছ থেকে নালিশ যেত। আর তখন... ওর বাসায় শুরু হত আরেকদফা মার খাওয়া। বাসায় এ জন্য ওর মার হাতে বোধহয় কম মার খায় নি!!
ও মার খেত, আর আমরা তখনও হাসতাম। মনে মনে ওর প্রতি মায়াও হত, বেচারা কেন যে এত মার খায় ।
আমাদের হাঁসার আর একটি কারণও ছিল। বেচারা সারাদিন এত মার খেলেও, তার চোখ দিয়ে এক ফোটা কান্নাও বেরুতো না। সারাক্ষন মার খেত আর কান্নার সেই কষ্ট সে হাসির মাধ্যমে উড়িয়ে দিত। একদফা আমাদের, একদফা মেয়েদের, স্যার এবং আম্মুর হাতে মার খাওয়া যেন তার নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল । আমাদের কেউই ওকে কখনো কাদতে দেখি নি। আর ভূল করে যদি সে কখনো কেঁদেও দিত, তার চেহারার সেই বাচ্চা বাচ্চা স্বভাবের জন্য প্রায়ই মনে হত যেন সে কান্না না করে তার সেই মারগুলো কে মজা করে, তাচ্ছিল্যভাব করে উড়িয়ে দিচ্ছে।
একদিন ক্লাস ফাইভে থাকতে ওকে আমি ষ্টীলের স্কেল দিয়ে আঘাত করে ওর হাত কেটে ফেলেছিলাম। খুব কোন সিরিয়াস কারনে না, শুধু একটি তুচ্ছ কারনেই। আর আমি ওকে চার-পাচবার আঘাত করার পরেও সে কেন যেন হাসছিল!!! তাই আমি মনে করেছিলাম আমার আঘাতগুলো বোধহয় খুব একটা সিরিয়াস হবে না। কিন্তু এর পরে যখন দেখি যে ওর হাত কেটে রক্ত বেরুচ্ছে তখন আমি খুব ভয় পেয়ে যাই।
কিন্তু ও কেন যানি তখনও হাসছিল!!! কি আজব!!!
সে ইচ্ছা করলে স্যারদের কাছে বিচার দিয়ে আমার বিচার চাইতে পারত। কিন্তু সে তা করে নি। সে ঐ দিনের মত তার বাসায় চলে যায়। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর ওর আম্মু ওর হাতে কাটা দাগ দেখে, এবং ওর মা তাকে অনেক জোরাজুরি করার পর সে আমার কথা তার মার কাছে বলে।
এর ফলে তার আম্মু পরদিন স্কুলে এসে আমার নামে আমার ক্লাস টিচারের কাছে বিচার দেয়, এবং আমিও স্যারের হাতে সেদিন প্রচুর মার খাই।।
আমি সেদিন স্যারের হাতে মার খেলেও সেই জন্য ওর প্রতি কোন ক্ষোভ রাখি নি। কারণ আমার খারাপ কাজের শাস্তি তো আমার পাবারই ছিল...
ক্লাস সিক্সে পড়া শেষ করে আমি আমার লাইফের সেই প্রথম স্কুলটি ত্যাগ করে দনিয়া এ.কে স্কুলে এসে পড়ি এবং এখান থেকেই এস.এস.সি পরিক্ষা দিয়ে আমার স্কুল লাইফের পড়া শেষ করি।
আমার সেই স্কুল থেকে এসে পড়ার পর আমার সেই সহপাঠিদের সাথে আমার খুব একটা যোগাযোগ রক্ষা করে চলা আমার খুব সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। যদি কারো সাথে কখনও রাস্তায় দেখা হত তাহলে তাদের সাথে সামান্য কিছু মিনিট সময় কাটেয়েই আবার তাদেরকে বিদায় জানাতে হত।
আমার সাথে সেই ছেলেটির সর্বশেষ দেখা হয় বছরখানেক আগে। তখন তার স্বভাবে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা গেলেও তার হাসিমাখা মুখটা সেই আগের মতই ছিল ।
আজ আমি আমার সেই স্কুলের কয়েকজন ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। পড়াশোনা এবং বিভিন্ন কাজের চাপে এখনও আমাদের একসাথে বেশিক্ষন থাকা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমাদের ঘোরাফেরার এক পর্যায়ে আমার এক ফ্রেন্ড আমাকে তার কথা জিজ্ঞাসা করল। আমি বললাম, সে বছরখানেক আগে অমুক জায়গায় অমুক কোচিং য়ে পড়াশোনা করতো ।
তখন ও আমাকে বলল, "তাহলে তুই ঘটনা টি জানিস না!! ও গত তিনমাস আগে মারা গেছে!!"
আমি মুহূর্তেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমি আসলেই এমন একটি কথা শোনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। আমি মুহূর্তেই বোবা হয়ে গেলাম! বলার মত কোন কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে সত্যি বলছে তো?? নাকি...
ও বলল, মাস তিনেক আগে ওর পারিবারিক কিছু কারনে তার আম্মুর সাথে রাতের বেলা ঝগড়া করে এবং সকাল বেলা তার ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে তার লাশ ঝুলতে পাওয়া যায়।
যদিও আত্মহত্যা কোন কিছুর সমাধান না, তবুও আমার মনে হয় খুব মানসিক অস্থিরতায় না ভুগলে কেউ এমন কাজটি করতে কখনও পা বাড়াবে না... কেউ মরতে চায় না, সবাই বেঁচে থাকতে চায়। একজন মানুষ তার ধন-সম্পদ, সহায়-সম্পত্তি সবকিছু দিয়ে দিতে রাজি শুধুমাত্র বাঁচার জন্য। সেখানে একটি মানুষ কেমন পরিস্থিতিতে পড়লে সে আত্মহত্যার দিকে পা বাড়ায় সে টা হয়তোবা আপনারাই ভাল বুঝেন ।
ভাই, তুই যেখানে থাকিস, ভাল থাকিস। আমরা তোকে কখনও বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে পারি নি। সারাক্ষন তোকে অবজ্ঞা আর অবহেলার চোখেই দেখেছি, পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিস।
Miss You....
- মোঃ মেহেদী হাসান নিনাদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now