বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমিও ভালবাসি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নীলাদ্রী হাঁটছে এবং ঘর গোছাচ্ছে, অদ্ভুত এক চাঞ্চল্য কাজ করছে তার মধ্যে। ওদিকে বারান্দায় ল্যাপটপ নিয়ে বসা আবীর এর দিকে তাকিয়ে ভাবছে "মানুষ এত নিশ্চুপ হয়ে কিভাবে বসে থাকতে পারে..?! একজন মানুষ অনবরত তার সামনে দিয়ে হাঁটাচলা করছে তার দিকে মানুষটির কোন খেয়াল নাই।" আবীর আর নীলাদ্রীর বিয়ে হয়েছে আজ ৮ মাস। ইউনিভারসিটি এক সাথে পড়ত তারা কিন্তু কখনো দুজনার কথা হয়েছে কিনা তা সন্দেহ..। কারন নীলাদ্রী ভালবাসত তার ইউনিভারসিটির ই সিয়াম নাম এর ছেলে কে। পড়াশোনা শেষে নীলাদ্রী বিয়ে করতে চাই ছেলেটাকে কিন্তু নীলাদ্রীর বাবা তা মেনে নেয়নি। বাবার চাপে ই আবীর কে বিয়ে করতে বাধ্য হয় নীলাদ্রী। তবুও বিয়েটাকে সে মন থেকে মেনে নেয়নি এরই জন্যে বিয়ের প্রথম রাতেই আবীর কে সে পরিষ্কার করে বলে দেয় এই বিয়েতে তার মত নায় এবং তাকে সে কখনই নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারবে না আর কখনো ভালোওবাসতে পারবে না। সব কিছু শোনার পর আবীর কিছু না বলে শুধু বিছানা থেকে বালিশ টা নিয়ে সোফায় যেয়ে শুয়ে পরে। নীলাদ্রীও বিছানায় এক পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। আবীর এর মা নাই এবং বাবা অনেক বড়ো businessman তিনি দেশ এ থাকেন না। আবীর তার দাদী এর কাছে বড় হয়েছে। আবীর এর দাদী এর সাথে নীলাদ্রীর বাবার ভাল সম্পর্ক মূলত সেখান থেকে ই তাদের বিয়ের কথা টা হয়েছে। আবীর তার বাবার দেশের Company তে কাজ করে। পরদিন সকাল এ নীলাদ্রী ঘুম থেকে উঠে দেখে তার ঘর এ আবীর নায়, সে তাকে তেমন খোজার ও প্রয়োজন বোধ করে না। চুপচাপ ফ্রেশ হয়ে রুম এর ব্যাল্কনি তে যেয়ে দাড়ায় এমন সময় আবীর এসে তার পাশে দাড়িয়ে কফির মগ টা তার কাছে এগিয়ে দেয়। সে কফির মফ টা হাতে নিতে ইতস্তত বোধ করে, নীলাদ্রীর এমন অবস্থা দেখে আবীর প্রথম বার এর মত বলে ওঠে,, "অন্য কিছু না হোক কিন্তু একটা বন্ধু তো হতেই পারি!" কথা টা শোনার পর নীলাদ্রী আবীর এর হাত থেকে কফির মগ তা নেয়..। কফি টা দেওয়ার পর আবীর চলে যায়। আবীর এর কথা শুনে নীলাদ্রীও একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে। তারা দুজন এই সামান্য কথা বলে। এভাবেই যাচ্ছিল তাদের দিন। কিছু দিন এর মধ্যে নীলাদ্রী জানতে পারে সিয়াম, নীলাদ্রী কে ছাড়ার জন্যে তার বাবার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয় এবং বিদেশ চলে যায়। কথাটি জানার পরে ভিষন ভাবে ভেঙ্গে পড়ে নীলাদ্রী তখন তার পাশে এসে দাড়ায় আবীর, সেদিন সারা রাত ঘুমাতে পারে না নীলাদ্রী তার সাথে পুরা রাত জেগে থাকে আবীর ও। আবীর তাকে এসব থেকে বার হয়ে আসার অনুপ্রেরণা দেয়। নীলাদ্রী ও সময় এর সাথে এসব থেকে বেরিয়ে আসতে সফল হয়। নীলাদ্রীর রুম এর ব্যাল্কনিতে একটি দোলনা রয়েছে, নীলাদ্রীর বেশিরভাগ সময় কাটে দাদীর সাথে কথা বলে, দাদীর সাথে তার ভীষন জমেছে এছাড়া সময় কাটে দোলনায় বসে। রাত এ আবীর আর নীলাদ্রী ব্যাল্কনি তে বসে কথা বলে, মুলত নীলাদ্রী কথা বলে আর আবীর নীলাদ্রীর কথা শুনে এবং ল্যাপটপ এ নিজের কাজ করে। আবীর এর কথা বলার থেকে বেশি নীলাদ্রীর কথা শুনতে বেশী ভাল লাগে। আবীর কে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে বলতে নীলাদ্রীর ও ভাল লাগে। নীলাদ্রীর রাতের এই সময় টুকুয় সব থেকে বেশি ভাল লাগার সময়। সে সারাটা দিন এই সময় এর ঈ অপেক্ষা করে আবীর এর সাথে একটু সময় কাটানোর জন্যে। ধিরে ধিরে সে খেয়াল করে সে আবীর এর ওপর দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবীর এর সব কিছু তার এখন ভাল লাগে এমন কি তার নিশ্চুপ স্বভাব টাও। আর আবীর নীলাদ্রীর এসব অনুভূতি থেকে অনেক দুরে। দাদীর কাছ থেকে নীলাদ্রী শুনেছে, "অনেক কম বয়সে আবীর এর মা ইন্তিকাল করে তার বাবা বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকে। দাদী অনেক আদর দিয়ে বড় করলে ও আবীর তার বাবা মার ভালবাসা থেকে সর্বদা বণ্ঞিত থেকেছে। এসব এর জন্যে এ আবীর আরও বেশী চুপচাপ স্বভাব এর।" সে আরো জানতে পেরেছে আবীর নাকি ভারসিটির একটা মেয়েকে ভিষন ভালবেসে ফেলেছিল কিন্তু কখন সে তার মন এর কথা মেয়েটিকে বলতে পারিনি।" একথা জানার পর নীলাদ্রীর মন এ মেয়েটিকে নিয়ে একটু হিংসার তৈরী হয় আবার জানার আগ্রহ ও হয় যে মেয়েটি কে যাকে আবীর ভালবেসেছিল? সে দাদী কে জিজ্ঞাসা করে "মেয়েটি কে?" দাদী বলে তিনি জানেন না কারন আবীর কখন মেয়েটির কথা বলেনি। মেয়েটি জানে না আবীর তাকে ভালবাসে আর এখানে আবীর জানে না আর একজন (নীলাদ্রী)তাকে ভালবাসে!! এসব ভাবতে ভাবতে নিলাদ্রী বাস্তবতায় ফিরে আসে। আবীর এখনও ল্যাপটপ এ ব্যস্ত আছে। উফফফ!! নীলাদ্রীর মন এ আসে দাদী কাল গ্রামের বাসায় যাবে, সে মন এ মন এ ভাবে থাকুক আবীর তার নিজের কাজ নিয়ে, সে দাদীর কাছে যেয়ে দাদীকে হেল্প করবে! পরদিন আবীর কাজ এ চলে যায় আর দাদী ও গ্রামের বাসায় চলে যায়। নিজের বোরিংনেছ কাটাতে নীলাদ্রী বাসার পুরানো রুম পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়, রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সে একটা বাক্স পায়, বাক্স তা তেমন বড় না। বাক্স টা খুলে দেখে আবীর এর কিছু জিনিস এই যেমন আবীর এর ছোটকাল এর ছবি পুরানো কিছু কাগজ র একটা ডায়েরি। ডায়েরি টা দেখে বেশি পুরানো মনে হয় না। সে ভাবে ডায়েরি তে নিশ্চয় কিছু লেখা আছে, ডায়েরি খুলে দেখে সেটায় কিছু লেখা নায় কিছু নায় শুধু কিছু ছবি রয়েছে। ছবি গুলা দেখে, আবীর এর একটা মায়ের সাথে ছোটোকাল এর ছবি তার বাবার ছবি কিন্তু একটা ছবি দেখে নীলাদ্রী অবাক হয়ে যায়। কারন ছবি টা আর কারো নয় ছবি তা হচ্ছে নিলাদ্রীর নিজের। ভারসিটির annual function এর ছবি, সেদিন একটা নীল কালার এর একটা সাড়ি পড়ে গিয়েছিল সে..। ছবি টা আবীর এর কাছে কেন বুঝতে পারছিলনা সে,, হঠাৎ করে সে খেয়াল করে ছবির পেছনে কিছু লেখা রয়েছে লেখাটা ছিল। "ভালবাসি"! লেখা টা দেখে নীলাদ্রীরর কাছে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। সেই মেয়েটি সে নিজে যাকে আবীর ভালবেসেছিল। আবীর তাকে ভালবাসে। নীলাদ্রী আজ সেজেছে, নীল সাড়ি পড়েছে, পুরা ঘর সে মোমবাতি দিয়ে সাজিয়েছে, অপেক্ষা করছে আবীর এর বাসায় ফেরার। তার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাসায় ফেরে আবীর, রুম এ প্রবেশ করে ঈ অসাধারন চমকে চমকিত হয় সে, মোমবাতির আলোয় সে দেখতে পেল নীলাদ্রী কে, নীল সারি তে তাকে অসাধারন সুন্দর লাগছে। তাকে দেখে আবীর বোধ হয় কোন ঘোর এর মধ্যে চলে গেছে, নীলাদ্রীর থেকে চোখ সরছে না তার। নীলাদ্রী আবীর এর কাছে এসে আস্তে করে তাকে ডাক দেয়। নীলাদ্রীরর ডাকে আবীর এর ঘোর ভাংগে, আবীর হয়ত নিজের চাহনি তে একটু লজ্জা পেয়ে নিচে তাকায়। নিচে তাকাতে যেয়ে নীলাদ্রীর হাত এ সে কিছু খেয়াল করে, জিনিস টা ছিল ছবি, নীলাদ্রীর ছবি। ছবি টা দেখে সে নীলাদ্রী কে কিছু বলার আগেই নীলাদ্রী তাকে জড়িয়ে ধরে, অনেক শক্ত করে। জড়িয়ে ধরে আবীর এর কান এর কাছে এসে বলে,, "আমিও ভালবাসি, ভীষন ভালবাসি!!" আবীর এর আর কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে নি কারন তার অনুভূতিই সব ব্যাক্ত করে দিয়েছে। Ohhi sadia


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমিও ভালবাসি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now