বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি অহেতুক প্রেমের গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ছেলেটা রোজ রাস্তার ধারের চা স্টলের ছোট্ট বেঞ্চিটায় বসে থাকে । তবে তাকে কখনো চা কিংবা সিগারেট টাইপের কিছু খেতে দেখেনি মেয়েটা । ছেলেটা মাঝে মধ্যে মেয়েটার পিছু পিছু অনেকটা দূর হেটেও যায় । আবার ফিরে আসে । এসে সেই বেঞ্চিটাতেই বসে থাকে । মেয়েটা রোজ বাসা থেকে বেরোবার সময় একবার , আবার বাসায় ফেরার সময় একবার । ছেলেটাকে কখনো মেয়েটার পথ মাড়াতেও দেখেনি মেয়েটা । কিংবা দেখেনি মুখ তুলে তাকাতেও । তাহলে মেয়েটা বুঝলো কি করে ছেলেটা ওর পিছুই নিচ্ছে , কিংবা ওর জন্যই ওখানে বসে থাকে ! মেয়েটার বোঝার কথা নয় । মেয়েটা তাও বুঝতে পারে ছেলেটা তার পিছুই নেয় । মেয়েটা রোজ ভাবে আজ ছেলেটাকে খুব করে ধমকে দেবে । আর বলবে যেনো তার পিছু আর কখনো না নেয় । মেয়েটা কেবল ভাবে’ই । কখনো সাহস করে পিছু তাকানোও হয়না । আর বলা তো দূরের কথা ! হুট করেই কোন একদিন ছেলেটা মেয়েটার মুখোমুখি পড়ে যায় । ছেলেটা চট করে মাথা নামিয়ে নেয় । মেয়েটাও পাশ কাটিয়ে ফিরে যায় । পরদিন মেয়েটা ছেলেটাকে আবার দেখে বেঞ্চিটায় বসে থাকতে । মেয়েটা পা ফেলে সেদিকে যায় । তারপর ছেলেটার দিকে চোখ রগড়ে তাকায় । “এই যে ...” ছেলেটা হকচকিয়ে উঠে মেয়েটাকে চোখের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে । “জ্বি আমি ?” “জ্বি না , আপনার নিচের কাঠের তক্তাটাকে ডাকছি” ছেলেটা মাথা নিচু করে বসে থাকে । মেয়েটা আবার বলে , “আপনি রোজ এখানে বসে থাকেন কেনো ? মেয়ে দেখলেই লাইন মারতে হয় ?” “আমি এমনিই এখানে বসে থাকি !” “এমনিই বসে থাকেন ভালো কথা , পিছু নেন কেনো ?” ছেলেটা এবারে বেশ ভয় পায় । ভাবে এই বুঝি চড় না খেয়ে বসে আবার ! “আমি পিছু নেইনি তো !” “আপনি পিছু নেননি ?” মেয়েটা চোখ সরু করে বলে । মেয়েটার সরু চোখ দেখে আর ধমকী খেয়ে বলেই ফেলে –“হ্যা , না মানে ..ইয়ে” “কাল থেকে যেনো আর না দেখি আশেপাশে ঘুরঘুর করতে । দেখলেই এক থাপ্পরে বত্রিশটা দাঁত ফেলে দিবো” “ইয়ে মানে এক থাপ্পড়ে তো বত্রিশটা ভেলা যাবেনা , ষোলটা ফেলা যাবে বড়জোর । তাও আপনাকে অসুরের শক্তি দিয়ে মারতে হবে”-ছেলেটা মুখ ফস্কে বলে বসে । ছেলাটার কথা শুনে মেয়েটা আরো রেগে যায় । “আবার কথা বলে অভদ্রের মতো !” ছেলেটা এবারে চুপ মেরে যায় । “আর কক্ষনো পিছু নিবেন না” “ঠিক আছে” আর কক্ষনো এখানে এসে বসবেন না” “জ্বী” “মনেথাকবে ?” “জ্বী” মেয়েটা গটগট করে হেটে চলে যায় । ছেলেটা কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে সেও চলে যায় । মেয়েটা বাসায় যেয়ে ভাবে , ‘নাহ্...ব্যাপারটা বাড়াবাড়িই হয়ে গেলো । ছেলেটাকে ওভাবে না বললেও হতো । তাছাড়া ছেলেটা কেবল পিছুই নিতো । তেমন কিছু করেওনি কখনো’ মেয়েটা আরো ভাবে কাল ছেলেটাকে স্যরি বলে দিলেই হলো । কিন্তু পরদিন আর ছেলেটা আসেনা । বেঞ্চিটা ফাঁকা পড়ে থাকে । রাস্তার কোথাও ও আর ছেলেটাকে দেখা যায়না । একদিন দুদিন তিনদিন । এভাবে বেশ কিছুদিন চলে যায় । মেয়েটা ভেতরে ভেতরে অনুতপ্ত হয় । মেয়েটা ভাবে ‘এ কি হলো !’ তারপর হুট করেই কোন একদিন ছেলেটার সাথে মেয়েটার দেখা হয়ে যায় । ছেলেটা মেয়েটাকে দেখেই দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যেতে উদ্যত হয় । মেয়েটা চট করে যেয়ে সামনে দাড়ায় । “এই দাড়ান...দাড়ান বলছি...” ছেলেটা ওখানেই দাড়িয়ে যায় । “আপনি এতোদিন আসেন নি কেনো ?” – মেয়েটা জানতে চায় । “আপনি’ই তো বললেন আর আপনার সামনে না পড়তে !” “আমি বললেই আপনি শুনবেন কেনো ? কে হই আমি আপনার ?” মেয়েটার এহেন প্রশ্নে ছেলেটা ভিরমি খায় । “জ্বী মানে ...কেউনা” “কেউ না হলে পিছু নিতেন কেনো ?” “ইয়ে মানে...” “এতো মানে মানে করেন কেনো ? পছন্দ করেন আমাকে ?” – ফস করে বলে বসে মেয়েটা । ছেলেটা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে । পা দিয়ে মাটিতে আঁচড় কাটে । “হুমম” - ছোট্ট করে বলে ছেলেটা । “কি করেন ? চাকরি-বাকরী কিছু করেন ? না এখনো পড়াশুনাই করছেন ?” “জ্বী চাকরি খুঁজছি আপাতত” “কোথায় খুঁজছেন ! আপনি তো সারাক্ষন এখানেই বসে থাকেন ! খুঁজেন কখন ?” “জ্বী মানে...” “অতো জ্বী জ্বী করেন কেনো ? আমি অতো জ্বী জ্বী করা পছন্দ করিনা” “জ্বী...মানে হ্যা” মেয়েটা ফিক করে হেসে দেয় । “এভাবে এখানে বসে না থেকে চাকরী- বাকরী কিছু একটা করুন” “জ্বী আচ্ছা” মেয়েটা হাটা দেয় । তারপর আবার ফিরে আসে । “শুনুন...” “কি ?” “কাল থেকে আর পিছু নেবেন না” “তাহলে !” “কাল থেকে পাশে হাটবেন” মেয়েটা এবারে আর পিছু ফিরে তাকায় না । জোর কদমে হেটে চলে যায় । মেয়েটার পিছু তাকানো উচিৎ ছিলো । তাকালে দেখতো ছেলেটার বোকা বোকা চেহারাটা লাল হয়ে আছে। ওটা দেখতে পেলে মেয়েটা ছেলেটাকে আরো ছোট্ট একটা কথা বেশী বলে যেতো । চার অক্ষরের একটা শব্দ ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now