বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কৃষ্ণপক্ষ - ৯

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তিনি লক্ষ্য করলেন শুধু তাঁকেই পে−ট দেওয়া হয়েছে। জেবা খেতে বসেনি। ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা। দুপুরে তিনি বাসায় খান না। রাতে একবেলা খান। সঙ্গত কারণেই আশা করেন রাতে জেবা তাঁর সঙ্গে খেতে বসবে। জেবা বলল, কি যে দুশ্চিন্তা লাগছে। সকালে হঠাৎ আমাকে বলল, আপা আমাকে কি তুমি… জেবা কথা শেষ করল না কারণ তার মনে হল মানুষটা কিছু শুনছে না। জেবা বলল, আর এক চামচ ভাত দেই? শফিকুর রহমান বললেন, আরেক চামচ ভাত লাগলে আমি নিয়ে নেব। তোমাকে দিতে হবে না। খাওয়া শেষ করে তিনি মেয়েকে দেখতে গেলেন। মেয়েটার সঙ্গে খানিক্ষণ কথা বলতে পারলে ভাল লাগতো। কথা বলা যাবে না। সারা নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে। দশটার পর সে এক সেকেণ্ডও জেগে থাকতে পারে না। শফিকুর রহমান ঘরে বসে বাতি জ্বালাতেই সারা উঠে বসল। কোমল গলায় বলল, কেমন আছ বাবা? ‘ভাল আছি মা। তুমি ঘুমাও নি?‘ ‘উঁহু। ঘুম আসছে না।‘ ‘দুপুরে ঘুমিয়েছিলে?‘ ‘না।‘ মশারি তুলে শফিকুর রহমান বিছানায় বসলেন। সারা কেমন গম্ভীর ভঙ্গিতে বসে আছে। মেয়েটা দেখতে তার মার মত সুন্দর হয় নি। তাঁর মত হয়েছে। চিবুক চোখ সবই তাঁর মত। গায়ের রঙও শ্যামলা। কি ক্ষতি ছিল মেয়েটা যদি তার মা‘র গায়ের রঙের খানিকটা পেত। ‘বাবা!‘ ‘কি মা?‘ ‘তুমি এত গম্ভীর কেন?‘ আমিতো সব সময়ই গম্ভীর। তুমি গম্ভীর কেন? ‘মামার জন্যে আমার মন খারাপ। মামা আসছে না কেন?‘ ‘তোমার মামা একজন বয়স্ক মানুষ। সে যদি সারাদিন নাও আসে তা নিয়ে এত চিন্তার কিছু নেই। আসবে। তাছাড়া আজ রাতে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।‘ ‘ও।‘ ‘ঘুমুতে যাও মা।‘ শফিকুর রহমান নিজের ঘরে চলে গেলেন। খানিকক্ষণ কাগজ পড়লেন। রাতে বারোটার দিকে ঘুমুতে যাবার আগে শেষ সিগারেট খাবার জন্যে বারান্দায় এসে দেখেন জেবা বসে আছে। হাতে কলাপসেবল গেটের চাবি। ভাইয়ের জন্যে প্রতীক্ষা। এখনো সে না খেয়ে অপেক্ষা করছে। শফিকুর রহমান স্ত্রীকে কিছুই বললেন না। জেবা একা একা বসে আছে। বারান্দায় আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছে। আধো আলো, আধো আঁধারে একা একা বসে থাকতে অদ্ভুত লাগে। মুহিব আজ সকালে তার কাছে চারশ টাকা চেয়েছিল। সে দিতে পারেনি। সংসারের টাকা তার কাছে থাকে না। বেচারা কোনদিন তার কাছে টাকা-পয়সা কিছু চায় নি। আজই চেয়েছিল – সে দিতে পারে নি। জেবার চোখ ভিজে উঠছে। এই ভাইটি তার বড়ই আদরের।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কৃষ্ণপক্ষ
→ কৃষ্ণপক্ষ-১২
→ কৃষ্ণপক্ষ-১১
→ কৃষ্ণপক্ষ - ১০
→ স্বপ্নের কৃষ্ণপক্ষ
→ কৃষ্ণপক্ষ—০৫
→ কৃষ্ণপক্ষ—০৪
→ কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৩
→ কৃষ্ণপক্ষ - ৮
→ কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৭
→ কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৬
→ কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৫
→ কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০৪
→ কৃষ্ণপক্ষ – পর্ব ০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now