বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

৫টা বেজে ১৩মিনিট

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X তাড়াহুড়া করে রেডি হতে গিয়ে উল্টো করে শার্ট টা পরেছে বুঝতেই পারেনি ৷ আসলে আজ দু মিনট দেরি হয়েছে তো তাই খেয়ালই ছিল না অন্য কিছুর ৷ . লেকের পাশের আম গাছটার ছায়ায় বসে আছে হিমেল ৷ প্রতিদিন এখানে আসে ৷ ঠিক ৫টা বেজে ১৩ মিনিটে ৷ . সময়টা একটু ভিন্ন টাইপের মনে হচ্ছে তাইনা? আসলে নীরের সাথে প্রথম দেখা হয় এখানে বিকেল ৫টা ১৩মিনিটে ৷ . ৫টায় আসার কথা ছিল, কিন্তু ১৩মিনিট লেট করে ফেলেছিল ৷ শাস্তি স্বরুপ ১৩বার কান ধরে উঠবস করতে হয়েছে এই লেকের পাশের আম গাছটার নিচে ৷ তাও আবার কত মানুষের সামনে ৷ . আসলে প্রায় ছেলেকেই এভাবে কান ধরে উঠবস করতে দেখতে হয় প্রতিদিন ৷ কারন একটাই, সেটা হল লেট করে আসায় ৷ . এ সময়টাতে প্রথম দেখা হয় বলে নীর বলেছিল এখন থেকে ৫টা ১৩মিনিটেই আমরা দেখা করবো ৷ যদি দেরি কর তাহলে খবর আছে ৷ সেদিনের পর থেকে রোজ ৫টা ১৩মিনিটে দেখা করতো ৷ . আজো এসেছে ঠিক এ জায়গা তে ৷ তবে আজ দু মিনিট দেরি করে ফেলেছে ৷ একা একা বসে ভাবছিল হিমেল ৷ আজ বোধহয় দুজনকেই কান ধরে উঠবস করতে হয় ৷ কেননা দুজনেরই তো লেট হবে ৷৷ . হঠাৎ কারো ডাকে বাস্তবতায় ফিরে এল ৷ . দুজন কাপল কে দেখতে পেল ৷ খুব চেনা চেনা লাগছিল ৷ . ছেলেটা বললো, ভাইয়া একটা কথা বলবো? . হিমেল বলল, নীর আসবে এখন তাই সংক্ষেপে শেষ করো ৷ . ছেলেটা বললো, আসলে গত ২বছর যাবৎ ঠিক ৫টা ১৩মিনিটে আপ্নাকে এই আম গাছটার ছায়ায় এসে বসে থাকতে দেখি ৷ কারো জন্য কী অপেক্ষা করেন? . হিমেল বলল, নীর আসবে তো ৫টা ১৩মিনিটে ৷ ও বলেছে ৫টা ১৩তে আমরা প্রতিদিন দেখা করবো ৷ ও এখুনি চলে আসবে তো ৷ . ছেলেটা বললো, ২বছর এখানে অপেক্ষা করতে দেখলাম কই কেউ তো আসে নি ৷ আজ আসবে তো? . বলল, হুম আসবে ৷ আর আসলেই দুজন কান ধরে উঠবস করবো কারন দুজনই লেট করে ফেলেছি ৷ . ছেলেটা বললো, যে নীরের কথা বলছেন তাকে তো ২বছর আসতে দেখিনি তাহলে আজ আসবে কেন? . বলল, আজ আসবেই যে ৷ কারন আজ ওর বার্থডে ৷ পকেট থেকে মোম বের করে দেখাল ৷ বলল এইতো মোম জ্বালাবো আর কেক এইতো ব্যাগে আছে ৷ আচ্ছা তোমরাও থাকো না, একসাথে নাহয় সেলিব্রেট করবো ৷ . ছেলেটা বললো, ঠিক আছে ভাইয়া, আমরাও থাকবো ৷ . ব্যাগ থেকে কেক বের করল, মোম ছুরি রেডি করল ৷ . বিরক্ত লাগছিল ওর ৷ কেন যে পাগলী টা দেরি করছে ৷ তবে ও তো এমন দেরি করে না ৷ . আসলে হিমেল মানসিক ভারসম্যহীন ৷ কীভাবে এমন হল সেটা বলছি,,, . হিমেল আর নীর, দুজন দুজনকে ভালবাসতো ৷ এরখন যে বাসে না তা নয় ৷ এখোনো বাসে ৷ . কলেজ লাইফ থেকে একটা ছোট্ট ঝগড়া থেকে একসময় বন্ধুত্ব তারপর পাশাপাশি পথচলা ৷ . সীমাহীন ভালবাসা জড়িয়ে ছিল তাদের বন্ধনটা জুড়ে ৷ দুজন দুজনকে পাল্লা দিয়ে ভালবাসত ৷ কে কাকে কত বেশী ভালবাসতে পারে সে প্রতিযোগীতা চলতো তাদের মাঝে ৷ . একসাথে বৃষ্টির মাঝে হারিয়ে যাওয়া, সন্ধাবেলায় পিচঢালা পথ ধরে বহুদূর হেঁটে আসা, কিছু সোনালি বিকেল তাদের পথচলাটাকে রাঙিয়ে দিত নতুন রঙে ৷ . দুজনের মাঝে দুজন দুজনকে খুঁজে পেত ৷ . একটা দমকা হাওয়া দুজনকে দু প্রান্তে টেনে নিয়ে যায় ৷ . একটা এক্সিডেন্টে হিমেল তার একটা চোখ হারায়, হাত দুটো মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৷ সবকিছু মিলে তার চেহারা বিকৃত রুপ নেয় ৷ . এর মাঝে নীরের বাবার চাকুরীর ট্রান্সফার হয় ৷ নীর আর কন্টাক্ট রাখেনি হিমেলের সাথে ৷ . এত সমস্যা জড়িত মানুষের পাশে পুরোটা জীবন চলা অসম্ভব ভেবে সীমাহীন ভালবাসার চাদরে ঢেকে রাখা মানুষটিকে ফেলে যেতে একবারো বাধে না তার ৷ যদিও নীর ও হিমেলের মাঝে চুক্তি ছিল কেউ কাউকে কখোনো ছেড়ে যাবে না ৷ . হিমেল বলতো আমি যদি কখোনো দূর্ঘটনায় আমার কোনো অঙ্গ হারিয়ে ফেলি তবে কী পাশে থাকবে? নীর থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ৷ তবে পারেনি পাশে থাকতে ৷ . তারা বাসা বদলিয়ে অনত্র চলে যায় এবং নীর আর কন্টাক্ট করেনি হিমেলের সাথে ৷ এই শোকে ছেলেটা ধীরে ধীরে মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে পড়ে ৷ . পূর্বের মত রুটিন মাফিক লেকের পাশের আম গাছটার নিচে ৫ টা ১৩মিনিটে আসে আর নীরের অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে ৷ . এভাবেই হয়তো রুটিন মাফিক তার অপেক্ষার প্রহর গুনে যাওযার দিন বেড়েই যাবে ৷ নীর জানতেও পারবে না হয়তো এখোনো তার জন্য কেউ অপেক্ষা করে, তার ফিরে আসার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে পথ চেয়ে থাকে ৷৷৷ . হয়তো নতুন কাউকে নিয়ে সে নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত ৷ মনেই পড়েনা হয়তো ঘুনেধরা সেই সোনালি বিকেল, রংচটা স্মৃতির কথা ৷ . হয়তো কেক,ছুরি,মোম নিয়ে অপেক্ষা করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে হিমেল অভিমান করে আর আসবে না সেই লেকের পাশের আম গাছটার নিচে ৷ যে জায়গার সাথে বহু স্মৃতি বিজড়িত ছিল ৷৷৷৷৷৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now