বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমরা কেউ বাসায় নেই – ০৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বৃদ্ধ ভূতের কিছু কর্মকাণ্ড আমি নিজের কানে শুনেছি। আমাদের বাড়ির ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় একটা চাপকল। এক রাতে শুনি চাপকলে চাপ দিয়ে কেউ পানি তুলছে। ঘটং ঘটং শব্দ হচ্ছে। বাইরে এসে দেখি, ফকফকা চাঁদের আলো। চাপকলের ধারে কাছে কেউ নেই। আমি দৌড়ে ভাইয়ার ঘরে ঢুকলাম। ভূত দেখতে পাওয়া যেমন ভয়ংকর, দেখতে না পাওয়াও ভয়ংকর। এরপর থেকে আমি রাতে ভাইয়ার সঙ্গে ঘুমাই। কী দরকার ভূত-প্রেতের ঝামেলায় যাওয়ার! ভাইয়া অবশ্য চাপকলের একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। ভাইয়ার ব্যাখ্যা হচ্ছে চাপকলের ভেতর থাকে পানি। মাঝেমধ্যে প্রাকৃতিক কারণে পানির স্তর ওঠানামা করে। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে চাপকলের ভেতরের রিং স্ল্যাভ ওঠানামা করবে। বাইরে থেকে মনে হবে অদৃশ্য কেউ চাপকল চাপছে। ভাইয়া যেকোনো বিষয়ে সুন্দর যুক্তি দিতে পারে। মাথার কাছে আইনস্টাইনের ছবি থাকায় মনে হয় এ রকম হচ্ছে। আমাদের বিষয়ে যা বলার মোটামুটি বলা হয়ে গেছে। এখন মূল গল্পে আসা যেতে পারে। না না, মূল গল্পে আসার আগে আমাদের গাড়ি কেনার গল্পটা বলে নেই। সোমবারের বাবার দুটা ক্লাস। এই দিন তিনি সকাল সাতটার আগেই বাসা থেকে বের হন। এত সকালে রহিমার মার ঘুম ভাঙে না বলে নাশতা তৈরি হয় না। আমাকে দোকান থেকে নাশতা নিয়ে আসতে হয়। দুটা পরোটা, বুন্দিয়া আর একটা ডিম সেদ্ধ। বাবা ডিমের কুসুম খেয়ে সাদা খোসা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন লবণের ছিটা দিয়ে খেয়ে ফেল। অন্যের উচ্ছিষ্ট খাওয়া নোংরা ব্যাপার। বাবার দিকে তাকিয়ে প্রতি সোমবার আমাকেই এই কাজটি করতে হয়। দুটা পরোটা তিনি খেতে পারেন না অর্ধেকটা বেঁচে যায়। এই অর্ধেকের ভেতর বুন্দিয়া দিয়ে তিনি রোলের মতো বানিয়ে বলেন, খেয়ে ফেল। বুন্দিয়া রোলও আমাকে খেতে হয়। সোমবার ভোর আমার জন্যে অশুভ। আজ সোমবার। বাবা ইউনিভার্সিটি যাওয়ার জন্যে তৈরি হচ্ছেন না। চাপকলের কাছে প্লাস্টিকের লাল চেয়ারে টিভি বিজ্ঞাপনের এনএফএলের চেয়ারম্যানের মতো বসে আছেন। আমি বললাম, ‘টাকা দাও নাশতা নিয়ে আসি।’ বাবা বললেন, তুই আমাকে ডিকশনারিটা এনে দে। আমি ডিকশনারি এনে দিলাম, বাবা গম্ভীর ভঙ্গিতে ডিকশনারির পাতা উল্টাতে লাগলেন। আগেই বলেছি মা কখনোই ১০-১১টার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। আজ সবই এলোমেলো, আটটার সময় মার ঘুম ভেঙে গেল। মা উঠানে এসে চিন্তিত গলায় বললেন, কী হয়েছে ইউনিভার্সিটি যাবে না? বাবা বললেন, না। না কেন শরীর খারাপ? বাবা ডিকশনারি বন্ধ করতে করতে বললেন, কাছে আসো। Come closer. মা ভীত গলায় এগিয়ে গেলেন। বাবা ফিস ফিস করে মাকে কিছু বললেন। কী বললেন আমি শুনতে পেলাম না, তবে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা। মার মুখের হাঁ বড় হয়ে গেল। বুকে হাত দিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে লাগলেন। তাঁর মাথা মনে হয় ঘুরছে, তিনি পড়ে যাওয়ার মতো ভঙ্গি করছেন। বাবা চেয়ার থেকে উঠে মাকে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন। আমি মার সামনে দাঁড়ালাম। চিন্তিত গলায় বললাম, মা কোনো সমস্যা? মা বললেন, তোর বাবা গাড়ি কিনেছে। ক্রিম কালারের গাড়ি। নয়টার সময় ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে আসবে। ড্রাইভারের নাম ইসমাইল। কী কাণ্ড দেখেছিস? তোর বাবা গাড়ি কিনে ফেলেছে। আল্লা গো আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হয় স্বপ্ন দেখছি। কে জানে মনে হয় স্বপ্ন। টগরকে ডেকে তুলে গাড়ি কেনার কথা বল। এত বড় একটা ঘটনা, সে ঘুমাচ্ছে এটা কেমন কথা। রহিমার মাকেও ডেকে তোল। সে শুনলে খুশি হবে। ভাইয়াকে বাবা নিজেই ডেকে তুললেন। গম্ভীর গলায় বললেন, তুই ইঞ্জিনিয়ার মানুষ গাড়ির কলকবজার কি অবস্থা দেখে দে। ভাইয়া বলল, কিসের কলকবজা দেখব? গাড়ির। একটা গাড়ি কিনেছি। ভাইয়া হাই তুলতে তুলতে বলল, খামাখা গাড়ি কিনেছ কেন? বাবা হতাশ গলায় বললেন, গাড়ির প্রয়োজন আছে এ জন্যে কিনেছি। আমার তো নানা জায়গায় যেতে হয়। তোর মতো বিছানায় শুয়ে থাকলে হয় না। ভাইয়া বলল, তুমি শুধু ইউনিভার্সিটি যাও সেখান থেকে বাসায় আস। তোমার জন্যে রিকশাই যথেষ্ট। নতুন গাড়ির প্রতি ভাইয়ার অনাগ্রহ মা পুষিয়ে দিলেন। তার বয়স পাঁচ বছর কমে গেল। গলার স্বরে কিশোরী ভাব চলে এল। আমাকে আহ্লাদি গলায় বললেন, তোর বাবা বলেছে আমাকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে। শাড়ি কোনটা পরব বল তো। বিয়ের শাড়িটা পরব? পরতে পারো। বাবাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে শেরওয়ানি পাগড়ি পরিয়ে দাও। মা বললেন, ঠাট্টা করিস না। চট করে যা মসজিদে ইমাম সাহেবকে নিয়ে আয় নতুন গাড়িতে দোয়া বখশে দিবেন। ইমাম বাইরে থেকে আনতে হলো না, গাড়ির সঙ্গেই চলে এলেন। গাড়ির ড্রাইভার ইসমাইলকে দেখে মনে হলো দেওবন্ধ মাদ্রাসার শিক্ষক। হাঁটুর গোড়ালির ওপর পায়জামা। সবুজ পাঞ্জাবিও হাঁটু ছাড়িয়ে অনেক দূর নেমে গেছে। মুখ ভর্তি চাপ দাড়ি। চোখে সুরমা। নামাজ পড়ে কপালে স্থায়ী দাগ ফেলে দিয়েছেন। ভাইয়া হুড খুলে গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করে বলল, ইঞ্জিন তার জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। যেকোনো দিন ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে ইন্তেকাল করবে। এই যে বসবে আর উঠবে না। বাবা কী মনে করে এই আবর্জনা কিনল। ড্রাইভার ইসমাইল বলল, ইঞ্জিন খুব ভালো অবস্থায় আছে ভাইজান। বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিন। ভাইয়া বলল, বাঘের হলে খুবই ভালো কথা। হালুম হালুম করে গাড়ি চলবে, মন্দ কি। বাবা এবং মা (বিয়ের বেনারসি পরে) বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিনের গাড়িতে করে বের হলেন। রহিমার মা ঠোঁটে লিপস্টিক মেখে তাঁদের সঙ্গে গেল। সে বসল ড্রাইভারের পাশে। তার গাম্ভীর্য দেখার মতো। তার হাতে টকটকে লাল রঙের ভ্যানিটি ব্যাগ। দুই ঘণ্টা রিকশা করে ভাড়া করা সিএনজিতে তিনজন ফিরল। তিনজনেরই মুখ গম্ভীর। রহিমার মার চোখে পানি। বাবার নতুন কেনা গাড়ির ইঞ্জিন বসে গেছে। ড্রাইভার ইসমাইল গাড়ি ঠেলে নিয়ে গেছে গ্যারেজে। যাই হোক বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিন ঠিক করা হয়নি। যে টাকায় বাবা তাঁর ইউনিভার্সিটির প্রক্টরের কাছ থেকে গাড়ি কিনেছেন, তার কাছাকাছি টাকা লাগছে ইঞ্জিন সারতে। এই টাকা বাবার কাছে নেই। গাড়ি এখন বাসায়। ড্রাইভার ইসমাইল রোজ এই গাড়ি ঝাঁড়-পোছ করে। সপ্তাহে একদিন গাড়ির গোসল হয়। নিজের টাকায় সে একটা এয়ারফ্রেশনার কিনে গাড়িতে লাগিয়েছেন। নষ্ট গাড়ি আমাদের বাসায় মহা যত্নে আছে। রহিমার মাকে প্রায়ই সেজেগুজে নষ্ট গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতে দেখা যায়। এখন গাড়ির ড্রাইভার ইসমাইল সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে মূল গল্পে চলে যাব। ইসমাইল আমাদের সাম্প্রতিক অন্তর্ভুক্ত পারিবারিক সদস্যদের একজন ইসমাইল। বাড়ি নেত্রকোনার ধুন্ধুল গ্রামে। শ্যাওড়াপাড়া থানা। অতি ধার্মিক। ফজরের নামাজের পর কোরআন পাঠ দিয়ে সে দিন শুরু করে। কোনো নামাজের ওয়াক্ত আজান না দিলেও সে মাগরিবের আজান দেয়। প্রায়ই শোনা যায় সে রোজা। বাসার কিছু কাজকর্মে সে সাহায্য করে। যেমন বাজার করা, উঠান ঝাঁট দেওয়া। টবে পানি দেওয়া। তার একটি কর্মদক্ষতায় ভাইয়া মুগ্ধ। ইসমাইল একটা মুরগি জবেহ করতে পারে। দুই হাঁটুতে মুরগির পা চেপে ধরে এই কাজটি সে করে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৯
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৮
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৭
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৬
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৫
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৪
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৩
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১২
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১১
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১০
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৯
→ আমরা কেউ বাসায় নেই – ৮
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৮
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৭
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now