বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বেশ কিছুদিন ধরেই শিউলি ফুলের ঘ্রান
টা পাচ্ছে মৃন্ময়। ঘড়ির
কাটায় রাত বারোটা পেরোতেই
ঘ্রাণ টা পাগল করে
তোলে। কিছুতেই পড়ায় মন বসাতে
পারেনা আর। আশে পাশে
শিউলি গাছ আছে বলেও জানা নেই
তার। একরাতে মা কে
ডাকলো মৃন্ময়।
আচ্ছা মা আমাদের বাড়ির পাশে কি
কোন শিউলি গাছ
আছে?
না তো। এতকাল এখানে আছি কোন
শিউলি গাছ তো চোখে
পড়েনি।
কি বলো? তাহলে ঘ্রান টা কোথা
থেকে আসছে??
কিসের ঘ্রান? কি বলছিস বাবা? আমি
তো কিছুই টের পাচ্ছি
না।
কিন্তু আমি যে পরিষ্কার ঘ্রান টা ঠাহর
করতে পারছি । কি
মিষ্টি কি চমৎকার শিউলি ফুলের ঘ্রান।
মায়ের মুখে ভয়ের এক ছায়া নেমে
এলো। এতরাতে ছেলে
এইগুলা কি বলছে!
তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে
দিলেন।
তুই আর একদিন ও রাতে জানালা খুলে
রাখবি না।
কিন্তু ক্যানো মা?
কিছু না বলেই ছেলের ঘর থেকে
বেরিয়ে গেলেন মৃম্ময়ের
মা।
কিছুতেই সারা রাত দু চোখের পাতা
এক করতে পারছিলেন
না। সকালে বাড়ির আশ পাশ টা ভালো
করে দেখে আসবেন
ঠিক করলেন মনে মনে।
.
পর দিন ভোর হতেই মৃম্ময়ের মা
বেরিয়ে পড়লেন শিউলি
গাছের সন্ধানে। তন্নতন্ন করে পুরো
এলাকা খুজে কোন
শিউলি গাছের দেখা পেলেন না।
তার কপালে চিন্তার
রেখা ক্রমশ বাড়তেই লাগলো।
বাড়িতে ফিরে তিনি মৃন্ময়
কি ডাকলেন।
হ্যা রে মৃনু তুই সত্যিই কি শিউলি ফুলের
গন্ধ পাস নাকি তোর
মনের ভুল?
মা, আমার তো মনে হয় ওটা শিউলে
ফুলেরই ঘ্রাণ।
কিন্তু আমি তো পুরো মহল্লার কোথাও
শিউলি গাছে পেলাম
না খুজে।
মৃন্ময় বুঝতে পারছে তার মা খুব চিন্তায়
পড়ে গেছে
ব্যাপারটা নিয়ে। মা হয়তো আমারই
মনের ভুল। বাদ দেও এইসব
এখন। খেতে দাও খুব খিদে পেয়েছে।
রমা দেবী ও ভাবলেন আসলেই হয়তো
মৃন্ময় টার বুঝতে ভুল
হয়েছে। তিনি ব্যাপারটা মন থেকে
ঝেড়ে ফেললেন।
.
.
রাত ১২:০১
আজো সেই একই ঘ্রান। প্রথমে মৃন্ময়
ভাবলো এ তার মনের ভুল।
কিন্তু ঘ্রান টা ক্রমেই তাকে মোহিত
করে তুলছে। নাহ
এভাবে তো আর চলে না। আজ এর একটা
হেস্তনেস্ত করেই
ছাড়ব বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়লো
মৃন্ময়। জানালা দিয়ে
বাইরেটা দেখার চেষ্টা করলো।
কোথাও কেউ নেই। যেই
জানালা টা বন্ধ করবে অমনি পুকুরের
পাড়ে গাছের নিচে
একটা মেয়েকে দেখতে পেলো। আরে!
এই মেয়ে এত রাতে
এখানে কি করছে! দূর থেকে বোঝা
যাচ্ছিল না মেয়েটার
চেহারা।একবার ভাবলো গিয়ে দেখে
আসি। কিন্তু পরক্ষনেই
ভাবলো মা জানতে পারলে রাগ
করবে। কিন্তু এই ঝড় বৃষ্টির
রাতে একলা একটা মেয়ে বাহিরে
দাঁড়িয়ে থাকবে তা কি
করে হয়। শেষে মৃন্ময়
বেরিয়ে পড়লো বাসা থেকে।
আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে মেইন গেট
টা নি:শব্দে খুলে
বের হলো সে।
পুকুরের কাছাকাছি আসতেই দেখতে
পেলো মেয়েটাকে।
এক্সকিউজ মি! আপনার পরিচয় টা জানতে
পারি? এতরাতে
এখানে একা কি করছেন? কোন সাড়া
পেলো না মৃন্ময়।
হঠাৎ মেয়েটা মৃম্ময়ের দিকে ঘুরে
দাঁড়াল।
তার চেহারার দিকে তাকিয়ে মৃন্ময়
হা হয়ে গেলো। এত সুন্দর
মানুষ হতে পারে বলে তার ধারণা ছিল
না। সিনেমার
নায়িকারা ও বুঝি এত সুন্দর হয় না।
নায়িকা চুলোয় যাক, স্বর্গের
অপ্সরী হার মানবে তার রূপের কাছে।
আমি নীলা। মেয়েটির কথায় ঘোর
কেটে গেলো মৃম্ময়ের।
এমনিভাবে তাকিয়ে থেকে এখন
নিজেই লজ্জা পাচ্ছে
মৃন্ময়।
জ্বী আপনি এখানে কি করছেন এত রাতে?
এই এলাকায়
আপনাকে তো আগে দেখিনি। কারো
বাসা খুঁজছিলেন?
না। আমি এখানেই থাকি । নির্লিপ্ত
গলায় উত্তর দিল
মেয়েটি।
এখানেই থাকেন? আশ্চর্য এত বছর আছি
এখানে অথচ আপনাকে
তো দেখলাম না কখনো।
আমি প্রতিদিন রাত বারোটার পরই
আসি এখানে।
কথাটা কেমন বিদঘুটে ঠেকলো
মৃম্ময়ের। তবুও হেসে বললো ,
এত রাতে মজা করছেন? হাহাহা
মোটেই মজা করছি না, বলে
অভিমানের সাথে তাকালো
মেয়েটি।
তার সে চাহনিতে কি যে এক মায়া
ছিল। মৃন্ময় হারিয়ে
গেলো সে মায়ায়। সে ভুলেই গেলো
মেয়েটার উত্তর।
কেবল মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।
আচ্ছা মানলাম। আপনি কি এখানে
শিউলি ফুলের ঘ্রান
পাচ্ছেন? জিজ্ঞাসা করলো মৃন্ময়।
হ্যা পাওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ
আমরা শিউলি ফুল গাছের
নিচেই দাড়িয়ে আছি।
তাই তো! এতক্ষনে খেয়াল করল মৃন্ময়।
কিন্তু মা যে বললো এ
তল্লাটে একটা ও গাছ নেই শিউলির।
মনে মনে ভাবলো সে।
ভাবনায় ছেদ পড়লো মেয়েটির প্রশ্নে।
মেয়েটা বললো আপনি এখানে কেনো
এসেছেন?
জ্বী ইয়ে মানে আপনাকে একা
দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম
এখানে। এত রাতে কোন বিপদে
পড়েছেন নাকি তাই ভাবলুম।
আমার বিপদ? বলে হাহাহা করে হেসে
ঊঠল মেয়েটি।
সেই হাসি দেখে মৃন্ময় যেনো প্রেমে
পড়ে গেলো
মেয়েটির।
অনেক রাত হয়েছে আপনি ফিরে যান,
মেয়েটি বললো।
আর আপনি?
বললামই তো আমি এখানেই থাকি।
এটাই আমার থাকার জায়গা।
কিন্তু, কিছু প্রশ্ন করতে যাচ্ছিল মৃন্ময়।
.
হঠাৎ পিছন থেকে নাইট গার্ড রহিম
মিয়া পিছন থেকে
মৃম্ময়ের নাম ধরে ডাকলো।
ও মৃন্ময় বাবা তুমি এত রাতে এখানে কি
করো?
জ্বী চাচা এনার সাথে কথা বলি।
রহিম মিয়া মৃম্ময়ের পিছে কাউকে
খুজে পেলো না।
কই? কাউরেই তো দেখিনা।
মৃন্ময় ঘুরতেই দেখে কেউ নেই। আর শিউলি
ফুলের গন্ধটা ও
যেনো হারিয়ে গিয়েছে। গাছটা ও
মরা মরা হয়ে নেতিয়ে
আছে। সব কেমন জানি ঘোরের মত
লাগছে।
ও বাবা যাও বাড়িতে যাও এত রাইতে
রাস্তায় থাকোন ভালা
না।
জ্বী চাচা। বলেই মৃন্ময় বাড়ির দিকে
ফিরে গেলো।
সারারাত একটা কথাই তার মাথায়
ঘুরপাক খেলো। কে
মেয়েটা? এভাবে চলেই বা কোথায়
গেলো?
ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল মৃম্ময়ের। উঠে
পড়তে বসলো।
সামনে সেমিস্টার ফাইনাল। মায়ের
সাথে স্বাভাবিক কথা
বললেও রাতের সব ঘটনা চেপে গেলো
সে।
সারাদিন সে পড়লো ,বিকালে
বাহিরে
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিল। সন্ধ্যা
নেমে পড়তেই তার অস্থির
লাগতে থাকল। আজ যদি আসে মেয়েটা
তবে সব জিজ্ঞাসা
করবে।
.
.
রাত ১২:০১
ঘড়িটা ঢং করে উঠতেই মৃন্ময় প্রায় ছুটে
গেলো জানালার
কাছে। আরে ওই তো নীলা দাঁড়িয়ে।
আগের দিনের মতই। আর
শিউলি ফুলের ঘ্রাণ ও পাচ্ছে মৃন্ময়। সে
এতটাই কৌতুহলে ছিল
যে এই অঅস্বাভাবিক বিষয় টা সে
খেয়াল ই করল না। আজ ও
বেরিয়ে গেলো সে নীলার কাছে।
.
হ্যালো কেমন আছেন?
আবার আপনি এসেছেন?
জ্বী ভাবলুম আপনি, ,,
বিপদে পড়েছি তাই তো?
হাহাহা করে দুজনেই হেসে উঠল।
মৃন্ময় আজো মেয়েটির রূপে বিমোহিত
হয়ে ভুলে গেলো
প্রশ্ন করতে সে কে, কোথা হতে
এসেছে।
আচ্ছা আপনি কালকে হঠাৎ কোথায়
গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন
বলুন তো?
ওই লোকটা টর্চ হাতে আসছিল তাই।
আলো আমার সহ্য হয়না।
ও আচ্ছা। তা আপনি এখানে ডেইলি কি
করেন? চলুন না বসে
আড্ডা দিই।
আমি দাঁড়িয়ে থাকতেপছন্দ করি।
আজো রহিম মিয়া এসে পড়লো। আর ওমনি
নীলা গায়েব।
ধুর রহিম চাচা যে ক্যান এই টাইমে
আসে ডেইলি।
এভাবে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলো।
প্রতি রাতে নীলার
প্রেমে একটু একটু করে পড়তে থাকে মৃন্ময়।
কিন্তু রহিম চাচার
যন্ত্রনায় মনের কথা বলতেই পারেনা
সে নীলাকে।
.
সাতদিন পর এক রাতে।
নীলার পাশেই দাঁড়িয়ে মৃন্ময়।
আচ্ছা নীলা একটা কথা বলি? রাগ করবে
নাতো?
নাহ মৃন্ময় বলো।
আমি তোমাকে ভালোবাসি।
কথাটা শুনেই নীরবে চোখ বেয়ে
পানি পড়ল নীলার।
মৃন্ময় এই প্রথম নীলাকে কাদতে দেখল ।
বুকের ভিতরে হুহু করে
উঠল মৃম্ময়ের।
কি হয়েছে নীলা তুমি কাঁদছ ক্যানো?
প্লিজ আমায় বলো।
নীলা মৃন্ময়কে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে
কাঁদতে লাগলো।
বলো নীলা কি হয়েছে, , প্লিজ কেদো
না এভাবে।
নীলা থামলো । মৃন্ময় আজ আমি
তোমাকে কিছু সত্যি জানাব।
মৃন্ময় ঘাবড়ে গেলো। নীলা আগেই
কাউকে ভালোবাসে
নাতো!!
আমি কোন মানুষ নই, নীলা বললো।
এমন একটা কথা শুনবে আশাই করেনি মৃন্ময়
কি বলছো এসব?? আবার মজা করছো?
না মৃন্ময়। আমি সত্যি বলছি। আমি শুধু এক
অতৃপ্ত আত্মা। যে তার
মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে রোজ রাতে
দাঁড়িয়ে থাকে এখানে।
এসব কি বলছো নীলা?? আমি বিশ্বাস
করিনা এসব। কি যা তা
বকছো বলো তো। বিডিলাভ২৪.কম
.
নীলা বলতে থাকলো। আজ থেকে তিন
মাস আগে এক ঝড়ের
রাতে এখানে এই শিউলি গাছের নিচে
দাঁড়িয়ে রিক্সার
অপেক্ষা করছিলাম। তখন প্রায় রাত
দশটা। টিউশনি শেষে
বাড়ি ফিরছিলাম। রিক্সা না পেয়ে
দাঁড়িয়ে ছিলাম।
তখন তিনটে ছেলেকে দেখলাম এদিকে
আসতে।ছেলে
গুলোকে দেখে ভদ্র ঘরেরই মনে হচ্ছিল।
আমাকে দেখে
নিজেদের মধ্যে কি যেনো আলোচনা
করলো। আমি ওদের
ওমন করতে দেখে হাটা শুরু করলাম। যেই
এক পা বাড়াই ওমনি
ছূটে আসে ছেলেগুলা। আমি দৌড় দিতে
গিয়ে পা পিছলে
পড়ে যাই। ছেলে তিনটে আমায় পাজা
কোলে করে তুলে
পুকুরের অন্ধকার পাশে নিয়ে আমার
নারীত্ব কে পিষে
মেরে ফেলে ওরা। আমি অনেক অনুরোধ
করেছি মৃন্ময় ওরা
আমায় ছাড়েনি।নিজেদের ইচ্ছে
মিটিয়ে গলা টিপে মেরে
ফেলে আমায়। সে কি যন্ত্রনা। বলতে
বলতে চিৎকার করে
কাঁদতে থাকে নীলা। এই শিউলি
গাছের নিচে আমায় পুতে
রেখে যায়। তুমিই বলো না মৃন্ময় আমার
কি দোষ ছিল? আমি
মেয়ে তাই? আমারো তো কত স্বপ্ন ছিল।
তোমার মত কেউ
একজন আমায় খুব ভালোবাসবে।আমার
দেহটা তার পবিত্র
স্পর্শে সিক্ত হবে। দেইদিনের পর
থেকে আমি অপেক্ষায়
আছি ওই তিন জনের। ওদের মেরে আমি
শান্তিতে ঘুমোবো।
ওরা যাতে আর কোন নীলার ক্ষতি করতে
না পারে।
ছেলেগুলো দেখতে কেমন ছিল? মৃন্ময়
জিজ্ঞাসা করলো।
নীলার বর্ননা শুনে ওর আর বুঝতে বাকি
রইলো না ছেলে
তিনটে কারা। ওরা এই এলাকাতেই
থাকে। বখাটে গুন্ডা।
প্রায়ই স্কুল কলেজ গামী মেয়েদের
উত্তক্ত করে।
নীলা তুমি আজ যাও। কাল এই সময়েই
এসো আবার।
নীলা ভেবেছিল মৃন্ময় বুঝি ঘেন্নায়
তার থেকে মুখ ফিরিয়ে
নিবে কিন্তু না নীলা তার চোখে
অন্যকিছুই দেখতে
পেয়েছিল।
.
.
পরের দিন ভোরে সারা মহল্লার মানুষ
এসে জড়ো হয়েছে
পুকুর পাড়ে। সেই তিন যুবকের লাশ
ভাসছে পানিতে। BDLove24.Com
খুব
নৃশংসভাবে মেরেছে কেউ ওদের। মুখ
থেঁতলে গেছে।
নীলা চলে যাবার পরই কাল রাতে মৃন্ময়
গিয়েছিল ওদের
আড্ডায়। মদের নেশায় চুর হয়ে পড়েছিল
তিন জন। সেই
সুযোগে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে
থেঁতলে দেয় তিনজনকে
মৃন্ময়। তার নীলাকে হত্যার চরম
প্রতিশোধ নেয় সে।
মহল্লার মানুষেরা খুশিই হয়েছে ওদের
মৃত্যু তে। বেচে
থেকে তো কেবল ক্ষতি করেছে তাদের
এবার মরে যদি
শান্তি দেয়। তবে সব থেকে বেশি খুশি
একজনই হয়েছে আজ।
হুম নীলা।
রাতে মৃন্ময় তার মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় এক
নজর দেখেই
বেরিয়ে পড়ে বাসা থেকে।
নীলাকে আজ বেশ খুশি দেখাচ্ছে।
কাছে যেতেই জড়িয়ে
ধরল মৃন্ময় কে সে। জামো মৃন্ময় আজ আমি
অনেক খুশি। বিডিলাভ২৪.কম
কে
যেনো শয়তান গুলোকে মেরে
ফেলেছে। নিজের হাতে
মারতে না পারলেও ওদের মৃত্য তে আজ
আমার আত্মা শান্তি
পেয়েছে। তাই যে আমায় চলে যেতে
হবে মৃন্ময়। আর
কোনদিন তোমায় দেখতে পাবনা
আমি। অঝোরে পানি
পড়ছিল নীলার চোখ বেয়ে।
মৃন্ময় হাতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা
ছুরিটা নীলার দিকে
এগিয়ে দিয়ে বললো, না নীলা তুমি
একা না আমিও যাব
তোমার সঙ্গে।এই নাও ।এটা দিয়ে
এখনি আমায় মেরে
ফেলো।
কি বলছো এসব তুমি। কখনো না।
তোমায় আমি মারতে পারব না
মৃন্ময়। আমি যে তোমায় ভালোবাসি।
এজন্যই তো বলছি নীলা। আমিও যে
তোমায় ছাড়া থাকতে
পারব না। নিয়ে যাও আমায় তোমার
সাথে।
না মৃন্ময় তা হয়না। তুমি বেচে থাকো
এই সুন্দর পৃথিবীতে।
তোমার মাঝে তো আমি আছিই। আমার
যাওয়ার সময় হয়ে
গিয়েছে। শেষ বেলায় আমার একটা
অনুরোধ রাখবে মৃন্ময়?
কান্না জড়ানো গলায় মৃন্ময় বললো,
বলো নীলা। এই শিউলি
গাছের নিচে থেকে আমার লাশটা
তুলে নিয়ে জানাযা
পড়িয়ে কবর দিবে।তবে আমি অনেক
শান্তি পাব।আসি মৃন্ময়।
হাওয়ার সাথে মিলিয়ে গেলো
নীলা।
সেরাতের পর বহু বছর পেরিয়ে
গিয়েছে , তবু মৃন্ময় প্রতি
রাতে জানালার কাছে এসে শিউলি
গাছটির দিকে
তাকিয়ে থাকে। যদি আর একবার সেই
ঘ্রান অনুভব করতে
পারে যদি নীলা আরেকবার ফিরে
আসে....।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now