বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাদীনা আল-মুনাওয়ারাহ। হাজ্জ্বের
সফরের কথা।
.
মাসজিদে নববী-তে হাজ্জ্বীদের
রীতিমত উপচে পড়া ভীড়। এরমধ্যে নিজে
দূর থেকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রাওজাহ
যিয়ারাতের সুযোগ পেলেও ৬ বছর বয়সী
পুত্র 'আব্দুল্লাহ আরহাম-কে নিয়ে
যিয়ারাতের সুযোগ মেলে নি। প্রচন্ড
ভীড়ের মধ্যে একবার কাঁধে নিয়ে চেষ্টা
করেছিলাম। প্রায় ৯/১০ সারি দূর থেকে
কোনরকমে আরহামকে রাসুলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর
রাওজাহ দেখালাম। তাতে বেচারার
শিশুসুলভ চপলতা বাড়ল বৈকি, কমলো না।
.
প্রতিদিন সকাল থেকেই মন খারাপ করে
আরহাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর রাওজাহ এর
একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে সালাম
দিতে চায় সে। ঠিক একইভাবে
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) এঁর "দুই
ফ্রেন্ডস" (আরহামের ভাষায়) আবু বকর
সিদ্দীক্ব এবং 'উমার ইবনুল খাত্তাব
(রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহুম) এর
কবরের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে সালাম
জানাতেই হবে তার। যতই ভীড়ের কথা
বলি, ভীড় দেখাই – ততই চোখে পানি
চলে আসে ছেলের।
.
সাধারণত বাবুস সালাম (১ নং গেট) দিয়ে
ঢুকে রাওজাহ যিয়ারাত করে বাবুল
বাক্বী' (৪১ নং গেট) দিয়ে বের হয়ে
আসতে হয় সবার। বাবুল বাক্বী' ঘেঁষেই
রাওজাহ। সুনিয়ন্ত্রিত একমুখী চলাচল।
.
ছেলের মন ভুলাতে প্রতিদিন আসরের
সালাতের আগে বাবুল বাক্বী' এর বাইরে
তাকে নিয়ে বসতাম। দূর থেকে রাওজাহর
সবুজ প্রাচীর দেখাতাম আর রাসুলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও
তাঁর প্রাণপ্রিয় দুই সাহাবীর
(রাদিআল্লাহু আনহুম) এর গল্প শুনাতাম
তাকে।
.
প্রতি ওয়াক্ত আযানের কিছু সময় পরেই
যিয়ারাত বন্ধ করে দেয় পুলিশ ও
সেচ্ছাসেবী ভাইরা। সালাত শেষ হবার
পরে আবার লাইন ধরে যিয়ারাত শুরু
করেন সবাই। মাঝের এই সময়টা আরহামের
জন্য সুবর্ণ সময়। বাবুল বাক্বী' এর বাহির
থেকে এই সময়টুকুতে পরিষ্কার দেখা যায়
রাওজাহ। গেটের ঠিক বাহিরেই লাল-
সাদা প্লাষ্টিকের রশি দিয়ে আটকে
দেয়া হয় যাতে বিপরীত দিক থেকে
(বাবুল বাক্বী'র দিক থেকে) কেউ ঢুকতে
না পারেন।
.
একদিন আসরের আযানের পরে আরহামকে
পাশে বসিয়ে তা'হিয়্যাতুল মাসজিদ
সালাত পড়ছি। সালাম ফিরিয়ে পাশে
তাকিয়ে দেখি – আরহাম পাশে নেই!
দূরে বাবুল বাক্বী'র বাহিরে সেই লাল-
সাদা রশি ধরে দাঁড়িয়ে আছে ছেলে
আমার। চোখ তার রাসুলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর
রাওজাহ মুবারকের দিকে স্থির।
.
ডাকার চেষ্টা করে বুঝলাম শুনতে পাবে
না। উঠে ওকে নিয়ে আসবো – ভাবতে
ভাবতেই দেখি দুই পুলিশ ভাই কী জানি
বলছে ওকে। আমি কাছে যেতে যেতেই
দেখি আরহাম তাঁদের একজনের কোলে
চড়ে বসেছে। আমি অবাক হয়ে ইশারায়
বললাম তাঁদের – আমি ওর বাবা।
.
প্রবল বিস্ময় নিয়ে দেখলাম, লাল-সাদা
প্লাষ্টিকের রশি পার হয়ে সেই পুলিশ
ভাই আরহামকে কোলে নিয়ে সম্পূর্ণ
উল্টো দিক দিয়ে রাওজাহর দিকে হেঁটে
চললেন। বাকী পুলিশ ভাইটি আমাকে
ইশারা করলেন পিছু নিতে।
.
সুব'হানাল্লাহ! আরহামকে নিয়ে সোজা
রাওজাহর সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন
সেই সহৃদয় পুলিশ ভাই। পাশ থেকে দুইজন
হাজ্জ্বীকে তুলে সামনে পাঠিয়েও
দিলেন তিনি, যাতে আরহাম আরাম করে
দাঁড়াতে পারে। আরহামের শিশুমনের
ব্যকুলতা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন
বোধকরি। হতভম্ব আমাকেও ডেকে পাশে
দাঁড় করিয়ে দিলেন তিনি। আল্লাহু
আকবার!
.
আমার চোখে পানি চলে এলো নিমিষেই।
এতটা কাছে, এতটা মনোযোগ নিয়ে
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) এঁর রাওজাহ যিয়ারাতের
সৌভাগ্য হবে - স্বপ্নেও ভাবি নি।
আল্লাহ (সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা) সেই
সুযোগটিও করে দিলেন আমাদের বাপ-
বেটাকে; একসাথে, এত কাছ থেকে, কোন
ভীড়-ঝঞ্জাট ছাড়া!
.
অশ্রুসজল চোখে দু'জনে একসাথে সালাম
জানালাম সর্বোত্তম মানুষকে – সর্বশেষ
ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুলকে, তাঁর সুপ্রিয় দুই
বন্ধুকে –
.
আসসালাতু আসসালামু 'আলাইকা ইয়া
রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম)।
.
আসসালামু 'আলাইকা ইয়া খলীফাতু
রাসুলিল্লাহ আবু বকর আস-সিদ্দীক্ব
(রাদিআল্লাহু আনহু)।
.
আসসালামু 'আলাইকা ইয়া আমিরুল
মু'মিনীন 'উমার ইবনুল খাত্তাব
(রাদিআল্লাহু আনহু)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now