বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৭ বছর আগে
তখন সজল পুরোদমেই প্রফেশন নিয়ে ব্যস্ত। স্ত্রী সন্তান কে বাসায় একদমই সময় দিতে পারে না। তবে সুখের একটুও কমতি ছিল না ওদের। বাসায় নির্জনা তার ফুটফুটে শিশু দীপ্ত কে নিয়ে সারাক্ষন ব্যস্ত থাকে। আর সজল তখন মাইগ্রেশনের প্লানিং শুরু করেছে মাত্র । নির্জনা তার ভবিষ্যতের একটু একটু করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে্, ,... আমেরিকা গিয়ে ছোট্ট একটা বাসা নিবে, দীপ্তকে আমেরিকার ভালো স্কুলে ভর্তি করাবে, প্রতি সপ্তাহে বেড়াতে যাবে , আরো কত কি ।
এমনি একদিনে সজল সকালবেলা অফিসের পথে বের হয় । সারাদিন অফিসের কাজে এতই ব্যস্ত ছিল যে একবার নির্জনা আর দীপ্তের খবর নেয়া হয়েনি, ফোন করা হয়নি ওদের। সন্ধ্যায় সজল ক্লান্ত হয়ে যখন বাড়ি ফেরে তখন অনেকবার কলিংবেল বাজানোর পরও দরজা খোলেনা নির্জনা ।প্রায় আধা ঘন্টা এভাবেই দরজার বাহিরে দারিয়ে থাকে সজল। শেষে সজল বাধ্য হয়েই এক চাবিওয়ালাকে এনে ঘরের লক খুলে ঘরে প্রবেশ করে । কিন্তু একি, পুরো বাড়ি যে চুপচাপ । সজল চিৎকার করে ডাকে, নির্জনা.........
কোন উত্তর আসেনা । তবে বেডরুম থেকে দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ আসে । দৌড়ে যায় সজল । দেখে বেডরুমের বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে লাগানো । আর ভিতর থেকে নির্জনা দরজা খুলতে বলছে বারবার। অবাক হয় সজল । এটা কিভাবে সম্ভব। নির্জনাকে কে বন্দী করবে বাথরুমে, আর দীপ্তই বা কোথায় । তাহলে কি ডাকাত পরেছিল বাসায় । কিন্তু ঘরের কিছুই তো এলোমেলো নেই। তাহলে!!! ক্লান্ত নির্জনাকে বাথরুম থেকে বের করে সজল । নির্জনা বের হয়ে প্রথমেই জানতে চায়...... দীপ্ত কোথায়???...
সেদিন নির্জনা যখন বাথরুমে গোসল করতে যায়, তখন দীপ্ত বাথরুমের বাইরের লক নিয়ে খেলতে থাকে । দুই বছরের দীপ্ত কিছুতেই বুঝতে পারেনি - কিভাবে করলে লক খুলে আর লেগে যায় । ও যে ওর আম্মুকে ভিতরেই আটকে ফেলেছে সেটা বুঝতেও পারেনা । লক নিয়ে খেলা শেষে ও ওর নিষিদ্ধ এলাকার দিকে পা বাড়ায় । যেখানে ওর মা কড়া করে বারণ করে দিয়েছে না যেতে । রান্নাঘরের আগুন দীপ্তর অনেক পছন্দ । ও ওর ছোট ছোট জামা এনে একটা একটা করে আগুন লাগাতে থাকে আর খুশিতে হাসতে থাকে । অবুঝ দীপ্ত কিছু বোঝার আগেই ও ওর গায়ে আগুন লাগিয়ে ফেলে । দীপ্ত চিৎকার করতে থাকে । কিন্তু ওর চিৎকার ওর মা পর্যন্ত পৌছেনি সেদিন । বাথরুমের পানির আওয়াজের নিচে চাপা পড়ে যায় । তারপর সজল যখন বাসায় ফেরে আর সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুজে শেষে রান্নাঘরে যায়, তখন শুধুই একগাদা ছাইয়ের স্তুপ আর একটি শিশুর দেহের অংশবিশেষ দেখতে পায় ।
নির্জনা সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারায় । ওইদিনের পর থেকে নির্জনা আর স্বাভাবিক হয়নি । সজলের সাথে কখনোও কথা বলেনি । সারাক্ষন শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে আর বিড়বিড় করে কি যেন বলে । মাঝে মাঝে অনভিজ্ঞ হাতে দেয়ালে একটি শিশুর ছবি আঁকতে চেষ্টা করে । সজল প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিল। তাই বাবা মা একরকম।।জোর করে বাধ্য করে আবার বিয়ে করতে। মা বাবার জন্য আবার বিয়ে করে সজল, মা বাবার পছন্দের মেয়ে কে…
বর্তমান
আজ সজল আবারো আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছে । সাথে স্ত্রী জয়ীতা আর মেয়ে প্রিয়তী । খুব সুখেই আছে সজল তার স্ত্রী সন্তান কে নিয়ে । বাবা-মায়ের জোড় করে বিয়ে দেয়াটা কাজে লেগে গেছে অনেক । একজন সুখি দম্পতির যা যা থাকার কথা সবই আছে আজ সজলের। সুন্দর স্ত্রী, ফুটফুটে একটা মেয়ে, আমেরিকার সিটিযেনশিপ। আর কি লাগে একটা মানুষের লাইফএ।
তবুও মাঝে মাঝে পুরনো স্মৃতিগুলো মনে পড়ে । মনে পড়ে যায় একসময় নির্জনাকে কথা দিয়েছিল সজল, ওকে ছেড়ে কখনো যাবেনা । শুধু ওকেই ভালবাসবে যতদিন দেহে প্রান থাকবে।
অথচ আজ নির্জনাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে সজল, শুধুই নিজের কথা ভেবে, নিজের সুখের জন্য। অনেক দূরে ............................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now