বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হসপিটাল এ আসার পর থেকেই সজলের বুক টা দুরুদুরু করে কাপছে। অসস্তি্টা কোনভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ডাক্তারদের সাথে কথা বলে সজল জানতে পারল এখন আর কেউ ই আসে না নির্জনার সাথে দেখা করতে। প্রথম দিকে ওর ভাই কয়েকদিন এসেছিল। এখন শুধু হসপিটালের খরচ টা পাঠিয়ে দেয়। নিজে আসেনা কখন। অনেক ব্যাস্ত হয়ে গেছে। একটা হতাসা ভরা নিঃশাস বের হল সজলের বুক থেকে। একি অবস্থা নির্জনার। একমাত্র বোন কে কতই না আদোর করতো ওর ভাই। আজ শুধু এভাবে ফেলে রেখেছে কিছু টাকা দিয়ে। আর কাকেই বা দোশ দিবে সজল। ও নিজেও তো পালিয়ে বেচেছে সব দায়িত্ত থেকে।
হসপিটালের কিছু ফর্মালিটিস পূরণ করার পর একজন নার্স সজল কে সেই রুমের দিকে নিয়ে চললো, যে রুমে নির্জনা থাকে । নার্স সজল কে দরজা পর্যন্ত দিয়েই চলে গেলো । সজল দরজা খুলে দাড়ালো । ছোট্ট একটা রুম । বিছানাটা এলোমেলো আর দেয়ালে অনভিজ্ঞ হাতে কিছু আকিবুকি ।চারদিকে চোখ বুলাল সজল। দেখল রুমের এক কোণায় বসে আছে নির্জনা, এলোমেলো চুল । পড়নে হসপিটালের নীল রঙের গাউন ।ছিপছিপে হয়ে গেছে শরীরটা। কেউ যত্ন নেয় না হয়ত। নার্স হয়ত সামান্য দায়িত্ত টুকু পালন করে চলে যায়। হায়রে অভাগী। সজল কাছে গিয়ে আস্তে করে ডাকলো - নির্জনা......... ।
নির্জনা একবার আলতো করে মাথা তুলে তাকালো সজলের দিকে । সাথে সাথেই চোখ ফিরিয়ে নিলো । দেখে মনে হলো ও যেন অনেক দূরে তাকিয়ে আছে, ওর চোখ অনন্তকাল দূরে চলে গেছে । বিড়বিড় করে কি যেন বলতে লাগলো । সজল আবারো ডাকলো নির্জনা...নির্জনা.....
কিন্তু নির্জনা আর একটিবারের জন্যও ফিরে তাকালো না । সজল কিছুই বুঝতে পারলোনা, নির্জনা কি ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিল নাকি সজল কে চিনতেও পারেনি । প্রায় একঘন্টা এভাবেই কেটে গেল । সজল অনেকবার চেষ্টা করল নিরজনার সাথে কথা বলতে। পারল না।
হঠাৎ সজলের মোবাইল বেজে উঠল । জয়ীতা ফোন করেছে । “হ্যালো, সজল, তুমি কোথায়? ছোট খালা-খালু এসেছেন । তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন তাড়াতাড়ি বাসায় আসো ।“
সজলের এত তাড়াতাড়ি ফেরার ইচ্ছা ছিলনা । আরো কিছুক্ষন থাকতে চেয়েছিল নির্জনার সাথে । কিছু বলতে চেয়েছিল ওকে । বলা হল না আর। বাধ্য হয়েই উঠতে হলো ।ফিরে যেতে হবে বাসায়। ফিরে আসার আগে নির্জনার বেডে একটি কথা বলা পুতুল রেখে এলো । অনেকবছর আগে নির্জনা আবদার করে বলেছিল-সজল যখন আমেরিকা যাবে, তখন যেন ওকে একটা কথা বলা পুতুল কিনে দেয় । ওর আবদার ফেলেনি সজল । কিন্তু বড় অসময়ে সেই আবদার রাখলো । নির্জনাকে পিছনে ফেলে সজল তার সাজানো সংসারের দিকে পা বাড়ালো । আর কখনো দেখা হবে কিনা নির্জনার সাথে, জানেনা সজল । অথচ এমন একটা সময় ছিল যখন নির্জনাকে না দেখে এক মুহূর্ত থাকতে পারতো না । দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেম করেছে নির্জনার সাথে । কলেজ লাইফে পুরোটাই নির্জনার সাথে ছায়ার মত ছিল সজল । সবকিছুই অন্নরকম ছিল তখন। সব ভাল লাগত সজলের তখন। নির্জনার হাত ধরে কাটিয়ে দিতে পারত ঘন্টার পর ঘন্টা। কিন্তু সজলের পরিবার মেনে নেয়নি এই প্রেম। বাড়ীর সবার সাথে রাগারাগি করে একদিন বের হয়ে জায় সজল। তারপর পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে । প্রথমে কোন পরিবার-ই মেনে নেয়নি । অনেক কষ্ট করতে হয়েছে সজল কে তার মা-বাবাকে রাজি করাতে । তারপর এক সময় তারা মেনে নেয় । কিন্তু কোথায় যেন একটা বাধা থেকেই যায় । নির্জনা কে হয়ত মন থেকে কখনই মেনে নিতে পারেনি বাবা মা। তাইতো মা আর নির্জনার মধ্যে কলহটা দিন দিন বেড়েই চলছিল । একসময় বাধ্য হয়েই আলাদা হয়ে যায় সজল । এরই মধ্যে নির্জনার কোল জুড়ে আসে ছোট্ট শিশু দীপ্ত.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now