বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ৯ টা । বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে মাত্র ল্যান্ড করলো ফ্লাইটটি । আমেরিকাতে মাইগ্রেশন হওয়ার পর সজলের এই প্রথম দেশে ফেরা । দীর্ঘ চার বছর পর বাবা, মা, বোনের সাথে দেখা হবে । দেখতে পাবে তার নিজের দেশকে। যেখানে কেটেছে সজলের ২৫টি বছর। রয়েছে শতশত স্মিতি। অসম্ভব ভালো একটা অনুভূতি হবার কথা, কিন্তু কেন জানি বিষাদে ভরে যাচ্ছে সজলের মনটা ।ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে আবার আমেরিকায় । আসতে চায়নি সজল মোটেও, একরকম বাধ্য হয়েই আসা । বাবা-মা খুব দেখতে চাচ্ছে তাদের একমাত্র ফুটফুটে ২ বছরের নাতনী প্রিয়তী্কে। বিয়ের পরপর সেই যে চলে গেছে স্ত্রীকে নিয়ে, আর ফেরা হয়নি দেশে।অনেক অনুরধের পর আর বাবা-মার কথা ফেলতে পারেনি সজল । তাইতো শত অনিচ্ছা সত্তেও স্ত্রী জয়ীতাকে নিয়ে চলে আসে ক্ষনিকের জন্য তার নিজের দেশে । এয়ারপোর্টের সব নিয়ম কানুন শেষ করে বেরুবার পথেই দেখতে পায় বাবা-মা দাড়িয়ে আছে হাসি মুখে । সজল খুব কষ্ট করে একটু মলিন হাসি ফুটিয়ে তোলে তার মুখে, আর মনে মনে বলে, কেন আমাকে নতুন জীবন দিলে বাবা, কেন আমাকে আবারো সুখের রাস্তায় ছুড়ে দিলে স্বার্থপরের মত তমরা। আমি তোমাদের সন্তান বলে । শুধু সন্তানের কথাটাই ভাবলে; কেন??? আর যদি এতটাই স্বার্থপর হলে তবে আজ কেন আবার নিয়ে এলে আমায় এই দেশে ফিরিয়ে। আমি ত আসতে চাইনি কখনই।
এক ঘন্টা পর
গাড়ি ছুটছে গন্তব্যের দিকে। কিন্তু সজলের মন যেতে চাচ্ছে অন্য পথে, অন্য এক গন্তব্যে । যেটার ভয়ে এতদিন দেশ থেকে দূরে থেকেছে সজল সারথপরের মত। আজ এতদিন পর সজল কে যেন সেদিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে নিওতি।
বাবা-মা খুব খুশি তাদের নাতনীকে পেয়ে । প্রিয়তী যেন বাবা-মার সেই নির্মম শূণ্যতাকে পূরন করে দিয়েছে, যে শূ্ন্যতা তৈরি হয়েছিল কয়েক বছর আগে । সজল সেটা দেখেই নিজের মন কে বুঝ দেয়ার অযথা চেষ্টা করল। গারিতে সজলের পাশেই বসা জয়ীতা । এক মমতাময়ী নারী, অসম্ভব মমতার সাথেই সজলের একটি হাত ধরে রেখেছে, যেন বুঝতে পেরেছে সজলের মনের মধ্যে কি চলছে । আর সে জন্যই বুঝাতে চাচ্ছে, ‘যত কিছুই হোক - আমিতো তোমার পাশে আছি । কেন এত ভয় তোমার। আজ সব ভয় সব দুঃচিন্তা আমায় দিয়ে তুমি একটু শান্তিতে থাক।‘
চার বছর আগে বাবা-মা অনেকটা জোর করেই বিয়ে দেন জয়ীতার সাথে । তারপরপরি মাইগ্রেট করে আমেরিকাতে পাড়ি দেয় সজল, সাথে জয়ীতা । বিয়ের প্রথম দিকে কোনভাবেই জয়ীতাকে মেনে নিতে পারেনি সজল ।জয়ীতার দিকে তাকাতেই চেতনা সজল। কিন্তু জয়ীতা হার মানেনি । প্রতিটা মুহূর্ত ছায়ার মত পাশে ছিল। সজলের সব কষ্ট মুছে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে সবসময়। এত গভীর ছিল সেই ভালবাসা যে শেষমেষ সজলও হার মানতে বাধ্য হয়েছে জয়ীতার ভালোবাসার কাছে । সব কষ্ট আরাল করে জয় হয়েছে জয়ীতার ভালবাসার। কষ্টগুলো যেন ভালোবাসার আড়ালে দুমড়ে পড়ে ছিল এতদিন । আজ সজলকে সেই কষ্টগুলো আবারো তাড়া করে নিয়ে যেতে চাচ্ছে সেই পথে, যে পথে একদিন সজল তার জীবনের অর্থ খুজে পেত । ভালোবাসার স্বাদ পেত । মেতে থাকতে সেই ভালবাসার গন্ধে...।
পরদিন
হসপিটালের করিডর দিয়ে হাটছে সবুজ । মনের ভিতর অজস্র উত্থান-পতন চলছে । বারবার পিছনে পা চলে যাচ্ছে সজলের।মন চাচ্ছে ফিরে যেতে। কি দরকার কষ্ট টা আবার বারানোর। পরক্ষনেই আবার মনে হচ্ছে, এসেছি যখন একবার দেখেই যাই। তবুও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সজল, সত্যি কি যাবে সে ওই রুমে নাকি ফিরে যাবে বাড়ীর দিকে । শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিল সজল । এসেছে যখন, তখন একবার অন্তত দেখে যাবে সে তাকে । সেই মানুষটাকে যাকে সজল পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী ভালোবেসেছিল । কথা দিয়েছিল আর যাই হোক, কখনো সজল তার হাত ছেড়ে দিবে না, সবসময় পাশে থাকবে ।ছায়া হয়ে রবে চিরকাল। চিরকাল!!! সেই নির্জনা ...............।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now