বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাত্রা (২য় পর্ব)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)



X ‘আবারও শুরু হলো,’ কানের কাছে সারার কন্ঠটা শুনে জেগে উঠলাম আমি, ‘উঠো তাড়াতাড়ি।’ চোখ দুটো মেলতেই আবারও চমকে উঠলাম আমি। কাহিনী কি? আমি আবারও প্রথম রুমটাতে এসে পড়েছি! দ্রুত শোয়া থেকে উঠে বসলাম আমি। প্রায় সাথে সাথেই চোখ গেলো মেঝেতে। আগের নাম্বারটি আর নেই। নতুন নাম্বার দেয়া হয়েছে এখানে। ‘শুভ,’ হেয়ালিমাখা গলায় বলে উঠলো সারা, ‘চিটিং করেছো তুমি। তোমাকে বলা হয়েছিল যে রুমের ছয়টা তলের মধ্যে দেয়া ছয়টা নাম্বার থেকে প্রাইম নাম্বার খুঁজে বের করে তারপর সঠিক প্যানেলে হাত দিতে হবে। কিন্তু তুমি তা করোনি। আন্দাজে ঢিল ছুড়েছিলে, যার ফলে ভুল রুমে ঢুকে পড়েছিলে। তাই গেইম ওভার হয়ে গেছিল। এখন আবার নতুন করে শুরু করতে হবে তোমাকে, একেবারে প্রথম থেকে।’ ‘তুমি নিজেই বলো,’ মৃদুকন্ঠে বললাম আমি, ‘এগারো ডিজিটের ছয়টা সংখ্যা থেকে একটা প্রাইম নাম্বার খুঁজে বের করা কি এতোই সহজ? ব্রেইনের সতেরোটা বেজে যাবে একেবারে। এটা একটা অসম্ভব কাজ সারা।’ ‘এভরিথিং ইজ পসিবল,’ শান্তকন্ঠে জবাব দিলো ও, ‘ইফ ইউ ওয়ান্ট। বুঝতে পেরেছো? তুমি চিটিং করতে পারো, সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে ভুল দেয়াল বাছাই করলে আবার এই রুম থেকেই শুরু করতে হবে নতুন করে। এটাই এই খেলার রুল।’ ‘কিন্তু,’ বলতে চেষ্টা করলাম আমি। ‘কোন কিন্তু নেই,’ আমাকে বাঁধা দিয়ে বললো ও, ‘রুলস আর রুলস। এটাকে ভাঙ্গা যায় না। নাও স্টার্ট মাই ডিয়ার। ট্রাই টু ফাইন্ড মি।’ ‘ফাক মি,’ চোখ মুখ বিকৃত করে বলে উঠলাম আমি। মেজাজ আবার খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। খেলাটার শেষ দেখতে হবে আমাকে। দ্রুত ডায়েরী আর কলম তুলে নিলাম আমি। মেঝের নাম্বারের দিকে তাকালাম। এগারো ডিজিটের নাম্বার এটা, 32165498709। দ্রুত ডায়েরীতে টুকে নিলাম নাম্বারটা। তারপর এগিয়ে গেলাম দেয়ালের দিকে। পর পর ছয় তলের ছয়টা নাম্বার কাগজে লিখলাম আমি। নাম্বারগুলো হচ্ছে, 32165498709, 87634590137, 12345678903, 32416187567, 59873256011, 96325878109. নাম্বারগুলো নিয়ে এবার কাজ শুরু করলাম। যেহেতু জোড় সংখ্যাগুলো সব সময় ২ দিয়ে ভাগ করা যায়, সেহেতু জোড় সংখ্যাগুলো প্রাইম নাম্বার হবে না। অবশ্য এই ছয়টা নাম্বারের একটাও জোড় সংখ্যা নয়। একই কারনে এই সংখ্যাগুলোকে ভাগ করতে হবে শুধু বেজোড় সংখ্যা দিয়ে। অবশ্য এটাকে আরো ছোট করে করা যায়। সংখ্যাগুলোকে শুধু প্রাইম নাম্বার দিয়ে ভাগ করলেও চলে। তাহলে কাজ কমে যাবে অনেক। দেখা যাক কি হয়। প্রথম নাম্বারটা হচ্ছে 32165498709। একে প্রথমে ৩ দিয়ে ভাগ করে দেখা যাক কি দাঁড়ায়। 32165498709/3 = 10721832903. অবাক হলাম আমি। প্রথম নাম্বারটাকে যে তিন দিয়ে ভাগ করা যাবে, এটা আশাও করিনি। দ্রুত পরের নাম্বারটা নিয়ে লাগলাম। 87634590137/3 = 29211530045.66667 হলো না। যতোটুকু বুঝতে পারছি, ৫ দিয়েও এটাকে নিঃশেষে ভাগ করা যায় না। কারন, কোন সংখ্যাকে ৫ দিয়ে ভাগ করতে হলে সংখ্যার শেষ ডিজিট ৫ বা ০ হতে হবে। কিন্তু এর শেষের ডিজিট ৫ বা ০ কোনটাই নয়। সুতরাং ৫ বাদ। তাহলে এবার ৭ দিয়ে ভাগ করে দেখি তাহলে। 87634590137/7 = 12519227162.4285715 মনে মনে কিছুটা খুশী হয়ে উঠছি আমি। হয়তো এটাই আমার কাংখিত প্রাইম নাম্বার! দ্রুত এগুতে লাগলাম আমি। 87634590137/11 = 7966780921.5454545454545455 87634590137/13 = 6741122318.2307692307692308 87634590137/17 = 5154975890.4117647058823529 87634590137/19 = 4612346849.3157894736842105 87634590137/23 = 3810199571.1739130434782609 যতোই এগুচ্ছি, ততোই খুশী হয়ে উঠছি আমি। হয়তো এটাই আমার সেই কাঙ্ক্ষিত প্রাইম নাম্বার! যদি তাই হয়, তাহলে হয়তো হয়েই গেলো। 87634590137/281 = 311866868.81494 66192170819 87634590137/283 = 309662862.67491 16607773852 87634590137/293 = 299094164.29010 23890784983 87634590137/307 = 285454691 ‘দুররর,’ খেঁকিয়ে উঠলাম আমি। হলো না। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো আমার। আবার এর পরের নাম্বার নিয়ে বসতে হবে। কতোক্ষন যে লাগবে, কে জানে! পরের নাম্বারটি হচ্ছে, 12345678903। দেখা যাক এর ভাগ্যে কি ঘটে। 12345678903/3 = 4115226301 এটাও না। পরেরটার দিকে নজর দিলাম আমি। পরের নাম্বারটা হচ্ছে 32416187567। এর ভাগ্যে যে কি আছে, কে জানে! 32416187567/3 = 10805395855.6666666666666667 32416187567/7 = 4630883938.1428571428571429 32416187567/11 = 2946926142.4545454545454545 32416187567/13 = 2493552889.7692307692307692 পুরো তিন ঘন্টার মতো লাগলো এটা নিয়ে কাজ করতে। অবশেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম আমি। হ্যাঁ, এটাই আমার সেই কাঙ্ক্ষিত প্রাইম নাম্বার! এবার আমি পাশের রুমে যেতে পারি। আমি যেদিকে মুখ করে বসে আছি, তার পেছনের দিকের দেয়াল এটা। দ্রুত ডায়েরী আর কলম নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম আমি। দেয়ালটির সামনে গিয়ে নাম্বারটির পাশে থাকা প্যানেলে ডান হাতের তালু দিয়ে স্পর্শ করলাম। সাথে সাথেই একটা দরজা সৃষ্টি হলো সেখানে। দ্রুত প্রবেশ করলাম সেই রুমে। প্রায় সাথে সাথেই পেছনের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলো। পালা করে ছয় তলের দিকে তাকালাম আমি। তারপর এগিয়ে গেলাম সেসব দিকে। 32416188221, 59873256013, 59833256013, 19833256013, 72416188221, 72495270021। নাম্বারগুলো ডায়েরীতে টুকে নিয়ে আবারও রুমটার মাঝখানে এসে বসলাম আমি। ছয়টা এগারো ডিজিটের নাম্বার। কতোক্ষন যে লাগবে, ইশ্বরই জানেন! ঘাড় গুজে ডায়েরীতে মনোনিবেশ করলাম আমি। ******* চতুর্থ নাম্বারটার দিকে নজর দিলাম আমি। 12419819277/3 = 4139939759 এবার পঞ্চম নাম্বার। সেটা হচ্ছে 32416189859। একে একে নয়টা রুম পাড় হয়ে এসেছি আমি। এটা হচ্ছে দশ নাম্বার রুম। এদিকে মাথা প্রায় নষ্ট হবার জোগার আমার। কিন্তু কিছুই করার নেই। এটা এমন একটা খেলা, যখন তখন এটা থেকে বেড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদি ঘাড় গুজে একভাবে পড়ে থাকি, তাহলে সারাজীবনেও এখান থেকে বের হতে পারবো না আমি। তাই নিজে বাঁচার তাগিদেই খেলাটা খেলতে হচ্ছে আমাকে। এর মধ্যে কতোক্ষন বা কতোদিন হয়ে গেছে, তা আমি জানি না। আমার নিজের কাছে মনে হচ্ছে অন্তত এক সপ্তাহ তো হবেই। কিন্তু বাস্তব জগতে হয়তো সময়টা এতো নয়। হয়তো আধঘন্টা বা তারও কম। কিন্তু বাস্তব জগতের সময় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না আমি। আমি মাথা ঘামাচ্ছি এখানকার সময় নিয়ে। স্রেফ পাগল হওয়াটা বাকি আছে আমার! এখানে অবশ্য একটা সুবিধা আছে। বাস্তব জগতের মতো সময়ের সাথে সাথে ক্ষুধা পায় না, কিংবা বাথরুমেও যেতে হয়না। এটা যদি বাস্তব জগতে হতো, তাহলে এতোক্ষনে আমার অবস্থা কাহিল হয়ে যেতো। এভাবে এতোদিন বাঁচতাম কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার মনে। আরো চারঘন্টা পর উঠলাম আমি। পঞ্চম নাম্বার, মানে 32416189859 একটা প্রাইম নাম্বার। আর এটা আছে আমার মাথার উপর। কলম আর ডায়েরীটা পকেটে ভরে দেয়ালের কাছে গেলাম আমি। তারপর মই ধরে উঠতে শুরু করলাম দ্রুত। প্যানেলের কাছে গিয়ে সেখানে ডান হাত রাখতেই একটা দরজা খুলে গেলো। আমি এখন উপরের ঐ রুমটাতে ঢুকতে পারি। রুমে ঢুকে কোনদিকে না তাকিয়ে সরাসরি সামনের দেয়ালটার দিকে এগিয়ে গেলাম আমি। এখন কাজ একটাই আমার শেষ রুমটার ছয় তলের ছয়টা নাম্বার থেকে শেষ প্রাইম নাম্বারটা খুঁজে বের করা। তারপরই এই লেভেল কমপ্লিট হবে। সবে মাত্র দুটো দেয়ালের নাম্বার ডায়েরীতে তুলেছি, এমনসময় একটু মৃদু শব্দে চমকে উঠলাম আমি। এখানে তো কোন শব্দ হবার কথা নয়! দ্রুত পেছনের দিকে তাকালাম আমি। এবং সেই সাথে চমকে উঠলাম। ধীরে ধীরে এগুতে লাগলাম আমি। রুমের ঠিক মাঝখানে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম। আমি কি ঠিক দেখছি? আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি স্বয়ং আমি নিজে! পাগল হয়ে গেলাম না তো? ******* ‘তুমি কে?’ দৃষ্টি বিস্ফারিত হয়ে গেছে আমার। ‘তুমি কে?’ হুবহু আমার মতো করেই বলে উঠল আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা। ‘আমি শুভ,’ দ্রুত উত্তর দিলাম আমি, ‘আরিয়ান শুভ। কিন্তু তুমি কে? আর এখানেই বা এলে কি করে?’ ‘আমি শুভ,’ হুবহু আমার স্বভাবসুলভ আচরনের প্রকাশ দেখতে পেলাম ছেলেটার মধ্যে, ‘আরিয়ান শুভ।’ ‘মানে কি?’ খেঁকিয়ে উঠলাম আমি। ‘আমিও তাই ভাবছি,’ মাথা চুলকে বলে উঠলো সে, ‘মানে কি?’ চোখ দুটো একবার বন্ধ করে ভালোভাবে ডললাম আমি। হয়তো একটানা এতো সময় কাজ করতে করতে মাথাটা গেছে আমার। আবার চোখ খুললেই নিশ্চয়ই ভ্যানিস হয়ে যাবে ছেলেটা। চোখ খোলার পর দেখতে পেলাম, আমার ধারণা ভুল। ভ্যানিস হয়নি ছেলেটা। বহাল তবিয়তেই দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে। তাহলে কি এটা হ্যালুসিনেশন! একটা হাত বাড়িয়ে দিলাম আমি ছেলেটার দিকে। আমার ডান হাত দিয়ে ওর বা হাতে স্পর্শ করলাম। তারপর ডান চোখের উপরে তিলটায় হাত দিলাম। আমি ওকে স্পর্শ করতে পারছি! ‘একটা কথা বলি?’ ধীরে ধীরে বলে উঠলাম আমি, ‘একটু তোমার দাঁতগুলো দেখাবে?’ ‘ইইই,’ নিজের সামনের দাঁতগুলো দেখালো ও আমাকে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি, ওর ডানপাশের একটা দাঁতের কোণার দিকে একটু ভাঙ্গা। ঠিক আমার মতো। ছোটবেলায় মারামারি করতে গিয়ে ভেঙ্গে গেছিল যেটা। মানেকি এর? ‘এক সেকেন্ড,’ বলে উঠলো ছেলেটা, ‘বুঝতে পারছি আমি। তুমি ভাবছো যে, তুমি আর আমি একই। কিন্তু শুধু তিল বা দাঁত দেখে এটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।’ ‘কি করবো তাহলে?’ নিজের মাথার চুলগুলোতে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমি। ‘টিশার্ট খোলো,’ দ্রুত বলে উঠলো ও, ‘আমিও খুলছি।’ এক মুহূর্ত দেরি না করে আমার গায়ের টিশার্ট খুলে ফেললাম আমি। সেটা মেঝেতে রাখতে রাখতেই নিজের টিশার্টটা খুলে ফেললো ছেলেটা। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি, সব মিল! বুকের বা পাশের তিল, বাপাশের কাঁধের কাটা দাগ, পেটের ডান সাইডের কাটা দাগসহ আরো যতোগুলো কাটাদাগ আছে, হুবহু মিলে গেলো। ‘আমি স্বপ্ন দেখছি,’ মৃদু কন্ঠে বললাম আমি, ‘আর তা না হলে পাগল হয়ে গেছি।’ ‘কাহিনী কি?’ হুবহু আমার মতো করেই বলে উঠলো ও, ‘ভাল ঘুলিতে পড়লাম দেখা যায়।’ ‘বুঝতে পারছো না, তাই না?’ হঠাত করেই তৃতীয় আরেকটা কন্ঠ শুনে চমকে উঠলাম আমি, সেই সাথে চমকে উঠলো শুভও। দ্রুত রুমের দিকে নজর বুলালাম আমি, তারপর নিজের ভুল বুঝতে পারলাম। কন্ঠটা আসলে সারার। ‘কি হচ্ছে এখানে সারা?’ আমি কিছু বলার আগেই বলে উঠলো শুভ, ‘এসব কি?’ ‘বলছি দাড়াও,’ খিল খিল করে হেসে উঠলো সারা, ‘ব্যাখ্যা করছি আমি বিষয়টা। মাল্টিভার্স সম্পর্কে তো কিছুটা জানা আছে তোমাদের, তাই না?’ ‘মাল্টিভার্স’ একইসাথে বলে উঠলাম আমরা দুজন, মানে, দুই শুভ। ‘হ্যাঁ,’ মৃদু হাসির আওয়াজ পাওয়া গেলো, সারা হাসছে, ‘মাল্টিভার্স। মানে, মাল্টিপল ইউনিভার্স। এস্ট্রো-ফিজিক্স ে মাল্টিভার্স বলে একটা টার্ম আছে। মাল্টিভার্স বা মেটা ইউনিভার্স বা “মাল্টিপল ইউনিভার্স” বলতে আসলে বোঝায় আমরা যে ইউনিভার্সে বাস করছি তার আশেপাশে অবস্থিত সম্ভব সংখ্যক অসীম বা সসীম ইউনিভার্স। এম থিওরী বলে আমাদের ইউনিভার্সের মত আরও ইউনিভার্স সম্ভব যেগুলো একে অপরের সাথে সমান্তরালে থাকবে। সমান্তরালে থাকার এই জিনিসটাকেই আবার ব্যাখ্যা করার জন্য “প্যারালাল ইউনিভার্স” এই শব্দ বা টার্মটি ব্যবহার করা হয় । প্যারালাল ইউনিভার্স আসলে আমাদের সমান্তরালে থাকা সসীম বা অসীম সংখ্যক ইউনিভার্সের অস্তিত্ব ছাড়া কিছুই না । তাই এক কথায় আমরা বুঝে নেই মাল্টিপল ইউনিভার্সে সমান্তরালে থাকা ইউনিভার্সগুলোকে প্যারালাল ইউনিভার্স বলে। এম থিওরী মতে বিগ ব্যাং সবকিছুর উৎস নয়। আসলে যেটা হয়েছে সেটা হলো বিগ ক্রাঞ্চ। কিন্তু মহাবিশ্বের প্রসারন আলোর গতির খুব কাছাকাছি। অনেকে ঠিক এই কারনে দেখান যে মহাবিশ্ব আলোর গতিতে প্রসারিত হচ্ছে। তাহলে আমাদের যদি পাশের মহাবিশ্বটিকে দেখতে হয় তাহলে স্পেশাল রিলেটিভিটির হিসাবে তা সম্ভব নয়। অবশ্য যদি নিউট্রিনোর গতি আলোর চেয়ে বেশী বলে প্রমান করা যেতো তাহলে সম্ভব হতো! তাই এম থিওরী প্রমানিত নয়। তবে কিছুদিন আগে সিএমবিতে বাবল ইউনিভার্সের কনসেপ্টের সত্যতা পাওয়া গেছে। কিন্তু সর্বসাধারন বিজ্ঞানী মহলে মাল্টিপল ইউনিভার্স এখনো স্বীকৃত না আর এগুলো থিওরেটিক্যাল আর অবজার্ভেশনাল পদ্ধতিতে বর্তমান। চাক্ষুষ ভাবে এটা নিয়ে কাজ করতে মানুষেরর অনেক কিছু নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে সবার আগে হিগস বোসনের ক্যাচাল মেটাতে হবে। তারপর ডার্ক ম্যাটার, সুপার সিমেট্রি অনেক কিছুরই সঠিক গবেষণা প্রয়োজন!’ ‘মানে কি এর?’ চতুর্থ একটা কন্ঠ শুনে অবাক হয়ে তাকালাম আমি। বলা বাহুল্য, কন্ঠটা আর কারো নয়, আমার নিজের। দ্রুত পেছনের দিকে তাকালাম আমি, এবং সাথে সাথেই তাকে দেখতে পেলাম। আরেকটা শুভ! ‘আসলে হচ্ছেটা কি এখানে?’ রাগতস্বরে প্রশ্ন করলাম আমি, ‘সারা, দ্রুত জবাব দাও। কি করছো আসলে তুমি?’ ‘তেমনকিছুই নয়,’ শান্তকন্ঠে জবাব দিলো সারা, ‘আসলে আমি এখানে একটা পরীক্ষা করতে চাচ্ছি। ভুলে যেও না, চতুর্থ মাত্রার একটা জগত তৈরী করেছো তুমি। আর চতুর্মাত্রিক জগতে আরিয়ান শুভর মাল্টিপল ক্যারেক্টার থাকবে না, তা কি হয়?’ ‘এরা,’ বাকি দুজনের দিকে ইঙ্গিত করলাম আমি, ‘মানে, এরা আমার মাল্টিপল ক্যারেক্টার, রাইট?’ ‘রাইট,’ সারার কন্ঠটা খুশী খুশী শোনালো। ‘হুম,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘আর তুমি এটা পরীক্ষার জন্য করেছো? মানে, আমার তৈরী চতুর্মাত্রিক প্রোগ্রামটা পরীক্ষার জন্য।’ ‘ঠিক,’ একইভঙ্গিতে বলে উঠলো সারা, ‘প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই ভাল খারাপ, দুটো দিক থাকে। তুমি হচ্ছো স্বয়ংসম্পূর্ণ। তোমার মধ্যে ভাল খারাপ দুটো দিকই আছে। আর, বাকি যে দুজনকে দেখছো, এরাও আসলে তুমি নিজে। একজনকে তৈরী করেছি আমি তোমার সব ভাল গুণ দিয়ে, আরেকজনকে তোমার সব খারাপ গুণ দিয়ে।’ নিজের না কামানো গালে হাত বুলালাম আমি। ভাবছি আসলে। পুরো ব্যপারটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে আমার সামনে। এরা আসলে আমি নিজেই। আমার মাল্টিপল ক্যারেক্টার এরা। ‘সারা,’ মৃদু কন্ঠে বলে উঠলাম আমি, ‘ইউ আর এ জিনিয়াস! আমি নিজে চতুর্মাত্রিক জগত তৈরী করেছি, অথচ আমি নিজেই আসল ব্যাপারটা ভুলে বসে আছি। মাল্টিপল ক্যারেক্টার! হোয়াট এন আইডিয়া!’ ‘থ্যাঙ্কস,’ দ্রুত বলে উঠলো সারা, ‘বাট, আই থিঙ্ক, ইউ আর ফরগেটিং সামথিং।’ ‘হোয়াট?’ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি। ‘দ্য গেইম,’ ধীরে ধীরে বললো ও, ‘দ্য গেইম ইজ নট ওভার।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাত্রা (বর্ণনা-১)
→ ভিন্নমাত্রা
→ মাত্রা (শেষ পর্ব)
→ মাত্রা (৩য় পর্ব)
→ মাত্রা (১ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...