বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি নিলয়, এবার অনার্স তৃতীয় বর্ষে।
ফেসবুকে হালকা লেখালেখি করি। আমি
রাতে ঘুমোবার সময় ছাড়া ফেসবুক ব্যবহার
করি না। আসলে সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যে
সময় বের করতে পারি না। আজও রাত্রে
ফেসবুকে ঢুকেছি। তো দেখলাম ৩ টা
রিকুয়েস্ট এসেছে। সবকটাই এক্সেপ্ট করলাম।
এক্সেপ্ট করার প্রায় সাথে সাথেই "অজানা
অপ্সরী" নামে একটা আইডি থেকে একটা
মেসেজ আসল। এই আইডিটার রিকুয়েস্ট একটু
আগে এক্সেপ্ট করেছি। আমি মেসেজের
রিপ্লে না দিয়ে প্রোফাইলটা ঘুরে আসলাম।
জন্মসাল দেখে বুঝলাম উনি আমার থেকে
প্রায় তিন বছরের বড়। যাই হোক উনার
মেসেজের রিপ্লে করলাম। কিছুক্ষণ
কথোপকথন এর পর উনি ওই কথা বলে উঠলেন।
কথোপকথনটা ছিল অনেকটা এরকম,,,,
.
- রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার জন্য ধন্যবাদ।
- স্বাগতম।
- আপনি ভাব নেন না দেখে একটু অবাক
হলাম।
- এতে ভাব নেওয়ার কি হল।
আপনি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকলে আমার
কি সমস্যা,,??
- না অন্যান্য লেখকরা তো রিকুয়েস্ট
এক্সেপ্ট করেন না। নিজেকে অনেক বড়
লেখক ভাবেন। আপনাদের সুবন ভাইয়ের কথাই
ধরুন। উনি এতদিন আমার রিকুয়েস্ট ঝুলিয়ে
রেখেছেন। এখনও এক্সেপ্ট করেননি। এতে
উনি ভাব নিলেন না,,??
- আমার কিন্তু তা মনে হয় না। আমার মতে
উনি অপরিচিত কাউকে এক্সেপ্ট করেন না।
এটাকে ভাব নেওয়া বলবেন না। এটা উনার
ব্যাক্তিগত ব্যাপার। উনি আমার রিকুয়েস্ট ও
তো এক্সেপ্ট করেননি। কিন্তু আমি তো কিছু
মনে করিনি।
না জেনে কারোর সম্পর্কে এরকম মন্তব্য
করবেন না।
- বাহ আপনি তো বেশ সুন্দর করে কথা বলেন।
- ধন্যবাদ।
- জানেন আমার অনেকদিনের ইচ্ছা একজন
লেখকের সাথে প্রেম করব। আশা করি আমার
প্রপোজালও ঝুলিয়ে রাখবেন না।
- না সেটা সম্ভব না।
- দিলেন তো আমার মনটা ভেঙ্গে। আচ্ছা
বলতে তো পারতেন যে, ব্রেকাপ হলে
এক্সেপ্ট করবেন।
- কার সাথে ব্রেকাপ হলে,,??!!!!
- আপনার উনির সাথে।
- আমার কোনো উনি নেই। তাইতো আপনার
সাথে কথা বলতে পারছি। থাকলে আশা করি
এই অপরাধে এতক্ষনে আমার চৌদ্দগুষ্টির
ষষ্ঠী পুজো হয়ে যেত।
- তার মানে আমার লাইন ক্লিয়ার,,??
- আরে আপনি আমার থেকে ৩ বছরের বড়।
আপুর সাথে কেউ প্রেম করে,??
- ও আচ্ছা,,তাই বলুন। আপনার কোনো বড় ভাই
আছে লিখে এমন,,??
- অপু ভাইয়া আছেন ইমন ভাইয়া আছেন।
উনাদের একজনকে বেছে নিতে পারেন।
- অপু আমার ছোট। ইমন সমবয়সী।
- ও আচ্ছা,, ভালো। আপনার প্রচেষ্টা দেখে
সন্তোষ্ট হয়ে গেছি।
- আচ্ছা ঠিক আছে। বাই,,ভালো থাকবেন। শুভ
রাত্রি।
- শুভ রাত্রি।
.
একটা ফ্রেশ মুড নিয়ে শুয়ে পড়লাম। পরদিন
ভার্সিটিতে গিয়ে দেখি মীম এসেছে।
আসলে মীম আমার ১ বছরের জুনিয়র।
মেয়েটাকে প্রচন্ড ভালোবাসি। কিন্তু সাহস
করে বলতে পারিনি। ও আমার কাছে মাঝে
মাঝে ম্যাথ বুঝতে আসে। ও নিজে থেকেই
আমার সাথে পরিচিত হয়েছিল। প্রায় ১ বছর
আগে ওর সাথে প্রথম পরিচয় হয়। মেয়েটা
অনেক সরল সোজা। মনে কোনো প্যাঁচ নেই।
কিছু বলার থাকলে সামনাসামনি বলে দেয়।
ওর সাথে সময় কাটাতে কাটাতে কখন যে ওর
প্রেমে পড়ে গেছি নিজেও জানিনা। ওর
সাথে যখন দেখা হয় তখন আমি অনার্স ২য়
বর্ষে।
.
১ বছর পূর্বে,,
.
ভার্সিটিতে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা মেয়ে আমার সামনে
এসে বলল,
- নিলয় ভাইয়া,,এদিকে একটু আসবেন,,??
আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।
- আমি কি আপনাকে চিনি,,??
- না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। আসুন,, এই
বলে চলে গেল।
.
আমি বেশ অবাক হলাম। অপরিচিত একটা
মেয়ে আমায় ডাকছে কেন,,??। তাহমিদ বলল,
- আমাদের চশমিস পড়ুয়া নিলয়ের মনে হয়
ভাগ্য খুলে গেছে। মেয়ে নিজে থেকে
প্রপোজ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে।
- তুই কি করে বুঝলি প্রপোজ করার জন্য নিয়ে
যাচ্ছে,,?? অন্য কোনো প্রয়োজন ও তো
হতে
পারে। তাছাড়া প্রপোজ করার হলে ভাইয়া
বলবে কেন,,??
ফারাবী বলল,
- মামা এসব কথা পরে হবে। কিন্তু তার আগে
দেখে আয় কেন ডাকছে,,।।
- আচ্ছা যাচ্ছি।
.
মেয়েটাকে গাছতলায় আমার জন্য অপেক্ষা
করতে দেখে এগিয়ে গেলাম। আমাকে দেখে
বলে উঠল,
- ভাইয়া আমি মীম। এবার অনার্স প্রথম বর্ষে
পড়ি, আপনাদেরই ডিপার্টমেন্ট এ।
- তো আমার কাছে কি মনে করে,,??
- আপনি আপনাদের ক্লাসের মনিটর, তাই
না,,??
- হ্যাঁ,,, কেন,,??
- আর আপনিই তো ক্লাসে সবচেয়ে পড়ুয়া
ছাত্র তাই না,,??
- সেটা জানিনা,, তবে লোকে বলে আরকি,,।
কিন্তু আমার কাছে এলে কেন,,??
- ভাইয়া আমি ক্যালকুলাস একদম বুঝি না।
যদি একটু সাহায্য করতেন খুবই ভাল হয়।
- ও আচ্ছা এই ব্যাপার। ঠিক আছে দেখিয়ে
দিচ্ছি। আসলে বুঝতে পারলে ক্যালকুলাস
পানির মত সোজা।,,
- ধন্যবাদ ভাইয়া।
.
এভাবে ওর সাথে আমার পরিচয়।
যাই হোক আমাকে দেখেই ডাক দিল,,
- হাই ভাইয়া,,কেমন আছেন,,??
- এইতো ভালোই আছি,,, তুমি??
- আমিও ভালো আছি।
- আচ্ছা আমার ক্লাস আছে আমি আসি।
- ঠিক আছে ভাইয়া ভালো থাকবেন।
- হুম তুমিও।
এই বলে চলে আসলাম। আজও বলতে পারিনি।
সাহস পাচ্ছি না। কোনোদিন বলতে পারব
কিনা না তাও জানিনা। কাজেই অপেক্ষা
ছাড়া আর কিছু করার নেই। ভার্সিটিতে
ক্লাস শেষ করে বাইরে এসে ভাবলাম এর
ওপর একটা গল্প লিখা যায়। তাই বাসায় এসে
ভাবতে লাগলাম কিভাবে কি লিখব। চিন্তা
ভাবনা শেষ করে লিখলাম। কিছুদিন পর
সেটা পেজে গেল। অনেক লাইক কমেন্টস
এল,
বেশ খুশি হলাম। আর ভাবলাম যদি মীম দেখত
তাহলে হয়ত আমায় খুব খারাপ ভাবত। আমাকে
ভাইয়ের চোখে দেখে আর আমি ওকে
ভালোবেসে ফেললাম। যাক অত ভেবে কাজ
নেই। দেখলে তো আর দেখলোই। এই নিলয়
যে
আমি এটা বুঝবে কিভাবে,,??। তাই আর না
ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
পরদিন ভার্সিটি বন্ধ ছিল। তাই সকালবেলা
ফ্রেশ হয়ে একটু ফেসবুকে ঢুকলাম। ঢুকেই
টাশকি খাইলাম। "নীল অপরাজিতা " নামে
একটা আইডি থেকে ১৭ টা মেসেজ। তো
মেসেজে ঢুকে দেখি "রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট
করুন প্লিজ" এই মেসেজটাই ১৭ বার দেওয়া
হয়েছে। যাই হোক রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট
করলাম। প্রোফাইল চেক করতে গিয়ে দেখি
আমাদের ভার্সিটিতে পড়ে। কিন্তু পরিচিত
না অপরিচিত সেটা বুঝলাম না।
তাই ফেসবুক থেকে বেরিয়ে এলাম।
.
পরদিন ভার্সিটিতে গিয়ে মীমকে পেলাম
না। তাই দুটো ক্লাস করেই বাসায় চলে
আসলাম। রাতে ফেসবুকে ঢুকে দেখি ওই
আইডি থেকে ১০ টা মেসেজ এসেছে। ১ম
মেসেজ ছিল " আমার কথা শোনার জন্য
ধন্যবাদ "। ২য় মেসেজ ছিল " আপনি আমার
বন্ধু হবেন,?? "। ৩য়-১০ম পর্যন্ত একটাই মেসেজ
" প্লিজ প্লিজ প্লিজ "। আমি ভাবলাম, এতো
আচ্ছা ঝামেলায় পড়া গেল। এই মেয়ের
সমস্যা কি,,?? একই মেসেজ বারবার দেবার
মানে কি,,??। তাই জিজ্ঞেস করলাম,
- আপনি আমার বন্ধু হয়ে কি করবেন,,??
- বোঝেন না,,?? প্রথমে আপনার সাথে প্রেম
করব তারপর বিয়ে তারপর আমাদের কোল
আলো করে বাবু মামণিরা আসবে।
.
এই সেরেছে,,আমাকে নিয়ে এত গভীরে
কেউ
চিন্তা করবে আমি স্বপ্নেও কোনদিন
ভাবিনি। এই মেয়ে তো পুরো ফ্যামিলি
প্ল্যানিং করে ফেলেছে। এমন আজব উত্তর
দিয়েছে কি বলব খুঁজে পাচ্ছি না। কিন্তু
কিছু তো বলা উচিত,, তাই বললাম,
- আমার তো গার্লফ্রেন্ড আছে, কাজেই
আপনার সিট নেই।
- তোমার বউ গার্লফ্রেন্ড দুটোই আমি। সিটের
প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে,,,??
- আপনি থেকে তুমিতে,,??!!
- হুমম। বরকে কেউ আপনি করে বলে নাকি,,,??
- কি যা তা বলছেন,,,???
- ঠিকই বলেছি। আচ্ছা ঘুমিয়ে পড়। বাই জানু।
- জানু????!!!!!
- বাই।
আমি আর মেসেজ দিলাম না। ফেসবুক থেকে
বেরিয়ে এলাম। ভাবতে লাগলাম, বড়ো অদ্ভুত
চরিত্র মেয়েটার। আমার জীবনে এতো আজব
মেয়ে দেখিনি। একদিন কথা বলার পরেই
জানু,?? কি অদ্ভুত!!! । না এর একটা বিহিত
করতে হবে। এর বিহিত একটাই। মীমকে
প্রপোজ করতে হবে। যা হবার হবে, আর
অপেক্ষা করে লাভ নেই। এইসব চিন্তা করে
শুয়ে পড়লাম।
.
পরদিন ভার্সিটিতে গিয়ে দেখলাম মীম
এসেছে। তাই সোজা মীমকে গিয়ে বললাম,
- হাই, কেমন আছ,,??
- ভালো,, আপনি,,??
- হুম ভালো। আমার সাথে একটু গাছতলায়
চলো।
- আচ্ছা চলুন। ( বেশ খুশি মনেই বলল মনে
হলো)
গাছতলায় এসে ওকে বললাম,
- আসলে তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।
অনেকদিন ধরে বলব বলব করে বলা হয়নি।
- হ্যাঁ বলুন।
- আমি,,,,
- হ্যাঁ আপনি,,
- আসলে আমি,,, (ভয়ে ভয়ে কথা বলছি। তাই
মূল কথা বলতে পারছি না।)
- আপনি,,??
- ইয়ে মানে আমি,,, ( হাঁটুও কাঁপছে তারপরও
ওকে আসল কথা বলতে পারছি না)
- কি তখন থেকে আমি আমি করছেন,,,?? যা
বলার বলে ফেলুন না।!! ( একপ্রকার ধমক দিয়ে
বলল।) ওর ধমক খেয়ে একশ্বাসে বলে
ফেললাম,
- আমি তোমাকে ভালোবাসি। ( কথাটা বলেই
মাথা নিচু করে ফেললাম)
ও স্বাভাবিকভাবে বলল,
- ফুল কোথায়,,?? আর এটা প্রপোজ করার
কোনো স্টাইল হল,,?? আগে ফুল এনে ঠিকমত
প্রপোজ করুন তারপর ভেবে দেখব।
আমি মাথা নিচু করেই বললাম,
- সরি,,টেনশনে ফুল আনতে ভুলে গেছি। তুমি
অপেক্ষা কর,,এখনই আনছি,,।
- যাও তাড়াতাড়ি নিয়ে এস।
- আচ্ছা।
.
ফুল আনতে চলে গেলাম। যেতে যেতে
খেয়াল
হল, ও আমায় হঠাৎ তুমি করে বলেছে।
তাড়াহুড়োয় খেয়াল করিনি। তাই বেশ খুশি
মনেই কিছু সাদা গোলাপ নিয়ে ফিরে এলাম।
এসে হাঁটু গেড়ে ওকে প্রপোজ করলাম,
- তোমাকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে চাই,
তোমার হাত ধরে সোনালী বিকেলে হাটতে
চাই, যদি সুযোগ দাও তোমায় ভালোবাসতে
চাই। আমার পাশে তোমায় পাব কি,,??
ও ফুল নিল। বেশ পছন্দ হয়েছে মনে হল।
তাই ফুলের দিকে চেয়েই বলল,
- মনে তো হচ্ছে পাবে।
- নিশ্চিত নও,,??
- আচ্ছা একটা কথা বলো তো,, সবাই তোমায়
পড়ুয়া বলে জানে,,পড়াশোনাও কর আবার
গল্পও লিখ,,এত সময় আর এনার্জি কোথায়
পাও,,??
- আমি গল্প লিখি তোমায় কে বলল,,??
- আমাকে নিয়ে গল্প লিখ আমি জানব না
কেন,,??
- মানে,??
- নীল অপরাজিতা আমারই আইডি।
আর আমি তোমার গল্প পড়ে নিশ্চিত হলাম।
- তারমানে তুমি আমায় আগে থেকেই
ভালোবাসতে,,??
- হ্যাঁ মিঃ বোকা।
- তাইতো বলি কার এত বড় সাহস আমায় জানু
বলে,,?? তোমায় আমি সহজ সরল ভেবেছিলাম
তুমি দেখছি এর পুরো উল্টো,,,?? জাতে
মাতাল হলেও তালে ঠিক আছ।
তোমার ভেতরে জিলীপির প্যাঁচ আছে।
.
- হি হি হি,,, তুমি পড়োয়া হলেও বোকা নও।
যাই হোক আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
এত এনার্জি কই পাও,,???
- তোমার ভালোবাসা পেলে সবকিছুই
সমানভাবে ভারসাম্য রেখে করতে পারব।
গল্পও লিখব, পড়াশোনাও করব, আবার তোমায়
ভালোও বাসব।
- ইশশস ,,, সখ কতো,,??
.
এভাবেই শুরু হল নিলয় আর মীমের
ভালোবাসা। খুনশুটি, ঝগড়া, রাগ অভিমানের
মধ্যে বেঁচে থাকুক নিলয় আর মীমের
ভালোবাসা।
.
সমাপ্ত,,,
.
পরিশেষে লেখনীর অন্তে শুভকামনায়,
.
অসমাপ্ত চিরকুট (নীল অভ্র)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now