বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লুকোচুরি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X - আমি এখন বাহিরে যাবো। (পৌষি) - আমিতো কেবলই অফিস থেকে আসলাম। তা পড়ে নিয়ে যাবো।(আমি) - না না না। আমি এখনি যাবো। - আচ্ছা চল। - আগে আমি ঘুমিয়ে নেই। তারপর যাবো। - আচ্ছা। ঘড়িতে রাত ১০.৩৫ বাজে। মেয়েটা এখনও ঘুমোচ্ছে। মেয়েটার নাম পৌষি। আমার বউ মানসিক সমস্যায় ভুগছে। আমি হিমালয় বর্তমানে আব্বুর বিজনেসে সাহায্য করছি। রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি ১বছর আগের কথা। - কোথায় যাবি? ( আম্মু) - একটু বাহিরে যাবো।( আমি) - আচ্ছা। কিন্তু একটা কথা ছিল। - কি? - তোর জন্য তোর আব্বু মেয়ে ঠিক করছে। - কেন আম্মু। কেবলতো পড়াশুনা শেষ করেছি এতো তাড়াতাড়ি.... - আমি জানি না। কথাগুলো বলেই আম্মু রুম থেকে চলে গেল। এখন বিয়ে করতে চাইছি না। কারন, কেবল ভার্সিটি লাইফটা শেষ করলাম আর এর মধ্যেই এসব। বাহিরে আর গেলাম না। সোজা আম্মুর রুমে গেলাম। - আম্মু। - হুম বল। - তুমি একটু আব্বুকে বুঝিয়ে বল। - দেখ বাবা তোর আব্বু কোনদিন আমার কথা এইসব ব্যাপারে শুনেছে যে আজ শুনবে। - ধেত। ভালো লাগে না। -.............. - কোন মেয়ে? - তোর কালাম কাকুরর মেয়ে পৌষির সাথে। ছাদে চলে আসলাম ভালো লাগছে না। প্রেম টেম করি না যে কারও জন্য ওয়েট করছি। এমনিতেই এইসব ঝামেলা কাঁধে এখন নিতে চাইছিলাম না। তাছাড়া আব্বু আম্মুর কথা কোনদিন ফেলতে পারি নি। কি আর করার শেষ মেষ সপ্তাহ খানেক পর বিয়েটা হয়ে গেল। রাত ১১ টা বন্ধুদের সাথে রাতে গল্প করছিলাম। হঠাৎ আব্বুর আগমন..... - আব্বু তুমি এখানে? আমি একটু পড়েই নিচে যাচ্ছি। - না মানে তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। - হুম বল কি কথা। - জানি না কাজটা আমি ভালো করেছি না খারাপ করেছি। কিন্তু আমি যে কথা দিয়ে রেখেছিলাম। - কোন কাজ? - তোমার সাথে পৌষির বিয়েটা আর ১০ জনের মতো না। - মানে? - মানে পৌষি মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তুমি জানো তোমার কালাম কাকু মাস খানেক আগে মারা গেছে। হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় মেয়েটা কিছুটা ভারসাম্য হারিয়েছে। অনেক ডাক্তারও দেখানো হয়েছে। সবাই বলেছে নতুন পরিবেশে গেলে হয়তোবা সুস্থ হয়ে যাবে। -............ - আমি জানি কাজটা তোমাকে না বলে করা আমার উচিত হয় নি। - না আব্বু কোন ব্যাপার না। পৌষিতো ছোট থেকে এমন না। হঠাৎ করে এমন হয়েছে আবার হঠাৎ করেই সুস্থ হয়ে যাবে। - ঠিক আছে বাবা। পারলে আমাকে মাফ করে দিও। আর যদি পারো এখন নিচে যাও। আব্বুর কথাতে তেমন কিছুই মনে হয়নি। যা করেছে হয়তো ভালোর জন্যই করেছে। তাই আর কিছু না ভেবে রুমে গেলাম। - আপনি কে? আমার বর কোথায়।(পৌষি) - আমি হিমালয়। আর আমিতো তোমার বর হই। (আমি) - আমি ঘুমাবো। কিন্তু কোথায় ঘুমাবো। এটাতো আপনার ঘর। - হ্যাঁ আমার ঘর তবে আজ থেকে এটা আমাদের দুজনেরই ঘর। আপনি এখানে ঘুমান আমি সোফাতে ঘুমাচ্ছি। - না না। আমার একা থাকতে ভয় করে। অপনিও এখানে ঘুমান। - আচ্ছা। সকালে পৌষির ডাকে ঘুম ভাঙলো। পুরনো কথা ভাবতে ভাবতে যে কখন ঘুমিয়ে পড়ছি জানিই না। - চলো। - কোথায়? - তুমি না কালকে বললে আমায় বেড়াতে নিয়ে যাবে। - ওহ্যাঁতো। আচ্ছা আমি তৈরি হয়ে নেই। - না যাবো না। - কেন আবার কি হল। - আমার ক্ষুধা লাগছে। আমি নুডুলস খাবো। - আচ্ছা তুমি একটু থামো আমি নিয়ে আসি। তারপর ওকে খাইয়ে দাইয়ে অফিসে আসলাম। আমাদের আবার অফিস মানেইতো ব্যাবসার কাজ। দুপুরে খাওয়া শেষে অ্যাননওন নাম্বার থেকে ফোন আসলে। - হ্যালো। (আমি) -............... -জ্বি কে বলছেন? -................ - ভারি আজব। কথা বলছেন না কেন? -.......(টুট টুট) - কি মানুষরে বাবা। রাতে বাসায় ফিরে দেখি পৌষি ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই ওকে আর জাগালাম না। আম্মু খেতো দিল। তারপর শুয়ে পড়লাম। প্রতিদিনের মতো আবার সেই অফিস। আজ অফিস যাওয়ার পর থেকে ভালো লাগছিলো না তাই ফেসবুকে লিখতে লাগলাম। আমি আবার ফেসবুকে টুকটাক লেখালিখি করি। হঠাৎ করেই নীল মেঘের পারে থেকে একটা ম্যাসেজ আসলো। - হ্যালো। (সেই মেয়েটি) - হাই। (আমি) - আমি কি আপনার বন্ধু হতে পারি। - হুম কেন না। এভাবে প্রতিদিনই তার সাথে আমার কথা হতো। ফোনেও কথা হতো তবে খুব কম। - কেমন আছেন? (মেয়েটি) - জ্বি ভালো। আপনি? (আমি) - এইতো। আপনাকে কিছু কথা বলার ছিল। - হুম বলুন। - আমি আপনাকে ভালোবাসি। -............. - আমার কথা কি আপনি শুনতে পাচ্ছেন? - দেখুন আপনি যা চাইছেন সেটা কখনই সম্ভব না। কারন....... - হুম জানি আপনি বিবাহিত। - জানেন যখন তাহলে এই ধরনের কথা বলছেন কেন? - সেতো আর পাঁচ জনের মতো সাভ্বাবিক না। - তো কি হযেছে। যেমন আছে থাকুক না। তাছাড়া আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। - আচ্ছা। এখানেই শেষ না। এই মেযে প্রতিদিনই এভাবে বিরক্ত করত। আর দেখা করতে চাইতো। না আর এমন হলে চলবে না। আজকে মেয়েটার সাথে দেখা করে সব মিটমাট করতে হবে। তবে একটা জিনিস খুব আজব মেয়েটা কোনোদিনই তার নাম বলে নি। - আপনার সাথে দেখা করব।(আমি) - কি ব্যাপার কোনদিন তো ফোন করেন না। তা আজকে হঠাৎ কি মনে করে।(মেয়েটা) - এমনি আপনার সাথে আজ দেখা করে সবকিছুর এখানে সমাপ্তি করতে চাই। - শুরুইতো কিছু করেন নি তাহলে সমাপ্তি করবেন কিভাবে। - ৫ টায় ওমুক পার্কে চলে আসবেন। - আচ্ছা। বিকেল ৪:৩০ যাওয়া লাগবে। কারন এভাবে আর চলে না। যথাসময়ে পার্কে পৌছালাম - কোথায় আপনি?(আমি) - এইতো লেকের ধারে বেঞ্চে বসে আছি। - আচ্ছা আসছি বসুন। হ্যাঁ ওইতো সামনে বেঞ্চে একটা মেয়ে বসে আছে। - আপনি কি সেই।(পেছন থেকে আমি বলে ওঠলাম) - জ্বি আমি। দাড়িয়ে কেন বসুন। - দেখুন আপনি যেই সম্পর্কের কথা বলছেন সেট সমভ্ব না। আমার বাসায় স্এী আছে। তাছাড়া আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। আর পরবর্তীতে আমাকে আর বিরক্ত করবেন না। কথাগুলো বলেই ওঠে চলে আসছিলাম তখনই..... - সত্যি তাই।(মেয়েটা) - জ্বি তা...... একি আমি নিজের চোঁখকেই বিশ্বাস করতে পারছি না। এ যে পৌষি। আমার বউ। - তু তু তুমি। - হুম আমি। কেমন হলো। - তার মানে তোমার মানসিক সমস্যা নেই। - না ছিল। তবে কয়েক মাস আগেই আমি সুস্থ হয়ে গেছি। - তাহলে আমার সাথে এমনটা করার মানে কি। - দেখলাম তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো। একটা বউ রূপি পাগলকে ভালোবাসো না ভালো, সুস্থ মানুষকে ভালোবাসো। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। জানি পৌষির এমনটন করা উচিত হয়নি। তবে নিজেকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে। আর কি মেয়েটা মানে আমার বউ আমার কাঁধে মাথা দিয়ে রাখছে। আর দুইজন মিলে বসে সূর্যাস্ত দেখছি


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ লুকোচুরি
→ লুকোচুরি_শেষ পর্ব
→ লুকোচুরি_০৩
→ লুকোচুরি_০২
→ লুকোচুরি_০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now