বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১…ছুটির দিন; বারান্দায় বসে আয়েস করে সদ্য ভাজ ভাঙা পত্রিকা পড়ছিলাম, আর মনে মনে সরকারের পিন্ডি চটকাচ্ছিলাম ৷ এমন সময় বেরসিকের মত ফোনটা বেজে উঠল৷ হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো খস্তগীরের দরাজ কন্ঠ৷
কোনোরকম ভূমিকায় না গিয়ে বলল, দোস্ত আজ রাতে তোর দাওয়াত৷ একটু বিকাল বিকাল আসবি, অনেক গল্প জমে অছে ৷তোর জন্য বিশেষ কবুতরের ফ্রাই রান্না হবে৷ আমি এস এম এসে বাসার ঠিকানা পাঠিয়ে দিচ্ছি৷ এই কথা বলেই আমাকে কোনরকম সুযোগ না দিয়ে লাইন টা কেটে দিল৷
আমার বুঝতে বাকি রইলনা যে দাওয়াত হল বাহানা, নিশ্চই নতুন কোনো ঝামেলা পাকানোর চেষ্টায় আছে এই পাগল৷
বিশেষ কবুতরের ফ্রাই?
দিব্যলোকে ভেসে উঠল, পরীক্ষাগারে কবুতরকে মুরগির মত বড় করার গবেষনায় ব্যার্থ বিকলাঙ্গ কোন এক প্রানীর ফ্রাই করা দেহ৷ শিড়দাড়া বেয়ে ভয়ের একটা স্রোত পায়ের পাতা পর্যন্ত নেমে গেল৷ গলায় আটকে থাকা দমটা এক ঢোকে পাকস্থলিতে পাঠিয়ে করুন মুখ করে পাশে পিস্তল নিয়ে খেলতে থাকা ছেলেটার দিকে তাকালাম৷ কি জানি ছেলেটা কি বুঝল! হাত থেকে পিস্তল ফেলে দিয়ে আব্বু আব্বু করে কোলে ঝাপিয়ে পড়ল৷ বাচ্চারা নাকি ফেরেশতা৷ সে কি আমার কোনো আশংকা আঁচ করতে পেরেছে?
দুরু দুরু বক্ষে দীপ্ত পদক্ষেপে বেলা থাকতে থাকতে খস্তগীরের বাড়িতে হাজির হলাম৷ ভেবেছিলাম সমগ্র বাড়ি জুড়ে থাকবে কবুতরের জঞ্জালে ভরপুর৷ আর তাদের বিষ্ঠার গন্ধে মৌ মৌ করবে চারিদিক৷ নানান যন্ত্রপাতি এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে, খাটের ওপর স্তুপ হয়ে থাকবে বই আর জার্নালের স্প্রিন্ট আর রান্নাঘর পূর্ন থকবে নানা রকমের টেস্টটিউব আর ক্যামিকেল ভর্তি জারে৷
কিন্তু ঘরে ঢুকেই প্রথম ধাক্কাটা খেলাম৷ চমৎকার মিষ্টি গন্ধ েলাম নাকে৷ নিশ্চই মেহমানের আগমনের উপলক্ষে ছড়িয়েছে৷ বাড়ির সবকিছু টিপটপ গোছানো দেখে একটু অবাক হলাম ৷ কৌতুহল চাপতে না পেরে বললাম, কি রে, তোর কবুতরের ল্যাবরেটরি কই?
কবুতরের ল্যাবরেটরি মানে?
মানে তোর কবুতরের গবেষনার কথা বলছি৷
তীর্যক একটা চাহনি দিয়ে খস্তগীর বলল, তুই কি আমাকে পশু পাখির গবেষক মনে করিস নাকি?
আরে না, ঐ যে,, তোকে ঐদিন বাজারে কবুতরকে ঘুসি মারতে দেখলাম৷
ও ঐটা তো আমি কবুতরের সাহস পরীক্ষা করে দেখছিলাম৷ মানুষের মত পশুপাখিও দুই রকমের৷ পরিশ্রমী আর অলস৷ অলস কবুতরগুলো বেশিরভাগ সময়ই ঝিমিয়ে কাটায়৷ তাই এদের মাংস হয় নরম আর চর্বি বেশি থাকে৷ খেতেও খুব মজা৷
ওর কথা শুনে আমার প্রায় ভিমরী খাওয়ার দশা৷ অতঃপর বিশেষ কবুতরের ফ্রাই এর রহস্য উন্মোচন হল৷___(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now