বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অল্প কথন

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X হাফেজুর রহমান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।এক পলক দেখে মনে হবে সে বুঝি চা এর কাপের দিকে তাকিয়ে আছে।আসলে ব্যাপারটা সেরকম না। চায়ের কাপের খুব কাছেই একটা পিপড়া। হাফেজুর রহমানের মাথায় একটা চিন্তাই খেলা করছে,পিপড়াটা একটু পর আসলে কি করবে?তার ভবিতব্য কর্ম কি ঠিক করা? তার ফলও কি ঠিক করা? নাকি সব প্রোবাবিলিটি ম্যাথমেটিক্সের মতো। পিপড়ে যদি ডানে যায় তবে তাকে বিরক্ত হতে হবে না,বামে আসলে হয়তো তাকে বিরক্ত হতে হবে,এমন??হতে পারে না।পিপড়েকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে স্বাধীন ইচ্ছের,সেই স্বাধীন ইচ্ছের ফল কিন্তু ঠিক করা,ইচ্ছে অনুযায়ী ফল হবে।সবই প্রবাবিলিটির সূত্রের মতো! স্যার,দর্শনের মূল থিওরি কিন্তু আমি ধরতে পারছি না! হঠাত অবনীর কথায় হাফেজুর রহমানের চিন্তালোপ ঘটে। আসলে অবনী,দর্শন সাবজেক্ট টা কিন্তু তোমাদের জন্য না,দর্শন আসলেই মানব সৃষ্ট একটা বিষয় যা আসলেই শুধু মানুষ বুঝবে।মানুষের সমতূলয় বুদ্ধিমত্তা দিয়েই আসলে তা বোঝা সম্ভব নয়।শুধু মাত্র রোবোটিক নলেজ কোড ৩৩১সি৫৭ এর ভিত্তিতেই আমি তোমাকে বিষয় টি পড়াই।এক প্রকার বাধ্য হয়েই বলা চলে। কিন্তু স্যার। আপনাদের ইজ্ঞান কিন্তু তা বলছে না। আপনাদের যেসব বস্তুগত বিষয় আছে,মূলত আমাদেরও ওভাবেই বানানো হয়েছে।আমি হচ্ছি মানব শিশুর মতো,যেমন আপনি ছিলেন। হাফেজুর রহমান বিরক্তি লুকানোর চেষ্টা করে না। অবনী,তুমি মোটেও আমার মতো নও।আমার সব জ্ঞ্যান তোমার মাঝে গেলেও কিন্তু তুমি আমার মতো শিক্ষক হতে পারবে না।শিক্ষক হবে ,কিন্তু তোমার প্যাটার্ন আলাদা হবে। কিন্তু ,আপনাদের তৈরি নীতিমালাই ভিন্ন কথা বলছে। সম্পূর্ণ বিপরীত স্যার। আমাদের নীতিমালাই কিন্তু বলছে তুমি এখন শিখবে।সহজ ভাবে একটি অশিক্ষিত রোবট। কিন্তু তুমি নির্বোধ নও।ছোট একটা লজিক দেখাও,যে তুমি আমার মতোই কোন মানব শিশু। প্রথমত স্যার আমি মানব শিশু নই ইহা সত্য।তবে আমি পুরোপুরি তার মতোই ইহাও ধ্রুবক।আমাদের “ব্রেইন এইচ ৫১” যে ডিভাইসটি সাইন্টিস্টরা বানিয়েছেন,তা কিন্তু আদতেই আপনাদের মতো।এটিও আস্তে আস্তে পূর্নতা পায়। এক বারেই ডেভেলপ হয় না।যে কোন বায়োলজিকাল সিস্টেম যেমন সময় ভিত্তি করে চলে,আমরাও চলছি। সময় এর সাথে সাথে আশে পাশের পরিবেশ থেকেই আমরা ডেভেলপিং একুপমেন্ট সংগ্রহ করি।আর একটি নবম শ্রেণীর বালিকা যেমন সাজলে যেমন সুন্দর লাগে,আমাকেও তেমনি করে বানানো হয়েছে। হাফেজুর রহমান ছোট নিঃশ্বাস ফ্যালে। দ্যাখো অবনী। তোমাদের দেয়া হয়েছে শুধু বস্তুগত ব্যাপারটাই।অনলি ব্রেইন। আপনাদের বুঝি অবস্তুগত কোন ব্যাপার আছে? ফিক করে হেসে ওঠে অবনী।অবনীর হাসির শব্দে চমকে ওঠে হাফেজুর রহমান। এরা কি সত্যিই মানুষের মতো?সত্যিই? অবশ্যই।আমাদের মন বলতে বিজ্ঞান বলছে শুধুই নার্ভাস সিস্টেম।একটা বায়োলজিকার অর্গান যা সারা শরীর জুড়ে তার কৃতিত্ব ফলায়। আসলে বিজ্ঞানের বাইরেও চিন্তা করতে হয় অবনী। তাই নাকি??আচ্ছা শুনি আপনার ব্যাখ্যা। অবনীর কথা শুনে হাফেজুর রহমানের কিছুটা রাগ উঠে। একটা রোবট কেন মানুষকে এত সহজেই অনুকরণ করতে পারবে? ব্যাপারটা এমন যে আমরা চিন্তা করছি নিউরন দিয়ে।একটার সাথে অন্যটির যোগাযোগ দিয়ে।কিন্তু চিন্তার জগত শুধু এই নিউরনের মাঝেই সীমাবদ্ধ না।চিন্তার জগত সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই জগত হয়তো মানুষের আদিমতার সাথে সম্পৃক্ত।হয়তো তারও ভিন্ন কোন মাত্রা আছে। অদ্ভূত!আপনার যুক্তিতে চিন্তার মাধ্যমে আমরা অন্য মাত্রায় চলে যাই?? অবনী,আমি মোটেও তা বলি নি।আমার বক্তব্য হলো যেহেতু চিন্তার একটি জগত আছে,সেহেতু তার আলাদা একটি মাত্রা থাকলে আমি অবাক হবো না। উফফফ,স্যার আপনি কেন এত চিন্তা করেন?? অবনী তুমি উঠতি বয়সী তরুনীর মতো আচরন করছো।তুমি কোন তরুনি ফরুনি কিচ্ছু না।তুমি একটা রোবট। স্যার ,আপনার ছাতার মাথা!বলেই অবনী আবার হাসে। হাফেজুর রহমান ছোট একটা নিঃশ্বাস ফ্যালে।এই রোবটটা এখন ন্যাকামি করতে থাকবে।দুঃখজনক হলেও অবনীর হাসি সত্যিই সুন্দর। তার খুব পরিচিত এক জনের হাসির সাথে অবনীর হাসির খুব মিল! পরের পত্রঃ গৃষ্মের রাতে হাফেজুর রহমান ছাদেই শোয়। শীতল পাটি বিছিয়ে। তার শৈশবে প্রতি গৃষ্মের রাত সে কাটিয়েছে শীতল পাটির স্পর্শে,খোলা আকাশের নিচে।তাদের বাগান বাড়ির চারপাশে ছিল উঁচু প্রাচিরে ঘেরা ।চোর ছ্যাচড়ের উপদ্রব ছিল না। বাগানে বর্ষা নামলেই সাপের উপদ্রব হতো। স্যাওলা পড়া বাড়ির আশে পাশে যা হও্যা স্বাভাবিক। কিন্তু হাফেজুর রহমানের বাবা সাপের উপদ্রব কে গা ই করতেন না বলা চলে। তিনি ছিলেন সহজ বাংলায় ভাবের মানুষ। আকাশ পরিষ্কার থাকলেই তিনি প্রাচীরের ভেতরে খোলা আকাশের নিচে শীতল পাটি বিছাতেন। সারা রাত ওতেই শুতেন।এর পেছনে কার্যকারণ ও অবশ্য ছিল।হাফেজুর রহমানের পিতা ছিলেন তারা প্রেমিক মানুষ। তার পাটি বিছানার পাশেই থাকতো একটা টেলিস্কোপ।তখনকার দিনের বেশ দামি টেলিস্কোপই বলা চলে।তাদিয়েই প্রায় দিনই তিনি মধ্য রাত পর্যন্ত তারা দেখতেন। বড় ছেলে বিধায় হাফেজুর রহমান প্রায় সব সময়ই বাবার সাথে থাকতেন।বা তাকে রাখা হতো।বাবার সাথে থেকেই হাফেজুর রহমান কালপুরুষ মন্ডল চিনতে পারেন সেই শৈশবে।এক এক করে তার সাথে পরিচয় ঘটে,চিত্রলেখ,অন িরুদ্ধ,ঊষা,কার্তিকেয় আর অন্য গুলোর।খোলা আকাশের তারারাজির সম্বন্ধে হাফেজুর রহমান যা জানেন,তা বোধকরি তার বাবার জন্যেই বলা চলে। যেসব গভীর রাতে বাবার আকাশ দেখা বেশি জমতো,সেসব রাতে হাফেজুর রহমানের মাকে ঘুম ভেঙ্গে উঠতে হতো।ঘুম ঘুম চোখে মহিলাকে চা করতেন।কাজটা করতেন মহিলা এক ধরণের আনন্দ নিয়ে। আনন্দের সাথে মেশানো থাকতো ভালবাসা।ভালবাসা ব্যাপারটা অবশ্য হাফেজুর রহমানের কল্পনা।ভালোবাসা তো আর দেখা যায় না। ভালোবাসা ব্যাপারটাই তো অবস্তুগত!কপ্লনা র।উহু,কল্পনার বাহিরের একটা ব্যাপার। চিন্তার বাইরের একটা জগত। ইশ!অবনীকে ভালোবাসার ব্যাপারটা বলা উচিত ছিল। তাদের অতি উন্নত বুদ্ধি ডিভাইস কি ভালোবাসা ব্যাপারটা ধরতে পারে? কখনো কি তাদের বুকের কাছটায় কোন কষ্ট হয়?প্যাথলজি বিহীন কোন কষ্ট? ঘন বর্ষায় কি তারা হাতে হাত রেখে হাঁটার ব্যাপারটা বুঝে? বুঝলেও তার কতটুকু আসলে যৌক্তিক?সেই যুক্তির পেছনের ইক্যুয়েশন কি??? আসলে কি কোন ইক্যুয়েশন আছে??? নাকি পুরোটাই এক ধরণের ধোঁকা? যান্ত্রিক ইক্যুয়েশনের ভিত্তিতে করে যাও্যা যান্ত্রিক অভিনয় শুধু। গৃষ্মের কোন এক রাতেই হাফেজুর রহমানের বাবার মৃত্যু হয়।মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে ।হাফেজুর রহমান সব রাতের মতো সেদিনও বাবার পাশেই ছিল।শীতল পাটিতে ঘুমন্ত অবস্থায়। সকালে ঘুম ভাঙলে সে বাবাকে আবিষ্কার করে! হাফেজুর রহমান কল্পনা থামায়।বাবার কথা মনে পড়লেই হাফেজুর রহমানের কষ্ট হয়।বুকের কাছে দুমড়ে মুচড়ে আসে। কতদিন কেও আগ্রহ নিয়ে হাফেজুর রহমানকে কালপুরুষ এর সৈন্য দেখায় না! হাফেজুর রহমান নিজেকে দ্রুত সামলে নেয়। আধুনিক পৃথিবীর নিয়ম অনেক অদ্ভূত। অতীত পৃথিবী নিয়ে কাঁদা এই নতুন পৃথিবীতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ!আইনত দন্ডনীয়! মানব সভ্যতার শেষ অংশ টুকুর অস্তিত্ব রক্ষার্থেই নাকি আইনটি করা,যদিও হাফেজুর রহমানের কাছে তার যুক্তিটি অথর্ব মনে হয়। অতীত স্বরণ করে কাঁদলে কেন এক জনের মৃত্যুদন্ড হবে???এর কোন কার্যকারণ থাকতে পারে না। হুম,পাঠক সাহেব,এই মুহূর্তে একটি ব্যাপার সত্য ধরতে পেরেছেন। আধুনিক পৃথিবীতে সকলেই নজর বন্দি। প্রতিটা মুহূর্তে। প্রতিটা খনে! আধুনিক পৃথিবীতে গৃষ্মের ভ্যাপসা গরমের ঠাঁই নেই। তবু এই পৃথিবীতে কিছু হাফেজুর রহমান আছেন। যারা উন্নত প্রযুক্তির ভিড়ে ডুবে থাকা কক্ষেও গৃষ্মের রাতে হাঁস ফাঁস করে। যাদের শেষ মেশ তৃপ্তি মেলে ছাদের এক কোণে। শীতল পাটির স্পর্শে! নতুন পত্রঃ কর্নেল সরোয়ার্দির হাত টেবিলে রাখা গ্লাসের উপর।গ্লাসের পানি ঠান্ডা। গ্লাসের গায়ে জলীয় বাষ্প জমছে।সেই জলকণা কর্নেল সরোয়ার্দি সাহেবের হাতের আঙুলে লাগছে ভালমতোই। সরোয়ার্দি সাহেবের অবশ্য সেদিকে ভ্রুঁ- ক্ষেপ নেই। হাফেজুর রহমান সাহেব,আপনি সিগারেট খান? খাই স্যার। এখন খাবেন? অবশ্যই খাব।কেন নয়? কর্নেল সাহেব পকেট থেকে সিগারেট বের করলেন।নিজ হাতে হাফেজুর রহমান সাহেবের সাহেবের ঠোঁটের সিগারেট ধরিয়ে দিলেন। কর্নেল সাহেবের লাইটারে বড় অক্ষরে বি এন এন এস লেখা। এর মানে কি??নতুন কোন লাইটার ব্র্যান্ড?আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক কোন ব্র্যান্ড? কর্নেল সাহেবও সিগারেট ধরালেন,ঘরময় তামাকের সুগন্ধ! হাফেজুর রহমান ঠিক এই মুহূর্তে কর্নেল সাহেবের চেহারা ভাল ভাবে খেয়াল করলো। সরোয়ার্দিকে মধ্যম মাত্রার সুদর্শন কর্নেল বললে অন্যায় হবে,তিনি হচ্ছেন উচ্চ মাত্রার সুদর্শন কর্নেল। এত সুদর্শন চেহারা নিয়েও তিনি হাফেজুর রহমান সাহেবের কন্সানট্রেশন নিতে পারেন নি। এর জন্য তাকে সিগারেট ধরিয়ে দেয়ার মতো নাটক টি করতে হলো। ভদ্রলোকের ব্যররথতাই বলা চলে। যদিও তার বুদ্ধি সেই ভ্যররথতাকে পরাজিত করে! হাফিজ সাহেব। উহু,হাফেজুর রহমান। হাফেজ,প্লিজ স্যার! সরি।আমার ভুল। আমাকে স্যার বলবেন না।বলুন ডিয়ার ফ্রেন্ড। বল্লাম,ডিয়ার ফ্রেন্ড! হুম,হাফেজুর রহমান সাহেব,আমাকে আগের থেরাপিস্ট এর মতো ভাববেন না প্লিজ। আমরা প্রতিটা থেরাপিস্ট কিন্তু আলাদা বৈশিষ্ট নিয়ে চলি,এবং বাঁচি। আমাদের গোল একই সবার।সাধারণ মানুষের মন থেকে পুরো পৃথিবীকে মুছে ফেলা। কিন্তু আমাদের প্রসিডিউর ভিন্ন। ডিয়ার ফ্রেন্ড,এই মুছে ফেলার কাজটা আপনারা কেন করতে চাচ্ছেন?পুরোন পৃথিবীতেই কি আমরা মানুষ ছিলাম না?? উহু,হাফেজুর রহমান সাহেব।পুরোন পৃথিবীতে আমরা মানুষ ছিলাম ইহা সত্য। কম্পারেটিভলি চিন্তা করলে।with the present one we are dealing right now...!but for the survival of human we must forget!! সারভাইভাল??একে বেঁচে থাকা বলছেন কর্নেল সাহেব?? এক্স বলা উচিত হাফেজুর রহমান সাহেব,বর্তমানে আমি থেরাপিস্ট।যা হোক,এটাই কিন্তু সারভাইভ করা। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই বা কম কি? বিলক্ষণ!কম নয় অবশ্যই।তবু দেখুন না আপনার অতীত কিংবা আমার অতীত,কেও কারো অতীত কে ভুলতে পারবো না।যেটা করতে পারবো তা হলো ভুলে থাকা।জোর করে অনেকটা।কিন্তু এর ডেস্টিনেশন টা কি? দেখুন হাফেজুর রহমান সাহেব,ব্যাক্ষ্যা করি। আধুনিক পৃথিবীতে আমরা সবাই অনেক একা।সবাই। আমরা সবাই নিঃসঙ্গ ! অতীত অনেক খারাপ জিনিস হাফেজ সাহেব।অনেক খারাপ জিনিস। আরেকটু ব্যাখ্যা করবেন। অতীত আপনার নিঃসঙ্গতাকে পুঁজি করবে!নিঃসংগতার শক্তিকে প্রখর করে তুলবে অতীত। আপনার মাঝে আস্তে আস্তে বেড়ে উঠবে ভয়ানক হতাশা।তারপর আত্মহত্যা! প্রতিটি প্রাণই এখন মানব সভ্যতার জন্য জরুরি হাফেজুর রহমান সাহেব। সরোয়ার্দি সাহেব,আপনি কিঞ্চিত মিথ্যা বলছেন। যেমন? অতীত নিয়ে কিছু বাড়াবড়ি করলেই আপনারা তাকে শাস্তি দেন।মেরে ফ্যালেন। কর্নেল সরোয়ার্দি সাহেব হালকা করে হাসেন।তার চেহারায় চিন্তার কোন ছাপ নেই।টেবিলে রাখা এস্ট্রে তে ছাই ফ্যালেন খানিকটা। এটাও আর দশজনের মঙ্গল অর্থেই। শেক্সপিয়রের i have to be cruel only to be kind এর মতো ব্যাপার। দেখুন,মানব সমাজে দু ধরণের লোক দেখবেন। কেও লিডার হতে ভালবাসে,কেও লিডারকে ফলো করতে। বেশির ভাগ মানুষ এখন হতাশ ।কেও হতাশা কাটাতে কোকেইন নিচ্ছে,মেথ্যাম্ ফেটামাইন বাড়ছে হরদমসে। তবুও বাধা নেই,যতক্ষণ আপনার স্বার্থ রক্ষা হয়। কথা ঘুরাচ্ছেন,কর্নেল সাহেব। এক্স কর্নেল,ড্যাম ইট!কথা ঘুরাই নি।এই হতাশা কাটাতে এক জন আত্মহত্যা করে বসলো।ব্যাস শুরু হবে লিডারের ফলো আপ। চেইন রিএকশন।একটা ক্যান্সার সেল। মানুষ মরতে থাকবে। আমরা যা করছি তা হলো মানুষ কে হতাশ হবার সুযোগই দিচ্ছি না।স্টিমুলেশনই বন্ধ। নিঃসন্দেহে অতীত একটা কঠিন স্টিমুলেশন।নয় কি??? যত যাই হোক।এটা একটা হাইপোথিসিস মাত্র। হাফেজুর রহমান সাহেব,আপনি বেরিয়ে যান।আমি আপনার মঙ্গল কামনা করি। কর্নেল সাহেবের মুখে হালকজা হাসির রেখা। শীতল হাসি। হাফেজুর রহমান বেরিয়ে আসার পথ ধরে। সবুজ পত্রঃ প্রফেসর খালেদ শরিফ বেশ কিছুক্ষণ বসে আছেন এই কক্ষে।তার অপেক্ষা বাকিদের জন্যে।একটু পরেই সাদা দরজা ধাতব শব্দে খুলে যায় আর একটা ডীটেক্টর রোবট এগিয়ে সবাইকে নিরীক্ষণ করতে শুরু করে। প্রফেসর ডালটন ছাড়া পেয়েই খালেদ শরিফের দিকে এগিয়ে আসেন এবং শূন্য মাত্রার বাস্তবিকতা নিয়ে কিছু একটা বলা শুরু করেন। খালিদ শরিফ আনন্দের সাথে কোকো চকোলেটের মগে চুমুক দিতে থাকেন। কিছুক্ষণের মাঝেই একটি নারী কন্ঠ মাইকে ভেসে ওঠে। প্রফেসর খালেদ শরিফ ভ্রুঁ কুঁচকে তাকান সে প্রান্তে। “আমি অনিতা হাসান,প্রডিজি ব্যাটালিয়ন ৭১১ এর ৫ম অধিবেশনে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।নতুন পৃথিবীর সম্ভাবনাময় মানুষ,আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ পুরোন পৃথিবীর শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত এক যোগ হয়ে কাজ করার জন্য।“ মহিলা অধিবেশনের বাকি কথা বলতে থাকেন।খালেদ শরিফ চোখের পাতা ফেলছেন না বলাই চলে।মহিলার সৌন্দর্যে বিমোহিত হবার জন্যে নয়।তার মাথায় অন্য চিন্তা ঘুরছে।সম্পূর্ণ নতুন ধরণের।তা সম্পর্কেই তিনি তুলে ধরবেন। প্রফেসর খালিদ শরিফের বক্তব্যের অংশ টুকু এরকমঃ পুরোন পৃথিবীকে বিদায় জানানোর জন্য আমাদের চিন্তার অন্ত নেই ,তভা সত্য। কিন্তু পুরোন পৃথিবীর চিহ্ন কি সত্যিই মুছে ফেলা সম্ভব?ভয়ানক নিউক্লিয়ার রেডিয়েশন থেকে কি আসলেই রক্ষা পাও্যা যাবে?হয়তো যাবে। আবার না যাবার সম্ভাব্যতাও শূন্যের কোঠায় নয়।আমাদের এই কুঠুরি বা নিউ ওয়ার্ল্ড স্পেক্ট্রাম আমাদের যথেষ্ঠৈ সুরক্ষা দিচ্ছে।জানি এবং বিশেয়াস করি। কিন্তু অঘটন ঘটার সম্ভাবনাকে কি উড়িয়ে দেয়া যায়?মানব সভ্যতা রক্ষায় পূর্বে যেমন সচেষ্ট সহযোগে এই নিউ ওয়য়ার্ল্ড লার্জ ব্যাংকার আমরা বানাতে সক্ষম হই,এখনো কিছু করার বাকি রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি চাই আমাদের তিনটি ভলান্টিয়র গ্রুপ থাকবে।একটি আমাদের ডি এন এ স্যাম্পল নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিবে। যদি বাসযোগ্য কোন নতুন গ্রহ আবিষ্কৃত হয় তবে,তারা সেখানেই নতুন প্রাণের আশা দিবে।আমাদের সফল ক্লোনিং এর গুরুদায়িত্বও তাদের। দ্বীতিয় দল একটি সিস্টেম বানানোর জন্য নিজেদের সময় ব্যয় করবে,যার মাধমে শুধু মাত্র একটি সচল মস্তিষ্কের সাথে অপর একটি সচল মস্তিষ্কের সম্পর্ক স্থাপন হবে,এভাবে সিস্টেমটি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। তৃতীয়দল,দ্বীতিয় দলের তৈরিকৃত সিস্টেমের জন্য নিজেদের মস্তিষ্ক ডোনেট করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখবে। নোটিশঃএই তিন দলের কারো যদি এই মিশনের ফলেই প্রাণ নাশের আশংকা হয়,কিংবা সম্পন্ন হয়,প্রডিজি ব্যাট ৭১১ তার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে না। নোটিশঃপ্রডিজি ব্যাট ৭১১ নতুন পৃথিবীর স্বার্থের পক্ষে হানিকর,এমন যে কাওকেই তার দন্ড বদলিয়ে বিপজ্জনক মিশনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারবে। নোটিশঃসর্বাধিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট,যাদের শিক্ষাকার্যক্রম পূর্ণ হয়েছে,তারা ভলান্টিয়ার না করলেও এসিস্টান্ট হিসেবে সর্বদা নিয়োযিত থাকবে। নতুন পৃথিবীর প্রতিটি আবাসালয়ে হাই ডেফিনিশন ত্রিমাত্রি স্ক্রিনে এই অধিবেশন টি সম্প্রচারিত হলো। সমাপ্তি কথনঃ হাফেজুর রহমানের হাতে একটা আস্ত চিকেন।সে খাচ্ছে বিরক্তির সহকারে। যদিও খাবারের স্বাদ খারাপ না।সহজ বাংলায় একে মজাদার বলেই চালিয়ে দেয়া যায়। যদিও এই মুরগিতেও আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর খুদ্র কারসাজি আছে। হাফেজুর রহমানের মতে এই মুরগি গুলোও সাধারণ না। জেনেটিকাল চেঞ্জ এনে মুরগির বিশেষ অংগে পরিবর্তন আনা হয়।স্বাদেও কিছুটা পরিবর্তন আসে।এই মুরগি জীবন্ত কখনোই খাদকের সামনে আসে নি।রেস্তোরার এপাশের কোন লোকই এই ধরনের মুরগি জীবন্ত দেখে নি।কিংবা তাদের দেখতে দেয়া হয় নি।এর কারণ কি? এই মুরগি গুলো দেখতে কি কুতসিত????? হাফেজুর রহমান এর অপর পাশেই চেয়ারে বসে আছে অবনী। তাকে অবশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই,সে আসলে মানুষ নয়। একটি অথর্ব মতান্তরে বুদ্ধিমান রোবোট । আজ নাকি অবনীর জন্মদিন।যদিও প্রোডাকশন ডেট কথাটাই যুক্তিযুক্ত বলে হাফেজুর রহমান মনে করে তবু অবনী তা পাত্তা দেয় নি।সে তার জন্মদিন নিয়ে নানা আহ্লাদি করছে এবং হাফেজুর রহমানকে ইনভাইট করেছে তার সাথে ডিনার করতে। হাফিজুর রহমান অসহায় ভাবে কিশোরী রোবোটের অত্যাচার সহ্য করছেন। আচ্ছা রোবোট না বলে রোবোটিকা বললে ক্যামন হয়? এতই যেহেতু বাস্তবতার লোভ তবে আর একটু নয় কেন? রোবোটিকা হিসেবে অবনীর খাবার গ্রহন করার কথা না।কিন্তুন অবনী খাচ্ছে,তার খাও্যার ব্যাপারটা হাফেজুর রহমান সাহেব ধরতে পারে নি,এই উন্নত প্রজাতি নাকি বায়োলজিকাল ফুড থেকেও এনার্জি এবসর্ব করে,সেটা নাকি তাদের ইলেক্ট্রিক স্টিম্যুলেশনে কাজে দেয়! কিভাবে সম্ভব?? স্যার আপনার মুখটা শুকনো কেন? শুকনো না অবনী।আমি কিছুটা বিরক্ত। কেন??হি হি হি।আমার উপর বুঝি?? না,তোমার উপর না। আপনি চাইলে খানিকখন আমার চোখে চোখ রাখতে পারেন,বিরক্তি কেটে যাবে স্যার! হাফেজুর রহমান কঠিন কিছু বলার চিন্তা করলেন। দ্যাখো অবনী,তুমি যা করছো,তা হচ্ছে ভান। তুমি প্রাচীন পৃথিবীর একটি গল্প পূণরাবৃত্তি ঘটাতে চাচ্ছ।কিন্তু তুমি তোমার সীমাবদ্ধতা ভুলে যাচ্ছ। আমি কিন্তু সীমাবদ্ধ নই স্যার।আমরা হয়তো একদিন আপনাদের চেয়েও উন্নত হয়ে পড়বো। আমরা শিখছি,এক সময় আমরা নিজেরা নিজেদের শিখাবো,নিজেদের উন্নয়ন কৌশল নিজেরা আয়ত্ত করবো।আমাদেরও এজিং প্রসেস আপনাদের মতো করেই তৈরি,কিন্তু চাইলেই আমরা তা বদলে ফেলতে পারবো। হাফেজুর রহমান সাহেব অল্প করে হাসলো। অবনী মাথা নিচু করে রয়েছে,হাফেজুর রহমানের মনে হলো অবনী কষ্ট পেয়েছে। খুব কষ্ট! কি অদ্ভূত। অবনীর হাতে ছোট শাপলা ফুল,তার দুঃখি মুখে হালকা হাসির রেখা। ফুল এগিয়ে যাচ্ছে সাবওয়ে রেইলের দিকে।তার ফেরার সময় হয়েছে।শাপলা ফুল তাকে দিয়েছে হাফেজুর রহমান। অবনীর মনে কষ্ট দিয়ে হয়তো তা ভাঙ্গানোর একটা চেস্টা।এই শাপলা ফুল স্বভাবত ফুটার কথা না।বিশেষ নিরীক্ষণে একে চাস করা হয়,সপ্তাহের বিশেষ দিনে,বিশেষ কিছু ফুল গবেষণা কেন্দ্র থেকে কিছু ফুল বিনামূল্যে মানব শিশুর হাতে দেয়া হয়,হাফেজুর রহমান তেমনি এক শিশু থেকেই ফুল চেয়ে নিয়েছে,শিশুটি হাসি মুখেই হাফেজুর রহমানকে ফুল দেয়! অবনী সাবওয়ে রেইলে উঠার সাথে সাথে দরজা বন্ধ হয়ে যায়,কিছুক্ষণ বাদেই তা চলতে শুরু করে,অবনী দূর থে হাত নাড়ে ।তার হাতে তখনও শাপলার ফুল। হাফেজুর রহমানের মাথায় হঠাত বিদ্যুৎ খেলে যায়।তার খুব কষ্ট হতে থাকে। বহুদিন আগে সে তার খুব প্রিয় এক মানুষের সাথে পাহাড়ে ঘেরা কোথাও ঘুরতে যায়। মেয়েটির হঠাত খেয়াল চাপে শাপলার ফুলের ,হাফেজুর রহমান সেদিনও কিছু পিচ্চি ছেলের হাত থেকেই ফুল চেয়ে নেয়! মেয়েটিকে যখন হাফেজুর রহমান রিকশায় তুলে দিতে গেল,সে ফুল গুলো ফেরত দিতে চাইলো। তার বাবার ভয়ে। হাফেজুর রহমান নেয় নি। মেয়েটি কি ফুল গুলো বাসায় নিয়েছিল? নাকি রিকশা থেকে নেমে কোন এক ডাস্টবিনের কোণে ফেলে দেয়?? হাফেজুর রহমানের অসম্ভব কষ্ট হতে থাকে।তার ঘন বর্ষায় ভেজার দিনগুলি,জোছনা দেখে কাটানো রাত গুলো,সবই তো এক জনের কাছে বন্দি।একটি বাদামি ঠোঁটের মেয়ের কাছে বন্দি! হাফেজুর রহমান হঠাত আবিষ্কার করলো তার চোখে পানি! অতীত তাকে সব ভুলিয়ে দেয়।বাদামি ঠোঁটের মেয়েটির সাথের অতীত তাকে ভুলিয়ে দেয় সে সর্বক্ষণ নজরবন্দি! হাফেজুর রহমান সাইরেনের মতো শব্দ শুনে।সে জানে সে এখন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী। কিছুখনের মাঝে তাকে এরেস্ট করা হবে। তার সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত! সমাপ্ত!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now