বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছাদের রেলিংটার উপর পা ঝুলিয়ে বসে
অাছি,হাতে একটা গিটার । এটা একটা নতুন
বাসা।কিছুদিন হয়েছে এখানে উঠেছি।
বাসাতে উঠার অাগে কেউ কোন বিধি নিষেধ
দেয়নি, যে ছাদে উঠা যাবেনা।এমনকি
কাউকে একদিন ছাদেও পেলাম না।প্রায়
পনের দিন হল বাসাতে উঠেছি, শুনেছি বাড়ি
ওয়ালার একটি মেয়ে অাছে। তবে তাকেও
কোনদিন পেলাম না ছাদে।
.
ব্যাচালারদের একটা সমস্যা, বাসা ভাড়া তো
দিতেই চাই না।যদিও বাসা ভাড়া পাওয়া
যায়,তবুও কত বিধি নিষেধ। বেশি রাত করে
বাসাতে ঢুকা যাবেনা, ছাদে উঠা যাবেনা,
এই সেই অারও কত কিছু। কিন্তু এই বাসাটাতে
উঠার সময় তেমন কোন নিষেধ দেয়নি, তবে
একটা নিষেধ দিয়েছে অার সেটা হল, উচ্চ
স্বরে কথা বলা যাবেনা। অামি অাবার নিরব
থাকি।
.
টুঙটাঙ শব্দ তুলছি গিটারটাতে। খুব একটা
ভালো বাঁজাতেও পারিনা। তবে ছোট বেলা
থেকেই গিটারের প্রতি অাগ্রহ ছিলো। তাই
বাবার কাছে বায়না ধরলে, বাবা কিনে দেয়।
ছাদে থাকলে বুঝা যায় শহরটাতে কত
বিল্ডিং। প্রতিটা বিল্ডিং এর ছাদে অনেক
কপোত কপোতি রয়েছে। তবে এই ছাদে অামিই
একা।
গিটারের টঙটাঙ শব্দের সাথে "তাহসানের
অামি সেই সুতো হবো " গানটা বলার ট্রাই
করছি।
.
হঠাৎ কেউ একজন বলে উঠলো "বাহ ভালোই
বাঁজান তো গিটার, সাথে গানের গলটাও
দারুণ"। অবাক হয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি
একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে অাছে। কখনোই
দেখিনি অাগে এই ছাদে।মেয়েটা
অাওলাকেশী, মানে চুল গুলো এলোমেলো,
চোখের নিচে হালকা কালো দাগ। শরীরটা
এমন দেখা যাচ্ছে, যে কত দিন গোসল করেনি,
তার হিসেব নেই।মেয়েটা অাবার বললো
-এই যে কি ভাবছেন "(মেয়ে)
-না কিছুনা! কে অাপনি অাগে তো কখনো
দেখিনি। (অামি)
-অামি এই বাসাতেই থাকি।
-এই বাসায় তো অাপনাকে কোন দিন দেখেনি!
শুনেছি বাড়ি ওয়ালার একটা মেয়ে অাছে।
তবে সেতো ছাদে????অাসেনা।
-এই বাসাটা অামার বাবার। ছাদে অাসিনা।
অাপনার গিটারের শব্দ শুনে অামার অাসতেই
হলো।কারণ গিটারের শব্দ অামার খুব প্রিয়। এই
একটা জিনিসকে জীবনে খুব মিস করি।অাপনি
খুব ভালো গিটার বাঁজান।
-ধন্যবাদ, তবে গিটারের স্বর কেনো মিস
করেন!
.
মেয়েটা বলতে চাইলো, ওমনি মেয়েটার মা
এসে পড়লো। মেয়েটার মা মেয়েটাকে নিয়ে
চলেগেলো। তবে অামায় কিছু বললোনা।
তাদের পিছন দিয়ে অামিও নেমে পড়লাম।
.
অামি বাড়ি ওয়ালার রুমে বসে অাছি।
বাড়িতে অাঙ্কেল মানে বাড়ি ওয়ালা নেই।
মেয়েটাকেও দেখতে পাচ্ছিনা। অান্টি দুইটা
চা নিয়ে অাসলো। একটা অামাকে দিলো।
অামি চা খাইনা, তবে এখানে না করাও
যাবেনা।
চায়ে চুমুক দিলাম। অার অান্টি বলতে
লাগলো।
তুমি এই বাসায় উঠেছ পনের দিন হলো। তুমি
কে কখনো ইপ্তিকে দেখছো। অামি প্রশ্ন
করলাম ইপ্তি কে। অান্টি বললো ছাদে যার
সাথে কথা বললে সেই ইপ্তি।
অান্টি অাবার বলতে লাগলো।
- ইপ্তি অাজ দু'বছর ধরে রুম থেকে বাহির হয়
না। (অান্টি)
-অামি অবাক স্বরে বললাম, কেনো অান্টি।
(অামি)
-অাচ্ছা তুমি কি করো?
-অামি একটা জব করছি।
-ভালো। ইপ্তি দু,বছর রুম থেকে খুব একটা বাহির
হয় না।কারো সাথে কথা বলেনা। বিশেষ করে
কোন ছেলের সাথেই না।
-অামি অারেকবার অবাক দৃষ্টিতে জিঙ্গাস
করলাম কেনো?
-দু বছর অাগে। ইপ্তি প্রতিদিন কলেজে যেতো।
কলেজে যাওয়ার পথে একটা ছেলে তাকে
উত্যক্ত করতো। প্রতিদিন করতো। অামরা
ছেলেটাকে একদিন শাসিয়ে দেয়। তবুও
ছেলেটা ইপ্তিকে প্রতিনিয়ত ড্রিস্টার্ব
করতো। একদিন ধৈর্যের সীমা সহ না করতে
পেরে ছেলেটিতে থাপ্পড় মারে। থাপ্পড়
মেরে সেদিন ইপ্তি কলেজে না গিয়ে বাড়ি
চলে অাসে। এর পরের দিন কলেজে যাওয়ার
সময় ঐ ছেলেটা ধরে নিয়ে যায়।
-অার কিছু অান্টি বলতে পারছেনা। চোখ
দিয়ে পানি পড়ছে। অামি একটু শান্তনা
দিলাম। তারপর অাবার বলতে লাগলো।
- ???? সেদিনের পর থেকে ইপ্তি রুম থেকে অার
বাহির হয় না। অনেক বার সুইসাইড করতে
চেয়েছে, তবে চোখে চোখে রেখেছি বলে
তা পারিনি। দুটা বছর ঐ রুমটাতে অাবদ্ব
ইপ্তি। ঠিক মত গোসল, অার ঠিক মত খাওয়া
দাওয়া করেনা।
-অামিও বুঝতে পারলাম, যে মেয়েটার অাওলা
কেশ, চোখের নিচে কালি, অার এরকম দেখায়
কেনো।
-অাচ্ছা বাবা, তুমি কি ইপ্তিকে একটু সময়
দিবে। ইপ্তি তোমার গিটারের শব্দে অনেক
দিন পর রুম থেকে বের হয়েছে। তুমি কি
প্রতিদিন একটু সময় করে গিটার বাঁজাবে?
তাহলে হয়তো ইপ্তি স্বাভাবিক হবে।
-অামি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম। তারপর
অান্টির রুম থেকে বের হয়ে অাসলাম।
.
অামি রাহাদ। একটা প্রাইভেট ফ্রার্মে জব
করছি। সাথে অাজ থেকে অারেকটা জব
নিলাম, ইপ্তিকে স্বাভাবিক জীবনে অানার।
ইপ্তিকে অামি ভালবাসি। সেটা ছোট বেলা
থেকে। অামার বাবা যখন এখানে চাকরী
করতো তখন অামরা ইপ্তিদের এই বাসাতেই
ভাড়া থাকতাম। সেই থেকে ইপ্তিকে ভালো
লাগে। তখন ভালবাসা কি বুঝতাম না।তবে
ছোট বেলার সেই ভালো লাগাটাই একদিন
ভালোবাসাতে রূপ নেয়।
.
ইপ্তিকে দেখার জন্যেই তাদের বাসাটা
ভাড়া নেই।তবে ইপ্তির এই রকম পরিস্থিতি
শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
.
দু'মাস পর
.
একটা রেস্তোরাতে বসে অাছি। অামার
সামনেই ইপ্তি বসা।তাকে নিয়ে ঘুরতে বের
হয়েছি। পড়নে একটা নীল শাড়ি, হাত ভর্তি
নীল চুরি,চুল গুলো ছাড়ানো, খুব সুন্দর লাগছে
ইপ্তিকে । হ্যাঁ অাস্তে অাস্তে ইপ্তি
স্বাভাবিক হয়ে উঠে। অান্টির কাছ থেকে
সেদিন একটা চাকরী পেয়েছিলাম, অার সেটা
ইপ্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর।তাই
সেদিন থেকে প্রতিদিন বিকেল বেলা ছাদে
গিটার বাঁজায় অার গান গাইতাম।ইপ্তি গিটার
শুনার জন্যই প্রতিদিন ছাদে অাসে। তবে প্রথম
প্রথম কয়েক মিনিট থেকেই চলে যেতো অার
চিৎকার চেচামেচি করতো। তারপর অাস্তে
অাস্তে স্বাভাবিক ভাবে অাস্তে থাকে।
হঠাৎ একদিন ইপ্তিকে জিঙ্গেস করলাম।
-অাচ্ছা ইপ্তি তুমি একদিন বলেছিলে
গিটারের স্বর তোমার খুব প্রিয়, কিন্তু কেনো?
সেদিন ইপ্তি তার ভাল লাগা,ভালবাসার কথা
বলেছিলো। অার যখন বুঝলাম, যে তার মনের
ভিতর ছোট্ট সেই অামি রয়েছি। তখন থেকেই
বুঝলাম ইপ্তিও সেই ছোট্ট অামিকে
ভালবাসে। হ্যাঁ যখন বাবা এখানে জব করতো,
তখন তো অামরা এখানেই ছিলাম। তখন
প্রতিদিন গিটার বাঁজাতাম অার ইপ্তি পাশে
বসে থাকতো। সেই ভাললাগা এখনো
রয়েগেছে।
.
-এই কি ভাবছো? (ইপ্তি)
-কই কিছুনা! (অামি)
-দেখছিলাম তো তুমি ঘোরের মধ্যে ছিলে।
-অাচ্ছা ইপ্তি তুমি সেই ছেলেটাকে কি
এখনো ভালবাসো?
-কোন ছেলেটাকে?
-যে ছেলেটা তোমাকে ছোট বেলায় গিটার
বাঁজিয়ে শুনাতো?
-হ্যাঁ এখনো ভালবাসি!
-অাচ্ছা তুমি কি অামাকে একটুও ভালবাসো
না?
-হ্যাঁ তোমাকে ভালবাসি। তবে একটুও না
সবটা।
-তাহলে ঐ ছেলেটাকে মনে রেখেছো কেনো
ভুলে যাও!
-তাহলে যে তোমাকেও ভুলে যেতে হবে।
-কেনো অামাকে ভুলতে হবে কেনো?
-কারণ তুমিই যে সেই ছেলে। অামি সেদিন
তোমার রুমে গিয়েছিলাম। তোমার বেড ঠিক
করতে গিয়ে, বালিশের নিচে একটা ডায়েরী
পাই।অার ডায়রী থেকেই জেনেছি, তুমিই সেই
রাহু (রাহাদ)।
-তবে কি তুমি ছোট বেলার সেই অামার
বাঁজানো গিটারের শব্দ ভুলে গিয়েছো?
-না, অামি অাস্তে অাস্তে ফিল করতাম, যে
তুমিই সেই রাহু। যে অামাকে প্রতিদিন গিটার
বাঁজিয়ে শুনাতে। তবে অারও বেশি শিওর হয়,
যখন ডায়েরীটা পড়ি।
অার কিছুই বলার অাগে তার হাতটা
ধরে,টেবিলের উপর থাকা কাট ফুল গুলো তার
সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম। এই ফুল গুলোর
প্রাণ নেই,তবে এগুলো ঝড়ে পড়ার কোন রিস্ক
নেই।অামি তোমার জীবনের কাট ফুল হতে
চাই,যে কোন বাতাসে ঝড়ে পড়বোনা। তোমার
পাশে সারা জীবন থাকবো। অামি তোমাকে
ভালবাসি, তুমিকি পারবেনা অামার সাথে
থেকে অামাকে ভালবাসতে?
-will you merry me? (ইপ্তি)
-ইয়েস! (অামি)
শুরু হলো ইপ্তি অামার নতুন দীঘন্তের পথ চলা।
.
ভুলত্রুটি ক্ষমারযোগ্য
.
.
লেখা: Rahadul Hasan Tamim
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now