বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মিম ঘুম থেকে উঠে দেখে কাকটা পরে আছে ,
আর সেটা দেখে চিৎকার দেই । মেয়ে টা খুব ভয়
পেয়েছে হাত পা কাপছে । সবাই মিলে অনেক
চেষ্টা করে স্বাভাবিক করে। সকালের নাস্তা
সেরে বের হয় ঘুরতে । দ্বীপ টা দিনের
বেলায় অনেক সুন্দর । খুবই নির্জন ১টা এলাকা ।
বেশ কিছুদুর হাটার পর ছোট ১টা বনের মত সামনে
ছোট ১টা সাইনবোর্ডে লিখা *** সামনে বিপদজনক
এলাকা *** তবু শিপন ওদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়
। কিছুদুর যাওয়ার পর জায়গাটা কাদা কাদা । হটাৎ ২জন
সামনে এগিয়ে আসে
আগত্বক ঃ আপনারা ঐ দিকে কই যান ?
আগত্বক ২ ঃ ঐদিকে যাওন যাইবো না । ফিরত যন।
শিপন ঃ আমরা এখানে ঘুরতে আসছি সুতরাং আমরা
সবখানে যেতে পারবো ।
আগত্বক ঃ না বলছি তো না । যান যেইখানে
আসছেন সেইখানে যান ।
মেহজাবিন ঃ এটা কেমন ব্যাবহার , আমরা এইখানে
অতিথি ।
আগত্বক ২ ঃ অতিথি অতিথির মত থাকেন । যান এহন
এইহান থেকা ।
ওরা চলে আসে । সন্ধার আগে দিয়ে শিপন , রিসান
আর প্রিয়া আবার যায় সেখানে সবার চোখ ফাকি
দিয়ে ।রাত ৮টার কিছু পরে ফিরে আসে । একসাথে
ডিনার করে যে যার মত ঘুমাতে যায় ।
রাত ১২টার কিছু পর কারা যেনো তাদের রুমের
চালে ঢিল মারে । প্রথমে কয়েকটা করে মারে ।
ধিরে ধিরে বারতে থাকে । রিসোর্টে থাকা
আরো কয়েকজন ছিল তারা চিৎকার করছে । শিপন ,
সাক্ষর আর সালাউদ্দিন বের হয় । বের হয়ে
দেখে ২টা বিশাল দানব ২ হাত দিয়ে ঢিল ছুরছে আর
সেগুলা অসংক্ষ হয়ে রিসোর্টের চালে পরছে ।
চারপাশ থেকে ভংকর শব্দ আসছে । পুরো
পরিবেশটা এ ভংকর রুপ ধারন করে । পাসের রুম
থেকে মিম , প্রিয়া, মেহজাবিন আর সায়মা বের হয়ে
আসে । ঘটনা দেখে সায়মা সেন্সলেস হয়ে যায় ।
দানব দের সাথে সাথে নতুন করে শুরু হয় কয়েকটি
কুকুরের অত্যাচার । কছে এসে কামরিয়ে ধরে
সাক্ষরের পা । রিসান লাথী দিয়ে সরিয়ে দেই ।
তারাতারি করে রুমে ঢুকে পরে ।সবাই একরুমে
জরশর হয়ে বসে । বাইরে তান্ডব চালিয়ে যায়
২টো দানব আর কুকুর গুলো । কোন রকমে রাত
পার করে ।
সকালে ঘুম ভাংগে সবার আগে সায়মার , সে
সবাইকে এক এক করে জাগিয়ে তুলে ।
মিম ঃ মেহজাবিন আপু আমার মনে হয় এখনি আমাদের
যাওয়া উচিৎ ।
সায়মা ঃ মিম ঠিক বলছে ।
মেহজাবিন ঃ মোটেও না । আমরা এখানে এসেছি
এখান থেকে এর রহস্য বের করে যাবো ।
সাক্ষর ঃ কিন্তু আপু , আজ তো বেচে গেছি , কাল
যে ভূত গুলো আমাদের বাচিয়ে রাখবে তার
নিশ্চয়তা কি ?
সালাউদ্দিন ঃ বোকার মত কথা বলো কেন সাক্ষর ?
আর ভয় পেলে গোয়েন্দা হতে এসেছো
কেন ?
রিসান ঃ কাকু তুমি কি ভূতগুলো খেয়াল করেছো ?
আমার মনে হচ্ছে এগুলো ভীতু ভূত । ওরা তো
চাইলেই আমাদের ক্ষতি করতে পারত ।
হটাৎ একটি দাড়িওয়াল লোক এসে হাজি হয়ে বলে ।
ওরা আজ মাফ করছে বলে যে কাল মাফ করবে
তেমন কিছু না । ওরা খুবই হিংস্রপ্রেত । আজ আপনার
না পালাইলে কাল আপনাদের সবার সব কিছু নিয়ে মাইরা
ফেলবো ।
শিপন ঃ আপনি কে ? আপনি কি করে জানেন এতো
কিছু ?
আমার নাম জামান ।আমি এখানে থাকি অনেকদিন ।
সাক্ষর ঃ আপনাকে ভূত কিছু বলে না ?
জামানঃ আমাকে বলে না , আমি ভূত রাশির । আচ্ছা যাই
হোক , আপনারা চলে যান কেমন । আমি নৌকা ঠিক
করে দিচ্ছি ।এখন না গেলে দুপুরের পর নৌকাও
পাইবেন না ।
শিপন ঃ আচ্ছা বনের ভিতর ১টা বড় পোড়া বাড়ি
দেখলাম , চারপাশে কাটাতারের বেরা । সাইনবোর্ড
লাগানো আছে *** সামনে বিপদজনক এলাকা *** এটা
কি ?
জামান ঃ সর্বনাশ করে ফেলছেন , ওইতদুর চইলা
গেছেন ? মরন আপনার অনিবার্জ । এক্ষনি পালান
এইহান থেকে যদি বাচবার চান ।
বলে চলে যায় জমান ছেলেটি । সায়মা প্রায় কাদো
কন্ঠে বলে
সায়মা ঃ আমার মনে হয় আমাদের চলে যাওয়াই উচিৎ ।
সব কিছু ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে ।
প্রিয়া ঃ চলে যাবো মানে ? চলে যাওয়ার জন্য তো
আসি নাই এখানে । আমার বন্ধু প্রীতির খোজ না
নিয়ে আমি এখান থেকে কোথাও যাবো না ।
কৃ্ষ ঃ আসলেই তো , আমরা ভয় পাচ্ছি কেন ? আমরা
গোয়েন্দা , এই টুকটাক রিস্ক আমাদের নিতেই
হবে ।
শিপন ঃ শোন সবাই । আমরা এখন নাস্তা করবো ।
নাস্তা শেষ করে আমরা ২ দলে বিভক্ত হয়ে
একদল যাবে বনে সেই বাড়িটির উপর নজর রাখতে
আর একদল যাবে এখান থেকে লোকালয়ে
যাওয়ার রাস্তা খুজতে ।
মেহজাবিন ঃ আমরা কাল কিছুটা খোজ নিয়েছি ।
কোথাও কিছু পাইনি ।
যেই কথা সেই কাজ । নাস্তা শেষ করে শিপন , রিসান্
, প্রিয়া, আলো আর মিম একদল হয়ে বনে যায় আর
অন্যদিকে যায় মেহজাবিন , সালাউদ্দিন , সায়মা , সাক্ষর ,
কৃ্ষ ।২টার দিকে ফিরে আসে মেহজাবিন কৃ্ষ ওরা
কিন্তু তখনো ফেরার খবর নাই শিপন্ দের । ওরা
কোন পারাপারের ব্যাবস্থা পায় নি । তবে ১টা ভাংগা
নঙ্কা পেয়েছে যেটা দিয়ে হয়তো বিপদের
সময় উপকারে আসতে পারে । শিপন রা ৬টার দিকে
ফিরে আসে । নাস্তা পানি খেয়ে সবাইকে নিয়ে
নদির পাসে বসে গল্প করছে । শিপন ব্যাগ নিয়ে
এসেছে ।
শিপন ঃ এইখানে ফোন নেটওয়ার্ক নাই । সম্ভবত
ডিভাইস দিয়ে নেটয়ার্ক বন্ধ করা । আমার কাছে ৪টা
ওয়াকিটকি আছে । এটা দিয়ে কোন বিপদে পরলে
একজন আরেক জনের সাথে যোগাযোগ
করবে ।
সালাউদ্দিন ঃ আমরা ৪টা টিমে ভাগ হয়ে যাই । যত বিপদে
আসুক আমরা এই টিম থেকে বিভক্ত হবো না ।
রিসান ঃ ঠিক বলেছো ।
শিপন ঃ সালাউদ্দিন , মিম , আর কৃ্ষ একটিম , মেহজাবিন ,
সায়মা আর সাক্ষর একটি টিম , আমি , আলো আর রিসান
একটিম । আর প্রিয়া নিজে একা । আমরা এখন থেকে
সবাই প্রিয়া ক সবার নজরে রাখবো । প্রিয়ার এই
মিশনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখবে ।
আলো ঃ ভাইয়া তোমার প্লানটা কি ?
মেহজাবিন ঃ আজো ভুতেরা আমাদের উপর হামলা
করবে । প্রিয়া এখানে আগেও এসেছে । প্রিয়া
আর প্রিয়ার বন্ধু প্রিতি ২জনে এসেছিল । প্রিতিকে
দানব রা উঠিয়ে নিয়ে যায় (হটাৎ আচমকা ভয় পায়
মেহজাবিন )
একটা কাক এসে ওদের মাঝখানে পরে । খতবিক্ষত
কাক , রক্ত ঝরছে শরির দিয়ে । পাখনার সাথে ১টা চিঠি
বাধা । রিসান চিঠি নিয়ে বের করে পরে । **** সাবধান
সাবধান যদি বাচতে চাস তাহলে এখনি পালা । নদীর
উত্তর পাশের লাল পতাকার পাশে বোট আর মাঝী
আছে ।****
সাক্ষর ঃ আমাদের যেন কে লক্ষ করছে ।
ঝোপটার পাশে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে আমাদের কথা
শুনছে ।
ওরা সবাই একসাথে ঝোপের দিকে তাকায় , আর
লুকিয়ে থাকা লোকটি হুরমুর করে পালিয়ে যায় ।
শিপন ঃ আচ্ছা আমরা এখান থেকে চলে যাই , রাত
হয়ে গেছে । রুমে গিয়ে সবাই আড্ডা দেই ।
সবাই রুমে গিয়ে বসে আড্ডা দেয় । গল্প , কৌ্তুক ,
গানে মেতে উঠে । এতোটি মেতে থাকে যে
লক্ষই করে নি যে ওদের জানালার পাশে একজন
ওত পেতে ওদের দিকে নজর রাখছে ।
৯টার দিকে সবাই একসাথে রাতের খাবার খায় । তারপর
যে যার মত রুমে ফিরে যায় ।
গত দিনের মত আজও রাত ১২ টার পর আসে সেই
দানব আর কুকুর গলো । সাথে যোগহয়েছে কিছু
কংকাল আকৃ্তির কিছু একটা । এবার কিন্তু তারা আর
আগের দিনের মত শুধু ভয় দেখিয়ে ক্ষ্রান্ত না ।
রিসোর্টে থাকা লোকদের উপর একরকম
মারাত্তক আক্রমন চালাচ্ছে । ইতি মধে তাদের
ছোরা আগুনে একজন পর্যটক আহতো হয় ।
শিপন ঃ সালাউদ্দিন তুই মিম আর কৃ্ষ এখনি গিয়ে দেখ
অই বনের ভিতর বাড়ী টির অবস্থা । প্রিয়া তুমি সামনে
যাও এগিয়ে ।
দানব গুলো এগিয়ে আসছে খুব । শিপন রুম
থেকে তার ব্যগ নিয়ে আসে , ব্যাগ থেকে ১টা
বাজী বের করে দানবের দিকে ছুরে দেয় ।
রঙ্গিন আগুন জেলে বাজিটি দানবের দিকে এগিয়ে
যেতে থাকে । বিশাল শব্দ করে ফেটে পরে ।
ভয়ে বের হয়ে যায় দানবের আসল রুপ । আসলে
কয়েকটি মানুশ মিলে আর পোষাক পরে দানব আর
ভূত সেজে সবাইকে ভয় দেখিয়েছে ।
ওরা পালিয়ে যাচ্ছে আর যাওয়ার সময় তুলে নিয়ে
যাচ্ছে প্রিয়া কে । শিপন কিন্তু এটাই চাচ্ছিল । ওদের
আসল আস্তানায় যাওয়ার এটাই সহজ উপায় ।
পিছনে পিছনে চলতে থাকে মেহজাবিন, সায়মা,
সাক্ষর, শিপন, আলো আর রিসান । প্রিয়া কে নিয়ে
যায় বনের ভিতর সেই বাড়িতে । তবে পিছনের দিক
দিয়ে । সেখানে গিয়ে দেখা হয় সালাউদ্দিন এর
সাথে ।
সালাউদ্দিন ঃ এরা ১টা বড় টিম তবে এখানে তেমন
কেউ নাই । আমি ওদের নেটওয়ার্ক ডিভাইস অন
করে দিছি । আর উপরে ১টা রুমে ১টা মেয়েকে
আটকে রাখা আছে , সেখানে ২টা পাহাড়াদার আছে ।
আমিও কৃ্ষ কে রেখে এসেছি । ও নজর রাখছে ।
শিপন ঃ বোকা নাকি তুই ? অরে একা রেখে
এসেছিস , ওর তো বিপদ হতে পারে ।
সায়মা ঃ চলো আমরা কৃশ এর কাছে যাই ।
শিপন ঃ রিসান , মোবাইল নেটওয়ার্ক আসছে । তুমি
লোকাল পুলিস কে ব্যাপারটা জানাও ।
সালাউদ্দিন ঃ অইদিক দিয়ে চল
ওরা সবাই পাসের ১টা ভাঙ্গাচোরা শিড়ি দিয়ে উপরে
উঠে দেখে কৃষ ২টা লোকের সাথে একা মারামারি
করছে । সাক্ষর এগিয়ে গিয়ে একজনকে কে
ধরে মারতে শুরু করে । বাকি সবাইও এগিয়ে গিয়ে
ধরে বাকি গুলোকে ।
কৃ্ষ ঃ আমি দেখি যে ওরা প্রিয়া আপুকে নিয়ে
এসেছে , রুমটাতে তালা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে
তখন কোনো উপায় না পেয়ে ঝাপিয়ে পরি ।
মেহজাবিন ঃ গুড বয় । আসো এখন প্রিয়া আর
প্রিতিকে বের করি ।
সাক্ষর আর সালাউদ্দিন লাথি মেরে ভেঙ্গে
ফেলে দরজা । সেখানে গিয়ে দেখে প্রিয়া আর
প্রিতিকে । প্রিতি খুব অসুস্থ হয়ে পরেছে ।
শিপন ঃ তোমরা ঠিক আছো ?
…………………… চলবে >>>>>>>>>>>>>>>
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now