বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডেভিল হান্টার (পর্ব-২)

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X মিম ঘুম থেকে উঠে দেখে কাকটা পরে আছে , আর সেটা দেখে চিৎকার দেই । মেয়ে টা খুব ভয় পেয়েছে হাত পা কাপছে । সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করে স্বাভাবিক করে। সকালের নাস্তা সেরে বের হয় ঘুরতে । দ্বীপ টা দিনের বেলায় অনেক সুন্দর । খুবই নির্জন ১টা এলাকা । বেশ কিছুদুর হাটার পর ছোট ১টা বনের মত সামনে ছোট ১টা সাইনবোর্ডে লিখা *** সামনে বিপদজনক এলাকা *** তবু শিপন ওদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যায় । কিছুদুর যাওয়ার পর জায়গাটা কাদা কাদা । হটাৎ ২জন সামনে এগিয়ে আসে আগত্বক ঃ আপনারা ঐ দিকে কই যান ? আগত্বক ২ ঃ ঐদিকে যাওন যাইবো না । ফিরত যন। শিপন ঃ আমরা এখানে ঘুরতে আসছি সুতরাং আমরা সবখানে যেতে পারবো । আগত্বক ঃ না বলছি তো না । যান যেইখানে আসছেন সেইখানে যান । মেহজাবিন ঃ এটা কেমন ব্যাবহার , আমরা এইখানে অতিথি । আগত্বক ২ ঃ অতিথি অতিথির মত থাকেন । যান এহন এইহান থেকা । ওরা চলে আসে । সন্ধার আগে দিয়ে শিপন , রিসান আর প্রিয়া আবার যায় সেখানে সবার চোখ ফাকি দিয়ে ।রাত ৮টার কিছু পরে ফিরে আসে । একসাথে ডিনার করে যে যার মত ঘুমাতে যায় । রাত ১২টার কিছু পর কারা যেনো তাদের রুমের চালে ঢিল মারে । প্রথমে কয়েকটা করে মারে । ধিরে ধিরে বারতে থাকে । রিসোর্টে থাকা আরো কয়েকজন ছিল তারা চিৎকার করছে । শিপন , সাক্ষর আর সালাউদ্দিন বের হয় । বের হয়ে দেখে ২টা বিশাল দানব ২ হাত দিয়ে ঢিল ছুরছে আর সেগুলা অসংক্ষ হয়ে রিসোর্টের চালে পরছে । চারপাশ থেকে ভংকর শব্দ আসছে । পুরো পরিবেশটা এ ভংকর রুপ ধারন করে । পাসের রুম থেকে মিম , প্রিয়া, মেহজাবিন আর সায়মা বের হয়ে আসে । ঘটনা দেখে সায়মা সেন্সলেস হয়ে যায় । দানব দের সাথে সাথে নতুন করে শুরু হয় কয়েকটি কুকুরের অত্যাচার । কছে এসে কামরিয়ে ধরে সাক্ষরের পা । রিসান লাথী দিয়ে সরিয়ে দেই । তারাতারি করে রুমে ঢুকে পরে ।সবাই একরুমে জরশর হয়ে বসে । বাইরে তান্ডব চালিয়ে যায় ২টো দানব আর কুকুর গুলো । কোন রকমে রাত পার করে । সকালে ঘুম ভাংগে সবার আগে সায়মার , সে সবাইকে এক এক করে জাগিয়ে তুলে । মিম ঃ মেহজাবিন আপু আমার মনে হয় এখনি আমাদের যাওয়া উচিৎ । সায়মা ঃ মিম ঠিক বলছে । মেহজাবিন ঃ মোটেও না । আমরা এখানে এসেছি এখান থেকে এর রহস্য বের করে যাবো । সাক্ষর ঃ কিন্তু আপু , আজ তো বেচে গেছি , কাল যে ভূত গুলো আমাদের বাচিয়ে রাখবে তার নিশ্চয়তা কি ? সালাউদ্দিন ঃ বোকার মত কথা বলো কেন সাক্ষর ? আর ভয় পেলে গোয়েন্দা হতে এসেছো কেন ? রিসান ঃ কাকু তুমি কি ভূতগুলো খেয়াল করেছো ? আমার মনে হচ্ছে এগুলো ভীতু ভূত । ওরা তো চাইলেই আমাদের ক্ষতি করতে পারত । হটাৎ একটি দাড়িওয়াল লোক এসে হাজি হয়ে বলে । ওরা আজ মাফ করছে বলে যে কাল মাফ করবে তেমন কিছু না । ওরা খুবই হিংস্রপ্রেত । আজ আপনার না পালাইলে কাল আপনাদের সবার সব কিছু নিয়ে মাইরা ফেলবো । শিপন ঃ আপনি কে ? আপনি কি করে জানেন এতো কিছু ? আমার নাম জামান ।আমি এখানে থাকি অনেকদিন । সাক্ষর ঃ আপনাকে ভূত কিছু বলে না ? জামানঃ আমাকে বলে না , আমি ভূত রাশির । আচ্ছা যাই হোক , আপনারা চলে যান কেমন । আমি নৌকা ঠিক করে দিচ্ছি ।এখন না গেলে দুপুরের পর নৌকাও পাইবেন না । শিপন ঃ আচ্ছা বনের ভিতর ১টা বড় পোড়া বাড়ি দেখলাম , চারপাশে কাটাতারের বেরা । সাইনবোর্ড লাগানো আছে *** সামনে বিপদজনক এলাকা *** এটা কি ? জামান ঃ সর্বনাশ করে ফেলছেন , ওইতদুর চইলা গেছেন ? মরন আপনার অনিবার্জ । এক্ষনি পালান এইহান থেকে যদি বাচবার চান । বলে চলে যায় জমান ছেলেটি । সায়মা প্রায় কাদো কন্ঠে বলে সায়মা ঃ আমার মনে হয় আমাদের চলে যাওয়াই উচিৎ । সব কিছু ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে । প্রিয়া ঃ চলে যাবো মানে ? চলে যাওয়ার জন্য তো আসি নাই এখানে । আমার বন্ধু প্রীতির খোজ না নিয়ে আমি এখান থেকে কোথাও যাবো না । কৃ্ষ ঃ আসলেই তো , আমরা ভয় পাচ্ছি কেন ? আমরা গোয়েন্দা , এই টুকটাক রিস্ক আমাদের নিতেই হবে । শিপন ঃ শোন সবাই । আমরা এখন নাস্তা করবো । নাস্তা শেষ করে আমরা ২ দলে বিভক্ত হয়ে একদল যাবে বনে সেই বাড়িটির উপর নজর রাখতে আর একদল যাবে এখান থেকে লোকালয়ে যাওয়ার রাস্তা খুজতে । মেহজাবিন ঃ আমরা কাল কিছুটা খোজ নিয়েছি । কোথাও কিছু পাইনি । যেই কথা সেই কাজ । নাস্তা শেষ করে শিপন , রিসান্ , প্রিয়া, আলো আর মিম একদল হয়ে বনে যায় আর অন্যদিকে যায় মেহজাবিন , সালাউদ্দিন , সায়মা , সাক্ষর , কৃ্ষ ।২টার দিকে ফিরে আসে মেহজাবিন কৃ্ষ ওরা কিন্তু তখনো ফেরার খবর নাই শিপন্ দের । ওরা কোন পারাপারের ব্যাবস্থা পায় নি । তবে ১টা ভাংগা নঙ্কা পেয়েছে যেটা দিয়ে হয়তো বিপদের সময় উপকারে আসতে পারে । শিপন রা ৬টার দিকে ফিরে আসে । নাস্তা পানি খেয়ে সবাইকে নিয়ে নদির পাসে বসে গল্প করছে । শিপন ব্যাগ নিয়ে এসেছে । শিপন ঃ এইখানে ফোন নেটওয়ার্ক নাই । সম্ভবত ডিভাইস দিয়ে নেটয়ার্ক বন্ধ করা । আমার কাছে ৪টা ওয়াকিটকি আছে । এটা দিয়ে কোন বিপদে পরলে একজন আরেক জনের সাথে যোগাযোগ করবে । সালাউদ্দিন ঃ আমরা ৪টা টিমে ভাগ হয়ে যাই । যত বিপদে আসুক আমরা এই টিম থেকে বিভক্ত হবো না । রিসান ঃ ঠিক বলেছো । শিপন ঃ সালাউদ্দিন , মিম , আর কৃ্ষ একটিম , মেহজাবিন , সায়মা আর সাক্ষর একটি টিম , আমি , আলো আর রিসান একটিম । আর প্রিয়া নিজে একা । আমরা এখন থেকে সবাই প্রিয়া ক সবার নজরে রাখবো । প্রিয়ার এই মিশনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রাখবে । আলো ঃ ভাইয়া তোমার প্লানটা কি ? মেহজাবিন ঃ আজো ভুতেরা আমাদের উপর হামলা করবে । প্রিয়া এখানে আগেও এসেছে । প্রিয়া আর প্রিয়ার বন্ধু প্রিতি ২জনে এসেছিল । প্রিতিকে দানব রা উঠিয়ে নিয়ে যায় (হটাৎ আচমকা ভয় পায় মেহজাবিন ) একটা কাক এসে ওদের মাঝখানে পরে । খতবিক্ষত কাক , রক্ত ঝরছে শরির দিয়ে । পাখনার সাথে ১টা চিঠি বাধা । রিসান চিঠি নিয়ে বের করে পরে । **** সাবধান সাবধান যদি বাচতে চাস তাহলে এখনি পালা । নদীর উত্তর পাশের লাল পতাকার পাশে বোট আর মাঝী আছে ।**** সাক্ষর ঃ আমাদের যেন কে লক্ষ করছে । ঝোপটার পাশে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে আমাদের কথা শুনছে । ওরা সবাই একসাথে ঝোপের দিকে তাকায় , আর লুকিয়ে থাকা লোকটি হুরমুর করে পালিয়ে যায় । শিপন ঃ আচ্ছা আমরা এখান থেকে চলে যাই , রাত হয়ে গেছে । রুমে গিয়ে সবাই আড্ডা দেই । সবাই রুমে গিয়ে বসে আড্ডা দেয় । গল্প , কৌ্তুক , গানে মেতে উঠে । এতোটি মেতে থাকে যে লক্ষই করে নি যে ওদের জানালার পাশে একজন ওত পেতে ওদের দিকে নজর রাখছে । ৯টার দিকে সবাই একসাথে রাতের খাবার খায় । তারপর যে যার মত রুমে ফিরে যায় । গত দিনের মত আজও রাত ১২ টার পর আসে সেই দানব আর কুকুর গলো । সাথে যোগহয়েছে কিছু কংকাল আকৃ্তির কিছু একটা । এবার কিন্তু তারা আর আগের দিনের মত শুধু ভয় দেখিয়ে ক্ষ্রান্ত না । রিসোর্টে থাকা লোকদের উপর একরকম মারাত্তক আক্রমন চালাচ্ছে । ইতি মধে তাদের ছোরা আগুনে একজন পর্যটক আহতো হয় । শিপন ঃ সালাউদ্দিন তুই মিম আর কৃ্ষ এখনি গিয়ে দেখ অই বনের ভিতর বাড়ী টির অবস্থা । প্রিয়া তুমি সামনে যাও এগিয়ে । দানব গুলো এগিয়ে আসছে খুব । শিপন রুম থেকে তার ব্যগ নিয়ে আসে , ব্যাগ থেকে ১টা বাজী বের করে দানবের দিকে ছুরে দেয় । রঙ্গিন আগুন জেলে বাজিটি দানবের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে । বিশাল শব্দ করে ফেটে পরে । ভয়ে বের হয়ে যায় দানবের আসল রুপ । আসলে কয়েকটি মানুশ মিলে আর পোষাক পরে দানব আর ভূত সেজে সবাইকে ভয় দেখিয়েছে । ওরা পালিয়ে যাচ্ছে আর যাওয়ার সময় তুলে নিয়ে যাচ্ছে প্রিয়া কে । শিপন কিন্তু এটাই চাচ্ছিল । ওদের আসল আস্তানায় যাওয়ার এটাই সহজ উপায় । পিছনে পিছনে চলতে থাকে মেহজাবিন, সায়মা, সাক্ষর, শিপন, আলো আর রিসান । প্রিয়া কে নিয়ে যায় বনের ভিতর সেই বাড়িতে । তবে পিছনের দিক দিয়ে । সেখানে গিয়ে দেখা হয় সালাউদ্দিন এর সাথে । সালাউদ্দিন ঃ এরা ১টা বড় টিম তবে এখানে তেমন কেউ নাই । আমি ওদের নেটওয়ার্ক ডিভাইস অন করে দিছি । আর উপরে ১টা রুমে ১টা মেয়েকে আটকে রাখা আছে , সেখানে ২টা পাহাড়াদার আছে । আমিও কৃ্ষ কে রেখে এসেছি । ও নজর রাখছে । শিপন ঃ বোকা নাকি তুই ? অরে একা রেখে এসেছিস , ওর তো বিপদ হতে পারে । সায়মা ঃ চলো আমরা কৃশ এর কাছে যাই । শিপন ঃ রিসান , মোবাইল নেটওয়ার্ক আসছে । তুমি লোকাল পুলিস কে ব্যাপারটা জানাও । সালাউদ্দিন ঃ অইদিক দিয়ে চল ওরা সবাই পাসের ১টা ভাঙ্গাচোরা শিড়ি দিয়ে উপরে উঠে দেখে কৃষ ২টা লোকের সাথে একা মারামারি করছে । সাক্ষর এগিয়ে গিয়ে একজনকে কে ধরে মারতে শুরু করে । বাকি সবাইও এগিয়ে গিয়ে ধরে বাকি গুলোকে । কৃ্ষ ঃ আমি দেখি যে ওরা প্রিয়া আপুকে নিয়ে এসেছে , রুমটাতে তালা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে তখন কোনো উপায় না পেয়ে ঝাপিয়ে পরি । মেহজাবিন ঃ গুড বয় । আসো এখন প্রিয়া আর প্রিতিকে বের করি । সাক্ষর আর সালাউদ্দিন লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে দরজা । সেখানে গিয়ে দেখে প্রিয়া আর প্রিতিকে । প্রিতি খুব অসুস্থ হয়ে পরেছে । শিপন ঃ তোমরা ঠিক আছো ? …………………… চলবে >>>>>>>>>>>>>>>


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now