বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তন্ময় যেই আড্ডায় এসে বসলো ঝুমা মাথা নিচু করে
ফেললো।তন্ময় আড় চোখে একটু পর পর ঝুমার দিকে
তাকাচ্ছে।ঝুমা সম্ভবত সেটা বুঝতে পারছে না।কারণ
ঝুমা একবারও তন্ময়ের দিকে তাকাচ্ছে না।হয়তো ঝুমা
জানে তন্ময় যে তার দিকে তাকিয়ে আছে।তন্ময়ের পাশে
বসা রিদি যখন বললো..."ঝুমা হঠাৎ চুপ হয়ে গেলি কেন!
এতক্ষণ তো খুব বড় বড় কথা বলছিস।বাংলাদেশ জিতে
যাবে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল!
আরো যুক্তি দে না? তখন ঝুমা উঠে পড়লো।ঝুমা রিদির
দিকে তাকিয়ে একটা স্মিত হাসি দিলো এবং সেই হাসির
রেশটা তন্ময়ের দিকে তাকানো পর্যন্ত রইলো।তন্ময়
সবার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো যে সবাই তাকে
লক্ষ্য করছে কি না! না সবাই ঝুমার দিকে তাকিয়ে
আছে।তাই তন্ময় সরাসরি নিশ্চিন্তে ঝুমার চোখে চোখে
তাকালো।ঝুমা হাসির মাত্রাটা একটু বাড়িয়ে চলে গেল।
সবাই অবাক চোখে ঝুমার দিকে তাকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর তন্ময়ও উঠে পড়লো।
.
পার্কের একটা নিরিবিলি স্থানে তন্ময় একা একা বসে
আছে।বসে বসে ঝুমার কথা ভাবছে।ঝুমা কি আসলেই
সিরিয়াস হয়ে কথাগুলো বলছে! নাহ।ঝুমা হয়তো মজা
করছে।করতেই পারে।আগেও অনেকবার তন্ময়কে বোকা
বানিয়েছে।তবে ঝুমা এবার একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে
ফেলেছে।আবার সকালে তন্ময় সবার মাঝে আসতেই
কেমন রিএক্ট করা শুরু করলো! আবার এও হতে পারে
ঝুমা লজ্জিত। তাইতো তন্ময়কে দেখেই চুপ হয়ে গেছে।
চলে গেছে।
ঝুমার সাথে কথা বলা উচিৎ এই বিষয়ে।কিন্তু তন্ময়ও
কিভাবে এই বিষয়ে জানতে চাইবে।ঝুমা নিশ্চয় পুনরায়
তন্ময়কে বোকা বানাবে।তন্ময়কে লজ্জা দিবে।এইসব
ভাবতে লাগলো তন্ময়।
.
.
গতকাল রাতে তন্ময়কে ঝুমা ফোন দিয়ে
বলে..."তোমাকে খুব মিস করছি।তুমি কি মিস করছো
আমাকে?
তন্ময় খানিকক্ষণ চুপ হয়ে থাকলো। আসলে চুপ হয়ে
গেল এই কারণে যে, ঝুমা তাকে তুমি করে বলছে!কেন?
আবার মিস করছে! প্রতিদিনই তো ভার্সিটিতে কথা
হয়,দেখা হয়।তাহলে মিস করছে কিভাবে!
তন্ময় যখন কিছু বলতে যাবে তখন ওপাশ থেকে লাইন
কেটে গেল।
.
.
--এই তন্ময় কাল একজায়গায় যাব।যাবি আমার সাথে?
তন্ময় পার্ক থেকে চলে আসার পর ঘরে বসে বসে টিভি
দেখছিল।রিদি ফোন দিল।ফোন দিয়ে এই কথা বললো।
--কই যাবি?
-- আরে ইয়ার ঝুমা আছে সাথে।যাবিতো?
--না যাব না।
--কেন?
--এমনি।
তন্ময় ফোন রেখে দিল।এটা কি হলো! রিদি এভাবে বলে
কি বুঝাতে চাইলো? ঝুমার কথা এভাবে বলার মানে?
.
.
.
ফর্সা গোলগাল চেহারার একটা মেয়ে প্রাইভেট রুমে
ডুকলো।তন্ময়ের বিপরীত পাশে সরাসরি বসলো। তন্ময়
তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে।মেয়েটা কি নতুন আমাদের
ভার্সিটি এসেছে? দারুণ তো দেখতে! মেয়েটা তন্ময়ের
সরাসরি বসেও একবার তন্ময়ের দিকে তাকাচ্ছে না।কি
ভাব!
প্রাইভেট পড়া শেষে তন্ময় মেয়েটার পিছু পিছু ভার্সিটি
যাচ্ছে।প্রাইভেট স্যারের বাসা থেকে ভার্সিটি খুব
একটা দূরে নয়।মিনিট পাঁচেক লাগে।তাই কিচ্ছুক্ষণ পিছু
হাটার পর তন্ময় থামলো। থেমে গেল এইকারণে যে
মেয়েটা প্রথম দিকে ধীরে ধীরে হাটলেও কিচ্ছুক্ষণ
যাওয়ার পর বড় বড় পা ফেলে যেতে লাগলো, মনে হচ্ছে
মেয়েটা তন্ময়কে এড়িয়ে চলছে।এই দেখে তন্ময়ের
খানিক পিছনে থাকা তন্ময়ের ফ্রেন্ডরা হেসে ফেললো।
তন্ময় লজ্জাবোধ করলো।তন্ময়ের ফ্রেন্ডরা তন্ময়ের
কাছে আসলো। রিদি বললো...
--কিরে মেয়েটাকে ফলো করছিস কেন? নতুন এসেছে
সম্ভবত। আর আসতেই তর নজর!
.
.
.
--কি হলো বোবা হয়ে গেছিস?
রিদির কথায় তন্ময় একবার ঝুমার দিকে তাকায় তারপর
রিদির দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে না বলে।রিদির
একটানা ফোনে তন্ময় বিরক্ত হয়ে বেড়াতে চলে আসে।
একটা লেকের পাড়ে বসে আছে ঝুমা, তন্ময় ও রিদি।
রিদি তন্ময়ের বাম পাশে বসে আছে আর ঝুমা ডান
পাশটায়।রিদি ঝুমা ও তন্ময়ের চুপ থাকা দেখে আবার
বললো...
-- আমরা তিনজন খুব ভালো বন্ধু তাই না!
ঝুমা বললো...
-- হুম।কেনো?
--না।আমরা কি পারবো সারাজীবন এভাবে তিনটা বন্ধু
হয়ে থাকতে।পারবো কি শুধু বন্ধু হয়ে থাকতে?
--হা।কিন্তু কেন এইকথাগুলো বলছিস রিদি?।জানতে
পারি?
--না আমার মনে শংকা জাগে তো তাই।
--আজব তো। আমরা অনেক ক্লোজ তাইনা?বেশি আপন
ভাবি তো তাই শংকাও কাজ করে।ঠিক বলছিনা তন্ময়?
এইকথা বলে ঝুমা তন্ময়ের দিকে তাকায়।তাকিয়ে মৃদু
হাসে।তন্ময় ঝুমার কথায় মাথা নেড়ে সায় দিয়ে ঝুমার
দিকে তাকিয়ে থাকে।রিদি বিরক্ত হয়।রিদি তন্ময়কে
একটা ধাক্কা দেয়।
.
.
.
ক্লাসে বসে তন্ময় মেয়েটার দিকে আড়চোখে ঘন ঘন
তাকাচ্ছে।মেয়েটা একবারও তাকাচ্ছে না আশ্চর্য!
তাকিয়ে তো একবার দেখা উচিৎ।মেয়েটা সম্ভবত খুব
ভাবুক টাইপের।তন্ময় এসব ভাবতে লাগলো।
এভাবে তন্ময় কয়েকদিন ধরে মেয়েটাকে প্রচুর ফলো
করতো।প্রাইভেট থেকে শুরু করে ক্লাসে।এইকয়দিন
মেয়েটাকে ফলো করে তন্ময় যা জানলো তার বিস্তারিত
হলো এই........মেয়েটার নাম ঝুমা।ঝুমা ছেলেদের সাথে
মোটেও কথা বলা পছন্দ করে না।খুব প্রয়োজনে হাই
হ্যালো আর দরকার সেরেই বাই।ব্যাস এতটুকু!
তবে মেয়েদের সাথে প্রচুর কথা বলতে পারে।তন্ময়ের
ফ্রেন্ড রিদির সাথে তো বেশ আড্ডা দেয়।ছেলেদের
প্রতি অনাগ্রহ তন্ময়কে ঝুমার প্রতি আরো বেশি
আকৃষ্ট করলো।যে করেই হোক ঝুমাকে বন্ধু বানাবেই
বানাবেই।তন্ময় ঝুমাকে প্রাইভেট থেকে শুরু করে ক্লাস
পর্যন্ত ফলো করা শুরু করলো।ঝুমা বুঝেও না বুঝার
ভান করে থাকতো। তন্ময় অবাক হতো।এভাবে কিছুদিন
যাওয়ার পর একদিন প্রাইভেট থেকে ফিরতে তন্ময়
মেয়েটার হাত ধরে থামায়।মেয়েটা তন্ময়ের দিকে অবাক
চোখে তাকায়।তন্ময় বলে...
--আপনার কিসের এতো ভাব।হু? আপনার মতো অনেক
মেয়েকে দেখেছি এরকমভাবে ভাব দেখাতে আর শেষে
ডিং ডিং করে ছেলেদেরকে পটিয়ে প্রেমে ফেলতে।যাস্ট
আপনাকে দেখে ভালো লাগছিল।বন্ধু স্বভাবের মনে
হয়েছিল।তাই কথা বলতে চেয়েছিলাম। ফ্রেন্ড হতে
চেয়েছিলাম। একই ক্লাসের অথচ ক্লাসমেটের সাথেও
ভাব!
কথাগুলো বলে তন্ময় আর অপেক্ষা করেনি উত্তর
শুনার জন্য।ক্লাসে চলে আসে।
.
.
.
লেকে তিনজনে কিছু সময় পার করার পর চলে আসে।
তন্ময়ের কিছু ভালো লাগছে না।ঝুমা ওইদিন ফোন দিলো
যে আর দেয়ও না।ঠিকমতো কথা বলেনা।ওইদিন ফোন
দিয়ে ওভাবে কথা বলার দরকারটা কি ছিল? আর যা
বলেছে তা মোটেও তন্ময়ের কাছে স্বাভাবিক লাগছে
না।তন্ময় কিভাবে বলবে, "ঝুমা তুই এভাবে তুমি করে
কথা বলছিস কেনো? তোকে মিস করবো কেন।প্রতিদিনই
তো ভার্সিটিতে দেখা হয়।" কিন্তু তন্ময় ঝুমার সামনে
গেলে কেন যেন বলতে পারছে না।ঝুমা শুধু কেমনভাবে
কথা বলে যেন।শুধু হাসে চোখে চোখে চেয়ে!
আচ্ছা ঝুমা কি মজার সর্বোচ্চটা করছে? নাকি সত্যি!
নাহ সত্যি হবে কেনো! ঝুমা কতো ভালো বন্ধু আর সে
কিনা!ধ্যাত কি যা তা ভাবনা।
.
.
.
"কি হলো বন্ধু হতে চেয়ে কোথায় পালিয়েছিলেন? খুব
তো বড় বড় কথা বলেছিলেন।ভয় পাইছিলেন?
.
তন্ময় ঝুমার দিকে অনেকটা আশ্চর্য চোখে তাকায়।
তন্ময় চার,পাঁচ দিন ভার্সিটি আসেনি।অনেকটা ভয়
পেয়েই!নতুন এসেছে আর এভাবে ফোর্স করায় যদি
প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে কমপ্লেন করে!
ক্লাসে তন্ময় একদম পিছে বসেছিল। যেখান থেকে
ঝুমাকে দেখা যায় না।হঠাৎ করে ঝুমা সামনে এসে
কথাগুলা বললো।তন্ময় নিজেকে ঠিক করে নিয়ে তারপর
বলে...
-- না আসলে শরীর ভালো না তাই।আমার ওরকমভাবে
আপনার সাথে আচরণ করা ঠিক হয়নি।আমি সরি।
-- না সরি না।
-- কেন?
--ফ্রেন্ডে সরি টরি বলা ঠিক না।
--তাই?
--হুম।
-- কেমন আছেন?
-- নো আপনি।তুই! ডান?
--ইয়ে মানে প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হবে।
-- ইট্স ওকে।
.
এভাবে তন্ময় ঝুমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়।ক্লাসে
তন্ময়ের মেয়ে ফ্রেন্ড বলতে রিদিই ছিল ভালো
ফ্রেন্ড।এখন ঝুমা যোগ হলো।তন্ময়ের খুব ভালো
লাগলো এইভেবে যে,এখন তার দুইটা কিউট বান্ধবী
আছে।যাদের সাথে খুব মিশতে পারবে।যখন খুশি তাদের
সাথে যেকোন জায়গায় বেড়াতে যেতে পারবে।তন্ময়ের
ইচ্ছেই ছিল যখন কলেজ লেভেল কিংবা ভার্সিটি
লেভেলে আসবে তার ছেলে বন্ধুর পাশাপাশি ভালো মেয়ে
বন্ধুও থাকবে!
যাদের সাথে এভাবে হাসিখুশী ও আনন্দে কাটিয়ে দিবে
লেখাপড়া জীবন।ফোনে কোনো এক বান্ধবী বলবে,, ওই
ছাগল আজ ভার্সিটি আসবি না?,,ওই পাগল তুই আমার
ভ্যানিটিব্যাগ চুরি করছস?,,ওই তোরমতো বলদের
কপালে কোনোদিন জিএফ জুটবে না... কোনো এক
বান্ধবী ফুচকা খেতে খেতে বলবে ওই তোর শরম করেনা
মেয়েদের কাছে টাকা চাইতে আসছিস?.....ফেসবুকে বিনা
অনুমতিতেই ট্যাগ দিয়ে জ্বালাবে,,মজা করে
রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিবে,অতঃপর কমেন্টে বান্ধবীরা
বলবে তোর মতো ছাগলের জুটবে জিএফ! বান্ধবী নিয়ে
এরকম নানান স্বপ্ন ছিল তন্ময়ের।
.
রিদি তন্ময়কে তেমন একটা সময় দেয় না।সারাদিন
ব্যাস্ত থাকে।আজ ফাংশন থাকে তো কাল আড্ডায়
আড্ডায় থাকে,এই প্ল্যান সেই প্ল্যান।রাতে তন্ময়
ফোন দিয়ে যদি বলে..দোস্ত দিনে তো বিজি থাকিস
এখন আমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বল,আমাকে সময় দে।
রিদি ওপাশ থেকে দুএকটা কথা বলেই বলে দিবে,, আরে
দোস্ত প্রতিদিন তো দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে। এখন রাখি
রে খুব টায়ার্ড। কাল বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি নিয়ে
আলোচনা হবে,এই সেই।
তন্ময় ফোন কেটে দিয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে।
.
.
.
ক্রিং. ক্রিং. ক্রিং
--লেকের পাড়ের কথা কি মনে আছে?
--কি কথা?
-- রিদির!
বলেই ঝুমা একটা হাসি দেয়।মিষ্টি সে হাসি।সামনাসামনি
শুনলে যতটুকু ভালো লাগে ফোনে আরো বেশি ভালো
লাগে তন্ময়ের।
বাসায় এসে অনেকক্ষণ ধরে রিদির আর ঝুমার কথা
ভাবছিলো তন্ময়।রিদি একরকম প্ল্যান করে ডেকে
নিয়ে ঝুমাকে আর তন্ময়কে ফ্রেন্ডস থাকার প্রস্তাব
দিলো। রিদি কি বুঝাতে চাইলো? ফ্রেন্ডস কি থাকছি না
আমরা? কেন এতো শংকা?
এসব চিন্তা করছিল তন্ময়।একসময় ঝুমা ফোন দেয়।
--কি হলো চুপ কেনো? রিদির কথা কি মাথায় কিছু
ডুকেছে বস?
তন্ময় ভাবনা থামিয়ে বলে....
-- রিদি যা বলছে তা কেন মেনে নিবো?
-- এতো সাহস! রিদি বলে তুমি বোকা,ভীরু।
-- শুধু রিদি আর রিদি।আমি আমার মতো। আমার যা
ইচ্ছা তাই করবো।ঝুমা একটা কথা বলি?
তন্ময় কথাটা বলার পর ঝুমা চুপ হয়ে যায়।কিছুক্ষণ
নীরবতা চলার পর তন্ময় আবার বলে...
-- কি হলো চুপ কেনো?
-- আমি জানি কি বলবা!
-- কি?
-- আমি কেন তুমি করে বলছি।কেন ওইদিন ফোন করে
বলছি তোমাকে মিস করছি। আমার ইচ্ছা হয়েছে বলেছি।
একশোবার বলবো।তুই ভালো লাগেনা তোমাকে বলতে।
কেন সমস্যা?
-- না।কিন্তু কেন বলবে?
তন্ময় শুধু একটা নিঃশ্বাসের শব্দই শুনতে পায়।অতঃপর
লাইনটা কেটে যায়। ঝুমা এমন কেন? আসলেই অদ্ভুত!
অদ্ভুত তার আচরণ!
.
.
.
রিদির ব্যস্ত ফ্রেন্ডশিপ তন্ময়ের ভালো লাগছে না।।
তারপর ঝুমার সাথে পরিচয়।ঝুমা অনেকটা ফ্রি
মাইন্ডের।প্রথম যখন ঝুমাকে দেখছিল তখন অনেক
ভাবুক মনে হয়েছিল।কিন্তু বন্ধুত্ব হওয়ার পর ঝুমার
সাথে চলাফেরা করে বুঝলো যে ঝুমাকে যেমন টাইপের
ভেবেছিল আসলে ঝুমা তেমন নয়।অনেক মিশুক,অনেক
ফ্রেন্ডলি,অনেক ফুর্তিবাজ। এতসব গুণ থাকা
সত্ত্বেও ঝুমার যে দিকটা বদ টাইপের খুবই বদ টাইপের
মনে হতো তন্ময়ের কাছে সেটা হলো আচমকা তন্ময়কে
চমকে দিতো। তন্ময় সেটা বাস্তব ভাবতো, তারপর ঝুমা
তন্ময়কে বোকা বানাতো। ঝুমার পাগলামি গুলো মাঝে
মাঝে তন্ময়কে ভাবায়,খুব ভাবায়।কি আছে ওই
পাগলামিগুলোতে!
.
.
.
"এই তন্ময় শোনো আমি চলে যাব।
ঝুমার সাথে ওইদিন ফোনে কথা বলার পর তন্ময় প্রায়
এক সপ্তাহ ভার্সিটি যায়নি। ঝুমা,রিদি অনেক ফোন
দিয়ে জানতে চাইতো কেন আসছে না।শরীর খারাপ বলে
তন্ময় লাইন কেটে দিতো।এক সপ্তাহ পর ভার্সিটি
আসার পর তন্ময় ক্যাম্পাসে একা একা বসে আছে।
হঠাৎ ঝুমা কোথা হতে তন্ময়ের সামনে এসে কথাগুলো
বলে।তন্ময় ঝুমার দিকে চোখ তুলে তাকায়।ঝুমার
চোখেমুখে উৎকণ্ঠার চাপ।তন্ময় জানতে চায় না ঝুমা
কই যাবে।কেন যেন ইচ্ছে হয় না জানতে।ঝুমার সাথে
সেইরাতে ফোনে কথাবলার পর তন্ময়ের মাথায় যেন
অদ্ভুত সব ভাবনা কাজ করে।সকল ভাবনাই ঝুমাকে
ঘিরে।ভাবনাগুলো এতই স্বার্থপরতা ভরপুর ছিল যে
তন্ময় নিজেকে নিজে কন্ট্রোল করতে পারছিল না।তাই
কিছুদিন ভার্সিটি আসেনি।
.
তন্ময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বলে...
-- কই যাবে?
-- এখান থেকে।এখানে আর পড়বো না।আমাকে মনে
রাখিও কেমন?
-- আচ্ছা।
--এতো সংক্ষিপ্ত কথা?
-- সংক্ষিপ্ত বলবো নাতো লেলিয়ে লেলিয়ে বলবো
যাইয়ো না গো।তোমাকে মিস করবো।তোমার সাথে
কাটানো মুহুর্তগুলো মিস করবো।এসব বলবো?
--না।
-- তাহলে?
-- কিছুনা।আমার সাথে ঘুরতে যাবে।চলো না প্লীজ।
আরতো বলবো না।আর পাবেও না আমাকে।
.
তন্ময় ঝুমার দিকে তাকায়।ঝুমার চোখে চোখে তাকিয়ে
থাকে।ঝুমা অস্বস্তিবোধ করে।ঝুমা সুক্ষ কাশি দেয়।
তন্ময় চোখ নামিয়ে ফেলে।
-- যাবে কি?
--আচ্ছা।
তন্ময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয়ে যায়।কি এক
অদ্ভুত মায়া!
.
ঝুমা চলে যাক তাতে আমার কি।আমি খুব পারবো একা
থাকতে।রিদি আমার সাথে নিয়ম রক্ষার বন্ধুত্ব করে।
সময় দেয় না।আমি কি পারছিনা সময় কাটাতে!
ঝুমাও চলে যাক।অনেক দূরে! আমি বোকা বলে সবাই
আমাকে নিয়ে খেলে মজা করে।সব বুঝি।রিদি মজা করে,
ঝুমাও। সবাই! এসব মনে মনে ভাবতে লাগলো তন্ময়।
.
-- আমাকে ভুলে থাকতে পারবা?
তন্ময়ের কেন যেন খুব ইচ্ছে করছে ঝুমাকে কিছু
বলতে। একটা পার্কে এসে অনেক ঘুরাঘুরি করার পর
তন্ময় আর ঝুমা একটা জায়গায় বসলো। অনেকক্ষণ
নীরব থাকলো দুজন। তারপর নীরবতা ভেঙ্গে ঝুমা
ওইকথা বললো।তন্ময়কে কিছু বলতে হবে ঝুমাকে।চলে
তো যাবেই।আর তো দেখা হবে না!
-- পারবো তো।খুব পারবো।তুই পারবি?
-- তুমি পারলে তো পারবোই।
-- আমি না পারলে?
-- এই আমি কিন্তু আমাদের বন্ধুত্ব অনেকদিন মনে
রাখবো। আর ফেসবুক, ফোনে তো যোগাযোগ হবে তাইনা।
-- তাইতো!
-- শোনো তন্ময় তুমি খুব ভালো।অনেক বোকা টাইপের।
কিন্তু এতো বোকা!এতো বোকা আমি বুঝতে পারিনি।
সত্যি পারিনি।
-- এখন তো পারছিস?
-- হু পারছি।মনে হচ্ছে তোমাকে নিয়ম করে থাপ্পড়
মারি।সকালে একবার, বিকালে দুবার।রাতে একবার।
-- মার না।মার,,মার! চলেই তো যাবি। ইচ্ছেপূরণ করে
নে।
-- চলেই তো যাবি।চলেই যাবি।ভ্যাঁ ভ্যাঁ।
-- ভ্যাংচি দিতেছিস?
-- হু।
-- কেন?
-- বারবার এক কথা শুনতে ভালো লাগেনা রে তন্ময়।
নতুন কিছু শুনতে ইচ্ছে করে তোমার মুখ থেকে।বড্ড যে
তৃষ্ণার্ত আমি।
-- কি বলবো? নতুন কিছু শুনালেও যে কাজ দিবে নারে।
তারচেয়ে বরং কবিতা বলি। শুনবি?
-- খবরদার মোড খারাপ এমনিতেই।তোর ছাগলামী বাণী
একটুকু উচ্চারণ করছিস তো!
--তুই করে ডাকটা শুনতে ভালো লাগে।আবার ডাকনা
ঝুমা।প্লীজ?
-- না।চল ফিরি। অনেক হয়েছে।আর কাজ হবেনা।
-- কি কাজ?
-- কিছুনা। নতুন কিছু শুনালে ফোন দিয়ে শুনাইও।
-- এখন শুনাবো?
-- পারবা তুমি? তোমার মতো বোকা, গর্দভে পারবে?
-- বার বার বোকা বোকা আর ভালো লাগেনা।একদম না।
-- আচ্ছা আর বলবো না।এখন বলো প্লীজ?
-- আমি প্রেমে পড়েছি।
--হা হা।বোকা প্রেমে পড়েছে বুঝি।কে সেই হতভাগী?
যাবার আগে নামটা শুনে যাই!
-- তুই।
তন্ময় তুই বলে ঝুমার দিকে তাকায়।ঝুমা মুহুর্তের মধ্যে
হাসি থামিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকায় তন্ময়ের দিকে।
তন্ময় চোখ নামিয়ে ফেলে।তন্ময় ভীষণ লজ্জাবোধ
করে।কি থেকে কি বলেছে! না জানি এখন ঝুমা কেমন
রিএক্ট করে।করলে করুক।চলে তো যাবে।দূর থেকে
আমার কথা ঝুমার ভাবতে যদি এমন একটা কথা বলা
যায় তাহলে একশোবার বলবো।এসব তন্ময় ভাবতে
থাকে।
-- আরেকবার বলবে?
ঝুমার মুখ থেকে এমন কথা শুনে আচমকা শক খায়
এমনভাবে মাথা ঘুরিয়ে ঝুমার দিকে তাকালো তন্ময়।
তন্ময় স্বপ্ন দেখছে নাতো! ঝুমা আবার শুনতে চায়!
মজা করে চলে যাবে এই প্ল্যান করছে নাতো!
-- কেন মজা করছিস ঝুমা।আরতো দেখা হবে না।আজ
আর আমাকে বোকা বানাস না প্লীজ!
-- মজা নাতো। বলবে আবার?
-- আমি তোর প্রেমে পড়েছি।তোকে ভালোবেসে ফেলেছি।
তন্ময় অনেকটা হেসে হেসে বলে। ঝুমা তন্ময়ের ঠোঁটে
হাতদিয়ে হাসি থামায়।তারপর বলে....
--- এইকথা শুনতে আমাকে এতো গেম খেলতে হলো!
বোকারে তোমার সাথে ক্লোজ হবার পর তোমার
কেয়ারিং,তোমার সারল্য, তোমার অদ্ভুত সব কাজকর্ম
অনেক দুর্বল করে দিয়েছিল তোমার প্রতি। তোমার সে
খেয়াল আছে?
-- সত্যি আমাকে ভালোবাসিস?
-- হু।
-- স্বপ্ন দেখছি নাতো?
-- না
-- গেম কি?
-- রিদিকে বলি সবটা।রিদির কথামতো সব হয়।রিদি শুধু
বন্ধু বন্ধু থাকতে বলছিল তোমার রিএকশনটা বুঝতে।
দুর্ভাগ্য তুমি নির্লিপ্ত। ফোন দিয়ে তুমি করে বলা শুরু
করি,মিস করি বলি।তবুই তুমি নির্লিপ্ত!
চলে যাব ভার্সিটি ছেড়ে।তবুও.....!
ঝুমা আর বলতে পারেনা।চুপ হয়ে যায়।বহুদিনের
জমেথাকা জলবিন্দুগুলো হন্য হয়ে চোখের পাতা ভেদ
করে পড়ে। তন্ময় খুব সুন্দর করে মুছে দেয়।এক
ফোটাও মাটিতে পড়তে দেয়না।কোনোভাবেই পড়তে
দেওয়া যাবেনা।
.
কেউ একজন তার মতো করে আড়াল থেকে থাকে
ভালোবাসছে অথচ তন্ময় সেটা জানেই না! তন্ময় কতো
বোকা!
তন্ময় ঝুমার হাতটা খুব শক্ত করে ধরে।ঝুমা মাথা নিচু
করে নেয়।
--ছেড়ে যাবে নাতো?
এইটুকু বলে ঝুমা তন্ময়ের দিকে থাকায়।কঠিন সে
দৃষ্টি। কঠিন হলেও সে দৃষ্টি ভালোবাসা ভরপুর। তন্ময়
সেটা জানে।জানে বলেই তো তন্ময় মাথা নেড়ে সায়
দিলো।সেই মাথা নাড়ানোতে ঝুমা বুঝে গিয়েছে বোকাটা
কখনো ছেড়ে যাবেনা।বোকাটা বোকা হলেও অনেক
ভালো। ছেড়ে যাবেনা।কখনোই না!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now