বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- এই শোনো না। (তানহা)
- বলো,শুনছি তো। (আমি)
- কালকে তো তোমার ছুটি, চলো না কোথায় বেড়িয়ে আসি।এই ফাঁকে না হয় তুমি চটপটি খাওয়ালে আমায়।
- বলো কি!
- হুম।বিয়ের আগে তুমি তো কত জায়গায় ঘুরাতে।চটপটি, ফুচকা খাওয়াতে।আর এখন একদম পঁচা হয়ে গেছো।
- তাই বুঝি!
.
তাহনার কথা শুনে না হেসে পারলাম না।আসলেই তো,ইদানিং ওকে একদমই সময় দেয়া হচ্ছে না।মেয়েটার খুব অভিমান,কিন্তু সহজে বুঝা যায় না।
.
তানহাকে হ্যাঁ বলে দিলাম।ওর প্রস্তাবে রাজি হওয়াতে আমাকে একটা চুমু দিয়ে রান্নাঘরের দিকে ছুটলো।আমিও হেসেই যাচ্ছি।পাগলিটা বেশ ভালো।আমাকে খুব ভালো লাগে ওর পাগলামি।
.
তানহা আর আমার বিয়েটার সূত্রপাত ভালোবাসা থেকেই।তারপর আমার বাবা-মাকে বলে ওর বাড়িতে বিয়ের পয়গাম পাঠানো।অতঃপর সেই দিনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে যেটা আমরা চেয়েছিলাম।
.
আব্বা আম্মাও তানহাকে নিজেদের মেয়ের মতো ভালোবাসে। কারণ আমার কোন বোন নেই।একজন বড় ভাই আছেন তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী।বউ,ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সেখানেই থাকেন।অবশ্য খোঁজ খবর নেন পর্যাপ্ত পরিমান।বছরে কয়েকটি দিনের জন্য ঘুরতে আসেন বাড়িতে।ছুটি শেষ হলে আবার চলে যান।
.
টিভির রিমোটটা নিয়ে খেলার চ্যানেলটা অন করলাম।খেলা হচ্ছিলো। বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের হাইলাইস।অবশ্য সে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিলো।তবুও বাংলাদেশের খেলা দেখি।কারণ,আমার দেশ,আমার অহংকার।
.
তানহা টেবিলে খাবার রেডি করে আমাকে খেতে ডাকছে। টিভি অফ বাথরুমে গেলাম ফ্রেস হওয়ার জন্য।টেবিলে গিয়ে দেখি আব্বা আর আম্মা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।বসে পড়লাম চেয়ারে।কথা বলতে বলতে খাওয়া শেষ করে উঠে পড়লাম।
.
পরদিন.........
- এই শুনছো? এই........ (তানহা)
- বলো কি বলবে? (অস্পষ্ট স্বরে বললাম)
- আজকে না যাওয়ার কথা।
- কোথায় যাওয়ার কথা?
- ভুলে গেলে? আমাকে নিয়ে ঘুরতে।
.
তানহার কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে উঠে পড়লাম।সকালে নাস্তা খাওয়ার পর আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।ফ্রেস হয়ে তানহাকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম।
ওকে বেশ সুন্দর লাগছিলো।লাল শাড়ি সাথে হালকা ইমিটিয়েশনের গহনা।
.
রিক্সায় উঠেছি।তানহা আমার পাশে।আমার ডান হাতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে।তানহার এলোকেশী চুলগুলো হালকা বাতাসে উড়ে আমার মুখের উপর পড়ছে।বেশ রোমান্টিক দৃশ্য।
.
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললো।পার্কে বসে দুজনে চটপটি খাওয়ার কাজটা সমাপ্ত করলাম।বিলটা পরিশোধ করে দুজনে হাঁটছি।হাঁটতে ভালোই লাগছে।বিয়ের আগে এভাবেই পার্কে হাঁটতাম বা বসে বসে সময় কাটাতাম।সেই দিনগুলো কালের আবর্তনে হারিয়ে গেছে।
.
দুজনে একটা গাছের নিচে বসে পড়লাম।আমার ঘাড়ের উপর মাথা রেখে একেরপর এক কথা বলেই যাচ্ছে তানহা।আমি শুধু তানহাকে তার উত্তর দিয়ে যাচ্ছি।আকাশে খানিকটা মেঘ জমে গেছে।পার্ক থেকে আস্তে আস্তে লোকজন চলে যাচ্ছে।
.
- তানহা চলো চলে যাই।
- আর একটু থাকি প্লিজ।
- দেখ আকাশে মেঘ করেছে।
- করুক না।অনেকদিন বৃষ্টিতে ভিজি না।আজ দুজনেই ভিজবো।কি বলো?
- তুমি কি সত্যি সত্যি পাগলি হয়েছো তানহা?
- পাগলি? তোমার মনে আছে? বিয়ের আগে আমরা একবার বৃষ্টি বিলাস করেছিলাম।
- খুব মনে আছে।
- তাহলে আজকেও ভিজি প্লিজ।
.
আমি আর না করতে পারলাম না।টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে আরম্ভ করেছে।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হবার উপক্রম।পার্কের ছোট রাস্তা দিয়ে দুজনে দুজনের হাত ধরে হাঁটছি। বৃষ্টি আমার সারা শরীর ভিজে দিয়েছে।তানহা খুব মজা পেয়েছে।ওর মুখে দেখলাম সুখের এক ফালি হাসি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now