বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরোপকারী মানুষ : একটি অন্যরকম ভালোবাসার গল্প

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মানসূর আহমাদ (০ পয়েন্ট)

X -এইযে ভাইয়া একটু শুনুন। -আমাকে বলছেন। -জ্বী হ্যাঁ আপনাকেই বলছি। -বলুন কি বলবেন। -একটি হেল্প করবেন প্লিজ। -আমি কি সাহায্য করার বস্তা খুলেছি নাকি। -দেখুন আপনার কাছে কেউ হেল্প চাইতে এলে আপনি সেটা করে দেন, আমি এখন অনেক বড় বিপদে আছি। -বলুন কি সমস্যা আপনার। -আমার এক বান্ধবির এ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন খুব জরুরি। তার ছেলের অপারেশন করানো লাগবে। -তো আমি কি করব। -আপনে একটু হেল্প করলে সমস্যা টা দ্রুতভাবে সমাধান করা সম্ভব। -ঠিক আছে, কবে লাগবে রক্ত। -আজকেই বিকালে লাগবে। - আপনার মোবাইল নাম্বার টা দিয়ে যান রক্ত পেলে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেবো। -না মানে ফোন নাম্বার না দিলে হবে না। -এই আপনি নিজেকে কি ভাবুন, বিশ্বসুন্দরী। সমস্যা আপনার আর ফোন নাম্বার দিবেন না। -আসলে ভাইয়া। -এই যান তো যান আমি পারব না, আপনার সমস্যা সমাধান করতে। -আচছা আমি একটা কাগজে লিখে দিচিছ ঠিকানা। -ওকে দেন। .. .. -মেয়েটি ঠিকানা লিখে দিয়ে চলে গেলো। আমি এদিকে রক্তের খোঁজ শুরু করে দিলাম। -বিকালের দিকে রক্ত নিয়ে মেয়েটির দেওয়া ঠিকানাই চলে গেলাম। -এইটা কি আপনের বাসা। -হুম কেনো। -না একটি মেয়ে রক্তের জন্য বলেছিলো, আর এই ঠিকানাটা দিয়েছে। -হ্যাঁ, আমার ছেলের অপারেশন করবে আজকে রাতে। -ওহ এইযে নিন । আর কোন সমস্যা হলে জানাবেন। -ভেতরে আসুন -না থাক আজকে যাবো না অন্যদিন এসে থেকে যাবো একদিন। . -সেখান থেকে চলে আসলাম। -আজকে সেই মেয়েটি আবার আসছে। -এইযে ভাইয়া আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। -কেনো? -সেদিনের সমস্যা সমাধান করে দেবার জন্য। -ওকে আর কিছু বলবেন? -আমার নাম ভ্রমর। আমি এখানেই থাকি। আর এই কলেজেই পড়াশোনা করি।আপনি? -রাফি, এখানেই পড়ি,আর এখানেই বাসা । আর কিছু বলবেন। -না, তবে একটা রিকুয়েষ্ট করব রাখবেন, -কি? -আমরা কি বন্ধু হতে পারি না । -ওকে। এখন যান তো। -মেয়েটি রাফির এমন কথা শুনে রাগে গজগজ করতে চলে গেলো। -রাফি শুধু দেখলো আর হাসতে থাকল। .. -এইযে ভ্রমর একটু শুনবেন। -হ্যাঁ বলুন কি বলবেন। -একটু সমস্যাই পড়ছি যদি হেল্প করতেন। -আপনার সমস্যা। -কেনো হতে পারে না। -না আমি কি সেটা বলছি । -ওকে বলুন কি করতে হবে । -আমার এখন ২ হাজার টাকা লাগবে যদি দিতেন। পরে দিয়ে দিবো । -কেনো? -না মানে একটু জরুরি প্রয়োজন তো, কালকেই দিয়ে দিবো। -ওকে দাড়ান আমি দিচিছ। -ভ্রমর রাফিকে ২ হাজার টাকা ধার দিলো। -এইযে শুনুন আমার কাছে যেকোন সমস্যা নিয়ে আসবেন আমি সেটা সমাধান করে দেবার চেষ্টা করব। -রাফি মুচকি হাঁসি দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। .. -এইযে নিন আপনার দুই হাজার টাকা। -না লাগবে না ওটা আপনার কাছেই রাখুন। -হা হা হা, এটা আমি আপনার কাছে থেকে ধার করেছি, আর এটা আপনাকে নিতেই হবে। -আচছা দেন। -কিছু প্রশ্ন করি।(ভ্রমর) -হুম করেন। -আপনি যে এইসব কাজগুলো করেন কেনো। -কি কাজ। -এইযে সবার উপকার। -এতে আমার ভালো লাগে তাই। -এইসব বাদ দিয়ে একটা চাকরি করলেও তো পারেন। -হা হা হা হা । -আজীব তো হাসেন কেনো । -আপনার কথা শুনে । -আমি তো ভালো কথাই বললাম। -তাহলে এসকল মানুষদের কি হবে। এরা যদি আমার একটু কষ্টের কারনে জীবন ফিরে পায়, সমস্যা হতে মুক্তি পায়, তাহলে কি চাকরি করলে এগুলো করতে পারব না । তখন এদের সমস্যা সমাধান হবে না। -আর কেউ নেই যে আপনাকে এসব করা লাগবে । -আচ্ছা আপনার সাথে কথা বাড়িয়ে লাভ নাই আমার কাজ আছে, আমি এখন আসি। .. -ভ্রমর রাফির কথা শুনে ভাবতে শুরু করল, এটা কেমন ছেলে? ভালো কথা বললেও তো দেখি বুঝে না। এর ব্যাপারে আমাকে খোঁজ নিতে হবে। ভ্রমর এরপর থেকে রাফির সম্পর্কে জানতে শুরু করল। ভ্রমর রাফির সম্পর্কে সব জানতে পারে। ভ্রমর সব কিছু জেনে তো অবাক হয়ে যায়। কেননা এই রাফির কারনেই আজ অনেকে বেঁচে আছে। সেদিনের দুই হাজার টাকা রাফি কয়েকটি পথশিশুকে দেয়। তাদেরকে টাকাগুলো দিয়ে ছোট দোকান করে দিয়েছে, যেনো বাচ্চা গুলোর আর ভিক্ষা করে খাওয়া না লাগে। .. ভ্রমর রাফির সম্পর্কে জানার পরে রাফির প্রেমে পড়ে যায়। ভ্রমর এমন একটা ছেলেকে তার জীবনসঙ্গিনী করতে চেয়েছে ।ভ্রমর তার বাবাকে রাফির সম্পর্কে বলে। তার বাবাও শুনে অবাক হয়ে যায়। -ভ্রমর তুই কালকে রাফিকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসবি। -জ্বী বাবা নিয়ে আসব। .. -এইযে রাফি, একটু শুনবেন। -বলুন কি বলবেন। -আমার সাথে একটু যাবেন প্লিজ। -কোথায় যেতে হবে । -আমাদের বাড়িতে। -কেনো। -আমার বাবা আপনার সাথে কথা বলতে চান! -কি কথা । -সেটা গেলেই বুঝতে পারবেন। -একটা কথা বলি (রাফি) -বলুন (ভ্রমর) -আমার কাছে আপনাদের বাড়িতে যাবার মতো টাকা নেই। -সেটা আপনাকে ভাবা লাগবে না, আমার কাছে আছে আপনি আসুন। -ওকে চলুন। .. -রাফি ভ্রমরের বাবার গাড়িতে বসে আছে। রাস্তায় অনেক জ্যাম। এজন্য গাড়ি আর সামনে যেতে পারছে না । -এইযে ভাইয়া একটি ফুল নেন না। আফা মনিরে দিয়েন। -রাফি তাকিয়ে দেখলো একটি মেয়ে তাকে ফুল নিতে বলছে । -কত করে দাম একটি ফুলের। -১০ টাকা করে। -আচ্ছা দাড়াও দিচ্ছি । -ভ্রমর ৫০০ টাকা হবে। -হুম হবে।এই নিন। -তোমার সব ফুলের দাম কত। -১০০ টাকা। -এইযে নাও ৫০০ টাকা আর সব গুলোও দাও। -আমার কাছে তো ভাংতি নেই। -তুমি পুরাটাই রাখো। -টাকাটি নিয়ে মেয়েটির মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো। মেয়েটি দৌড়াতে দৌড়াতে চলে গেলো। -ভ্রমর এটা দেখে চোখের পানি আটকাতে পারল না, তারপরেও আটকিয়ে রাখল। -এইযে ফুলগুলো নিন।(রাফি) -এতফুল নিয়ে কি করব। -এমনিতেই বাড়িতে রেখে দেবেন, আর দেখলেন মেয়েটির মুখে আনন্দের হাঁসি । ৩ দিন পরে আমি আপনাকে টাকা গুলো দিয়ে দিবো । -আচ্ছা ঠিক আছে, আমাদের বাড়িতে চলে আসছি এখন নামুন। .. -বাবা, এইযে রাফি। -তুই যা চা বানিয়ে নিয়ে আয় আমি রাফির সাথে কথা বলছি। -দাঁড়িয়ে কেনো বসো। -জ্বি বলুন, কি জন্য ডেকেছেন। -দেখো বাবা আমার মা মরা মেয়েটি জীবনে যা চেয়েছে সেটাই পেয়েছে, আমি কোনদিন তার গায়ে হাঁত তুলিনি । -আপনি এসব কেনো বলছেন। -কারন হলো আমার মেয়ে তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তোমাকে না পেলে ও বাঁচবে না, তাই আমি চাই তুমি আমার মেয়েটিকে বিয়ে করো। -দেখুন আমার বাবা মা কেউ নেই, ছোটকাল থেকে কোনরকম খেয়ে মানুষের অবহেলা পেয়ে বড় হয়েছি । আমার অনেক টাকা পয়সা নেই যে ভ্রমরকে সুখে রাখতে পারব। আর এটা সম্ভব না। এরপর রাফির বক্তব্য— -সাথে সাথে ভ্রমরের বাবা আমার হাত চেপে ধরে বলল, আমার মেয়েটিকে তুমি ফিরিয়ে দিও না বাবা। -তখন আর না করতে পারি নি। কোন মেয়ের বাবা আমার হাত ধরে বলছে, তখন আর না করলে তিনি অনেক কষ্ট পাবেন তাই আর না করতে পারলাম না । -আচ্ছা আজকে আমি আসি, একটু কাজ আছে। বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে জানিয়ে দিয়েন । -চা খেয়ে যাও। -ওটা অন্যদিন। -গেটের বাইরে আসতেই ভ্রমরের ডাঁক। -এইযে রাফি সাহেব একটু দাঁড়ান। -কি বলবেন বলুন আমার কাজ আছে। -আপনার সব সময় কাজ থাকে। (রাগ নিয়ে বলল) -আমি গেলাম। -একটু দাঁড়ান। -এই নিন ৫ হাজার টাকা, গাড়িতে করে বাড়ি যাবেন আর পরে ভালো জামা কাপড় কিনে বিকালে এই ঠিকানায় আসবেন। -টাকা গুলো নিয়ে চলে আসলাম। ভাবছি বিকালে দেখা হবে, তবে এই পোষাকেই। আর টাকাগুলো দিয়ে বাচ্চাদেরকে কাপড় কিনে দিবো । .......সমাপ্ত। -শেষে শুধু একটি কথাই বলব কারো একটু কষ্টে যদি কোন অনাথ বাচ্চার মুখে হাঁসি ফুটে তাহলে আপনি একটু কষ্ট করুন। কেননা বাচচাটি যদি আমার ভাই অথবা বোন হতো আপনি কি তাহলে তাদের অন্যচোখে দেখতেন, দেখতেন না। এইজন্য তাদেরকে কেউ অন্য চোখে দেখবেন না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now