বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পূর্ব সার্বিয়ার এক গ্রাম স্মলিহাচ। আশপাশের কিছুটা দূর থেকে গ্রামটির দিকে তাকালে মনে হবে, এখানে অবকাশযাপনের জন্য ছোট ছোট কটেজ গড়ে তোলা হয়েছে।
কিন্তু এগুলো আসলে সমাধি। চেয়ার-টেবিল, দেয়ালে ঝোলানো ছবির ফ্রেম আর ফুলের টব দিয়ে সাজানো সমাধিগুলোর ভেতর, আছে ঝুল বারান্দা। সমাধি ভবনের সঙ্গে আছে বাগান আর ছোট ছোট ঝরনা। কোনো ভবন আবার গড়ে উঠেছে উঁচু মিনারসহ দুর্গের আদলে। যেন কেউ সুন্দরভাবে সাজিয়ে রেখেছে তার বাংলো। কোনো কোনোটিতে আবার রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। সমাধিচিহ্ন হিসেবে পাথরফলকের পরিবর্তে জমকালো দালানকোঠা নির্মাণের অবাক করা প্রথাটি স্মলিহাচ গ্রামে প্রথম শুরু হয় ১৯৬০ সালের শেষের দিকে। ভাগ্য ফেরাতে বিদেশে পাড়ি জমানো একজন টাকাপয়সা বানিয়ে গ্রামে ফিরে ভাবলেন, নিজের জন্য একটি জমকালো সমাধি ভবন তৈরি করবেন। সেখানে তিনি মারা যাওয়ার পর সমাহিত হবেন। গ্রামের অন্যরাও বিষয়টিকে নিজেদের ধন-সম্পদের প্রাচুর্য দেখানোর ভালো একটি মাধ্যম হিসেবে ধরে নিল। সেই থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে অনেক সমাধি ভবন। মৃত ব্যক্তিকে সমাহিত করা হয় সমাধি মন্দিরের নিচের গুপ্তকক্ষে। মেঝেতে গর্ত করে বানানো অর্ধগোলাকার ঘরগুলোয়ই হয় তাদের শেষ ঠিকানা। সৎকারের আগে ফুলের মালাসহ অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় মৃতদেহগুলো।
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড থেকে স্মলিহাচের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। দানিয়ুব নদীতীরের উর্বর উপত্যকায় অবস্থিত গ্রামটিতে প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষের বসবাস। তাদের আবার বেশির ভাগই বয়স্ক। গ্রামের তরুণদের অনেকেই অভিবাসী হয়ে বিদেশে চলে গেছে। বেশির ভাগ সমাধি গড়ে উঠেছে ওই তরুণদের পাঠানো অর্থে।
জমকালো সমাধি ভবন গড়ে তোলাটা গ্রামবাসীর কাছে অনেকটা প্রতিযোগিতার মতো। ব্যাপারটা এমন—যে পরিবারের সমাধি ভবন যত জমকালো, তার অর্থকড়ির প্রাচুর্যও তত বেশি! অবাক করা এই রীতি কেবল স্মলিহাচেই সীমাবদ্ধ নেই। পূর্ব সার্বিয়ার অনেক গ্রামেই এমনটা দেখবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now