বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপস্থিতি

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুহাঃ এ.এস শেখ (০ পয়েন্ট)

X ।। উপস্থিতি ।। উ:, কি বৃষ্টি বাইরে! থেকে থেকে বিদ্যুতের ঝলকানি আর ঝড়ের ভয়াবহ আর্তনাদ। জোর হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে উঠছে পুরনো বাড়িটার দরজা জানলাগুলো। বাইরে জানলার ওপর ঝুঁকে পড়া আমগাছের একটা ডাল কাঁচের ওপর তখন থেকে মাথা ঠুকেই চলেছে, যেন ভেতরে আসতে চাইছে। সেই দুপুর থেকে যে টিমটিম করে বালবটা জ্বলছিল সেটাও গেছে এখন। এই এলাকাতে বোধ হয় কারোর বাড়ি কারেন্ট নেই। এমনিতে এই বাড়িটা খুব নিরিবিলি জায়গায়, আশেপাশে তেমন কোনও বাড়ি নেই। তাই প্রচন্ড একা একা লাগছে এখন দিয়ার। তার বান্ধবী নিশা দশদিন হল ওর বাড়ির লোকরা এসে ওকে নিয়ে গেছে, ডেঙ্গু হয়েছে ওর। এখন দিয়া জানে না নিশা এখন কেমন আছে। সে আর নিশা একটি স্কুলের শিক্ষিকা, মাসখানেক হল এই পুরনো বাড়ির এককামরার এই একতলাটা ভাড়া নিয়ে রয়েছে। জীবন ভালোই কাটছিল। ছুটির দিনে দুজনে সিনেমা দেখা, কখনো কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা, আলুকাবলি খাওয়া, এই আর কি। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে এখন দিয়ার মাথায় নিশার জন্য চিন্তা। কেমন আছে মেয়েটা। মোবাইলে ফোন করতে গিয়ে দেখল টাওয়ার নেই! ও: আচ্ছা বিড়ম্বনা! লাইট নেই বলে ঘরে একটা মোম জ্বলছিল। দিয়া পায়ে পায়ে জানলার কাছে এসে দাঁড়াল। যেদিকে দুচোখ যায় শুধু জল আর জল। ঐদিকের পুকুরটা আর দেখাই যাচ্ছে না, বৃষ্টির ঘন পর্দা ভেদ করে যতদূর দৃষ্টি যায় তাকাল দিয়া। না: কিচ্ছু দেখার যো নেই। গাছপালাগুলোকে আবছা আবছা ভাবে দেখা যাচ্ছে। উ: এই বৃষ্টি কি আর থামবে না! আপনমনেই বলল দিয়া। নিশার জন্য মনটা হু হু করে উঠল। ঠিক এইসময় বাইরে জমে থাকা বৃষ্টির জলের মধ্যে একটা শব্দ হল -ছপ ছপ ছপ ছপ ছপ.....কেউ কি এদিকে আসছে! এখানে তো অন্য কোন বাড়ি নেই, নিশ্চয় এ বাড়ির দিকেই কেউ আসছে! কিন্তু কাউকে তো দেখা যাচ্ছে না! কে হতে পারে! নিশা! কিন্তু তা কি করে হবে! ও তো অসুস্থ। যদি এর মধ্যে সুস্থও হয়ে যায় তো এই দূর্বল শরীরে সে আসবে এই চিন্তা করা বাতুলতা। তাহলে কে হতে পারে! আমার নিজের বাড়ির লোক বা নিশার বাড়ির কেউ হবে! ছপছপ শব্দটা বাড়ির দরজার কাছে এসে থেমে গেল। দিয়া অপেক্ষা করতে লাগল কখন দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ হয়! এক মিনিট, দু মিনিট করে সময় কাটতে লাগল। বাইরে আর কোনও শব্দ নেই। আশ্চর্য যে এসছিল সে কি চলে গেছে! কিন্তু সেটা হলেও তো আওয়াজ পাওয়া যেত! দিয়া বাইরের বন্ধ দরজাটার দিকে তাকিয়ে এসব ভাবছে, ঠিক তখনি বাইরে থেকে দরজার কড়া নাড়ার শব্দ পেল। ঠিক তিনবার। দিয়া চেঁচিয়ে বলল " কে?" বাইরে থেকে কোনও সাড়া নেই। কিন্তু আবার ভেসে এল সেই কড়া নাড়ার শব্দ, এবার আরো একটু জোরে। " কে এসছেন বলবেন তো?" দিয়া চেঁচিয়েই বলল। কিন্তু না বাইরে যে এসছে সে যেন পণ করেই এসেছে কোনও উত্তর দেবে না! দিয়া যতখানি না ভয় পেল তার চেয়ে অনেক বেশী অবাক হল। কোনও বদ লোক আসে নি তো! একা একটা মেয়ে বাড়িতে আছে ভেবে......... আবার নড়ে উঠল কড়াদুটো। দরজায় কোনও আইহোল নেই যে দিয়া দেখবে বাইরের আগন্তুকটি কে! তাই সে দরজার গায়ে মুখ রেখে গম্ভীর গলায় বলল " কে এসেছেন বাইরে না বললে দরজা খুলব না"! এবার শোনা গেল একটা অস্ফুট কথা। কে যেন ঘষা ঘষা গলায় টেনে টেনে বলছে - " ওরে দিয়া আমি এসেছি রে আমি। নিশা। চিনতে পারছিস না?" যতটা না আনন্দ পেল দিয়া তার চেয়ে অনেক বেশী অবাক হল। নিশা! এই অসময়ে! ও না অসুস্থ ছিল! এই দূর্বল শরীর নিয়ে এই ভরা দূর্যোগের দিনে সেই নিউ আলিপুর থেকে নারকেলডাঙা এসেছে! তার চেয়েও আশ্চর্য ঠেকছে ওর গলাটা। এইরকম গলা তো ওর কখনো শোনা যায় নি! ঘষা ঘষা, মদালসা! যেন হাওয়ার ধাক্কা! ঝড়ের হাহাকার! একটা চোঙের ভেতর দিয়ে জোর হাওয়া পাস করালে যেরম আওয়াজ হবে অনেকটা সেরকম। যেন হাওয়ার ধাক্কা! ঝড়ের হাহাকার! একটা চোঙের ভেতর দিয়ে জোর হাওয়া পাস করালে যেরম আওয়াজ হবে অনেকটা সেরকম। দরজাটা খুলতে যেতে গিয়েও খুলতে পারল না দিয়া। ভেতর থেকে ওর অন্তরাত্মা যেন ওকে বলল ' খুলিস না, খুলিস না, বাইরে যে এসেছে সে মানুষ নয়!' এ কথা মনে হতেই বাইরে আবার প্রচণ্ড শব্দে বাজ পড়ল। মেঘের গুড়গুড় শব্দ মিলিয়ে যেতে দিয়া বলল " তোর গলাটা এরম শুনতে লাগছে কেন নিশা! তোর ভয়েস তো আগে এরম ছিল না! " বাইরে বৃষ্টির তেজ ভেদ করে আবার সেই রহস্যঘন কণ্ঠস্বর বলতে লাগল " আমি দূর্বল তো তাই। আর দেরী করিস না দিয়া, দরজাটা খোল, তোর সাথে দেখা করতে এসেছি। এখনি আমায় অনেকদূর যেতে হবে"। দিয়া ভাবল বোধহয় আবার নিউ আলিপুর ফিরে যাবে নিশা! কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে নিশা এসছে তা কি কম আশ্চর্যের! দিয়া এবার দরজাটা খুলেই দিল। সঙ্গে সঙ্গে একটা জোলো হাওয়া প্রচন্ড বেগে ঘরে ঢুকে পড়ল। বিদ্যুৎ চমকে উঠল আকাশে। বিদ্যুতের আলো নিভে যেতে বাইরে তখনো যতটুকু দিনের আলো ছিল দেখা গেল বাইরে কেউ নেই। দু হাত দিয়ে তীব্র জোলো হাওয়াটাকে সামলে দিয়া তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে যায় কেউ নেই বাইরে! কিছুটা ভয় পাওয়া গলায় ডাকে " কি রে নিশা, তুই কোথায়"? ঘরের ভেতর থেকে স্পষ্ট জড়ান গলায় সাড়া আসে " আঁমিঁ এঁখাঁনেঁ"। চমকে ঘরের ভেতর তাকাল দিয়া। ঝড়ের ধাক্কায় টেবিলের ওপর যে মোমটা এতক্ষণ জ্বলছিল সেটা নিভে গিয়ে ঘর এখন অন্ধকার। আশ্চর্য, অতি আশ্চর্য, কখন ঢুকল নিশা ঘরে!! মনের প্রশ্নটা করেই ফেলল দিয়া। " তুই ঘরে কখন ঢুকলি নিশা"? তুঁই দঁরজাঁ খোঁলাঁর সাঁথে সাঁথেই ঢুঁকেঁছিঁ"। "দাঁড়া, সেই দুপুর থেকে কারেন্ট নেই, মোমটা জ্বালাই।" দরজা বন্ধ করতে করতে বলল দিয়া, " তা তুই এরম গলায় কথা বলছিস কেন নিশা?" "গঁলাঁটায় এঁকটু ব্যঁথাঁ তাঁই। তুঁই আঁলো জ্বাঁলিস নাঁ, দূঁর্বল চোঁখ, সঁইতেঁ পাঁরবঁ নাঁ"। নিশার কথাগুলো যেন বহুদূর থেকে আসছে। ব্যাপার সুবিধের ঠেকল না দিয়ার কাছে। একে তো নিশার কথাগুলো যেন মনে হচ্ছে অনেক দূর থেকে আসছে। তার ওপর এরম অদ্ভুত গলায় কথা বলছে! মনের মধ্যে একটা চাপা অস্বস্তি হতে লাগল। দিয়া এবার বলল " হ্যাঁরে তুই এই দূর্বল শরীর নিয়ে কেন আসতে গেলি অতদূর থেকে?" " তুঁই ডাঁকছিঁলিঁ তাঁই চঁলে এঁলাম" নিশা বলল। " আমি তোকে ডাকছিলাম"! দিয়া তার এই কথায় অবাক না হয়ে পারল না। হ্যাঁ, মনে পড়েছে তার। সারা দুপুর সে তো নিশার কথাই ভাবছিল কিন্তু....কিন্তু সেটা নিশা জানল কি করে! তাই সে বলল " হ্যাঁ, আসলে... আসলে আমি দশদিন তোর কোনও খবর পাচ্ছিলাম না, তোর বাড়ির লোকের নম্বরও আমার কাছে নেই, তোর মোবাইলও সুইচড অফ ছিল। আজ আবার ফোন করতে গিয়ে দেখি টাওয়ার নেই। তা....কি রে! কিছু বল....চুপ করে রইলি কেন?" ঠিক এইসময় আকাশে আঁকাবাঁকা হয়ে বিদ্যুৎ ঝলসে উঠল। বেগুনি আলো ঘরের দেওয়ালে প্রতিফলিত হল। সেই আলোয় দেখা গেল ঘর ফাঁকা, কেউ কোথাও নেই। একি, কোথায় গেল নিশা! বিদ্যুতের আলো মিলিয়ে যেতেই কানফাটান মেঘের গর্জন। মেঘের গুরুগম্ভীর গুরু গুরু ডাক মিলিয়ে গেলেও দিয়ার বুকের ভেতরের গুরুগুরু ডাক বন্ধ হোল না। " কি রে নিশা তুই কোথায়?" কথাটা বলার সময় কেঁপে উঠল দিয়ার গলা। কোনও উত্তর এল না। কিন্তু শোনা গেল একটা নূপুরের শব্দ। নূপুর পায়ে কেউ ঘরের ভেতর ঘোরাফেরা করছে। নিশার পায়ের নূপুরের শব্দ চেনে দিয়া। ও ঘরে যখন হাঁটাচলা করত এইভাবেই নূপুরের শব্দ হোত। তাই সে অন্ধকারকে উদ্দেশ্য করেই বলল " কি রে নিশা তুই অন্ধকারে ঘুরে বেড়াচ্ছিস! " বলতে বলতে টেবিলে নিভে যাওয়া মোমটা আবার জ্বালল দিয়া। এবার আরও অবাক হবার পালা দিয়ার। ঘরে সত্যিই কেউ নেই! ফাঁকা ঘর। নূপুরের বোল তখনো বেজে জ্বলেছে। আশ্চর্য! একটা মাত্র ঘর, ঘরে এমন কোনও বড় আলমারি বা এমন কিছুই নেই যার পেছনে একটা বড় মানুষ লুকিয়ে থাকতে পারে! তবে ওকে দেখা যাচ্ছে না কেন!" ভয়ের একটা ঠান্ডা স্রোত দিয়ার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল। তবু মনে সাহস এনে একহাতে মোমটা নিয়ে সে টয়লেট, কিচেন টাও দেখে নিল, কিন্তু কেউ কোথাও নেই। হঠাত পাশ দিয়ে মনে হল খুব দ্রুত কেউ চলে গেল, সেই সঙ্গে নূপুরের পরিচিত বোল। শব্দ অনুসরন করে মোমটা সেদিকে ধরল দিয়া। " কি রে নিশা তোকে দেখতে পারছি না কেন! কোথায় তুই?" কোনও উত্তর নেই। ঠিক তখনিই আকস্মিকভাবে বাইরের দরজাটা খুলে গেল হাট হয়ে, যদিও দরজায় ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়েছিল দিয়া একটু আগে। বৃষ্টির কান্নাভরা জল হু হু করে ঢুকে পড়ল ভেতরে। দিয়ার হাতের মোমটা আবার নিভে গেল। জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড হতে লাগল। ভয়ে 'আঁ আঁ' করে আর্তনাদ করে উঠল দিয়া। দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল আবার। ঠিক কেউ যেন বেরিয়ে গেল। বাইরে ফের শোনা গেল জলের ওপর দিয়ে ছপছপ শব্দ। ঠিক এইসময় তার মোবাইলটা বেজে উঠল। মোবাইলের পর্দার দিকে তাকাল দিয়া। নন্দিতাদির নাম্বার। দিয়াদের স্কুলের হেডমিস্ট্রেস। রিসিভ করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল " হ্যালো, নন্দিতাদি বল"। ওপ্রান্ত থেকে নন্দিতাদি বলছেন" তুই দিয়া বলছিস? আমি নন্দিতাদি বলছি, নিশার বাড়ি থেকে।" "হ্যাঁ হ্যাঁ" বলেই দিয়া বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে বলল " তুমি নিশার বাড়িতে!" তারপরই বলতে যাচ্ছিল " ও তো........ তাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে ওপ্রান্ত থেকে নন্দিতাদেবী বললেন " দিয়া, নিশা....নিশা....." "নিশা...নিশার" কি হয়েছে! " দিয়ার গলায় উদ্বেগ ঝড়ে পড়ল "তুমি এমনভাবে কাঁদছ কেন নন্দিতাদি"? "দিয়া, আমাদের নিশা আর নেই।" "মানে"! প্রায় চেঁচিয়ে উঠল দিয়া। ওপ্রান্ত থেকে তখনো কান্না থামেনি। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন " আজ বিকেল চারটেতে ও মারা গেছে। আমি ওকে আজ হাসপাতালে দেখতে এসেছিলাম আর এসে শুনলাম...... আর কথা শেষ করতে পারলেন না নন্দিতা দেবী। কান্নায় ভেঙে পড়লেন। দিয়া বলতে যাচ্ছিল কিন্তু...কিন্তু ও যে...... কথা শেষ করতে পারল না দিয়া, আস্তে আস্তে তার সামনে থেকে যেন একটা অদৃশ্য যবনিকা উঠে যাচ্ছে। ওপ্রান্ত থেকে নন্দিতা দেবী "হ্যালো হ্যালো বলছেন কিন্তু দিয়ার সেদিকে খেয়াল নেই। তার তখন নিশার আসার পর থেকে সব ঘটনা, ওর কথাবার্তা, আচরণ মনে পড়তে লাগল। এবার যেন দিয়া বুঝতে পারছে কেন নিশা মোম জ্বালতে বারন করছিল, কেন ওরম খোনা গলায় কথা বলছিল! কেন ওকে দেখা যাচ্ছিল না ঘরে! ( সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now