বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুল বাস এবং একটি মজার অভিজ্ঞতা!

"মজার অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ।সকালে বাসা থেকে বের হয়েছি। পল্টন হয়ে যাবো প্রেসক্লাব মোড়। উত্তর বাড্ডা মেইন রোডে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, প্রচন্ড ভীড়ের কারনে সুপ্রভাত/বন্ধু/ভিক্টর... এসব কোন বাসে উঠতে পারছি না। সুযোগ থাকলে সাধারণত তুরাগ এ কম উঠি। কিন্তু শেষে বাধ্য হয়ে একটা তুরাগেই কোনমতে উঠে পড়লাম; পরে ঠেলেঠুলে পিছনে গিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, লোকজন বাসের সামনের দিকে, গেটের কাছে ভীড় করে দাঁড়িয়ে থাকে অথচ পিছনে হয়ত ফাকা জায়গা থাকে, তবু পিছাবে না! অনেকদিন হয়ে গেলো এই বসুন্ধরা-বাড্ডা-রামপুরা রুটের অবস্থা দেখছি, আমার একটা অব্জারভেশন এরকম। বাসের গেটের অবস্থা দেখে যখন মনে হয় যে সুই ফেলার জায়গাও নেই ভিতরে, তখনও মোটামুটি ৯০ ভাগ নিশ্চয়তা দেয়া যায় যে; কোনমতে কষ্ট করে উঠে পড়ে গেটের কাছের ভীড়টা কাটাতে পারলেই হল, পিছনে ভালোমত দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যাবে! ১০ ভাগ সম্ভাবনা থাকে যে আসলেই পুরো বাস কানায় কানায় ভরা! তবে এরকম বাস খুব কমই দেখেছি। আর সমস্যা হচ্ছে যে, ভীড়ের বাসে পিছনে ফাকা থাকলেও গেটে লোকজন এমন চাপাচাপি করে দাঁড়িয়ে থাকে যে সেখানে ঊঠতে পারা রীতিমত একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যাই হোক, তুরাগ চলছে। মালীবাগ রেলগেটে এসে সেটা যে বামে মোড় নিয়ে খিলগার দিকে ঢুকে পড়েছে তা আর খেয়াল করিনি। আসলে তুরাগ এর রুট এটাই; জানা ছিল না বা জানা থাকলেও মনে ছিল না। ভেবেছিলাম পল্টন-জিপিও হয়ে গুলিস্তান যাবে। যখন বুঝতে পারলাম ততক্ষণে খিলগা ওভারব্রীজ চলে এসেছে। কী আর...সেখানে নেমে গেলাম। কিছুক্ষন খুঁজে একটা রিকশা পেলাম, মালীবাগ পর্যন্ত ফেরার জন্যে। রিকশায় ঊঠলে সাধারণত মুড ভালো থাকলে আমি রিকশাওয়ালাকে এটা সেটা জিজ্ঞেস করি; যেমন বাড়ি কই, ঢাকায় কতদিন, আয়-রোজগার কেমন হয়, জমা থাকে কেমন ইত্যাদি। আজকে আমার তাড়া থাকায় শুধু বলেছি তাড়াতাড়ি টানতে একটু, আমার ১১ টার মধ্যে পৌঁছাতে হবে। মাথায় চিন্তা, ১১ টার মধ্যে পৌঁছাতে না পারলে ছুটি নেয়া, কষ্ট করে ঘুম থেকে ঊঠে এরকম কাহিনী করে যাওয়া...সব কিছু বৃথা যাবে। একটু পর দেখি তিনি আমায় জিজ্ঞেস করছেন আমার বাড়ি কই, উত্তরবঙ্গ নাকি? উলটা জিজ্ঞেস করলাম আমি, কেন, আমার কথায় কি বোঝা যাচ্ছে নাকি? -না, চেনা লাইগতেছে, আগে আপ্নাক দেখছি বলি মনে হইতেছে তো; ভদ্রলোকের উত্তর। -আমার বাড়ি কুড়িগ্রাম, বলে তারটা কোথায় জানতে চাইলাম। -আমার বাড়িও কুড়িগ্রাম। -কুড়িগ্রাম কই? -নাখারগঞ্জ ইউনিয়ন -নাগেশ্বরীর নাখারগঞ্জ নাকি... রামখানা নাখারগঞ্জ যেটা? -হ্যা। -আমারো নাগেশ্বরীতেই। -নাগেশ্বরী কই আপনার বাড়ি, তার স্বতস্ফুর্ত জিজ্ঞাসা। -কলেজ মোড়েই। এরপর কিছুক্ষন কথা বার্তা নাই। সে হঠাত বলে ওঠে, নাগেশ্বরীতে এক উকিলের বাসাত আপ্নাক দেখছি। -মামলা আছে নাকি আপনার? স্বভাবিকভাবেই এবার আমি আরো আগ্রহী হয়ে উঠি এবং কথায় নাগেশ্বরীর টোনও চলে এসেছে ততক্ষণে। -না, আমার তো মামলা না। -তাইলে কার। -অন্য এক লোকের মামলা, তা আমি একদিন তার সাথে গেছিল্যাম। -ও আচ্ছা। -(কিছুক্ষন চুপ থেকে) তা উকিলের নাম কি মনে আছে আপনার, যার বাড়িত আমাক দেখছিলেন? -হজরত উকিল। -আচ্ছা। ইতোমধ্যে মালীবাগ রেলগেট চলে এসেছে। নেমে যাওয়ার আগে মুচকি হেসে ওনাকে বললাম, হজরত উকিলের ব্যাটা আমি! এইজন্যে দেখছেন। gj আমার আশ্চর্য লাগলো এই ভেবে যে, একদিন দেখেই ভদ্রলোকের কীরকম মনে ছিলো এবং আজকে দেখে ঠিক চিনতে পারছে!! অনেকে হয়ত ভাবতে পারেন এটা আর এমন কী; একজন রিকশাওয়ালার ক্ষেত্রে এটা ঘটছে বলে আমি এত আশ্চর্য হচ্ছি নাকি! না, ব্যাপার তা না। আসলে আমার নিজের স্মরণশক্তি মোটেই ভালো না, সত্যিকার অর্থে খুবই খারাপ, ১ বারের দেখায় তো মোটেই নয়, বেশ কয়েকবার দেখেও কাউকে মনে রাখা আমার জন্যে অনেক কঠিন; রাস্তাঘাট মনে রাখার ব্যাপার তো আরো ভয়াবহ। ঢাকায় এমন অনেক রাস্তা/গলি আছে, আমি মোটামুটি অনেক বারই গেছি, বা এখনো যাই...কিন্তু এখনো একা চিনে চিনে বের হতে পারি না; রিকশাই ভরসা! যেমন, বাসার এখানে খানবাগ আর নতুন রাস্তা'র মাঝেখানের গলিগুলা আমি এখনো সামলে উঠতে পারিনি! একদিন তো গলি আউলে ফেলে পাক্কা ১ ঘন্টা চক্কর দিয়েছিলাম রাতে! যাই হোক, এই জন্যেই আসলে বেশ অবাক হয়েছিলাম। ভালোও লেগেছে। এছাড়া এলাকার রিকশাওয়ালা। নিজে যা পারিনা, অন্য কাউকে তা পারতে দেখলে ভালো লাগে, মজাও লাগে। যেমন, আমি কীবোর্ড না দেখে টাইপ করতে পারি না, স্পিডও স্বাভাবিকভাবেই বেশি না; কিন্তু যখন কাউকে দেখি, না দেখে সাবলীলভাবে দ্রুত টাইপ করে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে তার হাতের দিকে তাকিয়ে থেকে আঙ্গুলের খেলা দেখি, দেখতে ভালো লাগে! আর ভাবি, কীভাবে! কীভাবে সম্ভব এটা!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now