বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি তখন হাই স্কুলে পড়ি। আমাদের বাসার ঠিক সামনের বাসাতে যে আন্টি থাকতেন, তিনি ছিলেন স্থানীয় গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা, আর তার স্বামী ছিলেন তৎকালীন এলাকার একমাত্র ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক। দুই বাসার মধ্যে ছিল একটামাত্র দেয়ালের ব্যবধান। নিকটতম প্রতিবেশী হিসাবে নিয়মিত যাওয়া হতো তাদের বাসায়, যেমনটা আসত তাদের দুই মেয়েও।
এমনটা অনেকবারই হয়েছে যে, আমি তাদের বাসায় গিয়েছি, আন্টি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন, আমিও আগ্রহের সাথে পাশে বসে গিয়েছি। সে সময় পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার দিনটা ছিল খুব উত্তেজনার। তাই রেজাল্ট বের হওয়ার আগেই পরিচিত কারো কারোটা জেনে যাওয়ার মজাও ছিল অন্যরকম।
লক্ষ্য করলাম, পরীক্ষার খাতায় সবাই যে শুধু প্রশ্নের জবাব লেখে, তা নয়, কেউ কেউ "যা খুশি, তা"-ই লিখে রাখত পাতা জুড়ে। যেটাকে বলে "মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা", তার উৎকৃষ্ট কিছু নমুনা তখন দেখেছিলাম। মনে আছে, একবার দেখলাম একটা খাতায় কিছু গানের কলি লেখা, তাও আবার বাংলা সিনেমার। কেউ কেউ উত্তর জানা না থাকলে প্রশ্নটাই কয়েকবার লিখে রাখত, মনে আশা– যদি কোনওভাবে পরীক্ষকের নজর এড়িয়ে যায়, তাহলে মার্ক তো অন্তত কিছু পাওয়া যাবে। আবার অনেককে দেখতাম কয়েক ধাপ এগিয়ে চিঠি জুড়ে দিত খাতার সাথে। তাতে পাস করিয়ে দেয়ার আকুতির সাথে থাকত পাস না করতে পারলে বাসায় কেমন উত্তম-মধ্যম খেতে হবে, অথবা মাত্রাতিরিক্ত বেপরোয়ারা "বিয়ে হবে না" জাতীয় কথাও লিখে রাখত।
সবচেয়ে মজা পেয়েছিলাম এরকম একটা চিঠি দেখে। প্রায় এক পৃষ্ঠা জুড়ে আকুতির শেষে একটা পা আঁকা ছিল, তার নিচে লেখা– "আপনার পায়ে পড়ি, প্লিজ আমাকে পাস করিয়ে দিয়েন"। পরীক্ষার্থীর আঁকার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলাম, কষ্টও কিছুটা পেয়েছিলাম বিশাল বিশাল গোল্লা পেয়ে তাকে ফেল করতে দেখে।
নিতান্তই বাধ্য না হলে সাধারণত আমি নিজেও কখনও পরীক্ষাতে কোনো প্রশ্ন ছেড়ে আসতাম না। ডাহা চাপা মারতে পারতাম না যদিও, তবে হালকা চাপার সাথে মিশিয়ে দিতাম "ইন্টেলেকচুয়াল গেসিং"। সবসময় যে কাজে দিত তা, সেটা দাবি করব না। আমাদের একটা কোর্স ছিল– "ইসলামিয়াত"। অনেকের কাছেই শুনতাম, স্যার নাকি মোটেও পড়ে দেখেন না, শুধু পাতা গুনে মার্কস দেন। তাই যে কোনো প্রশ্নের উত্তরের শুরুতে কিছু একটা লিখে, মাঝে "আল্লাহ্ মহান, ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম" জাতীয় কথা বারবার লিখে দিয়ে আসলেও কোনো ক্ষতি নেই। সত্যি-মিথ্যা জানি না, এক বন্ধু তো বলেই বসল, সে নাকি ক্রিকেট ম্যাচের বর্ণনা, সিনেমার কাহিনীসহ যা খুশি তা-ই লিখে এসেছিল একবার। নিজে নিজে অনেক আয়াতও বানিয়েছিল, আর বেশ ভালভাবে পাসও করেছিল।
সেসব দিন চলে গেছে। এখন আর পরীক্ষা দিতে হয় না, প্রশ্নের উত্তর লেখা নিয়েও আর ভাবতে হয় না। তবুও দিনগুলোর কথা মনে পড়লে মজা লাগে, হাসি পায় বেশ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now