বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাসার কাছে এসে দেখি গোটা এলাকায় ইলেকট্রিসিটি নাই।আমাদের এই এলাকায় আবার গ্রাম গ্রাম ভাব।ঝড় বৃষ্টি হলেই লাইন অফ থাকে।পরে লাইন আসতে দেরি হয়।তাই আমরা ডজন ধরে মোমবাতি কিনে রাখি।
অন্ধকারের মধ্যে কফিন ধরে দোতালায় তুলি।আর কোন ভাড়াটে না থাকায় অহেতুক প্রশ্নের হাত থেকে বেচে গেছি।
রুমে ঢুকে হাসান মোমবাতি ধরাতে ধরাতে বললো "বৃষ্টির সাথে সাথে ঝড় বাড়ছে।আজ আর কারেন্ট আসবে না"
"মোমের আলোয় স্যুটিং করবি নাকি?"
হাসান উত্তেজিত গলায় বললো ""সেইটাই একসেলেন্ট হবে।মোমের আলোয় পরিবেশ আরো ভয়ংকর মনে হবে।"
"আজ তো আর খাওয়া হবে না।তুই সব যন্ত্রপাতি বের কর।আমি হাত মুখ ধুয়ে আসি।আর মাংসের টুকরা যে করবি চাপাতি এনেছিস?"
হাসান মৃদু গলায় বললো "সব টেবিলের নিচে রাখা আছে।একদম নতুন !!"
বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখি হাসান সব রেডি করে রেখেছে।টেবিলের উপর সাদা কাপড়ে মোড়া লাশের পাশে লাল রংঙের মোমবাতি জলছে।আমি কালো পা দুটোর দিকে তাকিয়ে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বললাম "শুধু পায়ের কাছে খুললি কেন?পুরো চাদরটাই সরিয়ে ফেল।"
"এখন পুরা চাদর সরানো যাবে না।পুরা লাশটারই ছাল ছাড়াব আমরা কিন্তু আস্তে আস্তে।পা থেকে ছিলতে ছিলতে মাথা পর্যন্ত উঠবো।প্রথমেই চাদর সরিয়ে ফেললে দর্শক মজা না পেয়ে উল্টা ভয় পেতে পারে।"
আমি শক্ত হয়ে যাওয়া পায়ে হাত দিয়ে বললাম "ঠিক আছে।এখন স্কালপেন আর টুইজারটা দে"
হাসান হা হা করে হেসে উঠে বললো "এখনই না।তোর পোশাক আশাক ঠিক করতে হবে।তোর জন্য একটা কালো আলখাল্লা ভাড়া করে এনেছি"
"এই গরমে আলখাল্লা পরতে হবে?"
"গরম কোথায় দেখলি,বাইরে তো বৃষ্টি।নে দোস্ত তাড়াতাড়ি পরে নে।আলখাল্লার সাথে টেবিলের উপর একটা সুচালো টুপিও আছে।আর কালো কাপড় দিয়ে মুখ বেধে নে।শুধু চোখ খোলা থাকবে।"
আমি আর কথা না বাড়িয়ে ও যা যা করতে বললো তাই করলাম।সব পরে ছুরি চিমটা নিয়ে লেগে পরলাম লাশের চামড়া ছিলতে।প্রথম প্রথম হাত কাপতে লাগলো।হাসান বললো "এডিটিং এর সময় এগুলো কেটে বাদ দিতে হবে"।
কালো আলখাল্লার মধ্যে ঘামের স্রোত বইয়ে আমি যন্ত্রের মত লাশের চামড়া ছিলি।যখন কষ্ট হয় বসে একটু জিরিয়ে নেই।পানি খাই।হাসানও ক্যামেরা বন্ধ করে বারান্দায় হাটাহাটি করে।
পা থেকে চামড়া ছিলে বুক পর্যন্ত আসতে রাত ৩টা বেজে গেলো।মোমবাতি সব ফুরিয়ে আসছে।আরও ঘন্টা খানেক লাগিয়ে বুকের দিকটা আর দুই হাত শেষ করলাম।এবার লাশ উল্টে পিঠের দিকে যাব আর সবশেষে মাথা।
হাসান ক্যামেরা বন্ধ রেখে হাত লাগায় লাশের পাশ ফিরিয়ে দিতে।উল্টানোর সময় অসাবধানতার কারণে লাশের চাদর পুরোটা খুলে যায়।
মোমবাতির সল্প আলোয় মুখ থেকে কাপড় সরে যেতেই লাশের মুখটা খুব চেনা চেনা মনে হলো।
হাসানও দেখেছে মুখটা।সে কাপা কাপা গলায় আমার নাম ধরে ডাকলো।আর ঠিক সেই সময়ে জানলা দিয়ে আসা বাইরের দমকা বাতাসে মোমবাতি নিভে গেলো।আমরা ডুবে গেলাম অন্ধকার আর ভয়ের রাজ্যে।
হাসান কাপা কাপা গলায় বললো "লাশের মুখ দেখেছিস"
আমি একটু ধাতস্থ হয়ে বললাম "হু"।এর বেশি কথা জোগালো না মুখে।
"কেমন জানি হামিদ ভাই এর মত চেহারা।মনে হয় যেন হামিদ ভাই ই"
আমি ভয়ার্ত স্বরে বললাম "মোমটা জ্বালা দেখি ব্যাপারটা কী"
হাসান অনেকক্ষণ অন্ধকারে হাতড়াহাতড়ি করলো।মোম পেলো না।আমি ঝাঝাল গলায় বলতে চাইলাম,বের হলো চিচি স্বর "মোম না পেলে লাইটার টা তো জ্বালাতে পারিস"
"ওটাও পাচ্ছি না,কোথায় রেখেছি মনে নাই"
"আর কিছু না পেলে তোর ক্যামেরার লাইট টা অন কর"
হাসান খাটের উপর থেকে ক্যামেরা নিয়ে অন্ধকারে সুইচ টুইচ টিপছে।
এমন সময় বাইরে বিদুৎ চমকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঘরের ভেতর এক ঝলক আলো দেখা গেল।আর সেই আলোয় দেখলাম ডিসেকশান টেবিল শূণ্য।কেউ নাই।এমনকি সাদা চাদরটা পর্যন্ত।আমার গলা দিয়ে স্বর বের হলো না।
এরমধ্যে হাসান ক্যামেরার আলো জ্বেলেছে।সে আলোয় আগে যা দেখেছিলাম তা-ই দেখলাম।ডিসেকশানের লম্বা টেবিলটা শূণ্য।শুধু কালচেটে রক্তের দাগ লেগে আছে।ঘরের মধ্য দুজনে নীরব।হাসান আমার দিকে তাকিয়ে ক্যামেরার আলো ঘরের চারদিকে ঘুরায়।কোথাও কেউ নাই।কিচ্ছু নাই।হাসানের হাতের ক্যামেরার আলো কমে আসছে।বোধহয় ব্যাটারির চার্জ শেষ।
হঠাৎ মনে হলো জানালার পাশে কীসের জানি শব্দ হচ্ছে।বৃষ্টির শব্দ না।প্রচন্ড ব্যাথায় কারো গোঙানির শব্দ।
আমার বলার আগেই হাসান ক্যামেরার নিভু নিভু আলো ঘুরিয়ে জানলার দিকে নিলো।
যে দৃশ্য দেখলাম তাতে অজ্ঞান হয়ে পরে যাবার কথা।কিন্তু ডাক্তারী পরে পরে নার্ভ শক্ত হয়ে গেছিলো বিধায় আমাদের কিছু হলো না।আমরা স্বাভাবিকভাবে দেখলাম খোলা জানলা দিয়ে একটা চামড়া ছাড়ানো মৃতদেহ ভেতরে ঢুকছে।মৃতদেহের চর্বির স্তরের উপর দিয়ে টপ টপ করে পানি ঝরছে।
মৃতদেহের মুখটা হামিদ ভাই এর।চামড়া ছাড়ানো মৃতদেহটা টুপ করে জানলা গলে ভেতরে লাফিয়ে পরলো।গলা দিয়ে একটা আর্তনাদ ভেসে এল।আর তখনি ক্যামেরার লাইট পুরাপুরি নিভে গেলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now