বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চোখ মেললাম যখন- তখন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অবাক হয়ে নিজেকে আবিষ্কার করলাম সেই গোরস্থানের গাছটার নিচে!
যেখানে নিজেকে পেয়েছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে! ধরমরিয়ে উঠে বসলাম। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তবে গোরস্থানের ভেতর দিকে চার্জার লাইটের আলো।
আমি আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালাম। আমার ঠিক সামনেই আবছা ভাবে সেই বাচ্চা ছেলেটার কবরের অবয়বটা বোঝা যাচ্ছে। আমার হৃদপিন্ডটা অস্বাভাবিক ভাবে লাফাচ্ছে।
চার্জারের আলো আসছে আরো ভেতরের দিক থেকে। আমি প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে দ্বিধান্বিত পায়ে হাটতে লাগলাম আলোটার দিকে। পায়ের নিচে প্যাঁচ প্যাঁচে কাঁদা।
বার কয়েক পুরনো কবরে পা ঢুকে যেতে যেতে সামলে নিলাম। গাছ গুলোর অন্য পাশ থেকে আলো আসছে, তাতে বেশ কিছু মানুষকে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা করছে সবাই।
সবার হাতে ছাতা, ছাতার জন্য বোঝা যাচ্ছে না কি করছে তারা। আমি এগোতে এগোতে টের পেলাম অসম্ভব একটা ভয় ভেতরে দানা বাধতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে যতই এগোচ্ছি,
ভয়টা ততই বাড়ছে...... চার্জারের আলো ভেবেছিলাম যেটাকে এতক্ষণ- কাছে আসায় স্পষ্ট হল, হ্যাজাক বাতি। সাদা কাপড় পরা বেশ কিছু লোক ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
আমি আর হাটতে পারছিলাম না, একটা গাছে হেলান দিয়ে কোনো মতে দাঁড়ালাম। অবাক হয়ে দেখলাম একটা লাশের দাফন কাজ চলছে। দুজন লোক একটা নতুন খোঁড়া কবরে নেমেছে।
ওপর থেকে কাফন পরা লাশটা নামিয়ে ওদের হাতে দিচ্ছে লোক গুলো। ক
েউ একজন জোরে জোরে দরুদ পাঠ করছে সুর করে। আমি টলতে টলতে আরেকটু এগিয়ে গেলাম। ছাতা হাতে ওরা কেউই আমাকে লক্ষ করছে না।
হ্যাজাকের আলোয় দেখলাম কবরের ভেতর জমে ওঠা পানির মাঝে কাফন পরা লাশটাকে উত্তর-দক্ষিণ মুখ করে নামাচ্ছে লোক দুটো। লাশটার দৈর্ঘ্য দেখেই অনুমান করলাম বয়ষ্ক,
বড় মানুষের লাশ। কবরের পানিতে রাখা মাত্র কাফন ভিজে অনেকখানি ডুবে গেল লাশটা। আমার দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। ভয়টা ক্রমশ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
বাড়ছে শুধুই। তীব্র একটা ভয়।
কেউ একজন বলল, “লাশের মুখ শেষবারের মতন দেখবেন কেউ? নাইলে বাঁশ লাগায় দিক।”
দেখলাম কেউ মুখ দেখার মত আগ্রহ দেখাল না। লোক দুটো কবরের ওপর আড়া আড়ি বাঁশ দেয়া শুরু করল। দ্রুত চাটাই বিছিয়ে ঢেকে ফেলল কবরের ওপরটা।
বৃষ্টিতে ভিজে মাটি দেয়া শুরু করল লোক গুলো।
আমি বসে পড়েছি মাটিতে। কেউ লক্ষ করছে না আমাকে।
কিন্তু হ্যাজাকের আলোয় স্পষ্ট দেখতে পেলাম কবরের অন্য পাশে ছাতা ওয়ালা লোক গুলোর ভীড়ে সেই ফ্যাকাসে ন্যাড়া মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে!
শীতল শান্ত চোখ দুটোয় ক্রুড়ো একটা দৃষ্টি। সোজা তাকিয়ে আছে আমার দিকে...... তখনি মাথার ভেতর তীব্র ব্যথা শুরু হল আমার!
মনে হল কেউ যেন আমার মগজটা ধারাল ক্ষুর দিয়ে পোঁচ দিচ্ছে......
ঝটকা দিয়ে জেগে উঠলাম। আমার দু পা আর প্যান্টের নিচের দিক কাঁদায় মেখে আছে!
ঘড়িতে দেখলাম- রাত আড়াইটা বাজে। ট্রেন এসেছে স্টেশনে। জীবন্ত মনে হচ্ছে রাতের মৃত এ স্টেশনকে এখন। কতক্ষন জীবন্ত থাকবে?
আমার হিঙ্গুলী গ্রামে আসাটা যে বিরাট একটা ধাক্কা দিয়ে শুরু হবে জানা ছিল না।
আমি পরদিন সকাল বেলা একটা চা দোকানে পাউরূটি আর কলা খেয়ে রওনা দিলাম ভ্যানে করে হিঙ্গুলীর দিকে।
তবে তার আগে ওয়েটিং রুমে গিয়ে কাঁদা মাখা প্যান্টটা বদলে নিলাম। সকালে ভ্যান ওয়ালারা কেউ ‘না’ বলল না,
বলা মাত্রই আমাকে নিয়ে রওনা দিল। হিঙ্গুলী যাওয়ার পথটা পাঁকা না, কাঁচা রাস্তা। তারওপর বর্ষা কাল বলে রাস্তা ঘাটের করুণ অবস্থা।
ভ্যান একেকবার এমন কাত হয়ে যাচ্ছে যে মনে হয় তখন সোজা গিয়ে কাঁদার ওপর পড়বো!
হিঙ্গুলী প্রামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটা ছোট খাট ধাক্কার মত খেলাম। আমি শৈশবে যে গ্রামটায় মানুষ হয়েছিলাম অবিকল সেই রকম গ্রাম এটা।
ধাক্কাটা যে কারণে খেলাম তা হল- আমি যেখানে, যে রকম বাড়ি, গাছপালা, সাঁকো, রাস্তা দেখেছি আমার শৈশবের গ্রামে- এখানে ঠিক সে রকম- হুবহু এক!
কোথাও কোনো অমিল নেই! অবাক হবার কারণটা হল আমার শৈশবের গ্রামটা দিনাজপুরে! আর এটা চট্টগ্রামে।
“হিঙ্গুলী” গ্রামটা আমার জন্য বেশ কিছু রহস্য নিয়ে অপেক্ষা করছিল। তার প্রথমটার সাথে সাক্ষাত হল গ্রামে ঢোকা মাত্রই।
হিঙ্গুলী মাদ্রাসার মোয়াজ্জ্বেনের সঙ্গে কাকতালীয় ভাবে দেখা হয়ে গেল গ্রামে ঢুকেই।
বাজারে যাচ্ছিলেন সম্ভবত। এখানে থাকার মত কোনো হোটেল কিম্বা বোর্ডিং আছে নাকি আর মাদ্রাসাটা কোন দিকে তাকে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি ভ্যান থেকে সবে নেমেছি - আমাকে নামতে দেখেই ভূত দেখার মত চমকে উঠলেন! ক
িছু বোঝার আগেই চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালালেন! আমি ব্যাপারটা বোঝার জন্য কাউকে যে জিজ্ঞেস করব তা সম্ভব হল না- গ্রামের কেউ আমাকে যে’ই দেখছে এখন- সবাই ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে!
আমি ভীষণ অবাক হলাম। এক রকম হতভম্ব! আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে এমন? ভ্যান ওয়ালা ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “ ফালাইলো ক্যান বাই?”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now