বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আবেগ নয়___ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ..আবেগ নয়___ভালোবাসা.... . . এই ছেলে, শুনতে পাচ্ছেন? অন্যমনস্ক অর্ন হঠাৎ চমকে গিয়ে ভাবতে লাগলো ডাকটা কি ভদ্রতা প্রকাশ করে নাকি অভদ্রতার! . ভাবনা শেষ না হতেই রিয়া আবার বলে উঠলো "কি,কথা কানে যায়না? " অর্নঃ না, মানে কি লাগবে বলেন। রিয়াঃ আপনার দোকানে যেসব বিক্রি করেন, তার কোনটাও যদি আমার লাগতো তাহলে তো একটার কথা বলে অন্তত আপনার সাথে কথা বলা যেতো .. যত্তসব ইন্জিন (মেশিন) এর পার্টস বিক্রি করেন আপনি! . . অর্নঃ তাহলে ওভাবে ডাকলেন কেনো? রিয়াঃ না ডেকে কি কোন উপায় আছে? আপনি দোকানে বসে থাকেন, আমি প্রতিদিনই দেখি আপনি অন্যদিকে মুখ করে বসে থাকেন, আমার দিকে তাকানই না, তাই আজ বাধ্য হয়ে আপনাকে ডাকতে হলো। . অর্নঃ শুধু আপনি কেনো, আমি তো কারোর দিকেই তাকাই না, আর আমাকে ডাকতে বাধ্য হলেন কেনো? রিয়াঃ কারোর দিকেই তাকান না! ন্যাকা (ভেংচি কেটে) আপনার গার্লফ্রেন্ড বুঝি কারোর দিকে তাকাতে নিষেধ করে দিয়েছে? . অর্নঃ গার্লফ্রেন্ড কি? সেটা কে? রাগি মুখ করে রিয়া ওর সাথে থাকা বান্ধবী নাদিয়াকে ডেকে বললো "দোস্ত তোর স্কেলটা দে তো, এই বেটারে গার্লফ্রেন্ড বুঝাইলই " . . স্কেল হাতে নিয়ে অর্নের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রিয়াঃ ন্যাকামি করেন? গার্লফ্রেন্ড বোঝেন না? গার্লফ্রেন্ড মানে ঘনিষ্ঠ মেয়ে বন্ধু। . . অর্নঃ ওহ্, তাইলে তো আমার গার্লফ্রেন্ড আছে, কিন্তু ওরা তো কখনো মেয়ে মানুষের দিকে তাকাতে নিষেধ করেনি। আমি নিজে থেকেই তাকাইনা। রিয়াঃ শুনলি নাদিয়া! উনার ওরা নাকি মেয়েদের দিকে তাকাতে নিষেধ করেনি। বোঝ তাহলে কত্তগুলা গার্লফ্রেন্ড উনার! . . অর্নঃ কত্তগুলা মানে কি! মাত্র পাচজন ... বেশি না তো। রিয়াঃ শুনেছিস নাদিয়া! মাত্র পাঁচজন গার্লফ্রেন্ড উনার ..পাচজন, তাও নাকি মাত্র? শুনি এত প্রেম আসে কই থেকে? এই পাচজনের সাথে প্রেম করেন, এত্ত প্রেম কই পান? . . অর্নঃ প্রেম মানে কি? প্রেমের কথা আসলো কেনো? ওরা তো আমার মেয়ে বন্ধু, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা এক ক্লাসে পড়ি। আমাদের ক্লাসে মাত্র পাচজন মেয়েই আছে, ওরা কখনো আমাকে মেয়ে মানুষের দিকে তাকাতে নিষেধ করেনি। আর একটা ক্লাসে পাচজন মেয়ে বন্ধু মানে তো কম ই .... আর আপনি ওভাবে দজ্জাল এর মত করে কথা বলছেন কেনো? দেখতে তো আপনি ভালোই সুন্দরী, কিন্তু কথাগুলা এত ঝাঁঝালো কেন? . . অর্নের ক্লাসের মেয়ে বন্ধুর কথা শুনে নাদিয়া আর রিয়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসছিলো ..কিন্তু দজ্জাল কথাটা শোনার পরে রিয়া আরো রেগে গিয়ে স্কেলটা আবার হাতে নিয়ে..... . . রিয়াঃ কি! আমি দজ্জাল! এ কথা বলার সাহস আপনার হলো কি করে! আমি ছোট মানুষ, নাইনে পড়ি, তাইবলে আপনি আমাকে দজ্জাল বলবেন আর আমি আপনাকে ছেড়ে দিবো! খুন করে ফেলবো। অর্নঃ ওওও তুমি নাইনে পড়ো? আমি তো শুধু দজ্জাল ই বলিনি, সুন্দর ও বলেছি। সেটা শোনোনি? . অর্নের মুখ থেকে তুমি ডাকটা অনেক আগে থেকেই আশা করতো রিয়া, আর আজ তার সাথে রুপের প্রশংশা শুনে রিয়া লজ্জায় রীতিমত চুপসে গেলো। আজ রিয়ার অনেক কঠোর হওয়ার কথা। রিয়াকে চুপ করে যেতে দেখে নাদিয়া শুধু খোচাতে লাগলো .... . . রিয়াঃ আপনি এত সহজেই আমাকে তুমি করে বলবেন আমি ভাবতে পারিনি। অর্নঃ তুমি স্কুলে পড়ো, আর আমি কলেজে, তাইতো তোমাকে তুমি বলে ডাকলাম। রিয়াঃ ঠিক করেছেন, এখন থেকে বেশি বেশি করে ডাকবেন। অর্নঃ আচ্ছা, তুমি আমার সাথে অমন রেগে রেগে কথা বলছিলে কেনো? . . রিয়াঃ আপনাকে দেখার জন্য প্রতিদিন আপনাদের দোকানে একবারের জন্য হলেও তাকাই। আপনাকে দেখলে খুব হাসি লাগে, আর যখন আপনার বদলে আপনার আব্বুকে দেখি তখন খুব লজ্জা পাই .... আর পরে আপনার উপর খুব রাগ হয় যে আপনি নাই কেনো! . . অর্নঃ ওহ্, তাই সেই রাগ এখন ঢালতেছো! তা কবে থেকে এই হাসি আর লজ্জার মিশ্রন ঘটে চলেছে? রিয়াঃ আমি সিক্স এ থাকাকালীন সময়ে আপনাকে দোকানে দেখেছি ৩৭ দিন। ৩৬ দিন পর্যন্ত শুধু দেখেছিই ..হাসিনি। কিন্তু ৩৭ দিনের দিন নিজের অজান্তেই হেসে ফেলেছি। আর পরেরদিন যখন আপনার আব্বুকে চেয়ারে বসা দেখলাম তখন খুব লজ্জা পেয়েছিলাম। লজ্জা পেয়ে বুঝেছিলাম আমার মন আপনাকে চায়, আমার চোখ বার বার আপনাকে দেখে হাসতে চায়, তখনো বুঝতামনা। পরে বুঝতে পারি, আপনাকে দেখলে আমি ভালো থাকি, খুশিতে থাকি.. অজানা কারনেই মনে সুখ সুখ লাগে ... একটু একটু করে আপনি আমার মনের সবটা জায়গা দখল করে নিয়েছেন। আর আমি এখন পুরোপুরি বুঝতে পারি যে আমি আপনাকে ভালবাসি। . . রিয়ার কথা শুনে নাদিয়া রীতিমতো অবাক! আজ তো অর্নকে শুধু ঝাড়ি দেওয়ার কথা ছিলো, আর রিয়া গড় গড় করে কথা বলার প্রথমদিনই ভালবাসি অব্দি বলে ফেললো! রিয়ার ভালবাসি কথাটা একটু কান্নায় ধরে আসা গলার মত শোনালো। . . আমি আপনাকে ভালবাসি বলে রিয়া মাথা নিচু করে রেখেছে ...চোখে পানি ছলছল .. অর্নঃ ওহ্, তারমানে এই তিনবছর শুধু আমাকে দেখেই গেছো! কিছু বলোনি। তাই বুঝি এতগুলা রাগ চোখের পানির সাথে আজ ঝড়ে পড়লো? আসলে আমি মেসে থেকে পড়াশোনা করি. বাড়িতে কম থাকি, তাই দোকানেও আমাকে কম দেখো। আমার কোনো প্রেমিকা নেই ...মেয়েদের বেপারে অনেক পড়েছি, বাস্তবে আমার বন্ধুদের সাথে মেয়েরা কত বড় বড় প্রতারণা করেছে সেগুলা দেখেছি,তাই ঘৃনায় কারো দিকেই তাকাইনা . . রিয়াঃ আমার দিকে তাকাতেও বুঝি আপনার ঘৃনা হয়? অর্নঃ না মানে ,তা নয়। তবে এখন মনে হচ্ছে আরো আগে যদি তোমার দিকে তাকাতাম তাহলে তোমার চোখের ওই পানিগুলো ঝড়তো না। . . রিয়াঃ আমি তো আমার মনের কথা বলে ফেলেছি। অনেক কঠিন কথা,অনেকদিনের জমানো কথাটা আজ সহজেই বলে ফেলেছি। আমার কথাটার উত্তর দিবেন না? . . অর্নঃ তুমি একবছর আমাকে এমনিই দেখলে, তিনবছর দেখে দেখে ভেবেচিন্তে এখন ভালোবাসি বললে ..আমি ভাবনা চিন্তা করে কাল তোমার কথার উত্তর দিই? . . রিয়াঃ আচ্ছা আপনি ভাবেন, কাল উত্তর জানাবেন আর একটা কথা বলে রাখি আপনি আমাকে না ভালবাসলে আমি নিজেকে শেষ করে ফেলবো। . . কথাটা বলেই রিয়া নাদিয়ার হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে হাটতে শুরু করলো। নাদিয়া রিয়াকে ধমক দিয়ে বললো "তোর এত আবেগ আসে কোথা থেকে? আজকেই কেনো সব বলতে হলো?" রিয়া কোন উত্তর দিলোনা। . . ওরা চলে গেছে। অর্ন একা একা ভাবতে লাগলো কি উত্তর দিবে কাল এই মেয়েটাকে? এতদিন কিভাবে মেয়েটা শুধু লুকিয়ে ভালবেসে গেলো? ওর তো আরো বেশি বকা খাওয়া উচিত ছিল, কি বোকা অর্ন, একটা মেয়ে এতটা ভালবাসে, আর ও বুঝতেও পারলোনা? নাদিয়ার কথাটা অর্নের মনে পড়লো। সে রিয়াকে বলেছিল "এত আবেগ তোর আসে কোথা থেকে? " তাহলে কি এটা রিয়ার আবেগ? . . অর্ন নিজেই উত্তর দেয় ..না এটা রিয়ার আবেগ হতে পারেনা। আবেগ এর স্থায়িত্ব তিন বছর হতে পারেনা। আর যদি আবেগ- ই হতো তাহলে এই তিন বছরে আবেগে হলেও রিয়া অন্য কাউকে ভালোবেসে ফেলতো। এটা রিয়ার আবেগ না, এটা ওর সত্যিকারের ভালবাসা। . . কিন্তু অর্ন কি উত্তর দিবে? ভাবনাটা শেষ না হতেই ওর মনে পড়লো আগামীকাল মেসে ফিরে যাওয়ার কথা। কাল ভোরের ট্রেনেই ওর মেসে ফিরে যেতে হবে, একথা এতক্ষণ ভুলে বসেছিল। যাইহোক এখন ওর উত্তর নিয়ে না ভাবলেও চলবে। পরেরবার বাড়িতে এসে এরচেয়ে বেশি ঝাড়ি খেয়ে হয়তো ভাববার সময় না পেয়েই "আমিও তোমাকে ভালবাসি "বলতে হবে ..........। লেখাঃ Ornok Sikder


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now