ভালবাসার প্রহর শেষ,অংশ
X
অবনি বলিলো আমার কিন্তুভালই লাগিতেছে ,তাছাড়া তোমার সাথে যদি সারা জীবন থাকিতে পারিতাম মন্দ হইতনা। শালিনী বলিলো সেটা কখনোই সম্বব হইবে না। কিছুদূর যাবার পর ,অবনির পকেট হইতে শালিনীর পার্সটা পড়িয়া গেল ,অবনি টের পাইলো না।
শালিনী কুড়ায়ে লইলো । অবনি ঘাড় গুরাতেই শালিনী অনেক গুলো কাথা শুনাইয়া দিল। অবনি চুপ করিয়া রইলো ,অনেক ক্ষন পর বলিলো হয়তো মহা পাপ করিয়া ফালাইছি,তবে এ কথা সত্য,আমি তোমার কাছে আসতে চেয়েছি ,তোমাকে ভালবাসতে চেয়েছি। শালিনী গাল ফুলাইয়া রইলো ,অবনির সাথে যাইবে না । অবনিন বলিলো আমি চিট করিতেছিনা । তোমাকে বাড়িতে পৌছায়ে দিলেই আমার দায়িত্ব শেষ হইব। যাকে আপন করিতে চাই ,সে না চাক তাহার কোন ক্ষতি অমন কাজ ঈশ্বর আমাকে দিয়া করাইবেন না । রাত ঢের হয়েছে,জন মানবহীন,সরু রাস্তা মাঝে মাঝে জঙ্গলের ডাল পালা ,দুটি মানব প্রাণী চলিতেছে। অনেক ক্ষণ চলার পর। বাড়ির সামনে আসিয়া গেল। শালিনী বলিলো তুমি এবার আসতে পার ,তোমার মুখ আর দেখতে চাই না। অবনি শালিনীর নিকটে আগাইয়া গেল ,তাহার টাকা ও টিকিট ফিরায়ে দিল । শিশুর মত কাদিতে লাগিলো ,বললো- মনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম আপনাকে সংঙ্গে ..মুখ হাইতে আর কথা বাইর হইলো না। অনেক ভালবাসি ,মন যাইতে চায় না । আপনি যদি রলেন - সাত হাজার বছর আপনার জন্য অপেক্ষা করবো ।আর সাত দিনতো মামূলি ব্যাপার ।আপনাকে নিয়েই আশ্রমে ফিরিব গুরুর আর্শীবাদ নিতে । শাীলনী কোন কথা কহিলো না।
চারিদিক আবছা আধার আলো শুরু হল অবনির প্রথম দিন। দাড়ায়ে থাকিল জানালার দিকে মুখ করিয়া ,শালিনীর দেখা পাইলো বটে ,তেমন কোন ভাব বুজিতে পারিলো না । দ্বিতীয় দিন একই ভাবে দাড়ায়ে থাকিল কিন্তু শালিনীর আচারনের কোন রুপ পরিবর্তন আসিলো না। তৃতীয় দিন শালিনীর ছ্টে ভায়ের সাথে তাহার সখ্যতা তৈরী হইয়া গেল,তিন দিনের অনাহারে তাহার শরীর আর টিকিলো না ,অসুস্থ হইয়া গেল । পাশের লোক জন তাহারে ,ডাক্টার আনিয়া শরীরে সেলাইন পুশ করাইলো । রাতে খাবার টেবিলে পুলক অবনির কথা তুলিতেই শালিনী ধমক দিয়া উঠিলো ,শালিনী রুমে উঠিয়া গেল,আর কাঁদিতে লাগিলো। হে ঈশ্বর । চতুর্থদিন বিকাল হতেই ঝড় বৃষ্টি আরম্ব হইল্াে ,অবনি অসহায়ের মত ভিজিতে লাগিলো। রাতে জ্বরে অবনি কাপিতে লাগিলো । শালিনী সবার অগোচরে নিজের কম্বলটা তাহার গায়ে জড়ায়ে দিল। পঞ্চমদিন জ্বর লইয়া এভাবেই কাটিয়া গেল। ষষ্ঠদিন অবনি বুজিতে পারিলো শালিনী তাহার জন্য নয় ,সিদ্ধান্ত নিল রাতের আধারে এখান হইেতে চলিয়া যাইবে। অন্তত তাহার মনে এতো টুকু শান্তনা থাকুক ,সে যদি সপ্তম দিন থাকিত তাহা হইলে রাজকুমারি তাহার প্রেমের টানে ছুটিয়া আসিত। সারাটা দিন উদাসের মত বসিয়া থাকিলো । শালিনী আড়াল হতে লক্ষ্য করিলো ,তাহার অন্তর আত্তা কোথাই যেন হারায়ে যাইতেছে।
চারি দিক অনধকার ঘনায়ে আসিলো,অবনি তাহার অভীসার হইতে , হাটিতে লাগিলো কিন্তু পা যেন চলিতেনে না। অবনি পিছন ফিরিয়া তাকাইলো না ,সোজা গিয়া ট্রেনের কামরায় উঠিলো। দেখিলো কেহ নাই একজন ভদ্র মহিলা কালো কাপড়ে মুখটা ডাকিয়া বসিয়া আছে। অবনি মিনিট খানিক দাড়ায়ে থাকিলো,তার পর সোজা গিয়া জানালার কোনে বসিয়া পড়িলো।রাত আর তাহার জীবন যেন একসূত্রে গাথা। জানালা দিয়ে রাতের বিভীষিকাময় অনন্ধকার অবলোকন করিতেছে। শালিনী মুখের কাপড়টা সরাইয়া ,অবনির পা ধরিয়া বলিয়া উঠিলো,“আমাকে এ পায়ে ঠাঁই দিবে গো ঠাকুর ,আমি যে বড়ই অভাগা-----------------------------------------।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now