বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রাকপুরুষের চশমা
(ষষ্ট পর্ব)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা ।
ভয়ার্ত সুজানা ভেবেছিলো এই বুঝি রুকন ওকে
শেষ করে দিবে। চোখ বন্ধ করে ও একটা
তীব্র আঘাতের অপেক্ষা করছিলো। কিন্তু
অনেকক্ষণ পরেও সে আঘাতটা আসলো না। এর
বদলে খুট করে ড্রয়িংরুমের দরজা খুলার শব্দ হল।
শব্দ শুনে সুজানা চোখ না খুলে পারলো না। ও
চোখ মেলে দেখলো রুকন ওকে অতিক্রম
করে যেয়ে ড্রয়িংরুমের দরজা খুলে ভেতরে
উঁকি দিচ্ছে! তবে কি উদ্ভট শব্দ গুলি সেও
শুনতে পেয়েছে? সুজানা মনে এক রাশ বিষ্ময়
নিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। রুকন
ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাস করে,
"কি ব্যাপার সুজানা, ড্রয়িংরুমে কে চিৎকার করছিলো?
সুজানার কাছে দেওয়ার মতো কোন উত্তর ছিল
না, ও কেবল রুকনের দিকে তাকিয়ে ঠায় দাড়িয়ে
থাকে। তখনি পেছন থেকে খুকখুল কাশির শব্দ
শোনা যায়। আরিফ ঘুম ছেড়ে উঠে এসেছে!
সুজানা এবার দৃঢ় চিত্তে আরিফের সামনে দাঁড়িয়ে
ওর নিজের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে,
"এতদিন তো কেবল আমি বলতাম তাই হেসেই
উড়িয়ে দিতি। এখন দেখ, রুকনও আজ রাতে সেই
শব্দ শুনেছে! এবার কি বলবি? কেবল তোর
মতো বধির ছাড়া সবাই ঐ শব্দ শুনতে পায়!" এবার
আরিফকে কিছুটা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ দেখায়! ও কাঁপাকাঁপা
গলায় বলে "খানিক আগে আমিও একটা গোঙ্গানির
শব্দ শুনেছি! মনে হলো যেন তোর
গোঙ্গানি। তাই উঠে দেখতে এলাম।" সুজানা
বুঝতে পারে আরিফ সেই অদ্ভুত শব্দের কিছুই
শুনতে পায় নি। খানিক আগে রুকনের মারমুখ ভঙ্গি
দেখে সুজানা ভয়ে গোঙ্গিয়ে উঠেছিলো,
আরিফ কেবল সেটাই শুনেছে। খুব হতাশ লাগে
তার। হতাশায় রেগে যেয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিলো
ও। কিন্তু রুকনই আগ বাড়িয়ে বলে উঠে, রুকন:
"হা রে আরিফ। এ ঘরে কিছু একটা উল্টাপাল্টা তো
আছেই। আমি নিজের কানে শুনেছি। কেউ
একজন তার ভুরি বেরিয়ে গেছে বলে চিৎকার
করছে।" রুকনকে এতটা সিরিয়াস হতে দেখে
আরিফ ও নিমরাজি হয়ে ওদের সাথে সায় দেয়।
আরিফ: "আচ্ছা বাবা মানলাম তোদের কথা। ঘরে
কিছু একটা আছে। কিন্তু সেটা কি? খুজে বের
করতে পারবি কেউ কোন কিছু?" রুকন বলে,
"পাই বা না পাই সেটা পরে দেখা যাবে। খুজতে
দোষ কি?" এই বলে রুকন আর সুজানা পুরু ড্রয়িংরুম
তন্নতন্ন করে খুঁজতে শুরু করলো। মেঝে,
দেয়ালের প্রতি ইঞ্চি ঠুকে ঠুকে দেখলো
কোন ফাঁপা গর্ত, বা লোকানো কুঠুরি পাওয়া যায় কি
না। তাছাড়াও শেফল, আসবাবপত্র সব সরিয়েও
পেছনটা দেখে নিলো। শেষরাতের এই
খুঁজাখুঁজিতে ওরা হাঁপিয়ে উঠেছে কিন্তু এখনো
ঠিক কি খোঁজছে সেটাই তারা জানতে পারে নি।
আরিফ সন্দেহের দৃষ্টি নিয়ে ওদের দুজনের
দিকে তাকিয়ে থাকে আর ভাবে রাতবিরাতে
বাচ্চাদের মতো এরা কি শুরু করলো! এদের
মতলবটা কি! সারা ড্রয়িংরুম এক ঘন্টা ধরে দুবার ভাল
করে খুঁজাখুজির পরেও সন্দেহজনক তেমন কিছুই
পাওয়া গেল না দেখে রুকন ও সুজানা হাল ছেড়ে
দিল। কিচ্ছু নেই ড্রয়িংরুমে। যাদুটোনার তাবিজ,
ভুডোর পুতুল, ডাকিনীবিদ্যার অষ্টভুজাকৃতির চক্র
এসব কিছুই নেই। ড্রয়িংরুমটা একদম পরিষ্কার! এমন
তো হওয়ার কথা নয়! হঠাৎ সুজানার মনে পড়ে
গতদিন বিকালে আরিফের অনুপস্থিতিতে ও যখন
সেসব ভৌতিক আর্তনাদগুলি শুনে ড্রয়িংরুমের খুব
কাছে চলে এসেছিলো তখন ওর মনে হয়েছিল
যেন ড্রয়িংরুমের ছাদ থেকেই সব শব্দ
আসছে! আরে! একটা জায়গাতে তো এখনো
খুজ করা হয় নি! ড্রয়িংরুমের ছাদ! তাই তো!
ড্রয়িংরুমের ছাদের উপরেই আছে চিলেকোঠা!
চিলেকোঠায় কত ভৌতিক কাণ্ডকারখানাই না হয়ে
থাকে! সমস্যা হয়তো চিলেকোঠায় কিন্তু ওরা
অকাজে ড্রয়িংরুমটায় খুজেখুজে হয়রান! নতুন
আশায় সুজানা উঠে দাড়ায়! আরিফ: "কি রে?
তোদের হল তো! কিছু পেয়েছিস? এবার
তো বিশ্বাস হবে যে আমাদের সাথে এখানে
কিছু গুবড়েপোকা ছাড়া আর কিছু নেই? " সুজানা:
"আমার মনে হয় ওটা ড্রয়িংরুমে নয় ,ড্রয়িংরুমের
ঠিক উপরেই চিলেকোঠা। ওটা খুব সম্ভব
সেখানেই আছে! " আরিফ: "ওহ গড সুজানা!
এসব হচ্ছেটা কি? এত রাতে বাচ্চাদের মতো এসব
কি শুরু করেছিস?" কিন্তু এবার রুকন সুজানাকে সায়
দেয়, রুকন: "শেষমেশ একটা চেষ্টা করা
যেতেই পারে। চিলেকোঠায়ও যদি কিছু না পাই
তো আর খুঁজাখুঁজি করবো না।" আরিফ: "কিন্তু পাবি
টা কি? রাণী এলিজাবেথের হীরার মুকুট? "
আরিফের ব্যাঙ্গ টা কেউই গাঁয়েই মাখে না। সুজানা:
"সেটা ওখানে গেলেই দেখা যাবে। চল।"
আরিফ চুড়ান্ত বিরক্ত হলেও সেটা চেঁপে
রেখে চলল, ওদের পেছন পেছন। মই
বেয়ে উঠে চিলেকোঠায় সর্বপ্রথম পা
রাখলো রুকন। চিলেকোঠায় উঠেই আলো
জ্বেলে দিলো ও। তার পেছন পেছন উঠলো
সুজানা, সবার শেষে আরিফ! বুড়ো বয়সের এই
আডভেঞ্চারটা একটুও ভাল লাগছে না তার। চিলে
কোঠায় বাতিল মালের আড়ত বসেছে যেন ভাঙ্গা
কোদাল, খন্তি, নষ্ট হয়ে যাওয়া ঘাস কাটার মেশিন,
ঈঁদুর মারার ফাঁদ, এক জোড়া পুরাতন বুট জুতো।
এসবের মধ্যে খানিকক্ষণ ঘাটাঘাটি করার পর রুকনের
চোখ আটকে গেল একটা সাদা রঙের মাঝারি
আকৃতির চামড়ার বক্সের উপর। ওতে লাল রঙের
রেডক্রস চিহ্নই বলে দিচ্ছে ডাক্তারি ব্যাগ ওটা!
অশরীরী আহতদের আর্তনাদ করে ডাকা সেই
ডাক্তারের ব্যাগ! রুকন এগিয়ে যেয়ে ব্যাগটা
কুড়িয়ে নিল। রেডক্রসের নীচেই গাঢ় কালো
কালিতে ডাক্তারের নাম লেখা,
"ডাক্তার আলফ্রেড ডি পেলভনস্কি ম্যাডিক্যাল
কোর, পোলিশ রেজিস্টান্ট মুভমেন্ট" রুকন
কাঁপাকাঁপা হাতে বক্সটা খুললো! সবার উপরে এক
সেট সবুজ রঙের প্যারামেডিক ইউনিফর্ম। তার
নীচে কতগুলি ডাক্তারি জিনিসপত্র, স্কালপেল,
ফোরসেপ, সুচার, ডিজইনফেক্টেন্টের
বোতল। তারও নীচে শক্ত করে আটকানো
একটা পলিথিন ব্যাগ। রুকন ব্যাগটা বের করে
আনলো। ব্যাগের ভেতর থেকে বেরুলো
চারটে ক্ষুদ্র সাদা কৌটা। প্রত্যেকটায় কালো
সাইনপেন দিয়ে এক একটা শহরের নাম লেখা,
"ওয়ারশো (পোল্যান্ড), স্টার্লিনগ্রাদ (রাশিয়া),
প্যারিস (ফ্রান্স), আগোয়াদিয়েন্ত (ইতালি) । রুকন
একে একে সবগুলি কৌটার মুখই খুলে ফেললো।
প্রত্যেক কৌটাই মাটি দিয়ে ভরা। সুজানা রুকনের হাত
থেকে সব গুলি কৌটা নিয়ে একে একে
নীবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখলো। তারপর
আচমকাই ঘোষনা দিল, "এই যে দেখো, এগুলিই
খুঁজছিলাম এতক্ষণ। এই গুলিই সব সমস্যার মূল।" রুকন
কিছুই বুঝতে পারে না। কেবল হাঁ করে তাকিয়ে
থাকে, আর অপেক্ষা করে কখন সুজানা ব্যাপারটা
একটু ব্যাখ্যা করে বলবে। ওদিকে আরিফ আর
ধৈর্য ধরতে না পেরে সুজানাকে প্রশ্ন করে
বসে, আরিফ: "এগুলি কি সমস্যা করছিলো
তোকে? ঠিক বুঝলাম না, আমাদের একটু বুঝিয়ে
বলবি তো।" সুজানা রহস্যময় একটা মুচকি হাসি দেয়।
এতক্ষণ আরিফ এই খুঁজাখুঁজির ব্যাপারে চরম বিরক্ত
ছিলো, কিন্তু এখন পেয়ে যাওয়াতে সে ই
ব্যাপারটা জানতে সবচেয়ে বেশী আগ্রহী।
একটা লম্বা দম নিয়ে ও বুড়ো দুটোকে ব্যাপারটা
খুলে বলে। "এই ডাক্তার আলফ্রেড দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধকালীন পোলিশ রেজিস্টান্ট মুভমেন্ট
তথা পোলিশ আধাসামরিক বাহিনীর মেডিক্যাল কোর
এর একজন ডাক্তার ছিলো। খুব সম্ভবত দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে হিটলার ওয়ারশো
আক্রমণ করলে ও আধাসামরিক বাহিনীতে যোগ
দেয়। তারপর যোদ্ধাদের পেছন পেছন সেও
ছুটতে থাকে এক শহর থেকে অন্য শহরে,
সর্বগ্রাসী জার্মানদের মোকাবেলায়। যুদ্ধকালে
সে যেসব শহরে দায়িত্বপালন করেছিলো সে
সব শহরের মাটি ও পুরাতন ঔষধের কৌটায় ভরে
সংগ্রহ করে রেখেছিলো স্মৃতি হিসেবে। সেই
স্মৃতিটাই মাঝেমাঝে ভেসে উঠে আমাদের
সামনে। রাতে যে ভয়াবহ গুলাগুলির শব্দ,
আহতদের আর্তনাদ শুনা যায় সেটা সর্বপ্রথম এই
ডাক্তারই শুনেছিলো। মৃত্যুর পরেও তার বাড়িতে
সেই স্মৃতিময় শব্দগুলি রিলে হয়ে বেজে সেই
ভয়াল দিনগুলির কথা জানান দেয়।" রুকন সবিষ্ময়ে
তাকিয়ে থাকি কৌটাগুলির দিকে। ওদিকে আরিফ
মনেমনে ভাবে, এ ও কি সম্ভব? ওর বাস্তববাদী
মনটা একে গাঁজাখুরি গল্প বলে উড়িয়ে দিতে চায়
কিন্তু সুজানার হাতে থাকা প্রমাণগুলির জন্যে পারে
না।বরং চুপ করে থেকে মাথা দুলিয়ে সায় দেয়।
খানিকের জন্যে ওরা সবাই নিরব হয়ে যায়। ব্যাপারটা
হজম করতে সবাই কিছুটা সময় নেয়। খানিক পরে
রুকনই এই নিরবতা ভাঙে। রুকন: "সমস্যাটার কারণ
তো বুঝলাম, কিন্তু এর সমাধানটা কি? বাড়ি পরিবর্তন
করতে হবে না কি?" বাড়ি বদলানোর কথা শুনেই
আরিফ বেঁকে বসে। আরিফ: "এত টাকা খরচ করে
আমি এত সাধের বাড়ি কিনেছি কি ভুতের ভয়ে
ফেলে যাওয়ার জন্যে? কক্ষনোই নয়। পারলে
আন্য কোন সমাধান বের কর, নয়তো এ ভাবেই
চলুক। আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না।"
কিন্তু সুজানা ইতিমধ্যেই সমস্যাটার সবচেয়ে সহজ
ও গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান বের করে
ফেলেছে। সে বলল, "না না। বাড়ি ছাড়তে হবে
না। এর চেয়েও সহজ পদ্ধতিতে আমরা সমাধানে
পৌছতে পারি। এই কৌটা ভর্তি মাটি থেকেই সকল
সমস্যার শুরু। এই মাটি গুলি সাগরে ফেলে দিলেই
তো সমস্যা শেষ। বাড়িটা আলফ্রেডের যদ্ধের
স্মৃতি থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।" আরিফ মনে
মনে সুজানার প্রসংসা না করে পারে না। অসাধারণ
বুদ্ধি খাটিয়েছে বুড়িটা। ওর মুখের হাসিটা চওড়া হয়।
রুকনের মুখেও হাসি ফুটে। সেটা ক্রমান্বয়ে
ছড়িয়ে পড়ে সুজানার মুখে। তিন বন্ধু মিলে
অসাধারণ কাজ দেখিয়েছে আজ। তাই সবাই খুশি।
চিলেকোঠার ছোট্ট জানালার ফ্রেমের ফাঁক
গলে ঢুকা প্রভাতের লাল আভা ওদের ভোরের
সুসংবাদ দেয়। রাতটা ওরা আডভেঞ্চার করেই
কাটিয়ে দিয়েছে। সামনেই একটা রুদ্রউজ্জ্বল দিন
সমাগত। সুজানা কৌটাগুলি রুকনের কাছে ফেরৎ দেয়।
সে ওগুলি ফের পলিথিন ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখতে
যায়। প্রথম কৌটাটা ব্যাগের ভেতরে ঢুকানোর
সাথে সাথে কিছু একটার সাথে ওটা বাড়ি খাওয়ার
ঠকাঠক শব্দ হয়! আশ্চর্য! ব্যাগে আরো কিছু
আছে না কি? রুকন কিংকর্তব্যবিমূঢ় সুজানার দিকে
তাকায়। সুজানা এগিয়ে এসে রুকনের হাত থেকে
ব্যাগটা নিয়ে তাতে হাতটা ঢুকিয়ে দেয়। তারপর একটা
কালো পুরাতন মডেলের সানগ্লাস সহ হাতটা বের
করে আনে! সানগ্লাসটা দেখেই আরিফের
পুরাতন চশমা প্রেমটা ফের জেগে উঠে। সে
ওটা সুজানার হাত থেকে প্রায় ছো মেরে নিয়ে
যায়। তারপর এই চশমাটার উপর সল্পদৈর্ঘের একটা
জ্ঞানগর্ভ লেকচার দেয় ও। আরিফ: "আরে! এটা
তো ভিভিওনা কম্পানির রিভাইভাল মডেলের সানগ্লাস!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রেঞ্চ স্নাইপারদের
জন্যে বিশেষ ভাবে তৈরী। এটা একটা মাস্টারপিস!
আমি ইন্টারনেটে এর ফটো দেখেছি। প্রথম
দিকে সানগ্লাসের প্রচলনের শুরু হয় ফ্রেঞ্চ ও
মিত্রবাহিনীর স্নাইপারদের মধ্যে। সুর্যের প্রখর
আলোয় স্নাইপারদের যেন চোখ ধাঁধিয়ে না যায়
তাই এ চশমার উদ্ভাবন। তারপর হলিউডের
অভিনেতাদের হাত ধরে ফ্যাশন জগতে এর
প্রবেশ। তবে সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায়
দুই দশক পরে। কিন্তু এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময়কার সানগ্লাস। বলা যায় পৃথিবীর প্রথম ১০০টা
সানগ্লাসের মধ্যে এটা একটা।" আরিফের
জ্ঞানগর্ভ লেকচারের প্রতি সুজানা বা রুকন কেউই
আগ্রহ দেখায় না। ওরা কেবল কৌটাগুলি নিয়েই
ভাবতে থাকে। ওদিকে আরিফ নিজের পুরো
চশমাটা খুলে সানগ্লাসটা পরে নেয়। তারপর
ফোকলা দাঁত বের করে এক গাল হেসে
সুজানাকে প্রশ্ন করে, "আমায় কেমন লাগছে
গো বুড়ি?" সুজানা বিরক্তিভরা কন্ঠে বলে, "
ঠাকুরমার ঝুলির সেই কানা ভুতের মতো।"
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now