বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘উঁ।’
‘তুই কোথায়? আরেকবার আমাকে ডাক তো। আর মাত্র একবার।’
আমার ছেলে আমাকে ডাকল –‘মা, মা।’ আমি সহ্য করতে পারলাম না। অচেতন হয়ে পড়ে গেলাম।
আমি জানি এর সবটাই মায়া। এক ধরনের বিভ্রম। আমার মাথা এলোমেলো হয়ে আছে। দুঃখে কষ্টে যন্ত্রণায় আমার মাথাখারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই আমাকে পাগলা গারদে ঢুকিয়ে দেবে। একটা নির্জন ঘরে আটকা থাকব। নিজের মনে হাসব, কাঁদব। গায়ের কাপড়ের কোনও ঠিক থাকবে না। অ্যাটেনডেন্টদের কেউ কেউ আমার গায়ে হাত দিয়ে আনন্দ পাবে। আমারকিছুই করার থাকবে না।
এই সময় আমার এক বান্ধবী রেণুকা বলল, বুড়ি তুই ছবি করবি? আমার মামা ছবি বানাচ্ছেন। অল্পবয়সি সুন্দরি নায়িকা খুঁজছেন। তোকে দেখলে হাতে আকাশের চাঁদ পাবেন। তুই এত সুন্দর!
আমি বললাম, তোর ধারণা আমি সুন্দর?
সে বলল, পৃথিবীর চারজন রূপবতীর মধ্যে তুই একজন। সেই চারজনের নাম শুনবি? তুই, তারপর হেলেন অব ট্রয়, কুইন অব সেবা, ক্লিওপেট্রা। তুইরাজি থাকলে মামাকে বলে দেখি।
‘আমি তো অভিনয় জানিনা।’
‘বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয় করার প্রথম এবং একমাত্র যোগ্যতা হচ্ছে অভিনয় না-জানা। তুই অভিনয় জানিস না শুনলে মামা আনন্দে লাফাতে থাকবে। করবি অভিনয়?’
‘করব।’
‘চল এখনই তোকে মামার কাছে নিয়ে যাই।’
প্রথম ছবি হিট করল। দ্বিতীয় ছবি হিট করল। তৃতীয় হল সুপার হিট। ছবি করা তো কিছু না – নিজেকে ব্যস্ত রাখা। ডাবল শিফট কাজ করি, অমানুষিক পরিশ্রম। রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে মড়ার মতো ঘুমাই। অনেক দিন ছেলের কান্না শুনি না। কথা শুনি না। মনে হল আমার মনের অসুখটা কেটে গেছে। এতে আনন্দিত হবার কথা। তা হই না। আমার ছেলের গলা শোনার জন্যে তৃষিত থাকি। তারপর একদিন তার কথা শুনলাম।
‘জায়া জননী’ ছবির ডাবিং অচ্ছে। পর্দায় ঠোঁটনাড়া দেখেভয়েস দেয়া। একটা বাক্য কিছুতেই মেলাতে পারছিনা। ক্লোজআপে ধরা আছে বলে ফাঁকি দেবার উপায় নেই। ঠোঁট মেলানোর চেষ্টা করতে করতে মহা বিরক্ত বোধ করছি। ডিরেক্টর বললেন, কিছুক্ষণ রেস্ট নাও রূপা, চা খাও। দশ মিনিট টী-ব্রেক।
আমি আমার ঘরে চলে এলাম। নায়িকাদের জন্যেআলাদা একটা ঘর থাকে। সেখানে কারও প্রবেশাধিকার নেই।আমি একা একা চা খাচ্ছি। হঠাৎ আমার ছেলের গলা শুনলাম। প্রায় দুবছর পর শুনছি, কিন্তু এত স্পষ্ট! এত তীব্র! আমার শরীর ঝনঝন করে উঠল।
‘মা, ও মা।’
‘কী খোকা?’
‘তুমি কি কর?’
‘চা খাচ্ছি।’
‘তুমি কোথায়?’
‘তুই কোথায় খোকা? তুই কোথায়?’
‘এইখানে।’
‘কী করছিস?’
‘খেলছি।’
‘ও খোকা! খোকা!’
‘কী?’
‘খোকা! খোকা!’
‘উঁ।’
‘কাছে আয়।’
আমার ছেলে কাঁদতে শুরু করল। তারপর সব আবার চুপচাপ হয়ে গেল। আমি ঘর থেকে বের হয়ে ডিরেক্টরকে বললাম, আজ আর কাজ করব না। আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিন, আমার ভয়ংকর খারাপ লাগছে।
সেই রাতে আমি একগাদা ঘুমের ওষুধ খেলাম। মরবার জন্যেই খেলাম। ডাক্তাররা আমাকে বাঁচিয়ে তুললেন।
মিসির আলি খাতা বন্ধ করে ডাকলেন, বজলু!
বজলু ছুটে এল। মিসির আলি বললেন, আমার ঢাকা যাওয়া দরকার। এখন যদি রওনা দিই তা হলে কতক্ষণে ঢাকা পৌঁছব?
বজলু হতভম্ব হয়ে বলল, এখন কি যাইবেন? রাত দশটা বাজে।
গৌরীপুরথেকে ঢাকা যাবার কোনো ট্রেন কি নেই? যে-ট্রেন শেষরাতে ছাড়ে? চলো রওনা দিয়ে দি।
‘স্যার, আপনের মাথাটাখারাপ।’
‘কিছুটা খারাপ তো বটেই। জ্যোৎস্নারাত আছে। জ্যোৎস্না দেখতে দেখতে যাব।’
‘সত্যি যাইবেন?’
‘হ্যাঁ, সত্যি যাব। একটি দুখি মেয়ের সঙ্গে দেখা কড়া দরকার। খুব দরকার।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now