বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনীশ পর্ব ৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X বুড়ি বলল, ‘স্যার আসব?’ মিসির আলি বিছানায় কাত হয়ে বই পড়ছিলেন – বইটির নাম লেখক – ‘Mysteries of afterlife’ লেখক F. Smyth. মজার বই। মৃত্যুর পরের জগৎ সম্পর্কে এমনসব বর্ণনা আছে যা পড়লে মনে হয় লেখকসাহেব ঐজগৎ ঘুরে এসেছেন। বেশ কিছুদিন সেখানে ছিলেন। ভালমতোসবকিছু দেখা। এজাতীয় লেখা হয়, ছাপা হয় এবং হাজার হাজার কপি বিক্রি হয় এটাই এক বিস্ময়। তিনি বই বন্ধ করে বুড়ির দিকে তাকালেন। মেয়েটির সঙ্গে বেশ কয়েকবার তাঁর দেখা হয়েছে। মেয়েটির ভাবভঙ্গিতে মনে হয় তাঁর সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে সে এক ধরনের আগ্রহবোধ করছে। আগ্রহের কারণ স্পষ্ট নয়। তার কি কোনো সমস্যা আছে? থাকতে পারে। মিসির আলি এই মুহূর্তে অন্যের সমস্যা নিয়ে ভাবতে চাচ্ছেন না। তাঁর নিজের সমস্যাই প্রবল। শারীর-সমস্যা। ডাক্তাররা অসুখের ধরন এখনও ধরতে পারছেন না। বলেছেন যকৃতের একটা অংশ কাজ করছে না। যকৃত মানুষের শরীরের বিশাল এক যন্ত্র। সেই যন্ত্রের অংশবিশেষ কাজ না করলেও অসুবিধা হবার কথা না। তা হলে অসুবিধা হচ্ছে কেন? মাথার যন্ত্রণাই – বা কেন হচ্ছে? টিউমার জাতীয় কিছু কি হয়ে গেল? টিউমার বড় হচ্ছে – মস্তিষ্কে চাপ দিচ্ছে। সেই চাপটা শুধু সন্ধার পর থেকে দিচ্ছে কেন? বুড়ি আবার বলল, ‘স্যার, আমি কি আসব?’ মেয়েটিরপরনে প্রথম দিনের আসমানি রঙের শাড়ি। হয়তো এই শাড়িটাই তাঁর ‘লাকি শাড়ি’। অপারেশন টেবিলে যাবার আগে সে বলবে – আমাকে এই লাকি শাড়িটা পরতে দিন। প্লীজ ডাক্তার,প্লীজ! রাত আটটা প্রায় বাজে। এমন কিছু রাত নয়, তবু মিসির আলির ঘুম পাচ্ছে। কারও সঙ্গেই কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। তিনি তার পরেও বললেন, ‘আপনার কি মাথাধরাআছে?’ ‘এখন নেই। রোজই সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। আজ এখনও কেন যে শুরু হচ্ছে না বুঝতে পারছি না।’ বুড়ি হাসতে হাসতে বলল, ‘মনে হচ্ছে মাথা না ধরায় আপনার মন খারাপ হয়ে গেছে। স্যার, আমি কি বসব?’ ‘বসুন বসুন। আমাকে স্যার বলছেন কেন তা বুঝতে পারছি না।’ ‘আপনি শিক্ষক-মানুষ এইজন্যেই স্যার বলছি। ভাল শিক্ষক দেখলেই ছাত্রী হতে ইচ্ছা করে।’ ‘আমি ভাল শিক্ষক আপনাকেকে বলল?’ ‘কেউ বলেনি। আমার মনে হচ্ছে। আপনি কথা বলার সময় খুব জোর দিয়ে বলেন। এমনভাবে বলেন যে যখন শুনি মনে হয় আপনি যা বলছেন তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন বলেই বলছেন। ভাল শিক্ষকের এটা হচ্ছে প্রথম শর্ত।’ ‘দ্বিতীয় শর্ত কি?’ ‘দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে জ্ঞান। ভাল শিক্ষকের প্রচুর জানতে হবে এবং ভালমতো জানতে হবে।’ ‘আপনি নিজেও কিন্তু শিক্ষকের মতো কথা বলছেন।’ বুড়ি বলল, ‘আমার জীবনের ইচ্ছা কী ছিল জানেন? কিণ্ডারগার্ডেনের শিক্ষিকা হওয়া। ফ্রক-পরা ছোট ছোট ছেলেমেয়েঘুরে বেড়াবে, আমি তাদের পড়াব, গান শেখাব। ব্যথা পেয়ে কাঁদলে আদর করব। অথচ আমি কী হয়েছি দেখুন – একজন অভিনেত্রী! আমার সমস্ত কর্মকাণ্ড বয়স্ক মানুষ নিয়ে। আমার জীবনে শিশুর কোনো স্থান নেই। স্যার, আমি কি বকবক করে আপনাকে বিরক্ত করছি?’ ‘না, করছেন না।’ ‘আপনি আমাকে তুমি করে ডাকলে আমি খুব খুশি হব। আপনি আমাকেতুমি করে ডাকবেন, এবং নাম ধরে ডাকবেন। প্লীজ!’ ‘বুড়ি ডাকতে বলছ?’ ‘হ্যাঁ, বুড়ি ডাকবেন। আমার ডাকনামটা বেশ অদ্ভুত না? যখন সত্যি সত্যি বুড়ি হব তখন বুড়ি বলে ডাকার কেউ থাকবে না।’ মিসির আলি বললেন, ‘তুমি কি সবসময় এমন গুছিয়ে কথা বল?’ ‘আপনার কি ধারণা?’ ‘আমার ধারণা তুমি কথা কম বল। যারা কথা বেশি বলে তারা গুছিয়ে কিছু বলতে পারে না। যারা কম কথা বলে তারা যখন বিশেষ কোনো কথা বলতে চায় তখন খুব গুছিয়ে বলতে পারে। আমার ধারণা তুমি আমাকে বিশেষ কিছু বলতে চাচ্ছ।’ ‘আপনার ধারণা সত্যি নয়। আমি আপনাকে বিশেষ কিছু বলতে চাচ্ছি না। আগামীকাল আমার অপারেশন। ভয়ভয় লাগছে। ভয় কাটানোর জন্যে আপনার সঙ্গে গল্প করতে এসেছি।’ ‘ভয় কেটেছে?’ ‘কাটেনি। তবে ভুলে আছি। আপনার এখান থেকে যাবার পর – গরম পানিতে গোসল করব। আয়াকে গরম পানি আনতে বলেছি। গোসলের পর কড়া ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েপড়ব।’ মিসির আলি হাই তুললেন। মেয়েটির কথা এখন আরশুনতে ভাল লাগছে না। তাকে বলাও যাচ্ছে না – তুমি এখন যাও, আমার মাথা ধরেছে। মাথা সত্যি সত্যি ধরলে বলা যেত। মাথা ধরেনি। ‘আপনি কি ভূত বিশ্বাস করেন স্যার?’ মিসির আলি হেসে ফেলে বললেন, ‘গল্পটা বলো।’ ‘কোন গল্পটা বলব?’ ‘কেউ যখন জানতে চায়, আপনি কি ভূত বিশ্বাস করেন তখন তার মাথায় একটা ভূতের গল্প থাকে। ঐটা সে শোনাতে চায়। তুমিও চাচ্ছ।’ ‘আপনি ভুল করেছেন। আমি আপনাকে কোনো গল্প শোনাতে চাচ্ছি না। কোনো ভৌতিক গল্প আমার জানা নেই।’ ‘ও আচ্ছা।’ ‘আর একটাকথা, আপনি দয়া করে “ও আচ্ছা” বাক্যটা বলবেন না। এবংনিজেকে বেশি বুদ্ধিমান মনে করবেন না।’ ‘বুড়ি, তুমি রেগে যাচ্ছ।’ ‘আমাকে তুমি তুমি করেও বলবেন না।’ বুড়ি উঠে দাঁড়াল এবং প্রায় ঝড়ের বেগে ঘর ছেড়ে চলে গেল। মিসির আলি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। তাঁর মনে হল প্রকৃতি শুধুমাত্র মেয়েদের মধ্যেই বিপরীত গুণাবলির দর্শনীয় সমাবেশ ঘটিয়েছে। মেয়েকে যেহেতু সবসময়ই সন্তানধারণ করতে হয় সেহেতু প্রকৃতি তাকে করল শান্ত, ধীর, স্থির। একই সঙ্গে ঠিক একই মাত্রায় তাকে করল অশান্ত, অধীর, অস্থির। প্রকৃতি সবসময়ই মজার খেলা খেলছে। মিসির আলি বই খুললেন, মৃত্যুর পরের জগৎ সম্পর্কে স্মিথ সাহেবের বক্তব্য পড়া যাক। ‘স্থুল দেহের ভেতরেই লুকিয়ে আছে মানুষের সূক্ষ্ম দেহ। সেই দেহকে বলে বাইওপ্লাজমিক বডি। স্থুল দৃষ্টিতে সেই দেহ দেখা যায় না। স্থুলদেহের বিনাশ হলেই সূক্ষ্ম দেহ বা বাইওপ্লাজমিক বডি – স্থুল দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়। সূক্ষ্ম দেহ শক্তিরমতো। শক্তির যেমন বিনাশ নেই – সূক্ষ্ম দেহেরও তেমন বিনাশ নেই। সূক্ষ্ম দেহের তরঙ্গ-ধর্ম আছে। তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য, স্থুল দেহের কামনা-বাসনার সঙ্গে সম্পর্কিত। যার কামনা-বাসনা বেশি তার তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য তত বেশি।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অনীশ পর্ব ১২
→ অনীশ পর্ব ১১
→ অনীশ পর্ব ১০
→ অনীশ পর্ব ৯
→ অনীশ পর্ব ৮
→ অনীশ পর্ব ৭
→ অনীশ পর্ব ৬
→ অনীশ পর্ব ৫
→ অনীশ পর্ব ৩
→ অনীশ পর্ব ২
→ অনীশ পর্ব ১
→ অনীশ -পর্ব ১০ (শেষ পর্ব)
→ অনীশ-পর্ব ৮
→ অনীশ-পর্ব ৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now