বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
------------------------
পর্ব ১১
পরদিন সকালে উঠে গতকাল সন্ধ্যের ব্যাপারটাকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলে দিল ক্রিস। না, আজ থেকে ক্যারেনকে আরও বেশী সময় দিতে হবে। জো থম্পসনের মৃত্যুর পর অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে ক্যারেন।
দু একটা দিন ভালোই কাটল। তারপর আবার যে কে সেই। ক্রিস নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। দুপুরে লাঞ্চের পরই কাজ নিয়ে বসে। কোন কোনওদিন শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ক্যারেন তখন একা হয়ে পড়ে আবার। সময় কাটাতে ও চলে যায় মার্সিয়ার দোকানে। তাস খেলে।
এইভাবে একদিন তাস খেলতে খেলতে হঠাৎ ক্যারেনের খেয়াল হয়, সন্ধে হয়ে গেছে। সে ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, " মার্সিয়া, সন্ধে হয়ে গেছে। আমি এবার বাড়ি যাই। গিয়ে ক্রিসের জন্য ডিনার তৈরি করতে হবে। সন্ধ্যার সময় আমরা এইসময় দুইজনে চা খাই।"
মার্সিয়া বলল, " চল, পৌঁছে দিয়ে আসি তোমায়। গাড়ি বের করব।"
" না, না, আমি একাই যেতে পারব।" ক্যারেন বলল।
" তাহলে এক কাজ কর।"
" কি?"
" লিন্ডার দোকানের পেছন দিয়ে একটা শর্টকাট রাস্তা চলে গেছে। সেটা দিয়ে গেলে তোমাদের বাড়ির গেটে পৌঁছন যাবে। ভাল রাস্তা। ভয় নেই। চল, তোমায় লিন্ডার দোকান পর্যন্ত এগিয়ে দিই। এখনো শেষ বিকেলের আলো আছে।"
দোকানের সামনে এসে মার্সিয়ার সঙ্গে করমর্দন করে ক্যারেন বিদায় নিল।
" কাল আসছ তো?" মার্সিয়া জিজ্ঞেস করল।
" আশা করি", ছোট্ট করে উত্তর দিল ক্যারেন।
ক্যারেন লক্ষ্য করল, লিন্ডার দোকান আর ঘর একেবারে অন্ধকার। কি করে মেয়েটা অন্ধকারে বসে! একা থাকে! ঘরে চন্দনের গন্ধ! সন্ন্যাসিনী নাকি! ঘরে বসে জপতপ করে!
লিন্ডার চোখের তারা ঘন সবুজ। মানুষের সবুজ চোখ জীবনেও দেখেনি ক্যারেন। আর ওর চাউনি! বাব্বা! মেয়ে তো নয়, যেন বাঘিনী! ক্রিসকে সেদিন গিলেই খাচ্ছিল প্রায়। ভাগ্যিস সেদিন ক্যারেন ওর সঙ্গে ছিল। না হলে কি যে হত, কে জানে!
শর্টকাট রাস্তাটার দুপাশে গাছ। ছায়াচ্ছন্ন পরিবেশ। অস্তগামী সূর্যের শেষ ছটা এখানে এসে না পৌঁছনোয় জায়গাটা এখনি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠেছে।
খানিকটা এগিয়ে যাবার পর ক্যারেনের মনে হল, কে যেন ডাকল ওর নাম ধরে! ধ্যুৎ, মনের ভুলও হতে পারে। একটু দ্রুত পা চালাল ক্যারেন। ডান পাশের জঙ্গলের ভেতর কি যেন একটা সরে গেল সরসর করে। গা ছমছম করে উঠল ওর।
অন্ধকার নেমে আসছে খুব দ্রুত। হঠাৎ ক্যারেনের মনে হল, পেছনে পেছনে কে যেন আসছে ওর। ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল ক্যারেন, " কে?"
না, কেউ নেই। শুধু ওর ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এল বনভূমিতে। হঠাৎ পাশের গাছ কাঁপিয়ে কি যেন একটা প্রচণ্ড বেগে ছুটে গেল। চমকে উঠল ক্যারেন। কি ওটা? মানুষ না জানোয়ার?
এবার ভয় পেল ক্যারেন। মনে মনে মার্সিয়াকে দোষ দিতে লাগল। এমন কি রাত হয়ে গিয়েছিল যে ওকে শর্টকাট পথ দেখাতে গেল!
এমন সময় কি একটা ঠেকল তার পায়ে। নীচু হয়ে আবছা আলোয় ক্যারেন দেখতে পেল, জিনিসটা হল একটা কুকুরের মাথা। গলায় বকলস। একি! এ যে টাইগারের মাথা! গলার বকলসটাও তো টাইগারেরই! এবার কেঁদে ফেলল ক্যারেন। আকস্মিক এই আবিষ্কারে তার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল ভয়ে। তার মনে হল, কোনও জন্তু যেন এতক্ষণ বসে বসে খাচ্ছিল টাইগারকে। তাকে আসতে দেখে মাথাটা ফেলে পালিয়েছে। এবার ওর পিছু পিছু ওটা আসছে। যে কোনও মূহুর্তে ক্যারেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।
ক্যারেন কোনক্রমে টাইগারের বকলসটা কুড়িয়ে নিয়ে প্রাণভয়ে ক্যাজুরিনার দিকে দৌড়তে শুরু করল।
বাড়ি পৌঁছে দরজার গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ক্যারেন দমাদ্দম কিল মারতে লাগল। ক্রিস দরজা খুলতেই ওর গায়ের ওপর পড়ে গেল ক্যারেন। ক্রিস বুঝল সাঙ্ঘাতিক কিছু একটা ঘটেছে।
ক্যারেনকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটা চেয়ারে বসাল ক্রিস। তোয়ালে ভিজিয়ে এনে ওর হাত-পা মুছিয়ে দিল। একটা গ্লাসে কিছুটা ব্রান্ডি ঢেলে খাইয়ে দিল। ক্যারেন হাঁফাতে হাঁফাতে স্বামীকে বলল, " টাইগারকে পেয়েছি। এই যে তার গলার বকলস।"
ক্রিস বলল, " টাইগারকে পেয়েছ, এ তো ভাল খবর, এর জন্য এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন? কোথায় টাইগার?"
ব্রান্ডি গলায় ঢেলে তখন একটু সুস্থ হয়েছে ক্যারেন। সে বলল, " আমাদের টাইগার আর বেঁচে নেই ক্রিস। রাস্তায় শুধু তার মাথাটা পড়ে ছিল। গলায় ছিল ওর বকলসটা। যে জন্তুটা টাইগারকে মেরেছিল, সে আমার পিছু পিছু বাড়ির গেট পর্যন্ত চলে এসেছিল।"
" তুমি দেখেছ?" ক্রিস হ্যালোরানের চোখে অবিশ্বাস।
ক্যারেন বলল, " না দেখিনি। অন্ধকার ছিল। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল, কালো বা ধূসর রঙের জন্তুটা বনের মধ্য দিয়ে আমায় অনুসরণ করছে।"
ক্রিস ক্যারেনকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় নিয়ে গেল। স্বান্তনা দিতে লাগল। বলল, " টাইগারের আশা তো আমরা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কোনও বুনো জন্তু হলে তোমায় নিশ্চয়ই আক্রমণ করত। যাক, ভালোয় ভালোয় বাড়ি ফিরেছ।"
ক্যারেন জোর দিয়ে বলল, " ওটা নিশ্চয় কোনও বুনো জন্তু ছিল ক্রিস।"
ক্রিস আবার ওকে বোঝাতে চেষ্টা করল কিন্তু লাভ হল না।
ক্রিস বুঝল, নার্ভাস শক। ডাক্তার ডাকা দরকার।
মুখে বলল, " ক্যারি, আমি তোমার জন্য ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি। দরজা বাইরে থেকে লক করে যাচ্ছি। ভয়ের কিছু নেই।"
" আমার কিছু হয়নি ক্রিস। এখনি সব ঠিক হয়ে যাবে।"
ক্রিস ওর কথায় কান দিল না। ছুটে বেড়িয়ে গেল গাড়ি নিয়ে। এসপেনে ডাক্তার আছে কিনা জানে না ও। লিন্ডা কক্সের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবল, লিন্ডাকে একবার জিজ্ঞেস করবে কিনা। পরক্ষনেই নিজেকে সংবরণ করল সে। তারপর ছুটে গেল মার্সিয়ার দোকানে।
" মার্সিয়া, এখুনি একজন ডাক্তার চাই আমার। তোমার এখান থেকে ফেরার পথে কিছু একটা দেখে সাঙ্ঘাতিক ভয় পেয়েছে ক্যারেন। ডাক্তার আছে এখানে?"
" আছে। গাড়ি এনেছ?"
" হ্যাঁ।"
" এখানে একজন ডাক্তার আছেন। ডাঃ গোয়েজ। আগে হ্যামিল্টনের হাসপাতালে কাজ করতেন। এখন এখানে থাকেন। বয়স্ক মানুষ। কাছেই বাড়ি। ভালো ডাক্তার।"
ক্যাজুরিনার দিকে যেতে আর্ধেক পথেই ডাক্তারের বাড়ি। পুরনো, দোতলা। তবে নিয়মিত ধোয়ামোছা আর রঙ করা হয়। ভেতরের কম্পাউন্ডে দুটো রেডউড, বাকিটা লন। কয়েক বছর আগে ডাক্তারের স্ত্রী মারা গেছেন। এখন গ্রামেই প্রাকটিস করছেন ভদ্রলোক।
মার্সিয়াই ডোরবেল বাজাল। ডাক্তার ভদ্রলোকের অভিজাত চেহারা। লম্বা দোহারা গড়ন। খাড়া নাক। মাথার সবচুল পেকে সাদা। পোষাকেও রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ।
মার্সিয়াই পরিচয় করিয়ে দিল। ক্রিস হ্যালোরানের কাছ থেকে সব শুনে ডাক্তার তখনিই কিটবক্স নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। গাড়িতে কোনও কথা হল না।
ডাক্তারকে ডেকে বিব্রত হল ক্যারেন। উঠে বসতে যাচ্ছিল, ডাক্তার তাকে বাধা দিলেন। তারপর স্টেথোস্কোপ দিয়ে বুক, পিঠ চেক করে, ব্লাডপ্রেশার মেপে, জিভ গলা চেক করে ডাক্তার বললেন, " ভয়ের কিছু নেই। শরীর ভালোই আছে।"
ডাঃ গোয়েজ ব্যাগ থেকে একটা গোলাপি রঙের বড়ি বের করে খেতে দিলেন। একটা সাদা বড়ি দিলেন রাতে খাওয়ার পর খেতে। প্রথম দুদিন সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার আর পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার এডভাইস দিলেন ।
বাড়ির বাইরে এসে ক্রিসকে বললেন, " ভয়ের কিছু নেই, সব ঠিক আছে। প্রয়োজন পড়লে আমায় খবর দেবেন। তবে তার বোধহয় দরকার পড়বে না।"
ক্রিস ডাক্তারকে গাড়িতে করে তাঁর বাড়ি পৌঁছে দিতে গেল।
ডাক্তারের ওষুধে ভাল কাজ হয়েছিল ক্যারেনের। পুরো দুদিন সে বিশ্রাম নিল। এই দুদিন সকালের নাস্তা আর কফি ক্রিসই বানিয়েছে। দুপুরের লাঞ্চ আর রাতের ডিনার মার্সিয়া তাদের বাড়িতে পাঠিয়েছে।
ক্রিস দুদিন বাড়ি থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন বলল, " আমায় আজ একটু হ্যামিল্টন যেতে হবে। একা থাকতে পারবে তো?"
" ফিরতে কি দেরী হবে তোমার?" ক্যারেন জানতে চাইল।
" না। এই বড়জোর ঘন্টা দুই লাগবে ফিরতে।"
ক্যারেন গৃহস্থালির ব্যাপারে দু একটা জিনিস আনতে বলল।
এই ঘন্টা দুই ক্যারেন একা বসে, রান্না করে আর গান শুনে কাটাল ও।
দুই ঘন্টার আগেই ফিরে এল ক্রিস। চকোলেট লজেন্সের সাথে নিয়ে এল দোনলা বন্দুক, কিছু ব্ল্যাংক আর কিছু লাইফ কার্তুজ।
অবাক ক্যারেন প্রশ্ন করল, " বন্দুক দিয়ে কি হবে ক্রিস?"
" বাসায় একটা বন্দুক থাকা ভাল। সাহস পাবে তুমি। নাও, চটপট চা খেয়ে নাও। তোমায় বন্দুক চালান শিখিয়ে দেব আমি।"
" আমি কোনওদিন বন্দুক ছুঁড়িনি।"
" তাতে কি? তোমায় শিখিয়ে দেব আমি। খুব সহজ।"
এক ঘন্টার মধ্যে বন্দুক চালানো শিখে ফেলল ক্যারেন। তবে লক্ষ্যভেদে সময় লাগবে। ক্রিস ওকে প্রত্যেকদিন কিছু কিছু করে প্রাকটিস করতে বলল।
পরদিন ক্রিসের লস এঞ্জেলেসের অফিস থেকে জরুরী চিঠি এল। ক্রিসের প্রকাশনার অফিস থেকে আধুনিক বিমান সম্পর্কে যে বইটি বেরিয়েছে, তাতে কিছু তথ্যগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। সে বিষয়ে আলোচনার জন্য আসছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন বিশেষজ্ঞ। ক্রিস হ্যালোরানেরও সেই মিটিংএ থাকা দরকার।
চিঠি পড়ে ক্রিস বলল, " যা অবস্থা দেখছি, এখনই আমায় যেতে হবে। ফিরতে রাত হবে।"
ক্যারেন বলল, " রাত বেশী হলে নাই বা ফিরলে। কাল সকালে এসো। "
" তোমার একা থাকতে অসুবিধে না থাকলে আমার আপত্তি নেই।" ক্রিস বলল।
" আমি ঠিক থাকতে বলল", ক্যারেন উত্তর দিল।
ক্যারেনকে সাবধানে থাকতে বলে ক্রিস বিদায় নিল।
একটা বই নিয়ে বসল ক্যারেন। অস্থির লাগছে। ডাঃ গোয়েজের দেওয়া একটা ওষুধ খেয়ে ফের বসল। কিন্তু কিছুতেই বইয়ে মনোনিবেশ করতে পারল না।
হঠাৎ কে যেন দরজায় ধাক্কা দিল। উঠে দাঁড়াল ক্যারেন। এসপেনে দিনে তো কোনও ভয় নেই। চুরিও হয় না এখানে। গত বিশ বছরে এখানে চুরির কোনও রেকর্ড নেই। এখানে যা কিছু ঘটে সব রাতে।
নির্ভয়ে দরজা খুলে দিল ক্যারেন। একজোড়া সুদর্শন যুবক -যুবতী দরজায় দাঁড়িয়ে। যুবকটির বিব্রত চেহারা। তার কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়ানো যুবতীটি। বোধহয় আঘাত টাঘাত পেয়েছে।
" আপনার টেলিফোনটা একবার ব্যবহার করা যাবে?", যুবক বলল, " এ আমার বান্ধবী নর্মা, পড়ে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পেয়েছে। ভ্যানটা রেখে এসেছি রাস্তার ধারে।"
ওদের দেখে খুশীই হল ক্যারেন। একা আছে। যাক, এদের সঙ্গ পাওয়া যাবে।
" স্যরি, আমার তো ফোন নেই। গাড়িও নেই। গোড়ালির আঘাতটা কি খুব বেশী? " ক্যারেন দেখতে চাইল।
যুবক বলল, " ভ্যান থেকে পড়ে গোড়ালি মচকে গেছে ওর। ফুলে গেছে। হাঁটতে পারছে না।"
ক্যারেন ওদের ভেতরে নিয়ে গিয়ে বসাল। সোফায় বসে ওরা নিজেদের পরিচয় দিল। স্টিভ আর নর্মা ফস্টার। অগিভলি শহরে থাকে ওরা। পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো ওদের নেশা। ওদের কথাবার্তা, বিনয়ী আচরণ, ক্যারেনের ভাল লাগল।
একটা কাজ পেয়ে ক্যারেন খুব উৎসাহিত হয়ে উঠল। নর্মার পা টেনে দেখল। একটা প্লেয়ারে ডিস্ক চাপিয়ে, গরম পানিতে এপসম সল্ট গুলে নিয়ে এল, তাতে নর্মার পা ডোবাল। বলল, " ফোলা কমে গেলে মলম লাগিয়ে দেব। ব্যস, সব ঠিক হয়ে যাবে।" ব্যথা কমাবার জন্য নর্মাকে এসপিরিন খাইয়ে দিল।
স্টিভ বলল, " আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। নর্মা একটু সুস্থ হলেই আমরা চলে যাব। বেশীক্ষণ বিরক্ত করব না।"
ক্যারেন ওদের জন্য স্যান্ডুইচ আর কফি নিয়ে এল।
নর্মা বলল, " কেন খামোখা কষ্ট করছেন আপনি? আচ্ছা, আগে দেখতাম বাড়িটা খালি পড়ে আছে। আপনারা কি এখানকারই বাসিন্দা?"
ক্যারেন বলল, " না। আমরা এখানে কিছুদিনের জন্য ছুটি কাটাতে এসেছি। বাড়িটা কিছুদিনের জন্য ভাড়া নিয়েছি আমরা।"
" তাই বলুন, " স্টিভ বলল, " এসপেনের বাসিন্দা বলে মনে হচ্ছিল না ওকে। এই গ্রামটা যেন আমেরিকার বাইরে। এখানকার লোকগুলো যেন বাইরের লোক সহ্যই করতে পারে না। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। শুনেছি, এসপেন থেকে মাঝে মাঝে মানুষ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। অনেকে বলে এখানে ভূতপ্রেত আছে।" হাসল স্টিভ। নর্মার কাঁধে হাত রেখে বলল, " তবে তোমার কোনও ভয় নেই। যত বিপদই আসুক, তোমায় রক্ষা করব আমি।"
নর্মা হেসে বলল, " বাব্বা! বীরপুরুষ! আমায় আর তোমায় রক্ষা করতে হবে না। আমি নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারি।"
বিকেলটা গল্পগুজব করেই কাটল। গল্পে গল্পে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে, টেরই পায়নি তারা। এবার ঘড়ি দেখে লাফিয়ে উঠল স্টিভ, " চলো, চলো, এবার উঠতে হবে, সন্ধ্যা হয়ে গেছে।"
ক্যারেন বিস্মিত হয়ে বলল, " সেকি! যাবে কোথায়! রাতে আমাদের এখানে থাকো। কোনও অসুবিধে হবে না।"
" না মিসেস হ্যালোরান, আমাদের যেতেই হবে", হাসিমুখে বলল স্টিভ।
নর্মাও সায় দিল। বলল, " অনেকটাই সুস্থ লাগছে এখন। গাড়ি পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারব।"
স্টিভ বাগান থেকে একটা মজবুত ডাল ভেঙে নিয়ে এল।
নর্মা বলল, " ভালোই হল। রাস্তায় বেয়াদবির চেষ্টা করলে দু চার ঘা লাগিয়ে দেব।"
ওদের আরও কিছু খাইয়ে ক্যারেন হাসিমুখে ওদের বিদায় দিল। বলল, " এসপেনে আবার এলে এখানে এসো আবার।"
স্টিভের কাঁধে একটা ব্যাগ। ভেতর থেকে একটা টর্চ বের করে জ্বালল স্টিভ। নর্মা ডালটায় ভর দিয়ে চলতে লাগল।
ওদের জন্য কেন জানি কষ্ট হতে লাগল ক্যারেনের। ওরা চলে গেলে ঘরে ঢুকে দরজা জানলা বন্ধ করে কিছুক্ষণ রেডিও শুনল। তারপর একটা ঘুমের বড়ি খেয়ে শুয়ে পড়ল।
ক্যাজুরিনা থেকে যে কাঁচা রাস্তাটা বড় রাস্তার দিকে গেছে, তার দুপাশে প্রচুর গাছ। নীচে ঝোপঝাড়, লতাপাতার জঙ্গল। সেই রাস্তা ধরে এগিয়ে চলল স্টিভ আর নর্মা। নর্মার এক হাত ডালটায় ভর দিয়ে, অন্য হাত স্টিভের কাঁধে। টর্চের আলো ফেলে ফেলে পথ দেখাচ্ছে স্টিভ।
নর্মা হঠাৎ স্টিভের হাত চেপে ধরে থমকে গেল। ভয়ার্ত গলায় বলল, " ওটা কি স্টিভ?"
" কি?"
" ওই দেখো, কি একটা জন্তু সরে গেল! আমি শব্দ শুনলাম!"
"কি?"
" চুপ!" কেঁপে উঠল নর্মা। স্টিভ টের পেল, নর্মার শরীর কাঁপছে।
এবার দাঁড়িয়ে পড়ল ওরা দুজনেই। কিছুক্ষণ চুপচাপ। অন্ধকার। হঠাৎ শোনা গেল আবার সেই সরসর শব্দ। ওদের দিকেই এগিয়ে আসছে বড়সড় কিছু একটা। সেদিকে লক্ষ্য করে টর্চের আলো ফেলল স্টিভ।
আগুনের মতো টকটকে লাল একজোড়া চোখ আর হলদে একসারি দাঁত ঝলসে উঠল সেই আলোয়।
" ও মাই গড, স্টিভ, ওটা কি?", নর্মা জাপটে ধরল স্টিভকে।
" জানি না", নর্মাকে আড়াল করে দাঁড়াল স্টিভ।
প্রায় দশহাত দূর থেকে জন্তুটা এক লাফ দিয়ে স্টিভের গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ওকে মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে ফেলল। দু পা দিয়ে স্টিভের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে ওর গলার নলি ছিঁড়ে ফেলল জন্তুটা তার ধারালো দাঁতে। ফিনকি দিয়ে গড়িয়ে পড়ল রক্তের ধারা। জন্তুটা থাবা মেরে মেরে স্টিভের সারা শরীর ছিন্নভিন্ন করে ফেলল।
জ্বলন্ত টর্চটা গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতে। প্রচণ্ড ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে নর্মার। হাতের ডালটা দিয়ে সর্বশক্তিতে জন্তুটাকে পিটাতে শুরু করল নর্মা। পরোয়াই করল না জন্তুটা। আরাম করে স্টিভের বুকের ওপর বসে খাবলা খাবলা মাংস চিবিয়ে খেতে লাগল।
এবার জন্তুটা নজর ঘোরাল নর্মার দিকে। দৃষ্টি থেকে ঝরছে আগুন। দৌড় দিল নর্মা। পালাতে হবে। কিন্তু পালাবে কোথায়? দৌড়তে গিয়ে মাটির ওপর উপুড় হয়ে পড়ে গেল নর্মা। জন্তুটা ওর ওপর লাফিয়ে পড়ে এক থাবায় নর্মার মাথা গুঁড়িয়ে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চল হয়ে গেল নর্মা।
( ক্রমশ)
----------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now