বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৯ জুন, ১৯৭১। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। এফডিসি’র ক্যামেরাম্যান বাদল গাড়ি চালাচ্ছেন। তার পাশের সিটে কামরুল হক স্বপন পিস্তল নিয়ে বসে আছেন। আলী আহমেদ জিয়াউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং হাবিবুল আলম পেছনের সীটে বসা। তিনজনের হাতে তিনটি করে গ্রেনেড।
তাদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা শহরের আশেপাশে কয়েকটা গ্রেনেড ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করার। যেন পূর্ব পাকিস্তানে আসা জাতিসংঘ আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ডেলিগেটরা বোঝে যে,, ঢাকার পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নেই। সেই লক্ষ্যেই অপারেশনে বেরিয়েছে ওরা। গাড়ীটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন (বর্তমানে সুগন্ধা) পার হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। টুপি আর পাঞ্জাবি পরা অনেক লোক হোটেলের বাউন্ডারি দেয়ালের উপরে উৎসুক অপেক্ষায়।
হোটেলের সামনে মাঝামাঝি আসতেই পুলিশের গাড়ির সাইরেন শোনা গেল এবং দেখা গেল ময়মনসিংহ রোড ধরে পুলিশের গাড়ির পেছনে আরো তিনটি গাড়ি আসছে। বোঝা গেল ডেলিগেটরা আসছেন। গাড়ি দ্রুত ইউ টার্ন নিয়ে বাদল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গেটের সামনে ফুটপাতে রাখলেন। আর অতিথির আগমনে দেয়ালের ওপর বসে থাকা লোকগুলো হাততালি দিতে থাকলো। তারা নীল ডাটসন গাড়িটা আর চারজন মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতি টেরই পেল না।
জিয়া, মায়া এবং হাবিব তিনটি করে গ্রেনেড হাতে নিয়ে ৩-৪ ফুট দূরে দূরে দাঁড়ালো। স্বপন তার শার্টের নীচে পিস্তল ধরে দাঁড়ালো। প্রথম জিয়া গ্রেনেড ছুঁড়লো। অতিথি বহনকারী গাড়িটি লাফিয়ে উঠলো। দেখা গেলো দু’জন নামার চেষ্টা করছে। তারপর হাবিব এবং মায়া পরপর গ্রেনেড ছুঁড়লো। জিয়া আবার গ্রেনেড ছুঁড়লো। এরপর একটার পর একটা গ্রেনেড ফাটতে থাকলো।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের চারদিকে জমায়েত মানুষ এই প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ প্রত্যক্ষ করলো। গ্রেনেড ছুঁড়েই গেরিলা দল একটুও দেরী না করে গাড়ীতে উঠলো। সবাই গাড়িতে ওঠার পর বাদল গাড়ি ছেড়ে দিলেন। যেতে যেতে গেরিলারা দেখলো মানুষের টুপি, জুতা, লুঙ্গি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গেট থেকে শুরু করে কাকরাইল মসজিদ পর্যন্ত।
পরে সন্ধ্যায় বিবিসির খবর থেকে সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ এই অপারেশনের কথা জানতে পেরে বলেন, “দিজ অল আর ক্র্যাক পিপল! বললাম, ঢাকার বাইরে বিস্ফোরণ ঘটাতে আর ওরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসেছে”। তিনিই প্রথম এই দলটিকে “ক্র্যাক” আখ্যা দেন; যা থেকে পরবর্তীতে এই প্লাটুনটি “ক্র্যাক প্লাটুন” নামে পরিচিত হয়।
সূত্রঃ ব্রেইভ অফ হার্ট
লেখকঃ হাবিবুল আলম, বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা, ২নং সেক্টর ও কে ফোর্স।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now