বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৭

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৭ মাজহারুল মোর্শেদ আমাদের বোট যতোই সামনের দিকে এগুচ্ছে হরিণগুলো ততোই চঞ্চল হয়ে উঠছে। তবে তারা মোটেও ভীত হলো না, কিংবা পালিয়ে গেলো না। এর পর লেকের পাশে দেখতে পেলাম একটা সুদৃশ্য কাঠের ঘর, চার পাশে বারান্দা। ঘরচি বেশ উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে। দেখে মনে হলো এটা হয়তো পাহাড়ি লোকজনদের বাড়ি। কিন্ত না, বোট কতৃপক্ষের নিকট জানতে পারলাম যে, এটা একটা রিসোর্ট। প্রকৃতির এ মনোরম সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য প্রকৃতি প্রেমীকেরা এখানে বিলাশ বহুল রাত্রি যাপন করে থাকে। রিসোর্টটা ব্যয়বহুল হলেও কিন্তু এখানে থাকার অভিজ্ঞতাটা একদম অন্যরকম হবে সেটা দেখেই বোঝা যায়। বনবিভাগের অধীনে এরকম অনেকগুলো থাকার অপশন রয়েছে যেমন ব্যাম্বু কটেজ, ট্রি হাউস এবং জাঙ্গল ক্যাম্পও রয়েছে। থাকতে পারলে দারুণ রোমাঞ্চকর হতো। প্রিয় পাঠক, আমি পূর্বেই বলেছি যে, পেরিয়ার লেক অনেকটা আমাদের কাপ্তাই লেকের মতো। তবে এটা বেশ চওড়া এবং আয়তনে অনেক বড়। লেকের মাঝে কোথাও কোথাও দ্বীপের মতো বেশ বড় একটা জায়গা যেখানে মানুষের বসতি রয়েছে। তবে দ্বীপের মতো জায়গাটা পুরোটাই সারি সারি নারকেল গাছ দিয়ে ঘেরা। আমাদের নিঝুম দ্বীপের নারকেলের জিঞ্জিরার মতো। কাপ্তাই লেকে বন্য প্রাণি খুব কম দেখা যায় কিন্তু এখানে প্রচুর। জীব-জন্তুরা জল পান করার জন্য জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে তাই বেশি সংখ্যক বন্য প্রাণী দেখার একটা সুযোগ থাকে । মোটামুটি ঘন্টা দুয়েক সময় ধরে আমরা ভাসছি এই লেকের উপর। আমরা যে জিনিসগুলো দেখতে পেলাম সেটা সত্যি অকল্পনীয়। বাঘ দেখতে না পারার বেদনাটা বুকের ভেতর বেশ তোলপাড় করছে। সূর্যটা ঠিক মাথার উপর। ক্ষুধায় পেট চিনচিন করছে। এমন সময় দেখলাম আমাদের বোট একটা দুপুরের খাওয়াটা সেরে নেওয়া দরকার। এখানে আর একমুহুর্ত দেরি নয়, কারণ থেক্কাডিতে অনেক জায়গা আছে দেখার মতো। সেগুলো ঘুরে যেতে না পারলে শেষে আফসোস থেকে যাবে। আমরা খুব দ্রæত চলে এলাম বাস ধরার জন্য। যেখানে বাস আমাদেরকে নামিয়ে দিয়েছিলো। কিন্ত একি! বাস ধরতে যেয়ে দেখি বিশাল একটা লম্বা লাইন। কি আর করার করার, যেভাবে হোক খুব দ্রæত এখানথেকে বেরুতে হবে নইলে বাদ বাকি প্রোগ্রামগুলো মিস করতে হবে। এরপর ড্রাইভার রবীন আমাদের নিয়ে এলো এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে। এটা খুব বেশি দূরে নয়, ‘প্যারিয়ার ন্যাসনাল পার্ক’ থেকে মাত্র এক-দেড় কিলোমিটার দূরে হবে। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো হাতীর পিঠে চড়া (Elephant Ride). হাতির পিঠে চড়ে এলেদুলে বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া, কথাটা শুনলেই গা কেমন ছমছম করে ওঠে। এলিফ্যান্ট সাফারির জন্য প্রতি টিকিটের মূল্য ৫০০ রুপি, এক সাথে দু’জন ভ্রমণ করা যায় এটাই বোনাস। রাস্তার পাশে একটা উঁচু জায়গায় হাতিটা এসে দাঁড়াচ্ছে আর সেখান থেকেই পর্যটকেরা হাতির পিঠে চড়ে ভ্রমণ করছে। আমরা কাউন্টার থেকে দু’টি টিকিট কেটে নিয়ে গেলাম হাতির কাছে। কিন্তু সমস্যা হলো বোউদিকে নিয়ে। কোন ভাবেই তাকে হাতির পিঠে চড়ানো গেলো না। উর্মী বোউদির হাত ধরে টানাটানি করতে গেলে তিনি ও বাবা-ওমা বলে চিৎকার শুরু করে দিলেন। বোউদির চিৎকার শুনে আশে পাশের সব লোকজন এসে জমা হয়ে গেলো। তারা মালায়লাম ভাষায় কি যেন বলাবলি করছে আর হসছে। বোউদিও খুব লজ্জা পেয়ে রাগে ক্ষোভে দাঁতে দাঁত কামড়ে ধরে উর্মীর উপর চড়াও হলো। আমি তোমাকে বললুম না, আমি এসব পছন্দ করি না। যেহেতু বোউদি যেতে পারলোনা তাই দাদারও যাওয়া হলো না আর আমাদের ৫০০ রুপি জলে ভেসে গেলো। যেহেতু আমরা দু’টি টিকেট কেটে নিয়েছি তাই আমাদের জন্য দু’টি হাতী বরাদ্দ আছে। আমাদের একটা হাতী দাঁড়িয়ে থাকলো সেখানে আর অন্য কাউকে তারা উঠালো না। তাদের এ নৈতিকতা আমাকে বেশ অনুপ্রাণিত করলো। আমি আর অর্ণব একটা বড় হাতীর পিঠে চড়ে বসলাম। উর্মী কোথা থেকে যেন দৌড়ে এসে আমার সামনে বসে পড়লো। দু’পাশে ঘনজঙ্গল তার ভেতর দিয়ে চিকন রাস্তা, বনের ভেতর আমরা এলে-দুলে চলেছি হাতির পিঠে। এ যেন এক অপূর্ব শিহরণ জাগা অনুভুতি। উর্মী মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে ভয়ে জড়সড় হয়ে আমাকে বলছে কাক্কু, এখন যদি একটা ডোরাকাটা বাঘ দাঁত কটমট করে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়, তাহলে কি হবে একবার ভাবোতো? আমি বললাম, কিচ্ছু হবে না। কারণ ডোরাকাটা বাঘ আসলে হাতির মাহুত কখনোই আমাদেরকে নিয়ে এ রাস্তায় আসতেন না, আর সে কথনো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতো না, বুঝেছ? তখন সে সত্যি সত্যি একটু ভরসা পেলো একটু শান্ত হলো, তার ভয়টা বোধয় কেটে গেলো। বনের ভেতর দিয়ে চলতে চলতে কোন লোভনীয় গাছ দেখলে হাতীটা থেমে গিয়ে শুঁড় উঁচু করে পাতা ছিঁড়ে নিচ্ছে। যখনই হাতীটা মাথা উঁচু করে অমনি উর্মী চিৎকার দিয়ে ওঠে। সে পড়ে যাওয়ার ভয়ে কোন ভাবেই আর সামনে থাকতে চাচ্ছে না। মাহুতকে বলে আমি হাতীটাকে দাঁড় করিয়ে উর্মীকে আমার পিছনে বসিয়ে দিয়ে বললাম আমাকে শক্ত করে ধরো। তাহলে আর তোমার পড়ে যাওয়ার কোন ভয় থাকবে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now