বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৬

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৬ মাজহারুল মোর্শেদ ‘পেরিয়ার ন্যাসনাল পার্ক’.(Periyar National Park). কেরালা রাজ্যের ইদুক্কি এবং পাথানামথিট্টা জেলায় অবস্থিত একটি সংরক্ষিত এলাকা। এটি একটি বিখ্যাত হাতি ও বাঘ সংরক্ষণাগার। সংরক্ষিত এলাকাটি ৯২৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। পার্কের ভূ-প্রকৃতি খাড়া ঢেউ খেলানো পাহাড় ও ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত। ‘পেরিয়ার ন্যাসনাল পার্ক’ ৩১ বর্গ কিমি পেরিয়ার হ্রদ ও পেরিয়ার নদী পাহাড়ের ঢল বেয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে, যা বন্যপ্রাণিদের জন্য জলের একটি স্থায়ী উৎস সরবরাহ করে। পেরিয়ার লেকে নৌকা ভ্রমণ করতে হলে যেখান থেকে বোটগুলো ছাড়ে সেখানে যেতে হবে। সে বোটিং পয়েন্ট যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা। আমরা টিকিট করে বাসে গিয়ে উঠলাম। বাসে ভেতরে তেমন ভিড় নেই বেশ ফাঁকা। সামন দিকটা যেন সুন্দরভাবে দেখা যায় এ জন্য আমি ড্রাইভারের কাছাকাছি সিটে যেয়ে বসলাম। বাস ছেড়ে দিলে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকটা সাফারির মত লাগছিল। মাঝে মাঝেই দেখা মিলছে সম্বর হরিণের। তবে এখানকার প্রাণিগুলো বোধয় বুঝেই নিয়েছে যে, মানুষ জাতি তাদের শত্র নয়। কারণ একদল হরিণকে আমি বাসের খুব কাছেই দেখতে পেলাম। হয়তো প্রতিদিন এরকম বাস দেখে দেখে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাই আর বাসকে ভয় পায় না। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা, খুব ধীর গাতিতে নিঃশব্দে চলছে আমাদের বাস। এখানকার বাস চালকেরাও জানে যে, পর্যটকেরা আসে দেখার জন্য তাই গন্তব্যে পৌছানোর কোন তারা নেই তাদের। এভাবে প্রকৃতির সাথে মিশে আর পশু-পাখি দেখতে দেখতে পনেরো মিনিটের মধ্যে আমরা পেরিয়ার লেকের কাছে এসে গেলাম। এখান থেকেই শুরু হবে আমাদের লেকের উপর ভাসমান নৌকা ভ্রমণ। এখানেও রয়েছে টিকিট কাউন্টার ভেতরে গিয়ে টিকিট কাটতে হবে, নৌকার সিট নম্বর নেওয়ার জন্য। প্রতিটি টিকিটের মূল্য ২৫০ রুপি। টিকিট কেটে মোটামুটি ঘন্টাখানেক অপেক্ষার পর এগারোটা পনেরো মিনিটের স্কট আমরা পেলাম। বোট এসে দাঁড়িয়েছে সামনে। লাইফ জ্যাকেট সব রাখা আছে এই বোটগুলি ডবল ডেকার এবং এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে উপরের তলা থেকেই বেশি ভালো দেখা যায়। তাই কাউন্টারে টিকিট কাটার সবার নজর থাকে ওপরের সিট নেওয়ার জন্য। অনেক সময় অনুরোধ করেও কোন কাজ হয় না, ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে হয়। পরম সৌভাগ্য বলতেই হয় কারণ ৫’টি টিকিটের মধ্যে তিনটি টিকিটই আমরা পেয়েগেছি উপরের তলায়। দাদা-বোউদিকে নিচে রেখে আমি, অর্ণব আর উর্মী উঠে এলাম উপরে। খুব জোরে আবার ধীরেও না অনেকটা মধ্যম গতিতে চলছে বোট। পর্যটকেরা যেন লেকের ধারে খেলতে আসা বিভিন্ন প্রাণিদের দেখতে পায় সেটা মাথায় রেখেই বোট স্বাভাবিক গতিতে চলে। প্যারিয়ার লেক সম্পূর্ণরূপে তৈরি করা হয়েছে বাঁধ নির্মানের জন্য এবং দেখতে অনেকাংশে আমাদের কাপ্তাই লেকের মতো। তবে এর আয়তন অনেক বড়। লেকের ঘোলা পানির উভয় দিকে গাছপালা ও সুদৃশ্য পাহাড়। কোথাও কোথাও পাহাড়ের গা চুঁইয়ে নেমে আসছে জলের ধারা সেই বিশুদ্ধ জলে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ছুটে আসে বাঘ, হরিণ। বিশেষ করে বাঘ দেখার অধীর আগ্রহ ও উত্তেজনা নিয়ে সবাই আমরা চেয়ে আছি। প্রায় মিনিক পনেরো তো হয়েই গেলো কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বাঘের দেখা পেলাম না। লেকের দু’ধারের প্রকৃতি যেভাবে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে তাতে শুধু ভাঘ কেন এটা যে কোন প্রাণির জন্য যে একটা বিশাল অভয়ারণ্য এতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের বোট লেকের ঠিক মাঝ বরাবর দিয়ে চলছে। দেখতে দেখতে হঠাত চোখের দৃষ্টি থমকে দাঁড়ালো। লেকের ধারে কতোগুলো লম্বা লম্বা গাছ তার নিচে দাঁড়িয়ে দু’তিনটা জংলি হাতি একটা বাচ্চা হাতিকে তাদের বিশাল দেহটা ঘুরিয়ে আদর করছে। এতক্ষণ পর এই প্রথম আমরা হাতি দেখতে পেলাম। কিছুদূর যেতে না যেতেই চোখে পড়লো পাহাড়ের উপর থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে একটা জলধার সৃষ্টি হয়েছে কয়েকটা হরিণ এখানে এসেছে তাদের তৃষ্ণা মেটাতে। বোকা হারিণেরা এটা বুঝতে পারলো না যে, তাদের দেখার জন্য আমরা প্রায় আড়াই হাজার কি.মি পথ অতিক্রম করে এসেছি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now