বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৫

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৫ মাজহারুল মোর্শেদ মুন্নার (Munnar) থেকে থেক্কাডি (Thekkadi) মুন্নার থেকে বেরিয়ে আজ আমরা ৮৫ কি.মি পথ পেরিয়ে যাব থেক্কাডি, যার মূল আকর্ষণই হলো ‘পেরিয়ার ন্যাশনাল পার্ক’। ঢেউখেলানো পাহাড়ের গায়ে চায়ের বাগান, মশলার বাগান আর পেরিয়ার লেক এই নিয়েই থেক্কাডি। এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বাঘের সংরক্ষণাগার ও হাতির অভয়ারণ্য। এ ছাড়াও বহু পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে এখানে। গোটা মুন্নারকে ভালোভাবে দেখে উপভোগ করতে হলে প্রতিটি মিনিট আমাদের হিসেব করে পথ চলতে হবে। কিন্তু সমস্যা ঐ একই জায়গায়, বেশী হাটতে গেলে বোউদির বুক ধড়ফড় করে আর দাদার মেজাটা খিটখিটে হয়ে যায়। বেচারা মুখে কিছু বলতে না পারলেও নিরিহ মেয়েটার উপর চড়াও হয়। যাক তবুও চেষ্টা করেই যাই শেষমেশ কি হয়, বোদবাকিটা না হয় পরে দেখা যাবে। কেরালার কালচারাল আর্ট, মার্শাল আর্ট, কথাকলি ড্যান্স এ প্রচীন ঐতিহ্যের নিদর্শণগুলো ছিটেফোঁটাও যদি দৃষ্টিগোচর না হয় তাহলে আমাদের ভ্রমণটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমাদের ড্রাইভার রবীন যেটা বললো মার্শাল আর্টের যে এতো রকম ভ্যারাইটি, এতো রকম জিনিস দেখানো হয় সেটা কিন্তু এই থেকডিতেই সবথেকে ভালো হয়। মুন্নার থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম কারণ থেক্কাডি যাওয়ার পথে অনেকগুলোই অনেকগুলো দেখার মতো যায়গা রয়েছে। রাস্তার পাশের এ জায়গাগুলো দেখতে পারলে ভ্রমণ অনেকটা স্বার্থক হয়ে যাবে। যেহেতু সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়েছিলাম চা-নাস্তা করা হয়নি তাই আমরা ড্রাইভার রবীনকে বলেছিলাম যেন রাস্তার পাশে ভালো কোন হোটেল দেখে গাড়ি থামিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর চা-নাস্তার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম একটি হোটেলের সামনে। এ হোটেলে ভেজ এবং ননভেজ দু’ধরনেরই খাবারই আছে। তবে তামিলনাডু ও কেরালায় বাঙালি খাবারের খুব অভাব। ওরা প্রায় সব ধরণের তরকারিতে স্বাদে নতুনত্ব আনার জন্য একধরণের কারিপাতা ব্যবহার করে যার একটা অন্যরকম গন্ধ ও স্বাদ আছে। কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমরা তাতে অভ্যস্ত না হওয়ার কারণে সেগুলো মুখে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রথম প্রথম আমি সেটা পাতেই নিতে পারিনি। অবশ্য ক্ষুধার জ্বালায় এ কয়েকদিনে সেটা অনেকটা সয়ে গেছে। যা হোক নাস্তার প্লেটে তিনটি বেশ বড় আকারের পুড়ি, এক বাটি সব্জি আর একটা ডিম অমলেট ও একটা চাটনি তার সাথে এক কাপ চা। দাম মোট ৮০ রুপি। চা-নাস্তা সেরে মুন্নার থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে আসার পরই আমরা দেখতে পেলাম ‘লক হার্ট টি মিউজিয়াম’ এটি লক হাট টি স্টেটেরই একটি অংশ এখানে কিভাবে ধাপে ধাপে চা তৈরি হয় সেটা খুব সুন্দরভাবে দেখতে পাওয়া যায়। এখান থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে দেখতে পেলাম লকহাট গ্যাপ রোড ভিউপয়েন্ট দুটি পাহাড়ের মাঝখানে এখানের জায়গাটি হার্ট শেপের মত দেখতে বলে এরকম নাম। চারপাশের চায়ের বাগানের মন পাগল করা দৃশ্য। এখান থেকে মাত্র চার-পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে পড়ে ‘চিন্নাকানাল ওয়াটারফল’। এখানকার ড্রাইভারদের কোন কিছু বলা লাগেনা। কারণ তাদের কাজই হলো সম্পূর্ণ অজানা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিয়ে আসা। কাজেই কোথায় কোন দর্শনীয় জায়গা আছে, কোন জায়গাটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে সেটা তাদের ভালো জানা। ‘চিন্নাকানাল ওয়াটারফল’ এর কাছে এসে ড্রাইভার রবীন গাড়ি থামিয়ে দিলো। আমরাও বুঝতে পারলাম এখানে দেখার মতো অবশ্যই কোন না কোন আকর্ষণীয় জায়গা নিশ্চয়ই আছে। আমি বরাবরই গাড়ির একেবারে সামনের সিটে ড্রাইভারের বামে বসি। কারণ সেখান থেকে রাস্তার আশেপাশের প্রতিটি দৃশ্য একেবারে নিখুঁত ভাবে দেখা যায়। আমি গাড়ি থেকে নেমে একটু দূরে পাহাড়ের গায়ে চোখ ফেলতেই যেন আমার চোখ ধাঁধিয়ে গেলো। কারণ অনেক উপর থেকে ধাপে ধাপে পাহাড়ের গা দিয়ে ঝরে পড়ছে ঝরনার জল। হালকা রোদের ঝিলিক ঝরনার জলে মিশে বরফের মতো শ্বেত পদ্মের রাজ্য সৃষ্টি করেছে। পাহাড়ের গায়ে থোকায় থোকায় ফুটে আছে নাম নাজানা হাজারো রকমের রঙিন ফুল। ছোট ছোট পাখি আর নীল ভ্রমরেরা মনের সুখে এক ফুল থেকে উড়ে গিয়ে পড়ছে অন্য ফুলে। এ অপরূপ দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। এভাবে পথ চলতে চলতে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা চলে এলাম থেক্কাডি ’র প্রধান আকর্ষণ হলো ‘পেরিয়ার ন্যাসনাল পার্ক’ ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now