বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-১৪
মাজহারুল মোর্শেদ
মাট্টুপেট্টি ড্যাম (Mattupetti Dam)
কেরালার ইদুক্কি জেলার কান্নান দেবান পাহাড়ে অবস্থিত মাট্টুপেট্টি ড্যাম জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি কংক্রিট গ্র্যাভিটি বাঁধ। এটি ইদুক্কি জেলার জন্য বিদ্যুৎ এবং বিপুল রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এখানে সারা বছর ধরে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, যা বন্যপ্রাণী এবং পাখিদের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আমরা বাজেটভ্রমণের জন্য মুন্নার মেইন বাস স্ট্যান্ড থেকে একটি শেয়ার করা জিপ গাড়িতে রওয়ানা হয়েছি মাট্টুপেট্টি ড্যাম দেখার জন্য। পনের-বিশ মিনিট চলার পর জিবগাড়ি আমাদেও পৌছে দিলো মাট্টিপেট্টি ড্যামের মেইন গেটে। একান থেকে সামান্য একটু পথ হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে আমরা এসে পড়লাম মাট্টিপেট্টি ড্যামের ডান পাশে ওয়াটার রিজার্ভার অর্থাৎ এখানে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আমরা এখন ড্যামের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। এই যে মাট্টুপাট্টি ড্যাম এটা তৈরি করা হয়েছিলো হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার জেনারেশন এর জন্য। আর এটা কিন্তু আমাদের যে মুন্নার থেকে মাত্র প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এপাশে কিন্তু অনেকটা বেশ সুন্দর দেখা যাচ্ছে। এটার উপর দিয়ে কিন্তু গাড়ি চলাচল হয়। মানে এপার ওপার হয়। আর এখন কিন্তু ড্যামেজ জল ছেড়েছে। আমি নিচে গিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। জলের পোয়ারার মতো অনেক উপরে ছলছল শব্দে পানি উঠছে। সত্যি অসম্ভব রকমের সুন্দর লাগছে। মাট্টুপেট্টি ড্যাম (Mattupetti Dam) খুব বেশি বড় না হলেও এই লেকের দু’ধারে সুদৃশ্য পাহাড় আর চা বাগানের বিশালতা একে অনন্যরূপে সাজিয়ে তুলেছে। সব থেকে বেশি আকর্ষণীয় ও লেভনীয় মূহুতৃ হলো বোটিং বা নৌকায় ভ্রমণ। তবে আমাদের হাতে খুব বেশি সময় না থাকলেও উর্মী একেবারে নাছোড়-বান্দা।সে বোটে না উঠে কিছুতেই এখান থেকে যাবে না। মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে মেয়েটার অতিরিক্ত জেদের কারণে কিন্তু কি আর করার ছোট মানুষতো তাই ওর আব্দার অকপটে মেনে নিতে হয়। সে বলে ওঠে কাক্কু, ‘বোটে না ঘুরতে পারলে কিন্ত আমি সোজা ঝাপ দেব জলে’।
সময়ের সল্পতার কারণে আমরা দেড়ঘন্টার জন্য একহাজার রূপি দিয়ে বোট ভাড়া করে নিলাম আর মাঝির সাথে কথা হলো যেখান থেকে খুব ভালোভাবে সূর্যাস্ত দেখা যাবে সেখানে গিয়ে থেমে যাবে। মাট্টুপেট্টি ড্যাম (গধঃঃঁঢ়বঃঃর উধস) এক লেকটি অনেকটা আমাদের কাপ্তাই লেকের মতো প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত জলরঙের ছবি। চারদিকে অথৈ পানি, ফুলের গন্ধভেজা শীতল বাতাস, নীল আকাশের সাথে মেঘদের লুকোচুরি খেলা আর বোটের মৃদু দোলায় ভেসে বেড়ানোর এক অন্যরকম অনুভূতি সত্যি প্রকাশ করার মতো নয়। যেন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে সবচেয়ে সেরা গন্তব্য এটি। লেকের দু’ধারে এমন দৃষ্টিনন্দন ও সুসজ্জিত পাহাড় আর তার মধ্যখানে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভেসে বেড়ানোর মতো ভালোলাগা আর কিই বা থাকতে পারে। আমরা ছাড়াও এ লেকের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেক রঙিন বোট। ছবির মতো সুন্দর এই লেক স্বচ্ছ পানিতে ভরা। সত্যিকারের সম্পূর্ণ এক শিহরণজাগা অনুভুতির জন্ম দিয়েছে ক্ষণিকের এ সময়টুকুতে।
বোট ভেসে চলছে লেকের হালকা ¯্রােতে শান্ত জলরাশি, নিরিবিলি জঙ্গলে ঘেরা দু’ধার, অজস্র হাঁস ও বকের সারি নিঃসন্দেহে বেড়ানোর আনন্দকে করে তুলে আরও মোহময়। এই লেক শুধু ছবির মতোই নয়, ছবির চেয়েও সুন্দর। অদেখা প্রকৃতির রঙরূপ, লেকের সাদা ঢেউয়ে যেন গোটা প্রকৃতি শুভ্রতায় মাখা। আমার জীবন খাতার প্রতিটি পাতায় এমন সুন্দরতম মুহূর্ত স্মৃতিপটে আঁকা থাকবে আজীবন।
এখানকার মানুষও প্রকৃতির রঙ রূপকে বুকে আগলে রেখে তা অনন্য উপায়ে তুলে ধরেছে বিশ্ব দরবারে। যে কারণে কেরালায় পা রাখলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মায়াবী ছাতছানি এড়িয়ে যাওয়া যায় না কিছুতেই। আর সেই অদৃশ্য চুম্বকীয় টানেই কেরালার মসৃণ রাজপথ আর শহর-বন্দর মাড়িয়ে আমরাও পৌছে যাই মাট্টুপেট্টি ড্যাম (গধঃঃঁঢ়বঃঃর উধস) লেকে। প্রথম দর্শনেই মন কেড়ে নেয়। কী এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। শান্ত স্নিগ্ধ সবুজের সমারোহ যেদিকে তাকাই বিশাল জলরাশির বুকে শুধু অস্তমান সূর্যের শেষ রঙিন আভা ঢেউয়ের উপর পড়ে সোনালি আলো ঝিলিমিলি খেলে। সমস্ত দিনের ক্লান্তিহীন উৎফুল্লতাকে চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়ে সাময়িক বিদায়ের মুহুর্তটুকু এক অবিশ্মরণীয় স্মৃতির যবনিকা বন্ধনে সূর্যের বিদায়। এটা সত্যি যেন একটা স্বর্গীয় অনুভুতি। আকাশের নীল রঙ, গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে নাম নাজানা কতো রকমের রঙ-বেরঙের পাখি। আমাদের নৌকাবিহার একেবারেই অন্যরকম অনুভুতি। আমরাও একটু একটু ভেসে ফিরে আসছি আমাদেও গন্তব্যে।
মাট্টুপেট্টি ড্যাম (গধঃঃঁঢ়বঃঃর উধস যে কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় সেটা হচ্ছে এখান থেকে পাহাড়ের একটা অদ্ভুত রূপ দেখতে পাওয়া যায়। পর্যটকেরা এখানে সেই কারণেই এসে ভিড় জমায়। যদিও আমাদের হাতে সময় খুব কম ছিলো তার পরও আমরাও মাট্টুপেট্টি ড্যাম (Mattupetti Dam) এর যতোটুকু সম্ভব নৌকায় ঘুরে ভ্রমণ পিপাসু হৃদয়ের প্রশান্তি যুগিয়েছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now