বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৯

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৯ মাজহারুল মোর্শেদ মুন্নারের প্রথম দিন নতুন ভাবে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে নতুনত্বের দিকে। চোখকে যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পাচ্ছি না। ছোটবেলায় যখন নতুন বছরের ক্যালেন্ডার আসতো সেই ক্যালেণ্ডারের প্রতিটি পাতা উল্টিয়ে দেখতাম কোন পাতার ছবিটি সবচেয়ে ভালো। মুন্নারও আজ যেন ঠিক এক ধাক্কায় শৈশবের কাছে নিয়ে গেলো। চোখের সামনে সেই শৈশবকে এইভাবে তরতাজা করে চোখের সামনে মেলে ধরলো। আমি ড্রাইভার রবীনকে গাড়ি দাঁড় করাতে বললাম, কারণ যে রাস্তা দিয়ে আমরা যাচ্ছি জায়গাটা এতোটই অপূর্ব সুন্দর, এতোটাই নয়নাভিরাম যে কোন ভাবেই চোখ সেখান থেকে সরতে চাচ্ছে না। ঠিক চোখের সামনে, সামান্য একটু দূরে মনে হয় হাত বাড়ালেই বুঝি ছোঁয়া যাবে পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়ানো মেঘের আচঁলখানা। পাহাড়ের মাথায় একপ্রান্তে দেখা যাচ্ছে ঝলমলে রোদ আর অন্যপ্রান্তে রিবিড় ছায়া, পেছনে সাদা মেঘের ভেলা। চাবাগানের সবুজ পাতায় এক গাছ থেকে অন্য গাছে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে প্রজাপতিরা। এমন মনভোলানো প্রকৃতির ছোঁয়ায় একবার পেলে কি আর সময়ের কোন খেয়াল থাকে? দেখতে দেখতে কখন যে ঘড়ির কাঁটা শেষ সীমানায় এসে পৌছে যায় বুঝতেই পারিনি। যেদিকেই তাকাই এক রাস মুগ্ধতা চোখে ছানি ফেলে। সকালের শুরুটা যে এরকম হবে, এতোটাই মনোমুগ্ধকর হবে, সেটা কি আমরা কেউ ভেবেছিলাম? মুন্নার আমাকে আভাস দিয়ে দিচ্ছে কেরালা সত্যি যেন ‘প্রকৃতির স্বর্গীয় দেশ’? শেষ বিকেলের নরম আভা ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর বুকে, সারাদিনের কর্ম ব্যবস্তার অবসান ঘটিয়ে পাখিরা কুলায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক এমনই সময় আমরাও গিয়ে উপস্থিত হলাম মুন্নারে (Munnar)। ড্রাইভার রবীন কম খরচে থাকার জন্য একটা পকেট সাশ্রয়ী হোস্টেলে নিয়ে গেলো আমাদেরকে। হোস্টেলের নাম ‘মুন্নার ম্যানসন’(Hotel Munnar Mansion)। রুম প্রতি ভাড়া ১২০০ শ’রুপি। রুমগুলোও বেশ বড় এবং সাজানো গোছানো। পাহাড়ের খুব কাছে পাখির গুঞ্জন আর খুব সুন্দর প্রকৃতির মাঝে একদম নিরিবিলিতে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের হোস্টেলটি। শহরের এক প্রান্তে পাহাড়ের কাছে বলেই আশেপাশে সেরকম শহরের কোলাহল নেই গাড়ির হর্ণের আওয়াজ নেই, একেবারে নিরিবিলি আর শান্ত পরিবেশ। ঘরের ভেতরে খুব সুন্দর একটা সোফা রয়েছে একদিকে দ’ুটো চেয়ার ও একটি টেবিল রয়েছে। টিভি, ড্রেসিং টেবিল সুন্দর ঝকঝকে দু’টো বেড এবং একটা খুব সুন্দর ব্যালকনিও রয়েছে। সন্ধ্যাবেলা বা রাত্রে এখানে বসে আরাম করে সময় কাটানো যায়। কিন্তু মুন্নারকে প্রথম সাক্ষাতেই যারা মন দিয়ে ফেলে তাদের রাত্রে একটু একান্তে সময় কাটানোর জন্য এ ব্যালকনিটাই যথেষ্ট। যেহেতু বোউদি এবার কোন অভিযোগ করলো না তাই আমি ধরেই নিলাম রুম তার পছন্দ হয়েছে। ফেব্রæয়ারি মাস শেষের দিকে তাই এখানে তেমন শীত নেই আবার গড়মও নেই। রুমে গিয়ে সারাদিনের ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরটাকে একটু ফ্রেস করার জন্য গোসলটা সেরে নিলাম। তবে আথিরাপ্পিল্লীর সে দুঘটনার পর পরিবেশটা কেমন বদলে গেছে। বোউদির মনটা ভাড়, উর্মীও আর আগের মতো হাসি-খুশি নেই। কিন্ত এভাবেতো চলতে দেয়া যায় না। উর্মীর মনটা ভালো করার জন্য আমি আর অর্ণব ওকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম মুন্নার শহরটা ঘুরে দেখার জন্য। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৫,২০০ ফুট উচ্চতা ও তিনটে পাহাড়ি নদীর সঙ্গমস্থল এই অনন্যসুন্দর মুন্নার। কুয়াশাচ্ছন্ন রূপোলি পাহাড়, সারি সারি অর্জুন গাছ আর সবুজ গালিচায় মোড়ানো চা বাগানের মাঝে উদাসী মন সব ছেড়ে নিরুদ্দেশ হতে চায়। মুন্নারের এই সবুজে মোরা প্রান্তর, দূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়, উপরে নীল আকাশ, সামনের বিস্তৃত দিগন্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শুভ্র মেঘ হঠাৎ করেই একটা অন্য রকম অনুভুতি এনে দেয় বুকের ভেতর। মনোরম ঠান্ডা আবহাওয়া আরো উপভোগ্য করে তুলেছে। আমি হারিয়ে যাওয়া অতীতকে প্রচন্ড মিস করছি। ছবির মতো নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য, পাহাড় আর সমুদ্রেও মিতালি। মুন্নারের আবহাওয়া সারা বছরই মনোরম থাকে এবং রাতগুলো একটু শীতল হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now