বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লুকোচুরির সেই ছায়া

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Swapan Kumar Bhowmik(guest) (০ পয়েন্ট)

X আমি এখন বেশ বড় হয়েছি, জীবনের ব্যস্ততায় ছোটবেলার অনেক স্মৃতিই এখন ফিকে হয়ে এসেছে। কিন্তু আজ থেকে প্রায় পনেরো-ষোলো বছর আগের একটা রাতের কথা মনে পড়লে আজও আমার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে যায়। ঘটনাটা ঘটেছিল কাটোয়ায় আমাদের পুরোনো পৈতৃক বাড়িতে, যখন গরমের ছুটিতে আমার সব খুড়তুতো-জ্যাঠতুতো ভাই-বোনেরা একসাথে জড়ো হয়েছিলাম। বাড়িতে তখন গমগমে পরিবেশ। আমি, আমার দুই কাজিন—রিন্টু আর তিতাস সারাদিন এটা-ওটা করে বেড়াচ্ছি। সেদিন রাতে হঠাৎ করে লোডশেডিং হয়ে গেল। চারিদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার, শুধু বাইরে থেকে আসা হালকা চাঁদের আলো। আমরা তিন ভাইবোন ঠিক করলাম, এই অন্ধকারে লুকোচুরি খেলা হবে। তিতাস চোর হলো, আর আমি আর রিন্টু ছুটলাম লুকোতে। আমাদের পুরোনো বাড়ির একতলার সিঁড়ির তলায় একটা ঘুপচি মতো ঘর ছিল, যেখানে বাতিল জিনিসপত্র রাখা হতো। আমি ভাবলাম এর চেয়ে ভালো লুকোনোর জায়গা আর হয় না। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে আমি সেই ঘরটার এক কোণে পুরোনো একটা কাঠের বাক্সের পেছনে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে পড়লাম। গরমে আর ধুলোয় আমার মুখ ঘেমে গিয়েছিল, তাই চোখ থেকে চশমাটা খুলে হাতে ধরে রাখলাম। চশমা ছাড়া অন্ধকারে এমনিতেই আমি প্রায় কিছুই দেখতে পাই না। মিনিট খানেক পরেই বুঝতে পারলাম, আমার ঠিক পাশেই অন্ধকারে আরও একজন এসে বসেছে। তার কনকনে ঠান্ডা একটা নিশ্বাস আমার ঘাড়ে এসে পড়ছিল। আমি ভাবলাম রিন্টুও নিশ্চয়ই এখানেই এসে লুকিয়ে পড়েছে। আমি ফিসফিস করে বললাম, "রিন্টু, একটু চেপে বোস না ভাই, তিতাস এদিকেই আসছে মনে হয়।" পাশের ছায়া-ছায়া মূর্তিটা কোনো কথা না বলে আমার দিকে আরেকটু সরে এল। ওর শরীরটা বরফের মতো ঠান্ডা, আর ওর গা থেকে পুরোনো, স্যাঁতসেঁতে পচা পাতার মতো একটা অদ্ভুত গন্ধ আসছিল। আমার একটু অস্বস্তি হচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু খেলায় জেতার নেশায় আমি চুপ করে বসে রইলাম। হঠাৎ বাইরের উঠোন থেকে তিতাসের চিৎকার শুনতে পেলাম, "রিন্টু তুই আউট! আমি তোকে চিলেকোঠার ছাদে ওঠার সিঁড়িতে দেখে ফেলেছি!" তার ঠিক পরেই রিন্টুর গলা, "ধুর! আরেকটু হলেই বেঁচে যেতাম।" কথাগুলো আমার কানে ঢোকার সাথে সাথে আমার পুরো শরীরটা যেন জমে গেল। রিন্টুর গলা তো দোতলা থেকে আসছে! তাহলে... তাহলে আমার পাশে অন্ধকারে আমার গা ঘেঁষে কে বসে আছে? আমার হৃৎপিণ্ডটা তখন গলার কাছে লাফাচ্ছে। আমি কাঁপাকাঁপা হাতে চশমাটা চোখে পরলাম। সিঁড়ির ফাঁক দিয়ে আসা এক চিলতে চাঁদের আলোয় ঘাড় ঘুরিয়ে যা দেখলাম, তা কোনোদিন ভুলতে পারব না। আমার পাশে রিন্টু বসে নেই। বসে আছে অদ্ভুত ফ্যাকাশে চামড়ার একটা বাচ্চা ছেলে। ওর চোখদুটোর জায়গায় দুটো কালো গর্ত, আর ঠোঁটটা কানের কাছ পর্যন্ত চেরা একটা বিভৎস হাসিতে বেঁকে আছে। আমার দিকে তাকিয়ে, একটা ভাঙা, ঘড়ঘড়ে গলায় সে ফিসফিস করে বলে উঠল, "তোর ভাই তো ধরা পড়ে গেল... এবার তুই আমার সাথে খেলবি?" এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। একটা বিকট চিৎকার করে আমি ওখানেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। জ্ঞান যখন ফেরে, দেখি আমি বিছানায় শুয়ে, আর জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে। বাড়ির সবাইকে ঘটনাটা বলার পর, সেই সিঁড়ির তলার ঘরটায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ আমি বড় হয়েছি, অনেক কিছুই হয়তো যুক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে শিখেছি। কিন্তু আজও, লোডশেডিং হলে বা অন্ধকারে একা থাকলে আমার মনে হয়, এই বুঝি ঘাড়ের কাছে সেই কনকনে ঠান্ডা নিশ্বাসটা টের পাব, আর কেউ ফিসফিস করে বলে উঠবে, "খেলবি আমার সাথে?" --- গুড বাই !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now